11.1,14১1-0470025৭% 73৬ 12912861 12115191654 85 - 05029115 08911

| মহাকবি হোমারের ইলিয়ড ওডিসি |

৮00731.15 11১1,

স্থাট গস ২০০০৫) 86 এল ৩৬০০

আহ... ২০------৮ (243 হট ০. পস৮স/98 375). ভাষাস্তর ঃ- দেবাশীষ চাকী প্রচ্ছদ ঃ- অঞ্জন বোস

অলংকরণঃ- শ্রীবিদ্যা অশোক প্রকাশক ₹- স্বপন বসাক বসাক বুক স্টোর ৪, শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট কলিকাতা-৭০০ ০৭৩ লেজার সেটার £- ডি এন্ড বি ডেটা সার্ভিসেস, কলি-৫৪ মুদ্রক £- মূল্য ঃ- চল্লিশ টাকা

শ্রী স্বপন বসাক কতৃক ৪, শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলিকাতা-৭৩ হইতে শ্রকাশিত।

উৎসর্গ

যিনি পৃথিবীতে নেই কিন্তু স্মৃতিতে আছেন, ধার সাহায্যের সাধ ছিল না-_ সেই বাবাকে_ শ্রীদেবাশীষ চাকী

অন্ধ কবি হোমার

বীষ্টের জন্মের সাড়ে আটশ বছর আগে 'ইলিয়ড” আর 'ওডিসি' এই দুই মহাকাব্য লেখা হয়। যদিও এই দুটো আলাদা মহাকাব্য তবুও মুল কাহিনী একই। এবং সেই কাহিনী হলো ট্রয়যুদ্ধ এবং তার আনুপূর্বিক ঘটনাবলী। একথা সত্য যে টুয়যুদ্ধেপ কোন এঁতিহাসিক সতাতা পাওয়া যায় না। তবে এশিয়। মাইনরের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল এবং তাকে কেন্দ্র করে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে এক ভয়ংকর যুদ্ধ শুরু হয়। বহু রাজা মহারাজা সেই যুদ্ধে যোগ দেন একথা সত্যি। হোমার মনে করেছিলেন যে যুদ্ধের গল্প যদি গানের মাধ্যমে বলা যায় তবে গ্লীসেব বিভিন্ন অঞ্চলে ত৷ জনপ্রিয় হবে। এই ভেবেই লেখ৷ 'ইলিয়র্ড “ওডিসি'।

হোমার খ্বীষ্টপূর্ব অষ্টম শতকের প্রথম দিকে জন্মগ্রহণ করেন। এই গ্রীক মহাকবির জন্মস্থান নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। হোমারের ছিল বিপুল জনপ্রিয়তা এবং তিনি ছিলেন চারণ কবি। তিনি যে কবি ছিলেন তাই নয়, তিনি খুব সুন্দর গানও করতে পারতেন। বীণাযন্ত্র বাজানোতে তার দক্ষতাও ছিল অসীম। বর্তমান বা অতীতের যে কোন বিষয়ে কাব্য রচনা করে তার নিজের গলায় সেই গান গেয়ে মুগ্ধ করতেন সবাইকে। পুরাতত্ববিদেরা বলেন হোমার পরবর্তী জীবনে ঘটনাক্রমে অন্ধ হয়ে যান। সেকালে গ্রীস দেশের অনেক রাজার! তাদেব নিজেদের প্রাসাদে চারণ কবিদের চিরদিনের জন্য আটকে রাখবার জন্য অনেক সময় অন্ধ করে দিত। হোমারের ভাগ্যেও তেমন ঘটনা ঘটেছিল কিন! কে জানে!

হোমারের “ইলিয়ড', “ওডিসি' একত্রে অনুবাদ করতে যাওয়া অনেক সময় সাপেক্ষ সেই সঙ্গে স্থানসাপেক্ষও বটে। স্বল্পপরিসবে এত বড় মহাকাব্য দুটোকে কিশোর উপযোগী করাও কষ্টসাধ্য। তবু যতটা সম্ভব সমস্ত ঘটনাকে যথাযথ রাখার ঠেঁষ্টা করা হয়েছে। এখন অনুবাদকের অনুবাদ পাঠকের আকর্ষণ বা বিকর্ষণ কোন্টা সৃষ্টি করে সেটাই দেখার!

শ্রীদেবাশীষ চাকী

প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্ব

রণ

পথম পর্ন ষষ্ঠ পর্ব সপ্তম পর্ব অষ্টম পর্ব

নবম পর্ব

রি

দশম পব

একাদশ পর্ব

রর

দ্বাদশ পব

ত্রয়োদশ পব

চতুর্দশ পর্ব পঞ্দ্রশ পর্ব ষষ্টাদশ পর্ব সপ্তদশ পর্ব

অষ্টাদশ পর্ব উনবিংশ পর্ব

বিংশ পর্ব

একবিংশ পর্ব

ইলিয়ড অথ কলহ কথা নিশার স্বপন সম সম্মুখযুদ্ধে নামলেন প্যারিস মেনেলাস শপথের শর্ত কোথায় গেল? কৃতিত্ব দেখালেন ডায়ামিডাস এবারো ডায!মিডাস আবার শুরু হল হতালীল। যুদ্ধ হল একদিনের $ জয়ী হল ট্য়সৈন্য অবশেষে একিলিসের কাছে দূত গেল গভীর রাতে কে যায়? এবার কৃতিত দেখালেন আগমেনন গ্বীকদের প্রাচীর এবার আক্রান্ত হল যুদ্ধ এবার রণহরীর কাছে... জিউস প্রতারণা করলেন আবার টুয়বাসীরা জিতল পাট্টোব্লাস মারা গেলেন একিলিস রণসজ্জায় সঙ্ভিত হলেন সাথে আযগমেননের পুর্নমিলন এবার একিলিসের পালা অবশেষে হেকটরের মৃত্যু অতঃপর !! সবশেষে.....!

১৫ ২০ ২৮ ৩৬ ৪৯ ৫৮ ৬৮ ৭৮ ৮৪ ৯২ ১০৫ ১১৩

১২৩

প্রথম অধ্যায় দ্বিতীয় অধ্যায় তৃতীয় অধ্যায় চতুর্থ অধ্যায় পধম অধ্যায় ঘষ্ঠ অধ্যায় সপ্তম অধ্যায় অষ্টম অধ্যায় নবম অধ্যায় দশম অধ্যায় একাদশ অধ্যায় দ্বাদশ অধ্যায় ত্রয়োদশ অধ্যায় চতুর্দশ অধ্যায় পথদশ অধ্যায় যষ্ঠদশ অধ্যায় সপ্তদশ অধ্যায় অষ্টদশ অধ্যায় উনবিংশ অধ্যায় বিংশ অধ্যায়

ওডিসি

ওড়িসি ঝগ্বিতণ্ডা!!

নষ্টরের কাছে এল টেলিমেকাস মেনেলাসের কাছে

জলপরী

অতঃপর ওডিসিয়াস

প্রাসাদে এলেন ওডিসিয়াস খলার মাঠে

মুখ খুললেন ওডিসিয়াস ওডিসিয়াসের পরবস্তী গল্প মৃত্যুপুরী থেকে বেরিয়ে ওড়িসিয়াসের গল্প শেষ টেলিমেকাস ফিরে এল অবশেষে পিতা পুত্রের মিলন হল ওডিসিয়াস চললেন নগরে ভিক্ষুক আইরাস বনাম ওডিসিয়াস ওডিসিয়াসের পরিচয় ফাস সংকট ঘনিয়ে এল

ধনুর্বিদ্য৷ প্রতিযোগিতা

যুদ্ধ শেষে মিলনের বাজনা

১৫৮ ১৬৪ ১৭১ ১৮৯ ১৪৯৬ ২০২ ২০৫ ২১২ ২১৭ ২২০ ২২ খ্্ ২৩৪ ২৪8৯ ৭২ ২৭১ ৮৪ ২৮৮

শে প্রথম পর্ব 59

অথ কলহ কথা

এবট। প্রশ্ন যেন বারবারই ঘুরে ফিরে আসে। পেলিউসের সন্তান একিলিসের ক্রোধের কারণ কি £ কি ভাবেই বা সে ক্রোধ থ্রীকদের উপর নিয়ে আসে অভিশাপের বোঝ % মহারাজ আগমেনন আত্রেউসের সন্তান। সেই আযগমেনন একিলিসের মধে। যেদিন দ্বন্দের সূত্রপাত হয় সেদিন থেকে দেবরাজ জিউসের ইচ্ছানুসারে বহু বীরের দলই ভবলীলা সাঙ্গ করে পরপারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাই প্রশ্ন থেকে যায় কোন্‌ দেবতা এই কলহের তরষ্টা? তবে..তবে কি লিটোর গর্ভজাত জিউসপুত্র আপোলোই সেই দেবতা যিনি ক্রোধাবিত হন রাজা আগমেণনের উপর? এবং সেই ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আগমেননের প্রজাদের সাজা দেবার উদ্দেশ্যে মহামারী আনেন তার রাজ? একবার আগমেনন রাজপুরোহিত গ্রাইসিসকে ভয়ংকর অপমান করেন। তবে আপোলোর ক্রোধের কারণ কি তাই?

