উপনিষদ রবীক্ঞনাথ

হিরগ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়

নবপত্জ প্রকাশন ।কলকাতা-

প্রথম প্রকাশ £ জানুয়ারি, ১৯১৫৯

প্রকাশক £ প্রস্ল বনজ নবগপন্ত প্রকাশন পটুয়াটোলা লেন | ক্িকাতা-৭০০০০৯

ুদ্রক £ নিউ এজ 'প্রশ্টার্স ৫৯ পটুপাটোলা লেন | কালিকাতা-৯

প্রচ্ছদ £ সুবোধ দাশগদগ্ত

পঁচিশ ডাকা

12214751709 0 7945511508৭ 85114 8৪৬ 21088177008 83000991৮.

ভুমিকা

উপনিষদের দর্শন রবান্্রনাথের দর্শন আমাকে আজীবন আকর্ষণ করেছে। এই দুই দর্শনকে যথাসাধ্য হাদয়হ্ম করবার চেষ্টা করেছি। তাদের গভীরে প্রবেশ করে তাদের সাঁহত 'নাবড় পাঁরচয় ঘটেছে এবং ফলে তাদের প্রকৃতি সম্বন্ধে যে ধারণাটি মনে গড়ে উঠেছে তাকে স্থায়ী রুপ দেবার জন্য দুটি গ্যতগ্ গ্রশ্থ রুনা করোছি। প্রথমাঁটর নাম দেওয়া হয়োছিল--'উপাঁনিষদের দশন', ছিতীয়টির--“রবীপ্রদর্শন

এই দুটি দর্শনের প্রকৃতিগত সাদৃশ্য এত আঁধক পাঁরলক্ষিত হয়েছে যে পরবতখকালে মনে হয়েছে যে তাদের একাটি তুলনামূলক আলোচনার প্রয়োজন আছে। এই প্রয়োজনীরতাবোধই আমাকে বর্তমান গ্রশ্থ রচনায় প্রণোদিত করেছে। এই দ্বিতীয় স্তরের আলোচনাই ষেন প্রাচীন উপানিষদের দর্শন এবং রবাদ্্নাথের দর্শনের আলোচনাকে পারিপূর্ণ করে। নুতরাং এই তিনটি গ্রষ্থকে পরস্পরের সাঁহত 'নাঁবড়ভাবে সংযন্ত বলে ধরতে হবে। তাদের এই ফুগ্ম- দশ'নের আলোচনার ্রয়ীরপ বলা যায়

রবান্দ্ুনাথ উপানষদের বাণীর সন্ছে আশৈশব পাঁরাচিত 'ছিলেন। পরবতাঁ জখবনে তার প্রাতি গভরগাবে শ্রম্ধাবিষ্ট হয়ে, তা সযত্বে পাঠ করে, তার মর্ম হনয়ঙ্ছম করেছিলেন। উপানিষদের বাণীর মানুষের মনকে উধ্বমুখণী করবার অপরিসীম শান্তর বিষয় অবাহত হয়ে পাশ্চাতা জগতে তার প্রচারকের ভূমিকাও [তান গ্রহণ করোছলেন। তবু একথা বলা যায় না যে উপনিষদের চিশ্তার দ্বারা তিনি প্রভাবাদ্ধত হয়েছিলেন। একথা গঠ্রিক যে তাঁর ধমনশতে বোঁদক খাষির রন্তধারা প্রবাহিত ছিল। উত্তরাধিকার সংশ্নরে তাঁদের দূদ্টিভ্গিও তিনি পেয়েছিলেন তবু মনে হয়, অতীরস্তভাবে তাঁর নিজস্ব একটি মাঁতগাতি ছিল। এই দুটি শান্ত পরস্পরের উপর প্রভাব বিস্তার করে তার অধ্যাত্মচিশ্তাকে রূপ দিয়োছল। ফলে দেখি একটি বিচিন্ত বাপার ঘটেছে রুবগন্দ্রনাথের দাশশনক চিন্তা কোথাও উপনিষদের চিন্তার অনুসরণ করেছে, কোথাও দরে সরে গেছে যেখানে অনুসরণ করেছে সেখানে যেন উপনিষদের খাষরই বাণ? আরও বারা ভাষায় এই নৃতন খাঁধর মুখে শুনাছি মনে হয়। যেখানে তা দরে সরে গেছে সেখানে আমরা নূতন জুরে নূতন কথা শুনতে পাচ্ছি।

বত'মান গ্রন্থে উভয় চিন্তার তুলনামূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে সাদশ্য পার্থকোর পরিপূর্ণ চিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। ফলে আমরা জাবিষ্কার করে বাঁস যে রধাশ্নাথের দর্শন উপনিষদের বাপারই নভদ রপ।”

আমরা যেন তখন তাঁর মধ্ো প্রাচীন ধৃগের ধাধি-কবির নবতম আবিভবি আবার করে বসি।

এই গ্রম্থটি প্রকাশনের ভার 'নবপন্ত প্রকাশন' সংস্থার কর্ণধার শ্রীপ্রসম বসু গ্রহণ করে আমাকে বিশেষভাবে ধাণী করেছেন আমাদের দেশের প্রাচীন সংস্কাতির প্রচার, বিশেষ করে সংগ্কৃত 'সাহিত্াকে সহজলভ্য করে তিনি একটি অনূসরণযোগ্য দক্টাম্ত চ্ছাপন করেছেন। আমার বম্ধু শ্রীজ্যোতিভূষণ চাকা এ-বিষয় আমাদের সংযোগ শ্থাপন করে সহায়ত করেছেন তাঁর খণও কৃতজ্- চিত্তে স্মরণ কারি।

1হরপ্ময় বন্দোপাধ্যায়

পরম শ্মেহতাজন গ্রীমান রমেজ্খনাথ মল্লিককে

সূচিপত্র

প্রথম অধ্যায় প্রাথামক কথা

প্রাচখন উপাঁনিষদ 'নিবচিন ১। উপানষদের ব্রক্ধবাদ ১৫। উপনিষদের শ্রেয়বাদ ২১। রবীন্দ্ুনাথেব দাশশীনক চিম্তাবঃস্বরূপ ২৫ প্রস্তাবিত আলোচনারীতি ৩৩

দ্বিতীয় অধ্যায় ব্রহ্ষবাদ উপানষদের জিজ্ঞান্ত দৃষ্টিভক্ষি ৩৬1] কর্মকাণ্ড হতে জ্ঞানকাণ্ডে

উত্তরণ ৪০। ব্রক্ষবাদেব প্রাতি রৰাদ্দ্রনাথেব আকষণ ৪881 জশবন- দেবতাতত্ব ব্রক্ষবাদ ৫১

তৃতীয় অধ্যায় দ্বৈতভাবতত্ব দ্বৈতভাব মায়াবাদ ৬৫। ব্রঙ্ষবাদ মায়াবাদ ৭৯। রবান্দ্রদর্শনে মায়াবাদের প্রাতিবাদ ৭৮। 'বি"বরচনায় মানবমনের ভুমিকা ৮&

চতুর অধ্যায়। আনম্দবাদ প্রার্থমক কথা ৯৪॥ উপাঁনিষদের আনন্দবাদ ৯৯। রবাশন্দ্রনাথের আনম্দতত্ধ ১০৯। উভয় 'চম্তার তুলনা ১২২

পণ্ঠম অধ্যাক্স মৃতু অমৃত মৃত্যুরহস্য ৯২৫ উপনিষদের মৃত্যু সম্পর্কিত চিন্তা ১২৮ রবাদ্দ্ু- নাথের মৃত্যু সম্পকিতি চিন্তা ১৪৬ উভয় চিষ্তার তুলনা ১৬০

ঘন্ঠড অধ্যায় শ্রেয়তদ্ব প্রাথামক কথা ১৬৮। উপানধদের শ্রেয়বদ ১৭৩ রবাস্্রনাথের বিশ্ব মানবতদ্ব ১৯৮৪ উভয় চিন্তার তুলনা ১৯৩

সপ্তম অধ্যায় মানাধকতা উপনিষদের মানবিকতা ১৯৯ রবান্দ্রনাথের মানবিকতা ২১০। উ্ভা চিন্তার তুলনা ২২৩

গস্টঙস অধ্যায় আলোচনা পবের 'পিপ্ধান্তের গ্রদ্থন ২৩১। সিপাম্ত ২৪৭

1০০4 প্রথম অধায় গগগ৭গ প্রাথমিক কথ

এক প্রান উপনিষদ নিবাচন

বৈদিক যুগের শেবভাগে বেদে আশ্রয় করে প্রাচীন উপনিষদগ্খলি ধীরে-ধীরে গড়ে উঠেছিল বেদের সংহিতা অংশে ভার জন্ম, ব্রাহ্মণ আরণাক অংশে তাব পরিবর্ধন বেদের যঙ্জকে কেন্দ্র কর যে আনুষ্ঠানিক পব গড়ে উঠেছে, তার থেকে উপনৈষদকে প্থক করবার জন্য তাকে কর্মকাণ্ড বলে সূচিত করা হয়েছে এবং উপনিষদকে জ্ঞান- কাণ্ড বলা হয়েছে বেদের মধোই যেন ছুটি ধারা পাশাপাশি গড়ে উঠেছিল--একটি বৈদিক দেব-দেবীর স্তর্তি নিবেদনে ব্যাপূত, মন্থটি বিশ্বরহশ্াকে ভেদ করবার আকুতি হতে সঙজাত তর জ্ঞানতৃষ।। এই জ্ঞানতৃষ্ণাই প্রবতাঁকালে আরণ্যকের যুগে প্রাধান্য পেয়েছিল এবং বিশুদ্ধ দার্শনিক জ্ঞানের অন্বেষণে পরিপূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করে- ছিল। তারই পরিণত হলে! উপনিষদ ত! €য-ততত্ব প্রচার করে তাকে বল। হতো ত্রন্গবাদ এবং তার সম্পকিত বিদ্ভাকে বলা হতে! ব্রহ্মবিষ্তা

এই উপনিষ/দর বৈদিকধুগে অভাবনীয় প্রতিপত্তি মর্যাদ৷ ছিল। উপনিষদেই গল্প আছে যে রাজধি জনক এই ব্রহ্গবিগ্ভালাভের জন্যা যাজ্ঞনন্ক্য নামে এক বিখ্যাত খধির শিষ্ত্ব গ্রহণ করেছিলেন উপনিষদের মৌলিক বচনগুলি অভ্রান্ত সত্য বলে গৃহীত হতো তাই দেখি ষড়দর্শনের যুগে তাদের একটি বিশেষ মধাদা দেওয়া হয়েছে

উপ্পানযদ--১

এবং আগ্তবচন হিসাবে বিভিন্ন দার্শনিক তথ্যের সমর্থনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

