| টা] রু

৯: স্ুন 6৫ ০০ বি

সু

ছি আল পপ আস

৬০ কি

টো

শী সি কিন সি

পাশ সপ

1 ]

্ীতরুবন্ধু ভট্টাচার্য্য

বি-ই-এস্‌ |

সস পপ চু

এস পপ সপ তে জা ছি ৫০০৬

শখ

৩৬৮4 ২৯ ই) টিছিএ তর হারতে হল ০০ ট১০৬১০০ রা আজ সা পে চর চন

স্রীঅরি/কীচরণ নাথ কর্তৃক প্রকাশিত রিপণ লাইব্রেরী, ঢাকা।

প্রথম পংগ্ষরণ সন ১৯৩০

টি

ঢাকা, জ্ঞানদায়িনী মেশিন-প্রেসে-__ শ্লীবৈকৃণ্ঠনাথ সরকার দ্বারা মুদ্দিত

মুূলা-_ রি

মাতৃভাঘ! ছুই উদ্দেশে শক্ষা দেওরা ভ--ভীবগ্রহণ ভাব- গ্রকাশ। দুষ্টিমাত্র পঠননূও গানন্দসন্তেগ দ্বারা প্রথধোক্ত উদ্দেশ সিদ্ধ হয়। এই উদ্দেগ্ত ব্রুস? করিতে ভইলে পঠনের প্রতি আগ্রহ বাড়াই তোলা এবং জানত গ্র্চকারদিগের লিখিত পুস্তক পাঠ করিয়া মাতৃ-ভাষার প্রতি যা ঠপাঠার্থীর অনুরাগ প্রীতি পুষ্টি লাভ করিতে পারে তৎপ্রতি শিক্ষকে+%টি রাখ! কর্তবা। এক শত বা দেড় শত পৃষ্ঠার একখানি পুস্তকের [ব্ব? গুলির চর্বি চর্বণ দারা সেই উদ্দেগ্য সুসিদ হইতে পারে না। এই যেনকল গ্রন্থকার কবি আনাদের জাতীয় প্রতিভার প্রতিনিধি [মামি তীতাদিগের রচিত পুস্তক হইতে ষষ্ঠ শ্রেণীর বালকদিগের খুপযোগী বিষয় সংগ্রহ করিয়াছি। আহার জাতীয় ভাষার মম্পদগু্ত দৌনর্য্যের প্রতি অনুরাগ উদ্ধুদ্ধ করা এবং জাতীয় কবি ঞ্েীঁকদিগের প্রতি শ্রদ্ধ1! জাগাইয়া তোল।ই আহার উদ্দেশ্ত আনি খ্্নকল বিষয় সংগ্রহ নির্বাচন করিরাছি সেই সকল বিষয় দ্বারা বাংলা ্টাবার ক্রম পরিণতি বা পরিপুষ্টির স্তর 'প্রদর্শন করা আমার উদ্দেশ্ত ন্‌

আমাদের জ্্রতর গৌরব যে সকল লেখক, লেখিকা এবং কৰি শ্সেহ ভন্ুগ্রাহ টুরিয়া তাভাদিগের রচনা হইতে অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করিবার জন্য তৃপ্ত অনুমতি দিয়াছেন যথাস্থানে তাহাদের নাম স্বীকৃত হইয়া রঃ ডি কাদের নিকট তাহাদের অনুগ্রহের জন্ত

অনেক চিঠি পত্র লিখিয়! এবং উত্তরের জন্য ডাক টিকিট প্রভৃতি পাঠাইয়াও শ্রদ্ধেয় ওপন্তাপিক শ্রীযুক্ত শরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের

০০

_ শিক

কোনও উত্তর :-46-88408 অংশ এই পুস্তকে সন্গিবি্ট করিতে পারি উহ ইহাতে আমার ক্ষুদ্র পুস্তক অঙ্গহীন হইয়াছে