ক্রাইসিসের গল্পটাই বরং শোনানো যাক। কোন এক সময় ক্রাইসিসের কন্যা গ্রীক সৈনোর হাতে বন্দী হন। ক্রাইসিস প্রচুর উপটৌকন নিয়ে গ্রীক জাহাজে গিয়ে তার কন্যাকে মুক্তির জন্য অনুরোধ জানান কাতর কণ্ে। তার হাতে ছিল আাপোলোর রাজদণ্ড | তিনি সম্রাট আগমেননের কাছে করুণ কণ্ঠে তার কন্যার মুক্তি ভিক্ষা করেন। প্রসঙ্গক্রমে এও বলেছিলেন যে “অন্তত জিউসপুত্র আপোলোর প্রতি ভক্তিবশতঃ এই কৃতজ্ঞাতাটুকু দেখাও ।” যদিও অন্যান্য শ্রীকরা সম্মত ছিলেন বিস্ট ব্রা আগমেনন ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। বজ্জকণ্ঠে

ইলিয়ড

শেষ কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন “আমি তোমার কন্যাকে মুক্ত করবো না। আর্গসে অবস্থিত আমার বাসভবনে তাকে সারা জীবন বন্দিনী হয়ে কাটাতে হবে।”

গ্রীক বন্দিনী ক্রাইসেইস, তার পিতা ক্রাইসিস ভয়ে, লজ্জায় বাধ হয়ে ফিরে এসেছিলেন হতাশ হয়ে। কন্যা হারানোর দুঃখে বিষণ্ন হৃদয়ে ফিরে এলেন ব্যর্থ হৃদয়ে রাজা আগমেননের আদেশ নীরবে অপ্রতিবাদে মেনে নিষে। সমুন্র উপকূলে দাড়িয়ে আপোলোর উদ্দেশ্য প্রার্থনা জানালেন, “হে দেবরাজ. তোমায় যদি কখনও সত্যিকারের ভক্তি দিয়ে থাকি, তোমার করুণ। বিন্দুমাত্র লা৬ করে থাকি পরম দুঃখে, তবে তোমার অস্ত্র যেন আমার নীরব অশ্রজলের ধারার জন্য অত্যাচারী গ্রীকদের মাথায় নেমে আসে বজ্র মত।”

ক্রাইসিসের সেই কাতর প্রার্থনা এ্াপোলো শুনলেন সমস্ত অন্তব দিষে। প্রচণ্ড ক্রোধে হয়ে উঠলেন ক্ষিপ্ত, ক্রোধে দগ্ধ হয়ে তিনি ক্রমাগত নয়দিন ধরে তার তীর নিক্ষেপ করে যেতে লাগলেন গ্রীক জাহাজ লক্ষ। কবে। হত আহতের সংখ্যা দীড়াল সীমাহীন। তারপর শুক হল মরক, নেমে এল হাহাকার।

নয়দিন পার হয়ে দশদিনের মাথায় একিলিস শ্রীকদের উদ্দেশ্য করে স্বদেশে ফিরে যাবার ডাক দিলেন। প্রসঙ্গক্রমে পুরোহিতদের এও জিজ্ঞাসা কবলেন তারা এ্াপোলোর প্রতি কোন শপথ ভঙ্গ করেছে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরে সেরা জ্যোতিষজ্ঞ নেষ্ট'র পুত্র ক্যালকাস নিরাপদে নির্ভুল ভবিষ্যতবাণা করে গ্রীক রণতরীগুলোকে ইলিয়াসের পথে পরিচালনা করে নিয়ে এলেন।

“আমাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দাও” নেষ্টর পুত্রের এই কথায় একিলিস বিস্মিত হলেন এবং বিস্মিত হলেন আরে অনেকে, তাদের মনে সহস্র প্রশ্নের উদয় হল। কে রক্ষা করবে? কেন রক্ষা করবে? কাকে রক্ষা করবে? কি ভাবেই বা রক্ষা করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। সকলের মনেই আতঙ্ক মিশ্রিত প্রশ্ন কি সেই “দৈববাণী”? কারুঞ্জও নিশ্চয়ই ছিল, ক্যালকাস শপথ করতে বলেছিলেন “তার কথা এমন এক রাজাকে রুষ্ট করে তুলবে যার জন্য শ্রীকদেব মাথাতে নেমে আসতে পারে শাপের বোঝা এবং সেই রাজার প্রতিশোধ স্পৃহা ভয়ঙ্কর আকারও ধারণ করতে পারে

. একিলিস নি্ধিধায় তাকে মাশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনকি সম্রাট আগমেনশও

সাহস করবে না তার গায়ে হাত তুলতে, এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। তখন ক্যালকাস মূল কারণ ব্যক্ত করেছিলেন-__তা হল এই যে ক্রাইসিস কন্যাকে গ্রীকরা যে মুক্ত করেনি শুধু তাই নয় রাজ পুরোহিত ক্রাইসিসকে করেছেন

১০ ইলিয়ড

অপমান, তার জন্যই দেবরাজ হয়েছেন ক্রুদ্ধ ক্রাইসেইসের মুক্তি না হলে এই মরক আর মহামারীর শাস্তি থেকে গ্রীকদের মুক্তি দেবেন না গ্যাপোলো।

ক্যালকাসের কথায় আগমেনন হলেন ত্রুদ্ধ আসলে তিনি চেয়েছিলেন ক্রাইসেইসকে নিজের সঙ্গিনী রূপে পেতে। আত্মত্যাগের গরিমা তার মধ্যে ছিল তাই প্রজাদের জীবনরক্ষার প্রয়োজনকে সম্মুখে রেখে তিনি শর্ত আরোপ করেছিলেন ক্রাইসেইসের পরিবর্তে অন্য এক নারীকে তার পারিতোধষিক রূপে এনে দিতে হবে। একিলিসের তখন সে শর্ত মেনে নেবার মত ক্ষমতা ছিল না, তাই তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে ট্রয় নগরী জয়ের পর তার বহুগুণ পাঁরিতোষিক দিয়ে গ্রীকেরা তুষ্ট করবে। |

আযগমেনন এটাকে একিলিসের চাতুরী বলে ভূল করলেন। তিনি পাস্টা চাল চাললেন। তিনি শর্ত দিলেন যে একিলিস অথবা আঙাকস অথবা ওডিসিয়াসের বন্দীনীকে চান।

এই ওঁদ্ধত্য একিলিস সহ্য করলেন না। তিনি সক্রোধে বলে উঠলেন যে টুয় যুদ্ধে বীরত্ব সাহস সব দিক থেকে এই একিলিসই অগ্রগণ্য কিন্তু লাভবান সবচাইতে বেশি আযাগমেনন নিজে তিনি আর আ্যাগমেননের স্বার্থের জন্য কাজ করর্তে চান না, তার সৈন্য নিয়ে তিনি দেশে ফিরে যাবেন।

আযাগমেনন তাতে বাধা দিলেন না। কারণ তিনি জানতেন যে তার সবচাইতে বড় সহায় হচ্ছেন দেবরাজ জিউস। প্রসঙ্গক্রমে একিলিসের সঙ্গে একটা চ্যালেঞ্জও রাখলেন তিনি। একিলিসের বন্দিনী ক্রাইসেইসকে তার তাবু থেকে ধরে নিয়ে আসবেন। একিলিসের যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে যেন তার মোকাবিলা করেন।

একিলিস ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে উঠলেন। তিনি যখন ক্রোধ সম্বরণ করার চেষ্টা করছিলেন এমন সময় হঠাৎ এথেন স্বর্গ থেকে তার কাছে নেমে এলেন। কথিত আছে এখেঞ্জ ছিলেন জ্ঞান, বিদ্যা, শিল্পকলা এবং শান্তির দেবী। একিলিস এথেনের আগমনে শংকিত হয়ে উঠলেন। তাই এথেনকে দেখতে চেয়েছিলেন আআগমেননের গর্বোদ্ধত আচরণ, কারণ এথেন ছিলেন জিউস কন্যা। এথেন তাকে তার তরবারী কোষমুক্ত করতে বারণ করলেন, প্রসঙ্গক্রমে এও জানিয়ে দিলেন যে আজ যদি একিলিস ধৈর্যের পরিচয় দেয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে

ইলিয়ঙ৬

ছ/

সে তার বুগুণ সুফল পুরস্কার স্ববাপ লাভ করবে।

একিলিস মেনে নিলেন এথেনের সেই আদেশ। ৩রবারীকে কোষবদ্ধ' রেখে অজন্র নিন্দাবাক্য বর্ষণ করতে শুরু করলেন আ্যাগমেননেব উদ্দেশে। অপরদিকে নিজের আসনে বসে আগমেননের গর্জন চলতে লাগলো অবিরাম গতিতে।

এবার পাইলসের অধিপতি নেষ্টুর একটা চেষ্টা কবতে গেলেন যাতে দুজনের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়। বর্মণ করলেন অনেক মধু বাকা। একিলিসকে বললেন, তার ক্রোধ সম্বরণ কবঙে আব আ্যাগমেননকে বললেন, একিলিসের সাথে মস্ত কলহ মিটিয়ে নিতে। কিন্তু বিবাদ পযেই গেল। যে যার নিজের নিজে জ।খাঁজে চলে গেলেন।

ক্রাইসিসকে জ্যাগমেনন ওডিসিযেসেন নেডুাঙে দেবতাদের কাছে পাঠিষে দিয়েছিলেন বটে কিন্তু তিনি তার প্রতিজ্ঞাব কথা ভূলে যান নি। তিনি ইলথিবিয়াস এবং ইউবিবেটস নামে দুই অনুচবেব হাতে একিলিসেব বন্দিন। ব্রিসেইসকে গ্রীসে অপহরণ কবে আনবার দাযিখ দিলেন। কিগু একিলিস "সই অনুচরদ্বয়ের হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দিয়েছিলেন ধিসেইসকে। কারণ তিনি চেয়েছিলেন যে স্বর্গেব দেবতাবা এবং মর্তের মানুষেব। সাক্ষী থাকুক এবং দেখুক আগমেননেব ক্রোধ কত ভযঙ্কর।

বিসেইসকে নিয়ে চলে গেল আগমেননের দুই অনুচব। দুঃখে জর্জরিত হয়ে একিলিস একাকী সমুদ্রতীরে গিষে সমুদ্রের গভীরে বাসবত দেবকন্যা তার মা থেটিসকে স্মবণ করলেন। সমুদ্রতল থেকে উঠে এলেন সেই দেবকনা থেটিস। একিলিস তার কাছ সমস্ত কাহিনী খুলে বললেন। এবং প্রসঙ্গক্রমে এও বললেন যে একিলিসকে শাস্তি দেবার জনা আগমেনন তার দূত পাঠিয়ে একিলিসের বন্দিনী ব্রিসেইসকে জোর করে নিয়ে যায়। একিলিস তার মাকে দেবরাজ জিউসের সাহায্য প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ জানালেন। একিলিস তার মাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে তার মা কিভবে একবার ভিউসপত্রী হেরা, জলদেবতা পসেডন প্রমুখদ্র বিপদ থেকে খুক্ত কবেছিলেন। তখন দেবী থেটিস নিজেকে ধরক্লাব দিলেণ যে একিলিসের দুখে তাব হাদয জর্জরিত হচ্ছে