আমার্দের দেশে একটি রীতি প্রচলিত ছিল যে কোনও গ্রন্থ অত্যধিক মর্যাদায় প্রতিচিত হলে ব্যক্তিবিশেষ তার নিজস্ব মতকে সহজে প্রচার করবার উদ্দেশ্থে সেই নামে তাকে প্রচার কবত। আবও এক উপায় ছিল প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থকে নিজের প্রচারিত তত্বেধ অনুকূলে ব্যাখ্যা করে একই উদ্দেশ্য সাধন করা। দ্বিতীয় রীতিব সুন্দৰ উদাহবণ মেলে ব্রন্মস্থত্র গীতা সম্পর্কে। উভয় গ্রস্থেবই ভিন্ন-ভিন্নভাবে বিশেষ দার্শানিক মত প্রতিষ্ঠাব জগ্চ ব্যাখ্যা কব! হযেছে। ত্রন্মস্ত্রেব যেমন অদ্বৈতবাদেব ভিত্তিতে ব্যাখা! আছে, তেমন বৈষ্ব মতেব অনুমোদিত ব্যাখাও আছে গীতাব ব্যাখ্যার বৈচিত্র্য মারও বেশি উপনিষদেখ ক্ষেত্রে প্রথম বীতিটি বেশি বকম অনলম্বিত হয়েছিল ফলে দেখা যায়, যেমন প্রাচীন ব্রহ্মবাদেব ব্যাখ্যাঘ নিবেদিত উপনিষদ আছে, তেমন যোগদর্শনেব দ্বাবা প্রভাবান্বিত সন্নাসবাদও উপনিষদ নামে প্রচাহ্তি হয়েছে। আবাব পুবাণেব যুগব ভাক্ততত্ব বাব প্রভাবান্বত নানা উপনিষদ আছে এইসব দেখেই মহষি দেবেন্দ্রনাথ উপনিষদ নামে প্রচাবিত বে ন্ছু গ্রন্থ আছে সেঞ্চল পাঠ কবে বলেছিলেন চয, অবস্থাটি এমন বিজ্রান্তকব যে যেন “কণ্টকাবণ।? |

এই পবিস্থিত উপনিষদেব 'মালোচনায় একটি প্র।থনিক সমস্থ।ব স্থষ্টি কবে। কাবণ প্রাচীন উপনিষদগ্চলিকে অবলন্থন কবে যে ত্রহ্ম বাদ বিকাশলাভ করেছিল তার সঙ্গে ববীক্দ্রনাথের দার্শনিক চিগ্তাব তুলনামূলক া'লোচনাই বর্তমানে আমাদেব আলোচনার বিষয়

স্থতরাং আমাদের প্রথম কর্তব্য হয়ে পড়ে এই প্রাচীন উপনিষদ- গুলিকে পৃথক কবে চিহ্নিত কবে নেওয়!$; কাবণ তাদেখ উপব ভিত্তি করেই ব্রহ্মবাদ সম্বন্ধে তাব পরিচায়ক তথা আমাদের গ্রহ করে নিতে হবে। ইতিমধ্যে যেটুকু আলোচনা হয়েছে তা হতেই এ-কথ। পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে উপনিষদগুলি তিনটি শ্রেণীতে পড়ে £

১৩

১। বৈদিক যুগের প্রাচীন ব্রহ্মবাদী উপনিষদ, ২। ফড়দর্শনের যুগের যোগদর্শন-প্রভাবান্ধিত যোগ আঙ্জ্যাস- বাদী উপনিষদ এবং

৩। পৌরাণিক যুগের ভক্কিবাদী উপনিষদ

যত সময় আঁতঙবাহিত হয়েছে উপনিষদনামধারা গ্রন্থের সংখ্য। তত বেডে গেছে। ডয়মেন অনুসন্ধান কবে দেখেছেন যে শংকরাচার্ষ তার বিভিন্ন ভাষ্যে যতগুলি উপনিষদ হতে আগ্তবচন উদ্ধৃত করেছেন তাদের সখ! চোদ্দ।১ সম্ট শাজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারাশিকো। যে উপনিষদগুলির ফারাস ভাবায় অনুবাদ কবেন তার সংখা! ছল পঞ্চাশ মুক্তিকক উপনিষদে একশো আটখানি উপনিষদের উল্লেখ আছে। বোম্বাই-এব নির্ণয়সাগর প্রেস হতে যে উপনিষদ সংকলন- গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে তার নবতম সংস্কবণে একশো! কুড়খানি উপনিষদ স্থান পেয়েছ। এখন আমাদের কততবা হলো এদেব ভিতর থেকে সেই উপনিষদগ্চলি নিবাচন করে নেওয়া যেগুলকে ব্রহ্মবাদী উপনিষদ হিসাবে গ্রহণ কব। যাঁয়।

সৌভাগ্যক্রমে এই নিরাচনকার্ষে সাহায্য করতে পারে এরকম ছুটি অনুকূল অবস্থা পাওয়া যায়। প্রথম কথা, এই প্রাচীন উপনিষদ- গুল বৈদিক সাহি:ত্যব অঙ্গ হিসাবে গড়ে উঠেছিল সুতরাং যেগুলি বৈদিক সাহিতোর অন্তভূক্ত হয়ে অবস্থান করছে তাদের আমরা বিন। দ্বিধায় এই শ্রেণীর অন্তরভূক্তি করে নিতে পারি দ্বিতীয়ত, আমবা দেখি যে ভারতীয় দার্শানক চিন্তার ঝপ কয়েকবার পরিবতিত হয়েছে। বেদেব মূল অ.শে অর্থাং কর্মকাণ্ডে চিন্ত।র যে বপ ছিল আপণাকেব যুগে তা পরিবতিত হয়ে গেছে। এই আরণ্যকে যুগেই ব্রহ্মবাদ বিকাশলাভ করে। তারপর যড়দর্শনের যুগে তা ভিন্ন রূপ গ্রহণ করে এবং সর্বশেষে পুরাণের যুগে তার রূপ আবার পরিবতিত হয়।

১, [09055৬0১216 5075167 0/ 75197710,

৯৯

সুতরাং আরণ্যকের যুগে দার্শনিক চিন্তার যে প্রকৃতি ছিল তার সঙ্গে যে-উপনিষদের চিন্তার সাদৃশ্য পাওয়া যাবে, তাকে এই শ্রেণীর অন্তভূক্তি করতে পারি॥। প্রথম রীতিতে উপনিষদগুলি চিহ্নিত করে দেওয়। সহজ কিন্তু দ্বিতীয় রীতির প্রয়োগ করতে হলে আমাঁদেব প্রথমেই ভারতীয় দার্শ।নক চিন্তার রূপ পরিবর্তনের ইতিহাসের সহিত পরিচিত হয়ে নিতে হয়!

মোটামুটি দেখা যায়, ভারতীয় দার্শনিক চিন্তা চারটি অবস্থার মধ্য দিয়ে বিকাশলাভ করেছে :

১। প্রাকৃতিক শক্তির উপর দেবত্ব আরোপ ;

২। একটিমাত্র প্রচ্ছন্ন সর্বব্যাপী নৈব্যক্তি সত্তাকে বিশ্বেব

মৌলিক শক্তি রূপে গ্রহণ ;

৩। জ্ঞানমার্গে মুক্তির অন্বেষণ; এবং

৪। ভক্তিমার্গে ঈশ্বরের সহিত মিলন

প্রথমটি পাই বেদের সংহিতা অংশে, দ্বিতীয়টি পাই উপনিষদের অংশে, তৃঠীয়টি পাই ছয়টি হিন্দ্ুদর্শতনে এবং চত্ুর্থটি পাই বিভিগ্ হিন্দুপুরাণে।

বেদের সংহিতা অংশে আমরা দেখি প্রকৃতির মধ যেখানে কোনও শক্কির ত্ক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়েছে বা বিশেষ সৌন্দধেব প্রকাশ ঘটেছে তার ওপর দেব আরোপ করা হয়েছে। এইভ!বে অগ্নি, বরুণ, মরুত উষ। প্রভৃতি দেখত। কাল্পত হয়েছেন অগ্সিতে ঘ্বতাহুতি দিয়ে এইসব দেবতার ম্্রতিগান করে নান। প্রার্থনা নিবেদিত হয়েছে প্রার্থনাগুলি আর্ত অর্থার্থী হুনাভাব প্রণোদিত তাদের উপাদান করেই বেদের সংহিত। অংশ গড়ে উঠেছে

কিন্ত বেদ তো। শুধু ধর্মগ্রন্থ নয়, দার্শনিক গ্রন্থ বটে। একদিকে যেমন যন্জানুষ্ঠানের মধা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ধর্ম গড়ে উঠেছে, অপর দিকে তেমনি পাশাপাশি খবধির জিজ্ঞান্্ ম'নাভাব৪ প্রনল হয়ে উঠেছে। কাজেই নান। শুক্তের মধো বিভিন্ন দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপিত

৯২

হয়েছে যেমন, এই স্থষ্টি কোথা হতে এল? দেবতা এক না বছ? এইসব প্রশ্রের নীমাংস! বিভিন্ন স্ুক্তে দেওয়! হয়েছে। এই প্রসঙ্গে নাসদীয় সুক্ত (খগবেদ। ১০১২৯) এবং আত্মান্ৃতস্ত (যাকে দেবীস্ুক্তও বল! হয় ) ( খগ.বেদ। ১০১২৫ ) উল্লেখ কর যেতে পারে। এই দাশনিক চিন্তার মধ্য দিয়ে ধীরে-ধীরে বহছু-দেবতা-নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের পরিকল্পন। হতে এই ধারণ! গড়ে উঠেছে যে বিশ্ব একটি মাত্র নৈব্যক্তিক মহাশক্তি দ্বারা নিয়ান্ত্রত। তাকে কোথাও পুকষ বল। হয়েছে, কোথাও মাত্ব। বল হয়েছে, কোথাও বা সৎ বল] হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ঝগ বেদের একটি সুক্ত হতে একটি বচন উদ্ধৃত করা যেতে পারে একং সদ্‌ বিপ্র। বহুধা বদস্তি। আগ্নি” যমং মাতরিশ্বানমাছঃ