কর্তৃপক্ষ এবং স্থৃধীবর্গ পুস্তকখানির প্রি কপ! দৃষ্টি প্রদর্শন করিলে পরবর্তী সংস্করণে টীকা এবং অন্ান্ঠ জ্ঞাতব্য হিয় সংযোজিত হইবে

স্তী রুবন্ধু ভক্রীচার্ষ্য।

২৮, ৪8. ৩০

বিষয়

পাও ্ীরামচন্তের মশ্বদেধ. | বঞ্জের অনুষ্ঠান পণ্ডিত ঈধরচন্র নিগ্ভাসাগর শকুন্তলার পতিগৃতে গদন ] মিত্রত 1. অঙ্গরকুণার দত

উপমন্থা, মারুণি বেদ ! ... ফাল প্রসন্ন সিং কদলীকুপ্জে সাশরিকা ই...

অপবিচিতের দ্। মন্দাকিনী *

ঈজরত ঘোর অগ্থিরটাল * যৌলবীআাবঘর রঙিন শান্তি খিবানী * শ্রীঃতী অন্তুপা দেবী বাণী *

গোপাল দাদা *

বিঃচন্ত্র ঢট্পাধার

দুইটি সৌনদর্য্যচ্ছবি শরীনবীন্দ্রনাথ |কুর ভাইবোন * 7. গরীবের ঘরের ছুইানেরে ... রদেশচনত দত

বর পগ্ভভাগ-_

ঈশ্বরের প্রতি তা, .. দারকানাথ অধিকারী

মনে. ৬... ্রাতিভক্তি ১** ১০ পঙ্ডিত কৃভিবান রামের বনগমন রি রর

শ্তী নিরুপন্া দেবী...

হারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ...

১৯৮-১১৭ ১১৯-১২০ ১২১-১২৩ ১২৩-১২৪

পা পাশ্িসিিশকিসসি সস

গুরুভকি

দরৌপদীর স্বয়ধর সভার অর্জুনের

লক্া ভেদে গমন উদ্ধালকের উপাখ্যান প্রক্কৃতি স্বভাবের শোভা বড়লোক কে? ক্ষুদর্জীব দয়া শিশুর দুঃখ বুন্দপএ্র প্রকৃতির শোভা রসাল স্বর্ণলতিকা নিকুস্তিলা যঙ্জাগারে ইন্্রজি। বিভীষণ সাঁজের গেয়ে পদ্মের মুণাল