১২. ইলিয়ড

কিন্তু এই মুহূর্তে তিশি জিউসকে কিচ্ছু জানাতে সক্ষম হচ্ছেন ণা কারণ জিউস তখন অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে ইথিওপিয়ায় গিয়েছিলেন। ৩বে তিনি একিলিসকে সান্তনা দিলেন যে এই বাপার তিনি দেবরাজ জিউসের কানে তুলবেন এবং যথাযথ প্ররোচিত করবেন যাতে আগমেনন পরাজিত হয়।

ওদিকে ওডিসিউস ক্রাইসেইসও বলির পশুগুলোকে সম্রাট আগমেননের তরফ থেকে আপোলোকে দান করলেন। এবং স্বাভাবিক ভাবে ক্রাইসিস আপোলোকে অনুরোধ জানালেন. তিনি যেন গ্রীকদের ওপর থেকে মহামারীর অভিশাপ তুনে নেন। এই প্রার্থনা আপোলো মঞ্জুর করলেন। রাজা আগমেননের দূতের। সদলবলে জাহাজ ছেড়ে দিলেন ঘরে ফেরার তাগিদে আপোলো সাথে দিলেন অনুকূল বাতাস. ওরা ফিরে এল আপন শিবিরে।

কথা ছিল বারোদিন পর ফিরে আসবেন দেবরাজ জিউস ইথিওপিয়া থেকে। এই বারোদিন নিজের জাহাজের ভেতরে একিলিস তার !ঞাধকে প্রতিপালিত করে চললেন। দেখতে দেখতে বারোদিন কেটে গেল। (দেবরাজ জিউস ফিরে এলেন ইথিওপিয়া থেকে তার ওলিম্পাস পাহাড়ের চুড়োর বাসভূমিতে থেটিস কিন্ত ভোলেনি তার পুত্রের কানাভরা কণ্ঠন্বর। তিনি দেবরাজ জিউসকে জানালেন কিভাবে রাজা আগমেনন অপমান করেছেন তার পুত্রকে। কৌশলে থেটিস জানিয়ে দিলেন যদি তিনি (দবরাজ ভিউসের কোনদিন কোন উপকারে লেগে থাকেন তাহলে দেবরাজ খেন তার পুত্র এবিলিসকে তার গ্রাপা সম্মান এশর্ষে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রথমটায় জিউস কোন জবাব দেননি। কিন্তু থেটিসের বারম্বার অনুরোধে দেবরাজ জিউস বড়ই বিচলিত হয়ে পড়লেন। কারণ দেবরাজ জিউসের একটাই ভয় যে ট্রয়বাসীকে সাহায্য করার জনা হের। তার সাথে কলহ করেছে এবং জিউসকে হেরার কাছে থেকে ব্যাপারে প্রচণ্ড বিদ্বুপ সহা করতে হয়, অতএব তিন্িথেটিসকে আশ্বাস দিলেন যে থেটিসের ইচ্ছা পুরণ হবে।

থেটিস ফিরে গেল নিজের জায়গায়। কিন্তু দেবরাজ জিউসের সাথে থেটিসের সাক্ষাৎকার হেরার কাছে গোপন থাকলো না। স্বভাবতই হেরা প্রচণ্ড ক্রোধে ক্রোধন্মত্ত হয়ে উঠলেন। উপায়ান্তর না দেখে দেবরাজ জিউস তাকে সাবধান করে দিলেন যে তিনি বদি রেগে গিয়ে হেরাকে আথাও করেন তাহলে

ইলিয়ড ১৩

সমস্ত দেবতারা একত্র হয়েও হেরাকে রক্ষী করতে পারবে না। কারণ যা তার জানার নয় তা তার অজ্ঞাত থাকাই উচিত। যদিও হেরা বুঝতে পেরেছিলেন থেটিস পুত্র একিলিসকে গৌরব এবং মর্যাদা দানের জন্য বহু ্রীককে হত্যা করবেন। |

১৪ ইলিয়ড

এবার শংকিত হলেন হেরা। স্বর্গের অন্যান্য দেবতারা জিউসের উক্তিতে দিয়ে সবার হাতে তুলে দিলেন এক একটা পান পাত্র। স্বর্গের ভোজসভা আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠল। আপোলো তুলে নিলেন বীণাযন্ত্র সঙ্গীতের দেবতা মিউজ গাইতে লাগলেন গান। সূর্য গেল অস্তাচলে, ভোজসভা গেল ভেঙ্গে, দেবতারা গেলেন দেবশিল্পী হিফাসটাস নির্মিত আপন আপন শয়নকক্ষে।

শে দ্বিতীয় পর্ব %)

নিশার স্বপন সম

ভিউস কেবলমাত্র চিন্তাই করে চললেন, কিভাবে গ্রীকদের ধ্বংস করে একিলিসের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া যায়। সম রাত জেগে রইালেন অবশেষে উপায় খুঁজে পেলেন। তার এক বিশ্বস্ত অনুচরকে ডেকে গোপনে কি এক আদেশ দিলেন তা কেউ জানলো না।

রাত্রির অন্ধকারে সেই অনুচর এক মায়াবিনী স্বপ্প হয়ে চলে এল গ্রীক শিবিরে নিদ্রারত আ্যাগমেননের মাথার কাছে। ঘুমঘোরে নিমগ্ন আগমেনন শ্রনতে পেলেন এক দৈববাণী “দেবরাজ জিউস তোমার বলেছেন এখুনি তোমর৷ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে ট্রয় জয় করবে।” মায়াবিনী স্বপ্নের তিরোভাবের সাথে সাথে আযাগমেননের মনে ট্রয় জয়ের বাসনার আবির্ভাব ঘটল। তার দু'কান ভরে বেজে চলছিল রাত্রির স্বপ্নের দূরাগত দৈববাণী। তিনি হাতে তুলে নিলেন তার অক্ষয়: তলোয়ার। আহান করলেন গ্রীকবীরদের এক সভা খুলে বললেন তার রাত্রির স্বপ্নের কথা।

তবে কি টুয় নগরী আক্রমণ করার আদেশ দিলেন রাজ্৷ আগমেনন? না, তিনি সে আদেশ দিলেন না। কারণ. ক্িউস যে রাজ! আগমেননের সাথে ছলনা করেছেন, ট্রয়নগরী আক্রমণ করলে যে এক ভয়াবহ পরাওরের গ্লানি নিয়ে দেশে ফিরে যেতে হবে তা তিনি উপলব্ধি করেছেন। ঠাই তিনি গ্রীক সৈন্যদের উদ্দোশ্যে বললেন যে ট্ুয় জয় তারা আর করবেন না। কারণ, যে উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এসেছিলেন তা যখন সিদ্ধ হল না তখন দেশে ফিরে বাওয়াই ভাল।

উল্লসিত হয়ে উঠল দেশে ফেরার আনন্দে গ্রীক সৈন্যরা। সে উল্লাসের আনন্দে চাপা পড়ে আগমেননের প্রকৃত মনোভাব। দুঃখের বিষয় গ্রীক সৈনারা জানতেও পারেনি যে একথা আগমেননের মনের কথা নয়। আসলে তিনি কথার ফুলবঝুরি ছুটিয়ে ছননার খেল খেলছেন তাদের সঙ্গে

১৬ ইলিয়ড

মানুষ ভাবে, ঈশ্বর ভেস্তে দেয়। হয়তো গ্রীকরা ফিরে যেত, কিন্তু দেবতারা চাইলেন না যে তারা ফিরে যাক। হেরা এথেনকে পাঠালেন তিনি যেন প্রতিটি গ্রীক সৈন্যের কাছে গিয়ে প্ররোচিত করেন যে তারা যেন তাদের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেশে ফিরে না যায়।

অলিম্পাস পর্বতের শিখর থেকে এথেন চলে এলেন গ্রীকদের জাহাজে অদৃশ্য হয়ে। প্রথমে সম্মুখে পড়ল ওডিসিউস। পরাজয়ের গ্লানিতে বিষঞ্ন। এথেন ওডিসিউসের কানে দিলেন মন্ত্র। ওডিসিউস দৈববাণী কার তা ভাল করেই বুঝতে পারলেন। ওডিসিউস তার কর্তব্য সম্পাদনে উদ্যোগী হলেন। উল্লসিত গ্রীক সৈনাদের চেতনার উদয়ে আনবার ভন চলে এলেন গ্রীক সৈন্যশিবিরে। তার হাতে ছিল রাজা আগমেননের কাছ থেকে আনা পরিচয়সুচক পাঞ্জা। ওডিসির কথায় চৈতনোদয় হল গ্রীক সৈনাদের। তারা অশান্ত হয়ে উঠলো। তারা যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি মিলিত হল এক আলোচনা সভায়। এর মধ্যে থার্সাইটিস নামে এক কুঁজো, এক পা খোঁড়া, কুৎসিত দেহধারী, যার মাথায় চুল নেই বললেই চলে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার কাজই হল পরের নিন্দা করা, সবার কাছেই অপ্রিয় ছিল সে। বিশেষতঃ একিলিস আর ওডিসিউসের কাছে। এবং বাচালত্াই তার অন্যতম গুণ ছিল।

যদিও অন্যান্য গ্রীক সৈন্যরা মোটামুটিভাবে ওডিসিউসের কথা মেনে নিয়ে

ছিল, কিন্তু থার্সাইটিস সমানে বকবক করে চলল। তার বেশির ভাগ কথাই ছিল আ্আগমেনন বিরোধী কিন্তু ওডিসি তাকে বিশেষ আমল দিলেন না। বরং সে যাতে রাজনিন্দা প্রচার না করে তার জন্য তাকে যথেষ্ট তিরস্কার করলেন। এবং তার হাতে ধরা আগমেননের কাছ থেকে নিয়ে আসা পাগ্জার আঘাতে বাচাল থার্সাইটিসকে স্তব্ধ করে দিলেন।

এইভাবে ওডিসি সকলকে উদ্দিপিত করলেন যাতে তাড়াতাড়ি দেশে না ফেরে। সাথে ঞ্্থনও ছিলেন এক সাধারণ দুতের বেশে। তিণিও সবাইকে উপদেশ দিচ্ছিলেন, যাতে তারা ওডিসির কথা শোনে। এরপর ওডিসি জ্যাগমেননের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানালেন যে যদিও ওডিসি এবং তৎসম গ্রীক সৈনারা আজ ন'বছর স্বদেশের যুখ দেখেনি, তবু তার। আরে কিছুদিন