যেচিন্ত। সংহিতা অংশে বীজ আকাৰে ছিল, তাই প্রাচীন উপশিষদগুলির মধ্যে বখকাশলাভ কবে বনস্পতিতে পরিণত হয়েছে। সংহতাব পুকষ উপনিষদের ব্র্দ ঝপান্তবিত হয়েছেন সেখানে খষির জিজ্ঞাসু দ্ঠিভজি আবও প্রবল হযে উঠেছে বাব্হারিক প্রয়োজনের উদের্ব উঠে তিনি বিশ্বসন্তাব পব্চিয় পেতেই 'বশি উৎকণ্টিত হয়েছেন সেখানে ফে-প্রার্থন। নিবেদিত হয়েছে বলে বিশ্বতরষ্টা ঝষিকে এমন ধীশক্তি দান ককন যাতে তার বরেণা প্রকাশকে ধারণ! কর! যায়, শাধয়ো যা নঃ গ্রাচোদয়।ং | তাদের সবার বড় গবৰ বিশ্বসগাকে, "বদাহমেতম্।। এইভাবে জিজ্ঞাস। চিন্তার ফলে যে দর্শন গড়ে উঠেছে, তাতে বিশ্বসত্তা পরিকল্পিত হয়েছেন এক স্বব্যাণী প্রচ্ছন্ন শক্তিবপে। সকল মানুষ, সকল জীব, সকল বন্থকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি প্রচ্ছন্নভাবে সবকিছু ব্যাপ্ত করে আছেন বলেই তাকে ব্রহ্ম বল। হয়েছে ব্রন্মের অর্থ হলো যা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। সুতরাং তাংপর্য হলে তিনি ধৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে বিশ্বে পরিণত হয়েছেন

২. ধগৃবেদদ। ১/১৬৪৪৬

১৩

ভারতীয় দর্শনে পরবর্তী যে-যুগটি এসেছিল তা জিজ্ঞাম্থ অবস্থারই পরিবতিত রূপ সেটি হলো যড়.দর্শনের যুগ আগের মতো! এখানেও জিজ্ঞান্থর দৃষ্টিভঙ্গি ক্রিয়াশীল ; তবে তার প্রেরণা এসেছে ভিন্ন পথে উপনিষদের যুগে সে-প্রেরণ৷ এসেছিল বিশুদ্ধ কৌতৃহলবৃত্তি চরিতার্থ করবার জন্য এখন এসেছে একটি ব্যবহারিক প্রয়োজনে এই যুগে কর্মফল ভোগ এবং তার জন্য জন্মান্তবের বন্ধনে বিশ্বাস বদ্ধমূল সংস্কারে পরিণত হয়েছে সঙ্গে এই ধারণা গড়ে উঠেছে যে এই জন্মবন্ধন সুখকর নয়। কাজেই পরজন্ম হতে মুক্তির আকাঙজ্ষা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। তার উপায় হিসাবে জ্ঞানমার্গকেই অবলম্বন কর। হয়েছে। তার ফলে বিভিন্ন দর্শন গড়ে উঠেছে। এই কথা যেমন হিন্দুর ষড় দর্শন সম্বন্ধে খাটে, তেমন বৌদ্ধ জৈন দর্শন সম্বন্ধে ঘটে। সেখানেও মুক্তি বা নিবাণ হলে! পরমার্থ এব* তার উপায় হলো জ্ঞানমার্গ।

প্রকৃত ভক্তের দগ্টিভঙ্গি ভারতে প্রতিষ্ঠ। হয়েছে তার অনেক পরে। তা একেশ্বরবাদকে অবলম্বন করে বাক্তিরূপী ঈশ্বরের পরিকল্পনার সিত্তিতে গড়ে উঠেছে বৌদ্ধ জৈন দর্শন ঈশ্বব সম্বন্ধে নীরব | যোগদর্শনে ঈশ্বর স্বীকৃত হয়েছেন, কিন্তু বিশ্বে অনেকগুলি মৌলিক 'তদ্বের নধ্ধো তিনি একটি মাত্র তব হ্বায়সৃত্রে ঈশ্বরের উল্লেখ আছে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই ঈশ্বর পূর্ণমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হন নি। তারপর একদিন দেখি ঈশ্বরকে বিশ্বতত্বেব কেন্দ্রস্থলে স্থাপন কবে, তার ওপর সকল “মীলিক শক্তি মারোপ করে, তাকে ব্যক্তিসারূপে কল্পনা করা হয়েছে এবং বিঞু ব। শিব বা শক্তিরূপে কলি হয়ে তার উপাসনা প্রবতিত হয়েছে এই যুগে ঈশ্বরে ভক্তিই একমাত্র উৎকু্ট সাপনমার্গ বলে প্রচারিত হয়েছিল

স্থতরাং ভারতীয় দর্শনে আমর! চারিটি চিন্তার স্তর পাই £ বেদের সংহিতা অংশে বছদেবতাবাদ, বেদের উপনিষদের অংশে ব্রহ্মবাদ, ষড়দর্শনের যুগে জ্ঞানমার্গে যুক্তিবাদ এবং সর্বশেষে পুরাণের যুগে

ব্যক্তিরূণী ঈশ্বরকে ভিত্তি করে ভক্তিবাদ। বিভিন্ন উপনিষদগ্ুলি শেষের তিনটি শ্রেণীতে পড়ে। তাদের থেকে আমাদের প্রাচীন উপনিষদগুলিকে পৃথক করে নিতে হবে। যে উপনিষদগুলির ভাবধারা দ্বিতীয় স্তরের চিন্তার সঙ্গে মিলে যাবে তাদের এই শ্রেণীর অন্তত করে নিতে পারি।

এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় মাত্র বারখানি উপনিষদ। তাদের মধ্যে সাতখানি উপনিষদ বেদগুলির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। তারা হলো £ ঈশ, এতরেয়, কৌধীতকি, তৈত্তিরীয়, বৃহদারণ্যক, ছান্দোগ্য কেন। এদের কোনটি বেদের সংহিত| অংশের সঙ্গে যুক্ত আছে, কোনটি ব্রাহ্মণেব সঙ্গে, কোনটিও আরণ্যকের সঙ্ষে। এধন বাকি থাকে পাঁচটি উপনিষদ। এরা হলো ক, প্রশ্ন, মুগ, মাগুকা শ্বৈতাশ্বতর তাদেব বিষয় একই কথা বলা যায় যে বেদগুলির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগন্ৃত্র খুঁজে না পাওয়া গেলেও একটি এঁতিহা আছে যে তার! বিশেষ বেদের সহিত যুক্ত তবে তাদের এই শ্রেণীর অন্তভুক্ত করবার সপক্ষে বড যুক্তি হলো তারা মূলত ব্রহ্মাবাদই প্রচার করে। আমর। এই উপনিষদগুলির মধো যে-দার্শনক চিন্ত। বিকাশলাভ কৰেছে তার সঙ্গেই রবীন্দ্রণাথের দার্শনিক চিন্তার তুলনা সীমাবদ্ধ রাখবার প্রস্তাব করি।

ছ্ই উপিষদের চ্বাদ

এখন আমাদের সময় হয়েছে এই নির্বাচিত উপনিষদগ্লকে অবলম্বন করে যে-দার্শানক তত্ব বিকাশ লাভ করেছে তার সহিত পরিচিত হওয়া এই তত্বকে আমরা ত্রহ্মবাদ বলতে পারি; কারণ উপনিষদেই এই পারিভাষিক শব্দটি প্রবর্তিত হয়েছে।

উপনিষদে বণিত ব্রহ্ষবাদের প্রকৃতি সহজে হাদয়ঙ্গম কর! যায় এরিস্টটল কথিত যে চারটি কারণের উল্লেখ আছে তার দৃষ্টিভির

৭৫

অনুসরণে এ-কারণঞচলি বিজ্ঞান নির্দেশিত কারণ হতে স্বতন্ত্র। সেখানে ঘটন৷ পরম্পরাকে পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছেন্ঠ সম্বন্ধে যুক্ত করে জানবার চেষ্টা হয়েছে ছুটি ঘটনার মধো যদি শর্তবিহীন, অব্যবহিত এবং সর্ককালীন সংযোগ থাকে তাহলে, প্রথমটিকে দ্বিতীয়ের কারণ বলা হয়। এখানে উদ্বোশ্য হলো৷ একটি অবস্থার উৎপাদনে যে-শক্তি ক্রিয়া করে তাকে বোঝবার চেষ্টা। এরিস্টটল পরিকল্লিত কারণের বাখ্যার উদ্দেশ্য আরও ব্যাপক একটি বস্তুর উৎপাদনে যত সস্তাব্যশক্তি ক্রিয়াশীল হয় তাদের সকলকেই আবিষ্কার করার চেষ্টা সেখানে হয়েছে।

একটি উদাহরণ প্রয়োগ করলে বিষয়টি বোঝবার স্ুুবিধ। হবে। এরিস্টটল-এর বিশ্লেষণ অনুসারে কারণ চার-প্রকার ; উপাদান কারণ, নিমিত্ত কারণ, রূপ কারণ এব" উদ্দেশ্য কারণ।৬ আমাদের দেশের দর্শনে প্রথম ছুটি কারণের প্রয়োগ আছে, শেষের উল্লেখ নাই এখন মানুষের স্য্ট একটি ভোগ্যদ্রব্য উৎপাদনের কথা ধরা যাক। একটি মুংপাত্র সম্পর্কে এই সবকটি কারণের প্রয়োগ মিলবে মুৎপাত্রেব উপাদান কারণ হলো মাটি; তার নিমিত্ত কারণ হলে। কুস্তকার, কারণ সে তার হাতের আঙ্লের নিপুণ স্পর্শে চাকায়-ঘোরা-অবস্থায় মুৎপিগুকে রূপ দেয়; যে রূপ তাকে দেওয়। হয় সেটি রূপ কারণ এবং সবশেষে উদদশ্য কারণ হলো যে-উদ্দেশ্টো তাকে ব্যবহার করা!