পুজারিণী * শ্রেষ্ঠ ভিক্ষা

* চিহ্নিত গগ্যাংশ কবিতা লেখক-লেখিকা

অন্নুমত্যনুসারে গৃহীত

কষ্ঃচন্ত্র নার

'র[গ্রসনন লাং।

যগোপাল চটে গাথা ... রঙ্গশল বন্যোখাধা নাইকেল মধুনুদ: দন

রী প্রথথনাথ রায় চৌধুরী ... চেমচঙ্গ বন্দ্যোপাং

হেমচন্র বন্নোপাধ্যা়| শ্রীরবীন্দ্নাথ ঠাকুর

্ঠ

বা স্ব

১২৯-১৩২

১৩৩-১৩৫ ১৩৫-১৩৪৯ ১৩৯-১৪২ ১৪২-১৪৩

১৪৩ ১৪৩-১৪৪ ১৪৪-১৪৫ ১৪৬-১৪৭ ১৪৭-১৪৮

১৪৮-১৫০

১৫১-১৫৪ ১৫৪-১৫৭ ১৫৭-১৬০ ১৬০-১৬২ ১৩৩-১৬৭ ১৬৭-

[ধিকারীর

দ?পকা

্ীরামচন্দ্েরসশ্বমেধ-যজ্ঞের অনুষ্ঠান শর বিষ্ভাসাগর

১। একদিন মহ বাল্সীকি বিরলে বসিয়া বিবেচন! করিতে লাগিলেন, আমি যী আসক্ত হইয়৷ এত দ্রিন বুথ! অতিবাহিত করিলাম, পধ্যন্ত 'সিভিপ্রেত সাধনের কোন উপায় নিরূপণ করিলাম নাঁ। যাহা /- এক্ষণে কি প্রণালীতে কুশ লবকে রামচন্দ্রে দশনপরে পাতিত করি। একবারেই উহাদের দুই সহোদরকে সমর্ভিন্যাহারে করিয়া রাজসভায় লইয়া যাই, অথবা রামচন্দ্রকে কৌশলক্রমে এখানে আনাই, এবং বিরলে সকল বিষয়ের সবিশেষ কহিয়া এবং কুশ লবকে দেখাইয়া সীতার পরিগ্রহ প্রার্থন৷ করি। মনে মনে এইরূপ বিবিধ বিতর্ক করিয়া, পরিশেষে তিনি স্থির করিলেন ফেঁ*কুশ লবকে রামায়ণ গান করিতে আদেশ করি। রা বে পন কিতা জে রাজার যো বে তখন তিনি র্সবীয়রিতশরবণমানসে উহাদিগকে ক্্নীপে আহ্বান করিবেন, এবং তাহা হইলেই বিনা প্রার্থনায় আমীর অভিপ্রেতসিদ্ধি হইবে।

২। এই সিদ্ধান্ত করিয়া বড লবকে স্বসমীপে আহ্বান করিলেন, এবং কহিলেন, বস 1! বস লব! তোমরা প্রতিদিন সময়ে সময়ে সমাহিত হইয়া) খধিগণের বাসকুটারের সম্মুখে, নরপতিগণের পটমগুপমণ্ডলীর )পুরোভাগে, পৌরগণ জানপদবর্গের আবাসশ্রেণীর সমীপদেশে এবং সভাভবনের অভিমুখ- তাগে মনের অনুরাগে বীণাসংযোগে রামায়ং গান করিবে। যদি রাজা, পরম্পরায় অবগত হইয়া! তৌমাদিগবে, মাহবান করিয়া, তাহার সম্মুখে গান করিবার নিমিত্ত অনুরোধ করেন, চতক্ষণাৎথ গান করিতে আরম্ত করিবে আর যতক্ষণ তাহার নিকটে থাকিবে, কোন প্রকার ৃষ্টতা বা অশিষটত৷ প্রদর্শন করিবে না। বঁজা সকলের পিতা, অতএব তোমরা তাহার প্রতি পিতৃভক্তি প্রার্শন করিবে। যদি সঙ্গীত শ্রবণে গ্রীত হইয়া, রাজা অর্থপ্রদানে উদ্া( হন, লোভপরবশ হইয়া তাহা কদাচ গ্রহণ করিবে না, বিনয় ভক্তিযোগসহকারে নিস্প হত দেখাইয়া ধনগ্রাহণে অসন্মতি প্রদর্শন ইকরিবে ; কহিবে, মহারাজ ! আমর| বন্বাসী, আমাদের ধনে প্রয়োজন, কি, তপোবনে থাকিয়া ফল-মূল দ্বার! প্রাণ ধারণ করি। আর যদি রাজা তোমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন, কহিবে, আমরা বাল্মীকি-শিল্ধয |

৩। এইরূপ আদেশ উপদেশ দিয়া মহ তু্ধণীস্তার অবলম্বন করিলেন, এবং তাহারাও ছুই সহোদরে, তদীয় 1 উপদেশ শিরোধাধ্য করিয়া, বীণাসহযোগে মধুরস্বরে স্থানে স্থার্তে রামায়ণ গান করিতে আরন্ত করিল। যে সঙ্গীত শ্রবণ করিল, সেই মোহিত নিস্পন্দভাবে অবস্থিত হইয়া অবিশ্রান্ত অশ্রুপাত করিতে লাগিল।