ইলিয়ড ১৭

ধৈর্য্য ধরতে পারে, কারণ তারা রাজাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ট্রয় নগরী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশে ফিরবে না।

প্রসঙ্গত, তিনি জানালেন যে প্রখ্যাত জ্যোতিষী ক্যালকাস বলেছিলেন যে গ্রীকরা নয় বছর ধরে বহু ট্রয়বাসীকে হতা করে দশম বছরে ট্য়রাজ্য জয় করতে সমর্থ হবে।

উপস্থিত সকলে এই কথা শোনার পর উদ্দিপিত হয়ে উঠল শেষ্টরর গ্লীকদের সম্বোধন করে বললেন যে তারা কি করে হেলেনের অপহরণের প্রতিশোধ না নিয়ে দেশে ফিরে যাবার কথা ভাবছেন। এই মর্মে গ্রীক সৈন্যদের কিছুক্ষণ ঝাঝালো শিক্ষার বারি বর্ষণ করে চললেন। যা কিনা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার পক্ষে সট। তারপর রাজা আগমেননকে পরামর্শ দিলেন কিভাবে সে সৈন্যদলকে ভাগ করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে।

আাগমেনন নেষ্টরের পরামর্শের জন্য তাকে স্বাগত জানালেন। তারপর তেজোদ্দীপক এবং বীরত্বব্যাঞ্জক কথাবার্তায় গ্রীকদের উদ্ুদ্ধ করে তুললেন। দেব-দেবীদের উদ্দেশ্যে আরাধনা হল শুধু। রাজা আ্যাগমেনন নিজে জিউসের উদ্দেশ্যে বলি দিলেন একটা বাছুর। তারপর নেষ্টুর, ওডিসিউস প্রভৃতি বীরেরা মিলিতভাবে দেবরাজ জিউসের আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন। প্রার্থনার কোন ক্রুটি হল না। কিন্তু কোন প্রার্থনাই মঞ্জুর করলেন না জিউস।

আরাধনা শেষ হলে নেষ্টুর অনুমতি চাইলেন বৃথা সময় নষ্ট না করে যাতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায় এই মর্মে।

রাজার আদেশ প্রচারিত হল। যুদ্ধযাত্রার ঘোষণা সমাপ্ত হল। দলে দলে সমাগত হল গ্রীক সৈনারা। শুরু হয়ে গেল অস্ত্রের ঝনাৎকার। গ্রীক সৈন্যের পদভারে কেঁপে উঠল পৃথিবী পায়ের ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল দিক দিগন্ত

এখানে একবার আমরা স্মরণ করি শিল্পের দেবী লিউজকে। কারণ তিনি মানবী নন, দেবী। সর্বত্রই তিনি বিরাজ কাঁরন। জাগতিক এবং মহাজাগতিক কোন ব্যাপারই তার অজানা নয়। তাই সেই দেবীকে আমরা স্মরণ করে তার প্রসাদে আমরা জানি গ্রীকদের পক্ষে কারা সৈনা পরিচালনা করেন এবং সেইসব সেনানায়কদের নাম।

২.৩.

১৮ ইলিয়ড

এই নামের তালিকা করতে গেলে সে যেন আর এক উপাখ্যান। কাকে ছেড়ে কাকেই বা বাদ দিই। পিনিলিয়াস, আর্মেলিয়াস, প্রোথিনর এরা সবাই বোতিয়ান সৈন্যদের অধিনায়ক। আসলে তিনটি দলে গ্রীক সৈনারা বিভক্ত ছিল-_বোতিয়ান, ফোসিয়ান, নোক্রিয়ান।

এর ওপরে আবার ছিল ইউবিয়ার শক্তিশালী উপজাতি। তারপর এথেন্সবাস, তারাও যুদ্ধে কম পারদর্শী ণয়। এবং তাদের ওপর আশীর্বাদ রুয়েছে জিউস কনা এথেনের। সঙ্গে আছে আজাকস আর তার ভায়েরা। আর্গসবাসীরা, পাইলস, এথেন্স, থাইরাসের অধিবাসীরা কেনেউস, অর্কোমেনেউ উস নামে জাতিরা। ভালিসিয়াম জাতিরা (যাদের নেতা দেবরাজ জিউসের প্রিয়কবি ফাইলিসের পুত্র মেজিস) আর ওডিসিয়াস তো ছিলেনই। ক্রিট জাতির আইডোমেনিউস ছিলেন, ছিলেন রোটস দ্বীপের রাজা, সাইম রাজ্যের রাজা, আন্টনের রাজা, ফেরাক্লাফাইরা এবং আইওলাস নগরীর রাজা এইরকম অসংখ্য বীর যোদ্ধা।

এই সমস্ত বীর পুংগবদের দাপটে পৃথিবী সচকিত হয়ে উঠেছিল, ঠিক /যমনটি হয় ঝড়ের দ।পটে।

জিউস আইরিসকে পাঠালেন ট্য়বাসীদের এই দুঃসংবাদ দেবার জন্য। আইরিস্ক রাজা প্রিয়ামের ছেলে পোলাইটেসের গলায় ট্রয়বাসীদের জানিয়ে দিলেন শ্রীক সৈন্যদের দুর্ধ্ষত৷ এবং বীরশ্রেষ্ঠ হেক্টরকে অনুরোধ ভ্ানালেন তার অধীনস্ত সৈন্যদের নিয়ে প্রিয়ামের পক্ষে যোগদান করার জন্য।

এই কণ্ঠ যে পোলাইটেসের নয় এবং প্রকৃতপক্ষে কণ্ঠ যে কার তা হেকটর সহজেই বুঝতে পারলেন। এবার অস্ত্রশস্ত্রে স্ভিত হয়ে উঠল ট্ুরবাসীরা। হেকটর ছিলেন ট্ুয় জাতির সর্বাধিনায়ক এবং দেশের সমস্ত বীর সৈন্যরা ছিল তার অধীনে। যদিও গ্রীকেরা ছিল দুরন্ত, দুর্মদ। তবু টুয়পক্ষীয়রা নিতান্ত দুর্বল ছিল না। এই প্রসঙ্গে ট্রয়ের পক্ষে যারা অংশ গ্রহণ করছেন তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া দরকার। প্রথমেই নাম করতে হয় বীর ঈনিসের। যিনি পরিচালনা করতেন দুর্দান্ত দুর্দমনীয় সৈন্যদের এই ঈনিসের জন্ম হয় আস্কিসেসের গুরসে এবং দেবী আফোদিতির গর্ভে।

লাইকাউনপুত্র প্যাগ্ডারাসও যোগ দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ এই

ইলিয়ড ১৯

লাইকাউনের ধনুর্বিদ্যার গুরু ছিলেন স্বয়ং আাপোলো।

আদ্রেশতিয়া এবং আযাপিসাসের অধিবাসীরা এসেছিল আদ্রেসতাস এবং আকিয়াসের পরিচালনায়।

পার্কোত, প্র্যাকটিয়াস, সেন্টাস, আকহিতাস এবং আযারিসরের অধিবাসীরা যোগ দিয়েছিল একিয়াসের অধীনে।

যোগদান করেছিল লারিসার অধিবাসী পেলসেপিয়ার পার্বত্য অধিবাসীরা। থ্রেসিয়ান জাতি এসেছিল আ্যাকামাস আর পিরোয়াসের, নেতৃত্বে। সিওনিয়ান জাতির অধিনায়ক ইউফেমাস। যোগ দিয়েছিল পিওনিয়ান নামে তীরন্দাজ জাতি এনিত থেকে এসেছিল অফ্লাগনিয়ান জাতি। আযালিবের অধিবাসী হেনিজোনি জাতি। মাইসিয়ান জাতি। এস্কানিয়ার অধিবাসী ফার্জিয়ান, মোনাস পাহাড়ের অধিবাসী মেকানিয়ান। অন্তুত ভাষাভাষি জাতি ক্যারিয়ান__এইরকম অজন্র বীরযোদ্ধা টুয়দের পক্ষ অবলম্বন করেছিল।

প্রসঙ্গে সার্পেডান আর প্রকাসের নাম উল্লেখ না করলে তালিকা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তারা এসেছিলেন সুদূর লাইসিয়ার অধিবাসীদের নিয়ে। টুয় যুদ্ধে যোগদান করবার জন্য।

এইভাবেই দুই পক্ষের যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন হল। রণদামামা বেজে উঠল উভয় পক্ষেরই। এবং উভয় পক্ষই তাদের রণকৌশল গিয়ে চিন্তায় নিমগ্ন হলেন।

শে তৃতীয় পর্ব %9 সম্মুখযুদ্ধে নামলেন প্যারিস মেনেলাস

যোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্ত করার ফাকে দেখা যাক এই দুই বিরোধী দল কি করতে চলেছে। ট্য়বাসীরা এবং তাদের সৈন্যরা এক একজন নেতার অধীনে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেল। এইবার তারা এগিয়ে যেতে লাগলো দুরন্ত বেগে। তাদের গতির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে উড়ন্ত পাখির দলের। আবার অন্যদিকে গ্রীক সৈন্যরা বসে নেই, তারাও উল্লসিত হয়ে উঠল এবং প্রস্তুত হতে লাগলো আসন্ন যুদ্ধের জন্য। উভয় পক্ষের সৈনাদের পায়ের দাপটে মাটির ধুলো যেন কুয়াশার মত চারিদিকে ছেয়ে ফেলল। ঢেকে দিল রণক্ষেত্রকে। এমন হল যেন সৈন্যগুলিই বুঝি সেই ধুলোগুলোর মধো হারিয়ে যায়। সৈন্য সমাবেশের কাজ তো শেষ হয়ে গেল এইবার টয় সৈনাদের একেবারে সামনে এসে দীড়ালেন আলেকজান্দ্রাস। তার সমস্ত দেহ যুদ্ধের পোশাকে সজ্জিত। তিনি শ্রীকদের উদ্দেশ্যে একক যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে এগিয়ে এলেন দর্পভরে। পড়বি তো পড়, এই দৃশ্য যার চোখে পড়লো, তিনি হলেন মেনেলাস। প্রসঙ্গ বূলে রাখা প্রয়োজন, এই মেনেলাসের প্রিয়তমা স্ত্রী হেলেনকেই প্যারিস চুরি নিয়ে এসেছিলেন। _ এই মুহূর্তে মেনেলাসের মনে পড়ে গেল স্ত্রী হেলেনের কথা। এবং তিনি প্রচণ্ড আনন্দ উল্লাস অনুভব করলেন যে তিনি তার স্ত্রী হেলেনের অপহরণের যোগ্য প্রতিশোধ নেবেন সেই কথা ভেবে। রড স্ঠি শুরু হল বলে। কে হারে, কে জেতে; রা