হয় তাই। বিশ্ব হলে। স্থ্টি এবং ব্রহ্ম হলেন অষ্ঠা। এদের সম্বন্ধ উপনিষদের

পরিকপ্পনায় এমন নিবিড় যে তরঙ্গের উপর একসঙ্গে এই সবগুলি কারণত আরোপ কর! যায়, মর্থাৎ উভয়ের মধ্যে উভয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার তাৎপর্য হ'ল। বিশ্বের মধ্যে বিশ্বশক্তি প্রচ্ছন্নভাবে ক্রিয়াশীল দেই শক্তিই বিশ্বের শাশ্রয় এবং সেই শক্তিই বিশ্বকে

৩. ৯1306051 091056) চ0001006 091156) £012771 09956 00 21139] (8056,

সমগ্রভাবে একত্ব মণ্ডিত করেছে। বিশ্বশক্তি বিশ্বের মধোই ছড়িয়ে রয়েছে, এই হলো উপনিষদের ব্রহ্মবাদের মূল সুর ব্রহ্ম সবকিছু ব্যাপ্ত করে আছেন, সব-কিছু ধারণ করে আছেন এবং সব-কিছুর অন্তরে অধিষ্ঠান করছেন উপনিষদের নান। বাণীতে এই কথাই বার- বার উীল্লখিত হয়েছে। ছান্দোগ্য উপনিষদে এই কথার সারমর্ম সংক্ষিপ্ত আকারে বোঝান হয়েছে এই বলে যে “এই সবকিছুই ব্রহ্ম, ব্রঙ্গেই তাদের জন্ম, পুষ্টি এবং বিলয়” ।8

এখানে আমরা একে-একে ব্রন্মের উপর এরিস্টটল পরিকল্িত চারটি কারণ কিভাবে প্রয়োগ করা যায় তা বোঝাতে শচষ্টা করব। প্রথম ধর। যাক ব্রন্মের উপাদান কারণত্ব। ব্রহ্ষই যে বিশ্বের উপাদান কাবণ, এই কথাটিব উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে তাই যেন ুন্মের সহিত স্থষ্টির সম্বন্ধের নিগুঢত্ব প্রমাণ কবে এই কথাটি বোঝাতে একটি উপম। প্রয়োগ করা হয়েছে। নান্তষের নিমিত বস্তর সম্পর্কে দুটি বিষয় লক্ষণীয়-_একটি তার বিশেষ বপ এবং অপরটি তার উপাদান যেমন মুশ্নয় পাত্রের উপাদান মুন্তিকা এবং পাত্ররূপে প্রকাশ তাব কপ। এখানে মূলতব হলে উপাদান এবং গৌণতত্ব হলে! তার নান! বিশেষকপে প্রকাশ উপাদানেৰ বিকার হতেই বিশেষ রূপের বা গৌণতত্বেন প্রকাশ এব তাকে পৃথক করতে তাকে নাম দিয়ে চিহ্চত কর! হয়েছে সেইরূপ বিশ্বের মূল তত্ব হলেন ব্রহ্ম, তার উপাদান বিভিন্নবপে গ্রকট হয়ে নামের দ্বারা চিহ্ন হায়ে বহুকণপে প্রকাশ হয়েছে।

এই বচন কে মনে হতে পারে ব্রগ্ধের রূপ কারণত্বের উপর এখানে তেমন গুরুত্ব মারোপ করা হয় নি। যেন ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে উপাদান যখন এক, তখন তার পৃথক পৃথক রূপের মুলা নাই। কিন্তু উপনিষদে এমন কোনও বচন নাই যেখানে বিশ্ব-সন্তার বহুরূপে

6. সর্ব খাজ্বদং বদ্ধ তঙ্জলানগাত ছান্দোগা ৩১৪১ ৫. বাচার্ভণং 'বিকারো নামধেয়ং মৃক্তিকেত্যেব সত্ম ছান্দোগা ৬।১/৪

১৭

পগ্রকাশকে গৌণ প্রকাশ বলে নির্দেশ করা হয়েছে। বরং বন্রূপে প্রকাশকে ব্রদ্ষের নিজস্ব প্রকাশরূপেই বণিত কর! হয়েছে। কঠ উপনিষর্দে আছে যে একই ব্রহ্ম বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছেন এবং বিভিন্ন বস্তর মধ্যে যোগস্ুত্র হিসাবে গ্রচ্ছন্পভাবে বর্তমান আছেন ।৬ বুকে ব্যাপ্ত করেই তার একত্ব। একই সত্ত। বরূপে প্রকট হয়েছেন কথাটি পরিস্ফুট করবার জন্য একটি উপম৷ প্রয়োগ করা হয়েছে বলা হয়েছে একই অগ্নি বিভিন্নস্থানে বিভিন্নরূপে প্রকাশ হলেও অগ্নি বলেই তাকে আমরা চিনি। সেইরকম একই আত্ম। |বভিম্নৰপে প্রকাশ হয়েও মূলত সেই একই সত্ত। রয়ে গেছেন। একই শক্তির বিশ্বে বহুরূপে প্রকাশ ঘটেছে ।"

নিমিত্ত কারণের লক্ষণ হলে। তা স্যপ্টির নিয়ামক শক্তি। ত্রহ্মযে বিশ্বের অভান্তরে থেকেও বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবিষয়ে উপনিষদে সুস্পষ্ট উক্তি পাওয়। যায়। এখানেই মানুষের নিমিত্ত কারণত্বের সঙ্গ বিশ্বশক্তির নিমিত্ত কারণহ্থের পার্থক্য যখন মানুষ নিমিত্ত কারণ হিসাবে কাজ করে, তখন সে যাকে নির্মাণ করল তার বাইরে রয়ে যায়, তাকে নিয়ন্ত্রিত করে বাইরে থেকে কিন্তু প্রকৃতির মধ্য নিয়ন্ত্রক শক্তি এমনভাবে কাজ করে 'ন।; কারণ সে-শক্তি প্রকৃতির বাহিরে অবস্থিত নয়। অণুর মধ্যে যে প্রোটন, নিউট্রন ইলেকট্রন সংহত হয়ে থাকে তার নিয়ামক শক্তি তাদের অভাস্তরেই স্থিত। যে-প্রাণশক্তি দেহের নিয়ন্ত্রণ করে তাও তার 'অভ্যন্তরেই স্থিত। উপনিষদে তাই বলা হয়েছে যে ত্রন্ম নিয়ামক শক্তি হিসানে বিশ্বে হুইভাবে কাঙ্গ করেন প্রথমত কার প্রশাসনে সমগ্র বিশ্ব বিধৃত এবং পরিচাজিত। স্ুর্য-চন্্র, ছ্যাব।-পরথিনী, নিমেষ-মুহূর্ত, অহোরাত্রি ইত্যাদ তারই

৩. একো বশখ সর্বতুতান্তরাত্মা একং রূপং বহূধা মঃ করোতি কণঠ। ২২১২ ৭, আঁপ্নর্যথৈকো ভুবনং প্রবিষ্টো রূপং রূপং প্রাতিরূপো বুব। একন্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা রূপং রুপং প্রতিরূপো বহিশ্চ কঠ। ২২৯

৯৬

প্রশাসদে বিধৃত হয়ে আছে ।৮ দ্বিতীয়ত বল। হয়েছে তিনি বিভিন্ন জীবের অস্তরে বর্তমান থেকে তাদের অজানিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন সকল জীব তীর শরীর স্বরূপ এবং তাদের অস্তরে থেকে তাদের নিয়ন্ত্রিত করেন বলেই তিনি অন্তর্ধামী দেহ পরিবতিত হয়, কিন্তু ত।র নিয়ামক শক্তি নিত্য এবং তিনি অমুতম্বরপ ।৯

বাকি রইল ব্রচ্মের উদ্দেশ্য কারণত্ব। উপনিষদের খধিগণ বিশ্বের সামগ্রিকভাবে একটি উদ্দেশ্য কারণও আবিষ্কার করেছেন। তাদের মতে এই উদ্দেশ্য কারণ হলে। রমের আস্বাদন এই "রস" অর্থেকি বোঝায় তারও ইঙ্গিত দেওয়। হয়েছে। তেন্তিরীয় উপনিষদে বলা হয়েছে ব্রহ্ম রসন্বরূপ, কারণ তিনি রস অনুভব করে আনন্দ পান ।১* স্ৃঙরাং যা। আনন্দ দেয় তাই রস। এই আনন্দ হলে। শিল্পার বা শিল্প- রসিকেব আনন্দ। এখানে যখন ব্রহ্ম সব জড়িয়ে, সব নিয়ে আছেন তখন শিল্পী, শিল্পরসিক এবং শিল্পকর্ম একই সত্তারপে পরিকল্লিত। তাই বিশ্বসন্তাও বসম্গবূপ হয়ে পড়েন।

এখন আনন্দ জিনিসটি কি বুঝতে চেষ্টা করা যাক। তা সখ নয়, 'ত। হতে আরও ব্যাপক তা স্ুখ-ছুংখকে জড়িয়ে নৈয়ে পরিস্ফুট হয়, “যমন শাঁটকের অভিনয়ে! এর ঠিক সমাথবোধক ইংরাজি প্রতিশব্ নাই। যে পারিভাষিক কথাটি সব থেকে তাৰ কাছাকাছি যায় তা হলো “শিল্পতান্বিক অন্স্থীতি।'১১ শিল্পরসিক ক্লাইভ বেল এই কথাটির প্রবর্তন করেন! এই আনন্দ কোনও ব্যবহারিক প্রয়োজনের সঙ্গে

৮. এতসা বাক্ষরস্য প্রশাসনে গা্গ সুযচিন্্রমসৌ বিধৃতো তিষ্ঠত এতসা বাক্ষরস্য প্রশাসনে গার্গি দ্যাবাপাথিবো বিধতে তিষ্ঠত-"

বৃহদারধ্যক | ৩1৮1৯

৯, যঃ সবেষু ভুতেষ তিষ্তন সর্ধেভ্যো ভুতেভ্যোহভাস্তরো যং সবাপি

ভুতানি বিদূর্ধসা সর্বাণ ভূতাঁণ শরীরং যঃ সবাণি ভূতানান্তরো যময়াঁতি এষ আত্মাস্তবম্িমৃত ইতি বৃহদারণ্াক | ৩।৭।১৫

১০. রসোবৈসঃ। রসং হোবায়ং লম্ধানন্দী ভবাঁত তৈত্িরীয় ২৭ ৬১, 6507500 10250002),

১৯

যুক্ত নয়; তা অহৈতৃক। উপনিষদ বলতে চেয়েছে বিশ্বসন্তা শিল্পরসিক : তাই তিনি শিল্পীর ভূমিকা গ্রহণ করে আনন্দ পান। সমগ্র বিশ্ব তাই শিল্প। তাই তো বলা হয়েছে 'পশ্য দেবস্ত কাব্যং মমার জীর্যতি? এই চিন্ত1 যুক্তিসম্মত; কারণ বিশ্বশন্তির ব্যবহারিক প্রয়োজন থাকতে পারে না, ত। থাকে বন্ধজীব মানুষের এখন উপনিষদে কিভাবে বিশ্বশক্তির উদ্দেশ্য কারণত্বকে প্রতিপাদন করা হয়েছে তার একটি ক্ষিপ্ত বণন1 দ্ওয়। যেতে পারে

রস উপলব্ধি করতে প্রয়োজন ছুটি বিভিন্ন প্রকৃতির সন্তার ; কারণ বিশুদ্ধ একত্বের মধ্যে রসের উপলব্ধির অবকাশ নাই তারভম্যয প্রয়োজন দ্বৈতবোধের একদিকে চাই রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধের জগং, অন্তদিকে চাই তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য মন। ছুয়ের জানাজানি, ছুয়ের পরিচয়, ছুয়ের প্রীতি এদের অবলম্বন কবেই "ত! রসের ধার৷ প্রবাহিত হয়। সেইজন্য স্থষ্টি-পুব অবস্থার যয এক এবং দ্বিতীয়বিহীন পে ব্রহ্ম অবস্থান করছিলেন তিনি তাব একাকিই উপাভোগ করলেন না॥ তাই রসেই উপলব্ধির জন্য তিনি বু বিচিত্রবপে প্রকট হলেন একাকী “থকে আলন্দ পেলেন ন। বলে তিনি দ্বিতীয়কে চাইলেন৭১২

ব্রন্মের অহৈতুকী তৃপ্তির জন্তই এমন ঘটল ত। ন| তলে হাব 'আনন্দবপটি প্রকাশ হয় ন। যে। তাই “ত। দ্বৈএবোধের ভিন্তিও িশ্বে দ্বৈতসঙ্গীতের ধার! ছড়িয়ে পড়ল জ্ঞাত জেঞেয়ের তিন্তিতে, তোক্তা ভোগ্যের িত্তিতে বিশ্বসত্তার 'আপন মাধুবী আপন চক্ষে ধব পড়ল। তখন মান্ুষেব মনের সামনে বিশ্বের আানন্দবপটি ফুটে উঠল ।॥ তাই উপমিষদের খধি ঘোষণ। কবলেন £ বাতাসে মধু, প্রবাহিনাতে মধু তিনি বললেন এই প্রর্থরবী সকল প্রাণীর নিকট মধুখবপ

১২. আত্মেবেদমন্তর আসা বৈ রেখে”. ৩6 08১, দ্বিতীয়সৈচ্ছৎ বৃহদারণ্যক | ১। রে 246৯ ১৩. মধু বাতা খতায়তে মধু ক্ষরস্তি /

রর

বৃহদারণাক। ৬০

এবং এই পৃথিবীর কাছে সকল প্রাণী মধুস্বরূপ।১৪ ব্রঙ্গোর বিশ্বরূপে যে মৃতপ্রকাশ তাকে তিনি অভিবাদন জানালেন আনন্দবপ এবং অমৃত বলে ।১৭

সুতরাং উপনিষদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে বিশ্ব একটি অঙ্গবিশিষ্ট অঙ্গীৰপে পরিকলিত : ত। বিশুদ্ধভাবে এক নয়, সকলকে জড়িয়ে নিয়ে এক। তাতে বহু পৃথক পদার্থের বিচিত্র সমাবেশ আছে; কিন্ত ভাবা একই খাপক সন্তাব নধ্যে বিধৃত। সেই সশ্ড] বিশ্বের বিভিশ্ন অশের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে ক্রিয়াশীল থেকে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রিত কবে (তাই 'ত| অন্তুযামী ) এখং দ্বেতভাবে চিহ্িত হয়ে শিচিত্রবপে প্রকট হয়। জ্ঞাতা জ্ঞেয়ের স্গ্বপ্ধর ভিন্ডিতে তার বপ-রম শব্- স্পর্শ-গঞ্ধময বিচিত্র প্রকাশ ধর! পড়ে। বিশ্বশক্তি যেন আনন্দ- আন্বনদনের জন্য এই বৈচিচত্রা ভবা বিশ্ববপ মহাকাবা বচনা কবেছেন।

1৩ন উপনিষদের শ্রেয়বাদ উপরে বলা হয়েছে, উপনিষদের দষ্টিভঙ্গি জিজ্ঞান্থর, ভক্তের নয়। সেই কাবণে বাক্তিরূ্পী ঈশ্বরের বা একেশ্বরবাদের পরিকল্পনা! তার চিন্তায় বিকাশলাভ কবে নি। কাজেই ঈশ্বব কতৃক দণ্ডিত হবাব ভয়ে পাপ হতে বিরত থাকা ঈশ্ববের সৃষ্ট জীব হিসাবে অন্থকে ভাল- বাসবার বা সেবা করবাবধ ধারণ। সেখানে জন্মলাভ করে নি। তা সত্বেও দেখি উপনিষদের ব্রগ্ষবাদ বা সবেশ্বববাদকে ভিত্তি করে একটি উচ্চ আদর্শের পীতিতধ বিকাশলা'ভ করেছিল তার অবলগ্বন ছিল ছুটি প্রেরণ। প্রথমটি হলো। ব্রহ্মবাদ হতে সম্ভৃত বিশ্বের সকল প্রাণীর

১৪. ইয়ং পৃথিবী সবেষাং ভুতানাং মধ; অস্য পৃথিবা সবাঁণি ভূভানি মধু বৃহদারণ্যক ২৫।১

১৫, ভুদ্বিজ্ঞানেন পরিপশাস্তি ধীনা আনন্দরপমমৃতং যাঁদ্ভাঁভ মৃণ্ডক। ২২৭

১১

সহিত অখগুতাবোধের যোগস্থৃত্র। তা সকলের প্রতি প্রীতিবর্ধন করে স্বার্থ পবার্থের সংঘাতের প্রতিকার খু'জেছে। দ্বিতীয় হলো উপনিষদের একটি নিজন্ব তত্ব যাকে বল। যেতে পারে শ্রেয়বাদ। তা দেহের মনের যে-ছন্দ আছে বা ব্যক্তিশ্বার্থ গোষ্ঠী স্বার্থের যে দ্বন্দ আছে তার সমাধান খু'জেছে সামগ্রিক কল্যাণবোধের মধ্যে। বর্তমান আলোচনায় এ-ছটি বিষয় প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। তাই এদের সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় এখানে দেওয়। প্রয়োজন

প্রথমে ধর যাক প্রীতির ভিত্তিতে স্বার্থ পরার্থের সংঘধের সমাধান এর বৈশিষ্ট্য হলো! এখানে উপনিষদ হদয়বৃত্ধিকে ব্জন কবে নি। তাকে নৈতিক উদ্দেগ সাধনের জন্য বাবহার করেছে আমরা দেখব এই সংঘর্ষের সমাধান খোজা হয়েছে একটি বিচিত্র পথে এই বিষয় বুদ্ধিবৃত্তি হৃদয়বৃত্তি উভয়কেই ভূমিক। দেওয়া হয়েছে মূল ভূমিকা! দেওয়! হয়েছে হুদয়বৃত্তিকে আর তাকে প্রেরণ। দেবার ভূমিকা দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধিবৃত্তিকে

উপনিষদ বুদ্ধিবুস্তির সাহায্যে হৃদয়বৃত্তির পরিবর্ধন চেয়েছে এবং হৃদয়বন্তির প্রসারের সাহায্যেই স্বার্থ পরার্থের ছন্দপ মীমাংসা করেছে। মানুষের হুদয়বৃত্তির শ্রেষ্ঠ বিকাশ পাই স্নেহ, প্রীতি ভালবাসার বিস্তারে এই ভালবাসাকে বিস্তার করেই স্বার্থ পরিশোধিত হতে পারে সেটা সম্ভবও বটে, কারণ সকল মানুষের মধ্যেই স্বার্থ এবং পরার্৫থবোধ উভয়ই অল্পবিস্তর ক্রিয়াশীল। এমনকি একান্ত শ্বার্থপর মানুষও সম্ভানের জন্ স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে। পরিবারের মানুষকে, প্রিয়জনকে মানুষ ভালবাসে বলে তার সহিত স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলে এখানে প্রীতিবোধই স্বার্থকে শোধন করতে সাহায্য করে।

উপনিষদে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে এই প্রীতিবোধ কেন হয় এবং তার একটি উত্তরও দেওয়া হয়েছে। উপনিষদ বলে, এই প্রীতিবোধ সঞ্জাত হয় প্রীতির বিষয়ের গুণে নয়, তার কারণ বিশ্বের সকল জীবকে

১৬

ব্যাপ্ত করে একই মহাসন্ত। বিরাজমান আছেন বলে। একই আত্মা বা ব্রন্মের সকলেই অঙ্গীনৃত বলে আমরা পরস্পরের প্রতি প্রীতির আকর্ষণ অনুভব করি। পতির কারণে যে পতি প্রিয় হয়ঃ তা নয়; জায়ার কারণে যে জায়া প্রিয় হয়, তা নয়; পুত্রের কারণে যে পুত্র প্রিয় হয়, তা নয়। আত্মা সকলকে ব্যাপ্ত করে আছে বলেই সকলে প্রিয় হয়।১৬ এই অর্থে সকলেই সকলের আত্মীয়, সকল মানুষ একই পরিবারের সন্তানের মতো এইভাবে অখণ্ডবোধ হতে যখন ঘনিষ্ঠতাবোধ পরিক্ষ,ট হবে তখন সকলের সঙ্গে প্রীতির সম্বন্ধ গড়ে উঠবে। তখন পরস্পরের স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চল। সহজ হবে

ঈশ উপনিষদে এই তব্বটি অবলম্বন করে সকল মানুষকে পরস্পরের সহিত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মতো ব্যবহার করতে উপদেশ দেওয়। হয়েছে। যুক্তি হলে বিশ্বে যাকিছু আছে সবই তো একই মহাসত্বার দ্বারা পরিব্যাপ্ত। স্থতরাং উপদেশ দেওয়৷ হয়েছে ত্যাগের সহিত ভোগ কর! উচিত, পরস্পর ভাগ করে ভোগ কর! উচিত; কারও স্ম্পদ অপহরণ কর! উাচত নয়। আপন লোকের জিনিম কি অপহরণ করা যায় না কি 1১?