0 তক ারিলবজাঃ চানউলািউডনও করেছে! এবার 1 /খরোবা?ঃ কে এট অসতে দেখে আলেকজান্দ্রাস ভয়ের

ইলিয়ড ২১

হেকটর প্রকৃতপক্ষে বীর! তাই কাপুরুষতা তাঁকে ত্রুদ্ধ করে তুললো তিনি আলেকজান্দ্রাসকে তীব্র, তীক্ষ কণ্ঠে তিরস্কার করে চললেন। এও বলতে তিনি ছাড়লেন না যে আলেকজান্দ্রাস সুদর্শন হলেও নারালোলুপ মিথ্যাবাদী। তারপর বললেন যে, অপমানিত হয়ে বেঁচে থাকার চাইতে মৃত্যুই শ্রেয়। সে (আলেকজান্দ্রাস) বহুদূরের এক দেশ থেকে, এক বীর জাতির মধ্যে থেকে এক সুন্দরী রমণীকে চুরি করে নিয়ে এসে সে ট্ুয়বাসী এবং তার পিতার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এক বিরাট দুঃখের বোঝা এবং সেই সঙ্গে নিজের ওপরও চাপিয়ে দিয়েছে হীনলজ্জার বোঝা সে যদি মেনেলাসের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হয় তাহলে কৌথায় থাকবে তার বীণাযন্ত্র আর প্রেমের দেবী আফোদিতির দান!

আলেকজান্দ্রাস বোধহয় সত্যি লজ্জা পেয়েছিলেন, তাই তিনি হেকটরের বীরত্ব, সাহসকে মেনে নিলেন। কিন্তু আফ্রোদিতিকে নিয়ে বা তার দান নিয়ে বাঙ্গ বিদ্রপ করতে বারণ করলেন। কারণ সে দানতো তার নিজস্ব। তবে সে দ্বন্ধযুদ্ধের আগে সে একটা শর্ত আরোপ করতে চায় যে মেনেলাস এবং তার মধ্যে যে জয়ী হবে সেই লাভ করবে হেলেনকে। কিন্তু তারপর যেন আর যুদ্ধ না হয়। গ্রীকেরা যেন ফিরে যায় স্বদেশে আর ট্ুরবাসীরা যেন নিজেদের দুর্গে ফিরে আসে। তাদের দুজনের জয় পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়।

হেকটরের আদেশে ট্রয় সৈন্যরা হল শান্ত, আবার অন্যদিকে উত্তাল হয়ে উঠল গ্রীক সৈন্যরা। তখন রাজা আযগমেনন গ্রীকদের শান্ত হতে আদেশ করলেন। অতঃপর উভয়পক্ষ শান্ত হলে হেকটর আলেকজান্দ্রাসের শত খুলে বললেন সবার কাছে। মেনেলাস বাপারটা শান্তভাবে মেনে নিলেন কারণ তিনি জানতেন যে আলেকজান্দ্রাসের অন্যায়ের জন্য উভয়পক্ষের সৈনারাই বনু দুঃখ কষ্ট ভোগ করেছে। তাই তিনিও চাইছিলেন তাদের দুজনের মধ্য যেই মরুক না কেন, সেই মৃত্যুর মধা দিয়ে যেন চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় উভয়পক্ষেরই।

আবার একটা আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল গ্রীক এবং টয় সৈনাদের মধো। কারণ প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ বিরতি আর বিশ্রাম প্রত্যেকেই চাইছিলেন। এবার রাজা

২২ ইলিয়ড

প্রিয়ামের রাজপ্রাসাদে যাওয়া যাক। দেখা যাক সেখানে কি হচ্ছে! সেখানে আইরিস আন্টিনরের পুত্রবধূর রূপ ধরে হেলেনের কাছে গেল। এখানে বলে রাখা দরকার রাজা প্রিয়ামের মেয়েদের মধো সবচেয়ে সুন্দরী হল লাওডাইস। তাকে বিয়ে করেছিলেন আন্টিনরের সন্তান হেলিকাওন। আইরিস গিয়ে হেলেনকে রণক্ষেত্রেঃ কথা খুলে বললেন। প্রসঙ্গত এও বলতে ভুললেন না যে আলেকজান্দ্রাস মেনেলাস হেলেনের জন্য সম্মুখ যুদ্ধে নামছে। তাদের মধ্যে যে জয়ী হবে, হেলেন হবে তার স্ত্রী।

হেলেন, মেনেলাস স্বদেশের লোকজন, বাবা-মাকে দেখবার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। সঙ্গের দুই পরিচারিকা নিয়ে তোরণদ্বারের দিকে এগিয়ে চলল।

দুর্গপ্রাকারে গিয়ে হেলেনের সঙ্গে দেখা হল রাজা প্রিয়ামের। তিনি তাকে কাছে ডেকে নিয়ে তার স্বদেশবাসী, পরিচিত জন, আত্মীয়-স্বজন বন্ধু -বান্ধব এবং সেই প্রসঙ্গে স্বামীকে প্রত্যক্ষ করবার জন্য আহবান জানালেন। এই প্রসঙ্গে একটা ছোট্ট কথা বলে নিই রাজা প্রিয়াম মনে মনে জানতেন যে এই যুদ্ধ কেবলমাত্র হেলেনকে চুরি করার জন্য হতে চলেছে। কিন্তু হেলেন দুঃখ পাবে বলে তিনি দেবতাদের ওপরেই দোষটা চাপিয়ে দিলেন।

. কিন্তু হেলেনের মন তখন অনুতাপে দগ্ধ হচ্ছে। হেলেন অকপটে স্বীকার করলেন যে যদি স্বামী, কন্যা, আত্মীয়-পরিজনদের ত্যাগ করে তার পুত্রের সঙ্গে এতদূরে না! চলে আসতো এবং পরিবর্তে টানি করতো আলিঙ্গন, তাও বোধহয় সুখের হত।

রাজা প্রিয়াম হেলেনের কাছে দীর্ঘদেহ বিশালকায় এক বীর পুরুষের পরিচয় জানতে চাইলে হেলেন পরিচয় দিয়ে বলল, যে উনি তার প্রথম স্বামীর পিতা। এই প্রসঙ্গে হেলেন আত্রেউস পুত্র আগমেণনের পরিচয় দিলেন।

রাজ প্রিয়াঁমৈর কাছে উপস্থিত ছিলেন ভবিষ্যৎ বক্তা বৃদ্ধ আ্যান্টিনর। তিনিও আযগমেননকে বীরপুরুষ হিসেবেই চিহ্িত করলেন। এবং আর একজন প্রশস্ত বক্ষ এবং স্কঞ্ধ বিশিষ্ট বীর পুরুষের পরিচয়ে জানতে চাওয়ায় হেলেন বলল তিনি লার্তেসের পুত্র ওডিসিয়াস এবং তিনি যে সর্বপ্রকার প্রতিরক্ষা অবস্থায় সূক্ষ্ম চাতুর্য এব: সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্বের অধিকারী, তাও জানাতে ভুললেন শা .

ইলিয়ড ২৩

বৃদ্ধ আ্যান্টিনর স্মরণ করলেন সেই দিনগুলোর কথা। যেদিন "মনেলাস আর ওডিসিয়াস দৌত্যতা করতে এসেছিলেন হেলেনের সম্পর্কে তারা আতিথা গ্রহণ করেছিলেন আ্যান্টিনরের বাড়িতে তাই আ্যান্টিনরের স্মৃতিতে আরো বেশি উজ্জ্বল। ওডিসিউসের বাগ্মিতা তাকে মুগ্ধ করেছিল।

অদূরে অপর এক উন্নতমস্তক এবং প্রশস্ত স্বন্ধবীর যোদ্ধাকে দেখিয়ে রাজা প্রিয়াম তার পরিচয় জানতে চাইলেন। হেলেন পরিচয় দিয়ে বললেন, উনিই হচ্ছেন আ্যজাকস্। তাকে শ্রীকদের মুকুট মণিও বলা চলে।

এই সময় হেলেন স্বল্প চিন্তান্বিত হলেন কারণ দুজন বীরকে তিনি দদখতে পাচ্ছিলেন না। একজন হল ক্যাষ্টর, "স্‌ হুল বিখ্যাত অশ্বারোহী, আর এক জনের নাম 'লাল্।াাকস। দে ছিল প্রখাতি মল্পবীর। এই তাদের শেষ পরিচয় নয়! তারা হলেন হেলেনের সহোদর ভাই। কিন্তু হার! হেলেন জানলো না থে তারা মৃত।

এবার আমরা ফিরে আসি রণক্ষেত্রে। যেখানে আলেকভান্দ্রাস মেনেলাস নামবেশ এককভাবে সম্মুখ খুদ্ধে রাস্তা প্রিয়ামের কাছে এলেন আইজিয়াস। তিনি গ্রীক এবং টুয়ভাতির সমস্ত রাজনাবর্গের সম্মুখে শপথ করবার জন্য অনুরোধ জানালেন। যে শপথের কথা আমরা আগেও জানি। তবুও সে শপথটা আরেকবার রাজা প্রিয়ামকে স্মরণ করিযে দিলেন আইবিয়াস। “এই যুদ্ধে যে জয়ী হবে সেই লাভ করবে হালন তার যথাসব্বস্ব। সেই ফলাফল মেনে নিয়ে উভয়পক্ষই যদ্ধ বিরতি ঘোষণ! করে যে যার জায়গায় চলে যাবে।”