এখন শ্রেয়তুত্বের প্রসঙ্গ উ্1পন করা যেতে পারে নীতির মূল সমস্যা। ছুটি (বষয়ের বিরোধ নিয়ে একটি বিরোধ দেহের সঙ্গে মনের দাবীর দেহ চায় ইল্জ্রিয়স্রখ, বিষয়ভোগ £ মন চায় অন্য ধরনের তৃপ্তি। দেহ ভোগের প্রতি আকৃষ্ট হয়, মন হয় সন্ন্যাসের প্রতি অপর পক্ষে মানুষ সামাদিক জীব তার প্রতিটি ইচ্ছাধান কপ যেমন তার স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, তেমন অন্যের স্বার্থ বা সামগ্রিক কলাণের সঙ্গে জডওঙ। এইভাবে স্বার্থ পরার্থের ছন্ এসে পড়ে

১৬. বা অরে পৃতাঃ কামায় পাঁতঃ 'প্রিয়ো ভবত্যাত্মনস্তু কামায় পাঁতিঃ প্রয়ো ভবাতি ইত্যাঁদ। বৃহদারপাক 8161৬

১৭, ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যতকিধচ জগত্যাং জগৎ তেন তান্তেন ভুঞধথা মা গ্ধঃ কস্াসিম্ধঘনম্‌ ।৯

মনে হয়, এই ছুটি বিরোধকেই একটিমাত্র ব্যাপক বিরোধের অস্তভূক্ত কর! যায়। উপনিষদ তাই করেছে! দেহ য! চায় তা হলে ইন্ড্রিয়স্থখ উপভোগ। আবার ইন্ড্রিয়স্ুখ অর্থেই ব্যক্তিবিশেষের ইন্জরিয়ন্ুখ ; সুতরাং তা৷ ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কাজেই বাক্তি-স্বার্থের আকর্ষণ ইন্ড্রিয়স্বখের আকধণ--এই ছুই আকধণের প্রকৃতি একই হয়ে দাড়ায় এই আকর্ষণকে উপনিষদ প্রেয়ের আকধণ বলেছে। ব! ইন্জিয়ন্ুখকর তাই হলো! শ্রেয়; তার সঙ্গে ব্যক্তিস্বার্ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে শ্বার্থপর করে। অপর পক্ষে মনের দেহের প্রতি একট বিরোধভাবও আছে ইন্দ্রিয়স্থখে আকর্ষণ মনকে কাজ করবার অবসর দেয় না। তাই তা ইন্দ্রিয় সংযমের পক্ষপাতী তাই মন ইন্দ্রিযশিরোধের প্রতি আকৃ& হয় এবং সমগ্টিগত কল্যাণকর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। স্ুতবাং সম্নাসবাদের সহিত পরার্থবাদের একটি প্রকৃতিগত সাদৃশ্য আছে। এইভাবে শ্রেয়বাদের সহিত সন্গ্যাসবাদদের একট। দ্বন্ব এসে পড়ে

স্থতরাং দেখা যায় বিরোধ ছুই ভিত্তিতে গড়ে ওঠে প্রথম, দেহেব সঙ্গে মনের বিরোধ এবং দ্বিতীয়, স্বার্থের সঙ্গে পরার্থের বিরোধ উপনিষদ বলে আমরা যদ সামগ্রেক কল্যাণ ব। শ্রেয়ের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি দেখি তা হলে, বিষয়টি আরও সরল রূপ নেয় মূল প্রশ্ন হলো, ব্যক্তির সুখ ব। তৃপ্তি নয়, গোষ্ঠীর সুখ ব। তৃপ্তি নয়, ব্যক্তির কঙ্সযাণ গোষ্ঠীর কল্যাণ। দেহ মনের পরস্পরের সহিত সম্বন্ধ এত ঘনিষ্ঠ যে উভয়ের কল্যাণ পরম্পর জড়িত স্ুতরাং ব্যক্তিবিশেষের সম্পকে ভোগ 'ও ত্যাগের সমাধান নির্ভর করে সমগ্র ব্যক্তির কল্যাণের উপর। অনুরূপভাবে ব্যক্তি সমাকত হতে পৃথক নয়, তার অঙ্গীভূত। ঠিক বলতে কি তাদের মধ্যে মূলত বিরোধ নাই বাক্তির কল]ণ সমগ্রের কল্যাণ বর্ধিত করে। সামগ্রিক কল্যাণের দৃষ্টিভজি নিয়ে দেখলে উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধের সমাধান সম্ভব উপনিষদে এই সামগ্রিক কঙ্যাণকেই শ্রের বলা হয়েছে।

২৪

এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে উপনিষদ বলে জীবনে ত্যাগেরও প্রয়োজন আছে ভোগেরও প্রয়োজন আছে; উভয়ের সামগ্রস্তের মধ্যেই জীবন সার্থকত। মণ্ডিত হয়॥। তাই উপনিষদে ইন্ছ্িয়সংযমের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, ইক্ড্রিয়নিগ্রহের উপর নয়। ভূমিকে উর্বর করতে হলে প্রথমে চাই তাকে ভালভাবে কর্ষণ কর!। দেই কর্ষণই হলে! জীবনে ত্যাগের দিক ; কিন্তু কধণ করে জমি ফেলে রেখে দেবারও কোন অর্থ হয় না। তাতে বীভ বপন করেশশস্ত উৎপাদন করলেই সেই কর্ষণ সার্থক হয়।

উপনিষদে 'আত্মদমনের জন্যই শিক্ষা-অবস্থায় ত্রহ্মচর্ধপালনের ব্যবস্থ। ছিল। ত৷ সঙ্গ্যাসের প্রস্ততি নয়, গৃহস্থজীবনের প্রস্ততি বিষয় তৈত্তিরীয় উপনিষদে স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়। যায় ॥। সেখানে দেখ। যায় সমাবর্তনের দিনে আচার্য অস্তেবাসীকে উপদেশ দিচ্ছেন শিক্ষা- "সমাপ্তির পর সংসার আশ্রমে প্রবেশ করে বংশধারা অব্যাহত রাখবার ব্যবস্থা করতে ।১৮ এখানে বংশধারাকে অব্যাহত রাখার উপদেশটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ। জীবনে ত্যাগেরও স্থান আছে, ভোগেরও স্থান আছে। শুধু ভোগ বা শুধু সন্ন্যাস সামগ্রক কলাণ বা শ্রেয়ের পরিপন্থী তাই উপনিষদ শ্রেয়ের পথই অনুসরণ করতে উপদেশ দিয়েছে।

চার রবান্দুনাথের দার্শীনক চিন্তার স্বরূপ রবীন্দ্রনাথের পিতা৷ মহথ্ি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপনিষদের উপর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তিনি ছিলেন একান্তিকভাবে একেশ্বরবাদী ভক্ত তাই উপনিষদের সবেশ্বরবাদ বা শংকরাচার্ধের অছৈতবাদ তিনি গ্রহণ করতে পারেন নি। তবু উপনিষদের প্রতি শ্রদ্ধা তার শিথিল হয় নি।

১৮. আচাধার় প্রিয়ং ধনমাহৃতা প্রজাতন্তুং মা ব্যবচ্ছেধসীঃ তৌত্তরীর ১।২

২৫ উপপানষদ--২

তাই দেখি ব্রাহ্গধর্মের যেউপাসনারীতি তিনি প্রবর্তন করেন, তার মধ্যে উপনিষদের কতকগুলি বচন স্থান পেয়েছে তার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের বাল্যে পারিবারিক প্রার্থনাসভায় উপনিষদের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। কিন্তু সে-পরিচয় ছিল একাস্তই বাহ্যিক এবং সেই কারণে তার উত্তর-জীবনের চিন্তাকে প্রভাবান্বিত করতে পারে নি। তিনিই বলেছেন £ “বাল্যে উপনিষদের অনেক অংশ বারবার আবৃত্তি দ্বারা আমার কণ্ঠস্থ ছিল। সবকিছু গ্রহণ করতে পারি নি সকল মন দিয়ে শ্রাদ্ধ। ছিল, শক্তি ছিল না হয়ত।”১৯ পরবর্তাকালে যখন তিনি তরুণ বয়স অতিক্রম করে প্রায় প্রৌত্বের সীমায় এসেছেন তখন দেখি তিনি উপনিষদের এবং প্রাচীন তপোবনভিত্তিক অধ্যাত্মসাধনার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন তপোবনেব খষি এবং উপনিষদে বিধৃত তাদের বচন-_-উভয়ই যে ভাব সুগভীর শ্রদ্ধ। আকর্ষণ করেছিল তার সুন্দর পরিচয় পাওয়া যায় তাৰ “নৈবেছ কাব্যগ্রন্থে এই সাধনার প্রতি তিনি কতখানি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন নিচের কাব্যাংশে তার স্থন্দর পরিচয় পাওয়া যায় £ হে সকল ঈশ্বরের পরম-ঈশ্বর তপোবন তরুচ্ছায়ে মেঘমন্দ্রধৰ ঘোষণ। করিয়াছিল সবার উপরে অগ্নিতে জলেতে এই বিশ্বচর/চবে বনস্পতি-ওষাধতে এক দেবতার অথণ্ড অক্ষয় এঁক্য। সেবাক্য উদার এই ভারতেরই ।২* এরপরে দেখি উপনিষদে নিহিত তত্ব রবীন্দ্রনাথের মনকে আরও প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছে ; এবং ফলে তিনি যে তার মধ্যে গভীর-

১৯, সানুষের ধর্ম, সংযোজন--১ ২০, নৈবেদ্য, ৫৭

২৬

ভাবে প্রবেশ করেছেন তার প্রমাণও আমর! পাই এমনই তে। হয়ে থাকে। প্রথনে শ্রদ্ধা আসে তারপর যার প্রতি শ্রদ্ধা আমে তাকে ভালভাবে জানতে ইচ্ছা করে। এর সুন্দর প্রমাণ পাওয়। যায় "শান্তি- নিকেতনের ভাষণমালার মধ্যে এই ভাষণগুলি প্রদত্ত হয় বাংল! ১৩১৫ হতে ১৩২১ সালের মধ্যে তাতে নিজশ্ব কথ। যেমন আছে, তেমন উপনিষদের বাণী উদ্ধৃত করে তার সমর্থনও চাওয়া হয়েছে। যাকে শ্রদ্ধা করি তার কাছ হতেই আমরা সমর্থন খুজি এমনও ভাষণ আছে য। উপনিষদের ব্যাখ্যার ূপ ধারণ করেছে এই প্রসঙ্গে “বিশ্ববোধ' শীর্ষক ভাষণটির বিষয়বস্তু লক্ষণীয়! এই সময়ের মধ্যেই, নোবেল পুরস্কার পাবার অব্যবহিত পুবে তিনি আমেরিকায় নান! স্থানে বন্তৃত৷ দেবার আমন্ত্রণ পান। সেখানে তার বক্তৃতার মূল বিষয় ছিল উপনিষদের বাণীর ব্যাখ্যা বল। বাহুল্য, এই ভাষণগুলি ইংরাঞ্জরিতে প্রদত্ত হয় এবং পরে “সাধনা” নামে প্রকাশিত হয়। এদের মধো “দি রিয়ালাইজ্রেশন অব দি ইনফিনিট+২১ শীর্ষক ভাষণটি, বিশেষ কৰে দ্রষ্টব্য

স্থতরাং এটি অবধারিত সত্য যে রবীন্দ্রনাথ উপনিষদের বাণী সহিত মাশৈশব পরিচিত ছিলেন এবং পরবতী জীবনে তার প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাবিষ্ট হয়ে, তা সযত্রে পাঠ করে, তার মন হৃদয়গম করেছিলেন। উপনিষদের বাণীর মানুষের মনকে ভবর্ধমুখী করবার শক্তির বিষয় অবহিত হয়ে, তার 'প্রচারকের ভূমিকাও তিনি গ্রহণ করেছিলেন। ওবু একথা বল! হয়ত শক্ত হবে যে তারচিন্তা উপনিষদের চিন্তাদ্ধার। প্রভাবাস্বিত হয়েছিল ঠিক বলতে, তিনি প্রভাবান্িত হয়েছিলেন কিনা এব: হয়ে থাকলে কতখানি প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন সেই প্রশ্রের মীমাংসাই বর্তমান আলোচনার অনুসন্ধানের বিষয় তার প্রস্তুতি হিসাবে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চিস্তার সহিত আমাদের সংক্ষেপে পরিচিত হয়ে নিতে হবে

রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক তথা আধ্যাত্মিক চিম্ত! সামগ্রিকভাবে

৯৯ 100/2 06818986500) ০01 0১০ 10)81)156.