রাজা প্রিয়াম রথে করে এসে উপস্থিত হলেন রণক্ষেত্রে। সঙ্গে ছিলেন আন্টিনর। আগমেনণ এবং ওডিসিয়াস দুজনে এগিয়ে এলেন তাদের অভার্থনা জানাবার জন্ম

শুরু হল শপথ গ্রহণের জনা প্রয়োজনীয় আচার অনুষ্ঠান। অনুচরবর্গরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আনুষঙ্গিক জিনিষপত্র এনে দিলেন। যেমন-_মদের পাত্র, ভেড়া, মন্ত্রপূত জল ইত্যাদি শুরু হল অনুষ্ঠান পর্ব। উভয়পক্ষের লোকেরা দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানালেন। জিউস যতক্ষণ না' পর্যন্ত তাদের প্রার্থনা অনুমোদন করেন ততক্ষণ পর্যস্ক উভয়পক্ষই প্রার্থনা করে যেতে লাগলেন। কেবলমাত্র রাজা প্রিয়াম টুয় নগর!তে ফিরে গেলেন কারণ তিনি তার পুত্র আর

২৪ ইলিয়ভ

মেনেলাসের সম্মুখ যুদ্ধ দীড়িয়ে দেখতে পারবেন না এই আশঙ্কায়।

যুগ্ম লড়াইয়ের জন্য যে নির্দিষ্ট স্থানটি ছিল তা ভালভাবে মাপজোক করলেন দুই পক্ষের দুই বীর। ওডিসিউস আর হেকটর। স্থির হল একট। ব্রোঞ্জের তৈরী শিরস্ত্াণ ওপরদিকে ছুঁড়ে দিয়ে সেটা কে আগে আঘাত করবেন? দেখা গেল এই পরীক্ষায় পাারিসই জিতলেন।

এবার দুই যোদ্ধা অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হতে লাগলেন।

অতঃপর যুদ্ধ শুরু হল। আলেকজান্দ্রাস ভার হাতের বর্শা দিয়ে প্রথম আঘাত করলেন মেনেলাসের উদ্দেশ্যে কিন্তু সে বর্শা মেনেলাসের ঢালের ওপর লেগে প্রতিহত হয়ে ফিরে এল। মেনেলাস জিউসের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে আলেকজান্দ্রাসের উদ্দেশ্যে বর্শ। ছুঁড়লেন। সে বর্শা প্যারিসের (আলেকজান্দ্রাসের অপর নাম) ঢালকে বিদ্ধ করলো কিন্তু প্যারিসের কোন ক্ষতি হল না। সে কৌশলে সরে গিয়ে নিজের জীবন বাঁচালো। এইবার মেনেলাসের তলোয়ার আঘাত করলো প্যারিসের মাথায়। প্যারিসের শিরস্ত্রাণে তলোয়ার বাধা পেয়ে সজোরে তলোয়ার তিন-চার টুকরো হয়ে গেল।

বিষপ্ন হয়ে পড়লেন মেনেলাস। করুণ কঠে পরম পিতা জিউসের উদ্দেশ্যে আবার.্রার্থনা জানালেন আসলে তিনি খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন যে তার তলোয়ার খণ্ড বিখণ্ড হয়ে গেল। বার্থ হয়ে ফিরে এল তার বর্শা তিনি হত্যা করতে পারলেন না তার অন্যায়কারীকে।

এবার মেনেলাস আলেকজান্দ্রাসের কাছে গিয়ে একমুহ্তে তার ঘোড়ার শিরস্ত্রাণশীর্য শোভিত লেজ ধরে টানাটানি শুরু করলেন। বাসনা প্যারিসকে অশ্বচ্যুত করা। কিন্তু তিনি জানতেন না যে জিউস কন্যা আফোদিতি মেনেলাসের এই মনোবাসনা লক্ষ্য করে অশ্বপুচ্ছগুলো আগেই ছিড়ে দিয়েছিলেন। তাই মেনেলাসের সেই বাসনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল। আবার তিনি আলেকজান্দ্রাসের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে বর্শা বিদ্ধ করতে চাইলেন কিন্তু এবারও প্যারিসকে রক্ষ। করলেন দেবী আযাফ্রোদিতি। তিনি প্যারিসের চতুর্দিকে এমন এক ঘন কুয়াশার আবরণ সৃষ্টি করলেন যে কেউ তাকে দেখতে (পেল না। এইভাবে ' কুয়াশার আড়ালে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন তার শয়ন কক্ষে।

আ্যফ্রোদিতি হেলেনকে প্যারিসের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলেনকে ডাকতে এলেন। হেলেন ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল। সে এইমাত্র আলেকজান্দ্রাসকে

২৬ ইলিয়ঙ

মেনেলাস দ্বারা পরাভূত হতে দেখেছে। তার হৃদয় দুঃখ এবং অনুতাপে পরিপূর্ণ সে জানে যে মেনেলাস তাকে নিয়ে স্বদেশে প্রতাবর্তন করবে। তাই সে প্যারিসকে দেখা দিতে চায় না। এছাড়া তীক্ত কণ্ঠে আফ্রোদিতির উদ্দেশ্যে আরো অনেক কটুবাক্য বর্ষণ করলেন, যা কিনা রীতিমত অপমানকর।

তখন আফ্রোদিতি অত্যন্ত ত্রুদ্ধ হলেন এবং ভয় দেখালেন, সে যদি তার কথা না শোনে তাহলে তিনি হেলেনকে নির্মম নিয়তির হাতে ছেড়ে দেবেন। এবং গ্রীক ট্রয়জাতির মধ্যে এমন ঘৃণা বিদ্বেষের সঞ্চার করবেন যে যার ফলে হেলেনের জীবনে নেমে আসবে এক মর্মান্তিক বিভীষিকা।

আযফোর্দিতির কথায় ভীত হয়ে হেলেন নীরবে দেবীকে অনুসরণ করে আলেকজান্দ্রাসের শয়নকক্ষে এলেন।

হেলেন তীর ভাষায় অলেকজান্দ্রাসকে বাঙ্গ-বিদ্রুপে শতচ্ছিন করে তুললো।

প্যারিস হেলেনকে এভাবে ভতসনা করতে নিষেধ করলেন। কারণ আলেকজান্দ্রাসকে সাহায্য করবেন এমন দেবদেবীর অভাব নেই। যদিও মেনেলাস এবার দেবী এথেনের সহায়তায় প্যারিসকে পরাজিত করেছেন, কিন্তু এখন তার যুদ্ধ ক্লান্তিকে ভোলাতে পারে একমাত্র হেলেন। প্যারিস হেলেনকে আহান জামালেন তার ক্রান্তিকে দূর করার জন্য। হেলেনও নির্দিধায় এগিয়ে এল।

এবার আমর! প্যারিসের শয়নকক্ষ ছেড়ে একবার রণক্ষেত্রের দির্টিতাকাই। দেখি, সেখানে প্যারিসের আকস্মিক অন্তর্বানের ফলাফল কি ঘটর্ল?

মেনেলাস তো রণক্ষেত্রের চতুর্দিকে খুঁজে বেড়াতে লাগলেন পলাতক প্যারিসকে। কিন্তু পেলেন না। কারণ দেবী আফরিদিতির কৃপায় কোন লোকই . তাকে দেখতে পায়নি। সুতরাং বলাই বাহুলা সবাই ধরে নিল প্যারিসের পরাজয় হয়েছে অর জয়ী হয়েছে মেনেলাস।

রাজা আযগমেনন ট্ুয়বাসীদের উদ্দেশ্যে মেনেলাসের জয়ী হবার কথা ঘোষণা করলেন। এবং প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দিলেন, যে শপথ নেওয়া হয়েছিল সেই শপথের শর্ত-_তাহ'লে হেলেনকে গ্রীকদের প্রতার্পণ করা।

কনের নিবিরে উন আনন ছড়িয়ে গাল রায়ের জানিনে কলোনির হয়ে উঠলো গ্রীক সৈন্যরা

ইলিয়ড ২৭

এই উল্লাস কি ট্রয়বাসীদের নগরের প্রাচীরে ধাক্কা দিয়ে ফেরে নি? যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ছিল পাহাড়-নদী ছাড়িয়ে, আকাশের গহনতম কোণে, সেই আনন্দ ধ্বনি কি আলেকজীন্দ্রাসের শয়নকক্ষে গিয়ে পৌঁছয় নি, যেখানে প্যারিসের যুদ্ধ-্ান্তি দূর করছেন হেলেন?

ছে চতুর্থ পর্ব % শপথের শর্ত কোথায় গেল?

এদিকে দেবরাজ জিউস ডেকেছেন এক সভা। অলিম্পাসের দেবলোকে যথারীতি সুর! পানের বন্যা বয়ে চলেছে। আর দেবতারা মাঝে ম্বাঝে বিরক্তি ঘুণার সাথে তাকিয়ে দেখছেন মর্তলোকের টয় নগরীর দিকে।

“কোন সাহাযাই পাচ্ছে না মেনেলাস? এদিকে আমাদের দুই দেবী হেরা এথেন মেনেলাসের পক্ষে আছেন। তারা এত নীরব নিস্কিয় কেন? আর ওদিকে আ্যাফ্রেদিতি প্যারিসকে রক্ষা করে চলেছেন সমস্ত বিপদ থেকে। সত্যিকথা বলতে কি দ্বৈতযুদ্ধে জয়ী তো হয়েছেন মেনেলাস! তাহলে আমরা কি করবো? এরা কি যুদ্ধ চালিয়ে যাবে? নাকি তাদের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হবে?” এই কথাগুলো ক্রোনাসপুত্র বলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল জিউস আর হেরার মধ্যে ক্রোধ সঞ্চার করা।

কিন্তু হেরা আর এথেন যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হলেন। কারণ তারা তো টুয় জাতির অমঙ্গল কামনাই করছিলেন। এবং মনে মনে এক অশুভ চক্রান্তের পরিকল্পনা করেছিলেন কি না কে জানে?

এথেন যদিও ক্রোনাসপুত্রের কথার কোন জবাব দিলেন না। কিন্তু হেরা চুপ করে থাকতে পারলেন না। তিনি পরিষ্কারই জানালেন যে, যে প্রচণ্ড পরিশ্রম দিয়ে তিনি রাজা প্রিয়াম তার পুত্রদের বিরদ্ধে এই অসংখ্য সৈনা সমাবেশ করেছেন, সেই পরিশ্রম কি ব্যর্থ হবে! তিনি জিউসের প্রতি অভিমান ভরে বললেন তার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন। জিউস যেন অন্যান্য দেবতাদের সহযোগে জিউসের যা খুশি তাই করেন।

জিউস হেরার কথায় ত্রুদ্ধ হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে ট্রয় ন?ারীকে বিধ্বস্ত করবার জন্য হেরা এত উঠে পড়ে লেগেছেন কেন? এই প্রসঙ্গে তিনি একটা কথা হেরাকে মনে করিয়ে দিলেন যে রাজা জিউস তার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে চলেছেন। কারণ, সারা পৃথিবীর মধ্যে ট্য়নগরীকে তিনি অন্যান্য

ইলিয়ড ২৯

সব নগরীর থেকে বেশি ভালবাসেন। তাই তিনি হেরাকে একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন, দেবরাজ জিউস যদি হেরার দ্বারা অনুগৃহিত কোন নগরীকে বিধ্বস্ত করেন তখন হেরা যেন বাধা না দেন।

হেরা তার সবচেয়ে প্রিয় তিনটি নগরীর নাম করলেন, তা হল আর্গস, স্পার্টা আর মাইমেন। এবং সম্মতি দিয়ে দিলেন যে এই সব নগরীর প্রতি দেবরাজ যদি অসন্তুষ্ট বা ত্রুদ্ধ হন তাহলে তিনি যেন ইচ্ছামত বিধ্বস্ত করেন। হেরা বিন্দুমাত্র বাধা দেবেন না। অতঃপর হেরা দেবরাজ ভিউসকে প্ররোচিত করলেন এথেনকে মর্তভূমিতে পাঠিয়ে দেবার জন্য। এথেন সেখানে গিয়ে এমন এক অবস্থার সুষ্টি করবেন ঘেন টয়ের রাজন্বর্গ সর্বপ্রথম শপথ ভঙ্গ করে গ্রীকাদের আক্রমণ করতে বাধ্য হয়

দেবরাজ জিউস এথেনকে সেইরকম আদেশ দিয়ে মর্তভূমিতে পাঠালেন। এথেনও মনে মানে এই অবস্থা কামনা করছিলেন। তাই জিউসের কথা শেষ হতে না হতেই তিনি উক্কার বেগে মর্তভূমির দিকে ধাবিত হলেন।

মর্তে এসে এথেন আন্টিনরের ছেলে প্যাগ্ডাকাসের ছন্নবেশে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন টয়বাসীদের মধ্যে। উদ্দেশ্য লাইকাউনের পুত্র পাণগ্ারাসের সন্ধান করা অবশেষে গেলেন।

প্যাগারাসকে প্ররোচিত করলেন। এই বলে যে সে খঃ সাহস করে গ্রীকবীর মেনেলাসকে লক্ষা করে একটা তীর ছুঁড়তে পারে এবং সেই তীরে যদি মেনেলাস নিহত হয়, তাহলে সে আলেকজান্দ্রাসের কাছ থেকে পাবে সম্মান। শুধু সম্মান নয় সেই সাথে আশাতীতভাবে পুরস্কার। এবং প্রসঙ্গত এও বলতে ভুললেন না যে, দেব তীরন্দান্ আআপোলোকে প্যাণ্ডারাস যেন স্মরণ কুরে এবং তাকে প্রার্থনা করে যে আপোলোকে পশুবলির দ্বারা পরবর্তীকালে খুশি করবেন।

ল্যাগ্ডাকাসর'পী এথেনের কথায় নির্বোধ পাণ্ডারাস অহঙ্কারে ফুলে উঠল। যথারীতি নির্বোধ পাণ্ডারাস আপোলোকে শ্মরণ করে মেনেলাসের উদ্দেশ্যে তীর ছুড়লো।

তবে কি মেনেলাস সভি-সতাই নিহত হলেন?

না...যে এথেন প্যাগ্ডারাসকে প্ররোচিত করেছিলেন সেই এথেনই মেনেলাসের

ইলিয়ড

সামনে দাঁড়িয়ে আগত তীরটি তার বুকে বিদ্ধ হবার আগেই সরিয়ে দিলেন অনায়াসেই। তবুও তীরটি মেনেলাসের উরুকে চামড়ার বন্ধনী ভেদ করে আঘাত করল এবং তার ফলে রক্ত ঝরতে লাগলো

রাজা আযগমেনন, বীর মেনেলাস সবাই ভীত বিস্মিত দৃষ্টিতে দেখলেন সেই তীরটি তখনো উরুর ওপর লেগে রয়েছে।

আযগমেনন খুব ক্ষুণ্ন হলেন, কারণ তার মনে হতে লাগলো যে তিনি টয়বাসীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে, ওদের শপথ বাকো বিশ্বাস করে মেনেলাসের মৃত্যুর কারণ হতে যাচ্ছিলেন। তাই তিনি আশ! করেন যে অলিম্পাস পর্বতের দেবরাজ ট্রয়বাসীদের এই হীন কাজের জন্য এই মুহূর্তে শাস্তি না দিলেও একদিন না একদিন নিশ্চয় দেবেন। এরপর রাজা আগমেনন বিষণ্ণ মনে স্বগতোক্তি করলেন যে তার অভিযান ব্যর্থ হল, কারণ তিনি তো দেবতাদের সম্মুখে রেখে শপথ করেছেন যে মেনেলাস আর প্যারিসের দ্রৈতযুদ্ধের সমাধানে তারা সমশ্ড কিছু মনে নেবেন। টু্য়বাসীদের শপথ ভঙ্গ অবশ্যই তাকে শর্ত ভঙ্গে লিপ্ত করবে না। কারণ তিনি এরকম স্থির নিশ্চিত ছিলেন যে মেনেলাস আর কিছুক্ষণের মধোই মারা যাবেন এবং রাজা প্রিয়াম আর টুয়বাসীরা সগর্বে রেখে দেবেন হেলেনকে। আর ট্য়রাজোর মাটিতেই সমাহিত হবে মেনেলাসের মৃতদেহ।

কিন্তু আঘাত খুব মারাত্মক হয়নি। সেই কথা জানিয়ে মেনেলাস তাকে ধের্যা ধরতে বললেন।

এরপর শুরু হল চিকিৎসার পালা। প্রখ্যাত শলাচিকিৎসক আযসিলিপিয়াসের পুত্র ম্যাকাউন এসে মেনেলাসের আঘাতের জায়গাট। ভালভাবে দেখে ওষুধ দিয়ে দিলেন।

এদিকে স্ব মেনেলাসের চিকিৎসার ব্যাপারে গ্রীক বীরেরা চিন্তিত ব্যস্ত হয়েছিলেন। এমন সময় হঠাৎ তাদের আক্রমণ করল টুয়সৈন্যরা হতভম্ব আ্যাগমেনন, হতভম্ব গ্রীক বীরেরা এবং হতভম্ব গ্রীক সৈন্যরাও। কিন্তু এই বিস্ময়াবিষ্ট অবস্থা মুহূর্তেই কাটিয়ে উঠলেন তার! তৎপর হয়ে উঠলেন . আযগমেনন। গ্রীক সৈনারা মুহুর্তে প্রস্তুত হয়ে উঠলেন। আবার সাও মাজ রব

ইলিয়ড দ্ ২/৩

পড়ে গেল গ্রীক সৈন্যদের মাধ্য। ট্ুয়বাসীদের শপথ ভঙ্গ তাদেরকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল। সম্রাট আগমেনন গ্রীক সৈন্যদের মাঝে গিয়ে তাদের উৎসাহ বৃদ্ধি করলেন এবং এও বললেন দেবরাজ জিউস কখনো মিথ্যাবাদীদের সাহায্য করবেন না।

যে সমস্ত গ্রীক সৈনারা সন্ত্রস্ত হয়ে ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তাদেরকে তিনি প্রচণ্ড তিরক্কার করে এগিয়ে গেলেন গ্রীক সৈন্যদের মাঝে, যেখানে আইডোমেনেউস তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবার পরিকল্পনা করছেন। সেখানেও দেখলেন যে আইডোমেনেউসও টুয়বাসীদের ওপর শর্তভঙ্গ করার জনয ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন। তারপর আগমেনন এগিয়ে গেলেন আজাকস্‌ ভ্রাতৃদ্বয়ের কাছে। সেখান থেকে গেলেন নেষ্টরের কাছে। নেষ্টর ক্রোমিয়াস, পেসাগণ, আনাস্টার, হেমন ইত্যাদি বীরদের সাথে নিয়ে সৈনাদের পরিচালনা করছেন। সেখানে আগমেনন দেখলেন যে প্রাচীন রণবিশারদ বীরেরা যেভাবে সৈনাদের সাজাতেন. সেইভাবে তার অধীনস্থ সৈন্যদের সাজাচ্ছেন।

নেষ্টরের রণকৌশল দেখে আ।গমেনন খুব খুশি হলেন। এবং প্রসঙ্গত বললেন যে বদি নেষ্টর বৃদ্ধ না হয়ে যুবক হতেন এবং তার মনের মত শক্তি উঠতো

আআগমেনন কি জানতেন না “যৌবন বসন্ততম সুখময় বটে / উভয়েরই ধীরে ধারে পরিণাম ঘটে / কিন্তু পুনঃ বসন্তের হয় আগমন, / ফেরে না ফেরে না হায়, ফেরে না ঘযৌবন।”

না, জানতেন। কিন্তু যুদ্ধের উৎসাহে মুহূর্তের জন্য বিস্মিত হয়েছিলেন। তাই নেষ্টর খুব স্বল্প সময়ে আযগমেননকে এই তত্ত বাখা করে দিলেন। এরপর মেনিথিউস, শিকিলিনিয়া সেনাদলের অধিনায়ক ওডিসিয়াস, এদের কাছে গিয়ে আআগমেনন দেখলেন যে এরা স্থির ভাবে দাড়িষে আছে। তখনো যুদ্ধ শুরু হয়নি। টুয় এবং গ্রীক সৈনারা কেবলমাএ রণক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। সম্রাট আ্যাগমেনন এদেরকে শ্ন্ধ অবস্থার দেখে তিরস্কারের সুরে জিজ্ঞাসা করলেন যে তাদের মত বীর কান আদেশের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছেন।

৩২ ইলিয়ড

হয়তো ব৷ ব্যঙ্গের সুরও ধ্বনিত হয়েছিল আযাগমেনের গলায়। তাই ওডিসিয়াস ক্ষুপ্ন হয়ে জানালেন যে আগমেনন কোন্‌ যুক্তির ভিত্তিতে তাদেরকে অলস বা নিষ্ক্রিয় আখ্যা দিচ্ছেন। একথা যদি সম্রাট যুদ্ধ শুরু হবার পর বলতেন তাহলেও বা কথা ছিল। কারণ যুদ্ধ শুরু না হলে তারা বীরত্ব দেখাবেন কোথায়? শূন্য রণক্ষেত্র?