আলোচনা করলে দেখা যায় তা গতিশীল ছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন অবস্থায় তার প্রকৃতির পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে মোটামুটি তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে তার চিন্তা পরিণতির পথে এগিয়ে গিয়েছে প্রথম জীবনে দেখি, তিনি এক সর্বব্যাপী সত্তার বিশ্বের মধ্যে প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। পরবর্তা ' অবস্থায় দেখি, তিনি এক ব্ক্তিরপী ঈশ্বরকে তার অন্তরের মধ্যে আবিষ্কার করেছেন এবং মধুর রসের ভিন্তিতে তার সহিত গ্রীতির সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন সেই অস্তরে অবস্থিত দেবতার ইচ্ছ। অনুসারে জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করাই নিজের কর্তব্য বলে মনে করেছেন। এঁকেই তিনি “জীবনদেবতা, বলেছেন। শেষ অবস্থায় তিনি এই ছুটি তত্বের মধ্যে সামঞ্জস্থ স্থাপন করতে চেষ্টা করেছেন তার নিজস্ব মানবিকতা তত্বের মধ্যে অখণ্ডতা- বোধ হতে বিশ্বমানবের প্রতি গ্রীতি এবং গ্রীতি হেতু বিশ্বজনীন কর্মে আত্মনিয়োগ করে আনন্দ এই হলে। সেই তত্বের মর্নকথ। | জঙ্ঞান হতে ্লীতি, প্রীতি হতে সেবা, সেবা হতে আনন্দ।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এক অসাধারণ কবি। তার কাব্যের উৎস ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অভিজ্ঞত! হতে সঞ্জাত তীব্র অনুভূতি নয়; তার মূল প্রেরণ হলো তার অধ্যাত্ম-চিন্ত।। অধ্যাত্ম-চিন্ত তার হৃদয়ে যে আ[লোড়ন স্থ্টি করত তাই তার কবিতায় ভাষা পেত। তাই দেখি তার কাব্যে বারবার পাল। বদল হয়েছে, অথচ তার মধো একট ধারাবাহিকতা আছে। ম্ৃতরাং তার অধ্যাম্মজীবন কাব্যজ্ীবন হাত ধরাধরি করে চলেছে এবং কাব্যের মধ্যেই তার অধ্যাত্ব-চিন্তার ইতিহাস অজানিতে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে এবিষয় তিনি নিজেও অবহিত ছিলেন। তাই দেখি তিনি বলেছেন যে তার কাব্যজীবন অধ্যাত্ব-

জীবন তার অজানিতে একই পথ অনুসরণ করেছে ।২+ ২২, 79 16119100995 1106 1345 101109৩/60 6136 58096 73950211005 11706 ০6 0:০%/0) 29 1393 105 1০061101109. 90061805/ 0065 616 ৯০৫৫৭ 6০

6৪০1) ০6182 800 07008] 1১617 10610060091 0৭০ 1018 05190 ০£ ০816100552৮ 985 (0506 56০16 60 282) 26118107 ০1 8607, 276 7715107.

রবীন্দ্রনাথের অধ্যাত্মজীবন শুরু হয়েছিল প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং নিবিড় সংযোগের মধ্য দিয়ে। ভোরের স্ুর্যকিরণে বাতাসে আন্দোলিত নারকেলগাছের পাতা, মধ্যাহ্নকালের নিবিড় নিস্তব্ধতা, বর্ষায় ঘননীল মেঘের সমাবেশের মাধুর্য তার হৃদয়কে আন্দোলিত করত। মেঘ দেখলে তার হাদয় নাচত, বর্ষামুখর রতে এবং ফাস্তন সমীরণে ভার মন শিহরিত হতো, ভোরের স্ুর্যকিরণের আকর্ষণ তাকে বাল্যক।লে ঘুমের নিবিড় আলিঙ্গন হতে টেনে বার করে আনত।

প্রকৃতির মধো নানা পরিবেশে এই মাধুর্ষের বিকাশের ভিতর তিনি এক প্রচ্ছন্ন সত্তার অস্তিত্ব উপলব্ধি করতেন এবং তাকে জানবার ভন্য মনে একটি তীব্র আকৃতি জাগড। নীল আকাশে কে শাদা মেঘের ভেলা ভাসাল ত৷ জানতে তার মন উৎসুক হতো নীল মেঘে আকাশ ছেয়ে গেলে তার হৃদয় শুধু ময়ূরের মতো! নেচে উঠত না, আকাশের পানে বাহুতুলে সেই অজ্ঞাত প্রচ্ছন্ন সন্তাকে পেতে চাইত। মন দিয়ে চিন্তা! করে, হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, তার মনে হয়েছে সেই মহাসত্। নিজে অলক্ষ্য থেকে মহাকাশে মহাবিশ্বকে এবং পৃথিবীর বক্ষে প্রাণের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রিত করেন। গ্রহ-নক্ষত্রগুলি যেন তার আলোক ধেন্ু এবং পৃথিবীর বক্ষে লালিত তরুলত। আদি আলোয়চরা ধেন্ু॥ আর তিনি তন অদৃশ্য রাখালরূপে তাদের নিয়ন্ত্রিত করেন; তার বাঁশ শোনা যায়, তাকে দেখা যায় না £

এই যে -তামার আলোক ধেন্ শষ তার দলে দলে, কোথায় বসে বাজাও বেণু, চরাও মহ! গগন তলে ।২৩

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেই মহাসত্তার শুধু পবিচয় পেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেন (নি; তাকে গ্রীতির সম্বন্ধে পেতে চেয়েছিলেন। তার বুদ্ধিবৃত্তি যেমন প্রবল ছিল, হৃদয়বৃত্তিও তেমন শক্তিমতী ছিল বুদ্ধিবৃত্তির

২৩. গীতালি, আলোক ধেনু। ২৯

সাহায্যে তিনি বিশ্বসন্তাকে এক জবব্যাগী প্রচ্ছন্ন সম্তারূপে জেনেছিলেন। এখন হৃদয়বৃত্তির আকষণে তিনি তাকে গ্্রীতির সম্থন্ধে পেতে চাইলেন এই আকৃতির ফলেই তিনি অধ্যাত্মজীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তার জীবনদেবতাকে আবিষ্কার করলেন

এই জীবনদেবতা! তব্টি তিনি এক দিব্য অনুভূতির সাহায্যে আবিষ্ষার করেছিলেন তার কথ! তিনি ছুই স্থানে উল্লেখ করেছেন ; তার 'রালজ্জিয়ান অব ম্যান গ্রন্থে এবং “মানুষের ধর্ম, গ্রন্থের ( সংযোজন অংশে )। একদিন হুপুরে তহশীলের কাজ সেরে তিনি স্নান করতে যাবার পথে সাহাজাদপুরের কুঠিবাড়ির দোতলার খোল। জানলার সামনে দাড়িয়েছিলেন। হঠাৎ তার উপলব্ধি হলে। একটি শক্তি তার সমগ্র জীবনকে এক অথণ্ড এঁক্োব স্থাত্রে গ্রথিত করে আছেন। তিনি যেন নাটকের অষ্টাব মতো! অভিনেতারপী কবির জীবনকে, সার্থকতার পথে প্রীতির সম্বন্ধের ভিতর দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে চাইছেন। তার ধাবণা জীবনদেবতা। নৈবাক্কিক বিশ্বসন্তার বাক্তিরূপে প্রকাশ

এইভাবে রবীন্দ্রনাথ একটি অসঙ্গতির মধ্যে এসে পড়েছিলেন মন দিযে বিশ্বের অন্তনিহিত শক্তিরূপে ধার পরিচয় পপলেন, তিনি এক প্রচ্ছন্ন সন্ত।। উপনিষদের ব্রহ্মবাদ তবের সঙ্গে তার মিল আছে। অথচ হৃদয় দিয়ে তাকে পেলেন হছাদয়ের মধ্যে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি-সন্তাবপে | তিনি এই 'অসঙ্গতির মীমাংসা কবেছেন এক অভিনব পথে তিনি বলেছেন, বিশ্বসত্তার একই সঙ্গে ছুই বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশ হতে পারে। এক পর্যায়ে তিনি সর্বব্যাপী প্রচ্ছন্ন নিয়ামক শক্তি তাঁকে তিনি বিশ্বসক্তার “কাজের প্রকাশ বলেছেন এখানে বিশ্বসন্ত! বিশ্বদেবতা” এর অতিরিক্তভাবে তার একটি প্রকাশ আছে, যেখানে তিনি ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক স্থাপন করে, তার হৃদয়ে স্থান নিয়ে তার জীবনকে গড়ে তুলতে চান। এই প্রেমের সন্বন্ধে কোনও বাধ্যবাধকত। নাই। যে তার খ্বীতির আহ্বানে সাড়া দেয়,

9

তার হৃদয়েই তিনি অধিষ্ঠান নেন। একে তিনি আনন্দের প্রকাশ বলেছেন। এখানে বিশ্বসপ্তা 'জীবনদেবতা” 1২৪

মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ যেন এই তবটির প্রতীকের সাহায্ো একটি কবিতার মধ্য দিয়ে পরিষ্ফুট করতে চেষ্টা করেছেন একই মহ্থাশক্তির ছুই পর্যায়ে যুগপৎ প্রকাশ যে সম্ভব ত1 একটি নৈসগ্িক দৃষ্টান্ত হতে তিনি সেখানে স্থাপন করেছেন তূর্য বিরাট, গগন না হলে তার প্রকাশের উপযুক্ত পরিবেশ কল্পনা করা যায় ; অথচ ক্ষুদ্র শিশির- বিন্দুর বক্ষেও নিজেকে প্রতিফলিত করবার ক্ষমতা রাখে। স্ূর্ধ বিপুল কিরণে যেখানে ভবন আলোকিত করে, সেখানে পাই তার নৈধ্যক্তিক প্রকাশ, আবার যখন বিশেষ শিশিরবিন্ুর মধ্যে সে নিজেকে প্রতিফলিত করে, তখন পাই তার ব্যক্তিরপে বিশেষের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপনের উপযুক্ত প্রকাশ ।২« প্রথমটি কাজের প্রকাশের সঙ্গে তুলনীয় এবং দ্বিতীয়টি আনন্দেব প্রকাশের সঙ্গে তুলনীয়

রবীন্দ্রনাথের যেমন বুদ্ধিবৃত্তি হাদয়বৃত্তি প্রবল ছিল, তেমন সেবাবৃত্তিও প্রবল ছিল। এই সেবা ব৷ কর্মবৃন্তির আকর্ষণই তাকে জীবনদেবতা হতে সবিয়ে নিয়ে মানবিকতার কাছে টেনে নিয়ে এসেছে। সাধন জীবনের শেষ অধায়ে জীবনদেঘতা তত্ব হতে মানবিকত তবে উত্তরণের প্রেরণ। বিশ্বজনীন কর্মে আত্মনিয়োগের আকর্ষণ হতেই এসেছিল বুদ্ধিবৃত্তিব পথে তিনি জীবনদেবত৷ তত্বে আকৃষ্ট হয়েছিলেন কিন্তু এইভাবে ঈশ্বরকে পাওয়া গেলেও তাকে দেখ! যায় না, তাকে ধরা যায় না$ সুতরাং তাকে সেব করবার স্বযোগ পাওয়া যায় না। স্মৃুতরাং মানুষ রূপেই রবীন্দ্রনাথ তার সেবা করতে চেয়েছিলেন

এই কারণে তিনি বিশ্বসন্তার এমন একটি প্রকাশ চেয়েছিলেন

২৪, এই প্রসঙ্গে “শাস্তিনিকেতন” গ্রন্থের “সোন্দর্য” “আত্মবোধ' ণবশেষ'

শীর্ষক ভাষণগুলি দুষ্টব্য। ২৫. উৎসর্গ, প্রসাদ

৩১

যেখানে মানুষ বুদ্ধিবৃত্তি, হৃদয়বৃত্তি এবং সেবাবৃত্তির প্রয়োগের স্থুযগ পেয়ে তার সঙ্গে মিলিত হতে পারে তিনি ঈশ্বরকে যুগপৎ মন, হৃদয় কর্ম দিয়ে পেতে চেয়েছিলেন। তার ধারণায় সেটা সম্ভব, ঈশ্বরের ষে প্রকাশ মানুষের নিকট ঘনিষ্ঠতম সেই প্রকাশের সঙ্গে এই তিন বুত্তির সংযোগ স্থাপন করলে তার প্রতিপাছটি সহজবোধ্য করবার জন্য তিনি একটি উদাহরণ স্থাপন করেছেন বিষয়টি তার নিজের মুখেই শে:ন। যেতে পারে £

“মাতা যেমন একমাত্র মাতৃসম্বন্ধেই শিশুর সবাপেক্ষা নিকট, সর্বাপেক্ষা প্রভাক্ষ, সংসারের সহিত তাহার অন্টান্থ বিচিত্র সম্বন্ধ শিশুর নিকট অগোচর অব্যবহার্ধ, তেমনি ব্রহ্ম মানুষের নিকট একমাত্র মনুষ্যত্বের মধোই সবাপেক্ষা সতাকপে, প্রত্যক্ষরূপে বিরাজমান--এই সম্বন্ধের মধা দিয়াই আমরা তাহাকে শ্রীতি করি, তাহাকে কর্ করি।”২৬

রবীন্দ্রনাথের মানবিকতা তন্ব বলে বিশ্ব হতে পলাঙুক হয়ে সন্ন্যাসগ্রহণ মুক্তির পথ নয়; মুক্তির পথ বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে আত্মার বিকাশ সাধনের মধো এই তন্বটি 'শান্তিনিকেওনে'র ভাষণমালায় বিশ্লেষণ করে দেখান হয়েছে এতে মানুষেব তিনটি মৌলিক বৃত্তিই প্রয়োগের সুযোগ পায় এবং ফলে ঈশ্বর সাধন। সর্বতোমুখী হয়। বুদ্ধিবৃন্তির সাহায্যে জ্ঞানের পথে বিশ্বের অথগুতাবোধ পরিস্ষুট হয়। তার ফলে বিশ্বের সহিত যে একাত্মতাবোধ জাগে তা অন্যের প্রতি শ্রীঙি সঞ্চার কবে হৃদয়বৃদ্তিকে পবার্থে উন্মুখ করে। এই গ্রীতি সঞ্চারের ফলে কর্মবাত্ত আর স্বার্থবোধের দ্বাগ। প্রভাবান্বিত হয় ন।; প্রীতিপ্রণোদিত হয়ে সবজনীন কর্মে আত্মনিয়োগ করা সহজ হয়ে পড়ে তখন পরের জগ্ত কর্ম কর! আর দায় বোধ হয় না, তাতে আনন্দ আসে; যেমন মায়ের সন্তানের সেবা করে আনন্দ আসে।

২৬. ধর্ম ৩৭

গ্রীতির প্রভাবে পরার্থ স্বার্থের সহিত একীভূত হয়ে যায়। একেই রবীন্দ্রনাথ বলেন জ্ঞান-প্রেম-কর্ম-আনন্দের সাধন]

পাচ প্রস্তাবিত আলোচনারণীতি

এখন বঙ্মান প্রসঙ্গে কোন্‌ আলোচনারীতি প্রয়োগ করা হবে সে বিষয় কিছু বলে নেওয়া যেতে পারে আমাদেব আলোচ্য বিষয় হলে। উপনিষদের ভাবধারার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের অধ্যাত্মচিন্তার তুলনামূলক আলোচন। উভয় চিন্তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি উপরের আলোচনায় সংক্ষিপ্ত আকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে এর ফলে তাদের পরস্পরের তুলনামূলক আলোচনাব পথ প্ররস্তত হয়ে গেছে। সেটা সব থেকে সহজসাধা হবে, যদ্দি উপনিষদের মূল চিন্তাগুলি পৃথকভাবে স্থাপন করে, প্রত্যকটির সহিত রবীন্দ্রনাথের চিন্তার তুলনা! করি। তাতে আলোচনার একটি স্বচ্ছ বপ পাবার সম্ভাবনা বেশি তারপর আমরা এই গ্রন্থে যে মূল প্রশ্ন উত্থাপন করেছি তার উত্তর দেবার সময় আসবে মূল প্রশ্ন হলো রবীন্দ্রনাথেব অধ্যাত্ম চিন্তার সহিত উপনিষদ চিন্তার সাদৃশ্য কতখানি এবং দ্বিতীয়ত, রবীন্দ্রনাথ গঁপনিষদ [চস্তাঘ্বারা কতখানি প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন দেই আলোচনাটি সবার শেষে হওয়াই বিধেয়।

এখন বতমান প্রসঙ্গে যে তত্বগুলির সহিত রবীন্দ্রনাথের চিশ্তাব পৃথকভাবে আলে চন। করবার প্রস্তাব করি, তাদের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে, এই প্রাথমিক আলোচনা শেষ করতে পারি সেই বিষয়গুলি হলে। এই £

১। উপনিষদের ব্রহ্মবাদ £ তা রলে বিশ্ব এক প্রচ্ছন্ন মহাসত্তা- দ্বারা পরিব্যাপ্ত এবং নিয়ন্ত্রিত এবং বিশ্ব হতে তা অভিন্ন। রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় এই সবেশ্বরবাদ একরকম সমধিত।

৩৩

৪8

তবে একেশ্বরবাদের প্রভাব হতেও তিনি মুক্ত নন। ফলে জীবনদেবতা তত্বের উত্তব।

২। উপনিষদের দ্বৈতভাব তত্বঃ উপনিষদের মূল চিস্তাধার।

৩।

৪1

বিশুদ্ধ অদ্বৈতবাদ সমর্থন করে না। তা বলে আনন্দ আস্বাদনের জন্য যিনি ছিলেন একমাত্র অদ্ভিতীয় সত্তা, তিনি নিজের ওপর দ্বৈতভাব আরোপ করে এই বিচিত্র বিশ্বে রূপান্তরত হয়েছেন। ঘ্বৈতভাবের মধ্যেই বিশ্বসন্তার আনন্দরূপটি পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। আমবা দেখব রবীন্দ্রনাথ এই চিন্তার পুরণ সনর্থন করেন। তিনিও বলেন যিনি “পরম-এক" তিনি “আনন্দে উৎসুক” হয়ে “আপনারে ছুই করি লভিছেন সুখ

আনন্দতব্ £ উপনিষদের আনন্দবাদের সংঙক্ষপ্ত পবিচয় বর্ধমান আলোচনার প্রথম অংশে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখব, রবীনব্দ্রন।থ-পরিকল্পিত আনন্দতত্বেব সহিত তার আশ্র্ধরকম সাদৃশ্য আছে।

মৃত্া সমস্া £ উপনিষদে এই সমস্তাটি নিয়ে 'অনেক আলোচনা আছে। আনন্দতত্বেরেইে অংশ হিসাবে তা আলোচিত। তা বলে আনন্দই ব্রহ্ধ। সেই আনন্দেবই আকর্ষণে জীবের জন্ম এবং মতা তার প্রাণ প্রবাহে ছন্দ। কাজেই ব্যাপক দৃষ্টিভাঙ্গ দিয়ে দেখলে মৃত্যুর দাতিকাশক্তি থাকে না, তা আনন্দ ব। অযুতের উপাদান হয়ে দাড়ায় তাই বল। হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবে দেখলে মৃত্যুর কষ্ট আছে, কিন্তু অখগুভাবে দেখলে শোকের অবকাশ থাকে না। সম্ভুতি বিনাশকে যুক্ত করে দেখলে অমৃত লাভ কর! যায়।২+

২৭. বিনাশেন মৃত্যুং তীর্থ সংভুত্যাহমৃতমন্নু তে ঈশ। 99

রবীকজ্রনাথ বারবার মৃত্যুশোক পেয়েছেন এবং মৃত্যুর প্রকৃতি নিয়ে নান! প্রশ্ন তূলেছেন এবং উত্তরও দিয়েছেন। জে- উত্তরের চিস্ত। যেমন পরিণতির পথে এগিয়েছে তেমন তার রূপপরিবর্তন ঘটেছে 'আমরা দেখব রবীন্দ্রনাথের পরিণত চিন্তাটি উপনিষদের চিন্তার কাছে ঘেঁষে এসেছে।

শ্রেয়তত্ব :হ উপনিষিদের শ্রেয়তন্ব অনম্থসাধারণ। পাশ্চাত্য নৈতিক দর্শনের চিন্ত। হতে তা ভিন্ন পথে অগ্রসর হয়েছে। তার সহিত তুলনীয় কোনও তত্ব রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় যেন পাওয়া যায় ন। মনে হয় তবে এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতত্ব উল্লেখনীয়। তাও অভিনৰ এবং তার সহিত শ্রেয়তত্বের হয়ত কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। তবে সেটি অনুসন্ধান সাপেক্ষ

মানবিকত। £ উপনিষদের মানবিকতার প্রেরণ অখগ্ডবোধ। তাৰ ভিব্কিতেই স্বার্থবোধকে গ্রীতির উদ্রেকে