আগমেনন সঙ্গে সঙ্গে তার ভূলকে শুধরে নিলেন ওডিসিয়াসকে ভ্ুদ্ধ দেখে এবং তাকে ভুল বোঝার জনা ক্ষমা প্রার্থনা করে অন্যদিকে চলে গেলেন। হঠাৎ এক জায়গায় আগমেনন দেখলেন যে টাইডেউসের পুত্র ডায়োমেডিস রথের এক পাশে চুপ করে দীড়িয়ে আছে আর তার পাশে রয়েছে ক্যাপেনিউসের পূত্র স্থেনেলাস। আগমেননের ভুটা কুঁচকে উঠল, কারণ চারদিকে যুদ্ধের দামামা, হঠাৎ এরা রণক্ষেত্রের শেষ ভাগে এমন নিরব নিথর কেন £ তিনি এগিয়ে গিয়ে ডায়োমেডিসকে তীক্ষুস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন যে ডায়োমেডিসের একি ব্যবহার। যার পিতা যুদ্ধাক্ষেত্রে কখনো পিছিয়ে আসে নি, যার পিতার বীরত্ব এখনো লোকের মুখে মুখে ফেরে, যিনি ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে এক কীর্তিমান পুরুষ তার পুত্রের কি আস্ফালন শুধুই অসাড় এবং বাগাড়ম্বর. কেবলই মিথ্যা? সম্মুখ যুদ্ধে টাইডেউসের মত বিক্রম প্রদর্শন কি তার অজ্ঞাত £

লজ্জায় কথা বলতে পারলেন না ডায়োমেডিস। কিন্তু স্থেনেলাস আাগমেননের জিজ্ঞাসার প্রতুযুন্তরে জবাব দিলেন যে তারা ভীরু বা কাপুরুষ নয়। আরো অনেক কিছু বলতে গিয়েছিলেন কিন্তু ডায়োমেডিস তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজের ক্ষণিকের চিত্তচাঞ্চল্যকে সম্বরণ করে স্থেনেলাসকে নিয়ে বর্ম অস্ত্রের ঝন ঝন শব্দে এগিয়ে গেলেন।

আবার আমরা আগমেননকে ছেড়ে ফিরে আসি রণক্ষেত্রে। দেখি সেখানে কি হচ্ছে। গ্রীক সৈন্যরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে লেগেছে। সেনাপতিরা তাদের নিজের নিজের সেনাদলকে প্রয়োজন মত নির্দেশ দিচ্ছেন এবং সৈন্যরা তাদের নির্দেশ মেনে চলেছে। যারা যুদ্ধের দর্শক তারা অবশ্যই বলবে যে গ্রীক সৈন্যদের মধ্যে যে শৃংখলা ছিল টুয় সৈন্যদের মধ্যে কিন্তু তা ছিল না। গ্রীক সৈন্যরা অনুপ্রাণিত হচ্ছিল এথেনের দ্বারা আর টুয়সৈন্যরা অনুপ্রাণিত হচ্ছিল

ইলিয়ড ৩৩

জিউস পুত্র এবং আযফোদিতির প্রণয়ী আরেমের দ্বারা

যুদ্ধ চলুক। আমরা এই ফাকে আ্যারেসের একটা পরিচয় দিয়ে নিই। আযারেস হলেন আক্রমণাত্মক যুদ্ধের দেবতা তার প্রিয় সহচর হল বিবাদ, বিশুংখলা আর শঙ্কা আরেস যেখানেই যেত সেখানেই মানুষের মধ্যে বাধিয়ে তুলতো ঝগড়া আর বিবাদ

যুদ্ধ অনেকটাই শুরু হয়ে গেছে। একে অন্যকে আঘাত করছে উদ্দেশ্য, প্রত্যেকেই জয়ী হতে চায়। তাই অবিরাম গতিতে চলতে লাগলো আঘাত এবং পাল্টা আঘাত। অস্ত্রের ঝণাৎকার, ঘর্ষণে চারিদিক আলোড়িত হয়ে উঠতে লাগলো। কেউ বা নিহত হয়ে ছিটকে পড়ছে, আবার কেউবা আহত হয়ে যন্ত্রণায় ছটপট করাচ্ছে। ধরিত্রীর মাটি হয়ে উঠল মানুষের বক্ষমিশ্রিত রক্তে রক্তিম। বাতাসে বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগলো মৃত্যুকাতর আর্তনাদ। মরণোন্মুখ মানুয়ের মৃত্যু যন্ত্রণার মর্মস্পর্শী চিৎকার।

এর মধ্যে গ্াকিপোলাস নামে এক ট্রয়বীর নিহত হল ত্যান্টিওকাসের হাতে। অতঃপর এ্যাকিপোলাসের দেহকে কেন্দ্র করে গ্রীক ট্ুয় সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল। .

ওদিকে বীর আ্যাজাকসের হাতে নিহত হল সাইময়লিয়াস। সাইময়লিয়াসের দেহ ওডিসিয়াসের সহকর্মী নিউকাস যখন সরিয়ে নিয়ে, বাচ্ছিল সেইসময় প্রিয়ামপুত্র আ্যান্টিকাস আজাকসকে লক্ষ্য করে একটি বর্শা নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই বর্শা লক্ষ্যত্রষ্ট হয়ে নিউকাসকে আঘাত করল। এবং সঙ্গে সঙ্গে নিহত হল নিউকাস। -

নিউকাসকে নিহত দেখে ওডিসিউস প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। তিনি তার গিয়ে রাজা প্রিয়ামের অবৈধ পুত্র ডেমকুনকে আঘাত করল। এই ডেমকুন প্রিয়ামের আত্তাবলে আামাউডাস নামক কান এক জায়গায় ঘোড়াদের দেখাশোনার কাজ করতো ডেমকুন দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুর কোলে অন্ধকারের গর্ভে তলিয়ে গেল। এবং ফল হ'ল খুবই মারাত্মক। কারণ সম্মুখে সারিতে যে সমস্ত ট্রয় সৈন্যরা যুদ্ধ করছিল তারা বিব্রত এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেন। এই

৩০৩

৩৪ ইলিয়ড

8 ৬৩৩০

রর

সুযোগে গ্রীকসৈন্যরা আরো কিছুটা গেল, এগিয়ে।

টয় সৈন্যদের শ্রই বিশৃংখলা অবস্থা দেখে ন্যাপালো দৈববাণীর দ্বারা ট্রয় সৈন্যদের উত্তেজিত করে তুললেন। আবার অন্যদিকে জিউস কন্যা এথেন প্রতিটি গ্রীক সৈন্যদের “অনুপ্রাণিত করে চললেন।

এমন সময় পিয়োরাসের ছোঁড়া একটা পাথরে ভায়োরেসের ডান-পা-টা ভেঙ্গে গেল। তিনি হাত বাড়িয়ে সাহায্যের উদ্দেশ্যে চিৎকার করতে থাকলেন।

ইলিয়ড ৩৫

কিন্তু সাহায্য করবার জন্য অন্য কোন সহকর্মী এগিয়ে আসার আগেই পিয়োরাস তার বর্শা দিয়ে ডায়োরেসকে হত্যা করে চলে যাচ্ছিল তখন অতর্কিতে থোয়াক তার বর্শা দিয়ে পিয়োরাসের বুকটা বিদীর্ণ করে দিল। এই আচমকা আঘাতের জন্য পিয়োরাস মোটেই প্রস্তুত ছিল না এবং ফল হল তৎক্ষণাৎ মৃত্যু। এইভাবে তুললো ভয়াবহ। টয় গ্রীক সৈন্যদের মৃতদেহে রণক্ষেত্রে ভরে উঠেছিল।

শে পঞ্চম পর্ব %9

কৃতিত্ব দেখালেন ডায়োমিডাস!

সেই ডায়োমিডাসের কথা মনে আছে? যে নীরবে যুদ্ধক্ষেত্রের শেষভাগে দাঁড়িয়েছিল? সেই ডায়োমীডাসের মনে দেবী এথেন এমন অসামান্য সাহসের সঞ্চার করলেন যেন তিনি বিক্রমে অন্য গ্রীকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি ডায়োমীডাসের ঢাল আর শিরস্ত্রাণের উপর মায়াবলে এক অগ্নিজালের সৃষ্টি করলেন। তিনি নবোদ্যমে ধাবমান হলেন ট্রয় সৈন্যদের মাঝে।

টুয়বাসীদের মধ্যে হিফাস্টাসের পুরোহিত দারেসের দুই পুত্র ছিল। তারা যুদ্ধে খুবই পটু ছিলেন। নাম-_ফেগেউস আর আইডেউস। ডায়োমীডাস যখন বীর বিক্রমে এগিয়ে আসছিলেন তখন তাকে দেখে এই দুই ভাই সবেগে রথ নিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন। ফেগেউস ডায়োমীডাসকে লক্ষ্য করে সর্বপ্রথম বর্শা ছুঁড়লেন। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় সে বর্শা ডায়োমীডাসকে ছুঁতে পারলো না। কিন্তু ঝটিতি ডায়োমীডাস যে বর্শা ছুঁড়লেন তা ফেগেউসের বুকে সবেগে বিধে গ্েল। ফেগেউস নিহতাবস্থায় মাটিতে পড়ে গেল। তখন তার ভাই আইডেউস 'দেখলেন যে সে যদি এগিয়ে যায় তবে তার রথের চাকায় তার ভাই-এর মৃতদেহ পিষ্ট হবে। তাই সে নেমে পিছোতে লাগলো। হিফাস্টার