না হইবেই বাঁকৈন ? :::,”(£ রামের চরিত্র অতি বিচিত্র পরম পবিত্র : দ্বিতীয়তঃ, বালী *৮'রচনা অতি চমণুকারিণী যার-পর- _নাই মনোহারিণী ; তৃতীয়ত] কৃশ লবের রূপ-মাধুরী দর্শন করিলেই মোহিত হইতে হয়, তাহারে আবার তাহাদের স্বর এমন মধুর যে, উহার সহিত তুলনা করিনে কোকিলের কলরব কর্কশ বোধ হয়; চতুর্থতঃ, বীণাধন্ত্রে তাহা"? যেরূপ অলৌকিক নৈপুণ্য জন্মিয়াছিল, তাহা অদৃষ্টচর অশ্রু, 'দুর্বব। যে সঙ্গীতে সমুদায়ের সমবায় আছে, তাহা শ্রবণ ন্ধ্রয়া কাহার চিত্ত অনির্ববচনীয় প্রীতিরসে পরিপুর্ণ না হইবে ?

৪। কিঞ্চিৎকাল পরেই, অনেকে রামের নিকটে গিয়া কহিতে লাগিল, মহারাজ ! হুই স্বকুমার খাষিকুমার বীণাধন্ত্রসহযোগে আপনকার চরিত্র ]ঁ করিতেছে ; যে শুনিতেছে, সেই মোহিত হইতেছে আমরা ীন্মাবচ্ছিন্নে কখনও এমন মধুর সঙ্গীত শ্রবণ করি নাই। তার্ারা যমজ সহোদর মহারাজ ! মানব দেহে কেহ কখন এমন রূপের মাধুরী দেখে নাই। স্বরের মাধুরীর কথা অধিক কি কহিব, কিন্নরেরাও শুনিলে পরাভব স্বীকার করিবেক। আর, তাহার! যে কাব্য গান করিতেছে, তাহা কাহার রচনা বলিতে পারি না; কিন্তু এমন অভূতপুর্ণব ললিত রচনা কখনও শ্রবণ করি নাই। মহারাংঞ&; আমাদের প্রার্থন৷ এই, তাহাদিগকে রাজসভায় আনাইয়৷ আপনর সমক্ষে সঙ্গীত করিতে আদেশ করুন। আপনি তাহাদিগকে দেখিলে তাহাদের সঙ্গীত শ্রবণ করিলে মোহিত হইবেন, সন্দেহ নাই।

রক

৫। শ্রবণমাত্র রামের অন্তঃ নদ প্রভূত কৌতুহল- রসের সঞ্চার হইল তখন তিনি এক 'ভাস্্‌ ব্রাহ্মণ দ্বারা তাহাদের দুই সহেদরকে আহ্বান করিয়া পাঠাইলেষ্ট্ তাহারা, রাজা আহবান করিয়ছেন শুনিয়া, ক্ষণবিলম্বব্যতিরেকেন্&ু অতিবিনীতভাবে সভায় প্রবেশ করিল। তাহাদিগকে অবলোকন করিবামান্র রামের হৃদয়ে, কেমন এক অনির্ববচনীয় ভাবের আবির্ভাব! ইল। শ্রীতি-রস অথবা বিষাদ-বিষ সহসা সর্ববশরীরে সঞ্চারিত হইল, “কিছুই অবধারণ করিতে পাঁরিলেন না ; কিয়ৎুক্ষণ বিভ্রান্তচিত্তের স্যাম সেই দুই কুমারকে নিম্পন্দনয়নে নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন, এবং অকস্মাৎ এরূপ ভাবান্তর উপস্থিত হইল কেন, কিছুই অন্ুধাবন্ধ করিতে না পারিয়৷ চির্পিতপ্রায় উপবিষ্ট রহিলেন।

৬। কুমারের! ক্রমে ক্রমে সন্নিহিত হয়, মহারাজের জয় হউক বলিয়া সংবদ্ধনা করিল, এবং সমুচিত প্রদেশে উপবেশন করিয়! ষথোচিত বিনয় ভক্তিযোগসহকারে জিজ্ঞাসা করিল, মহারাজ ! আমাদিগকে কি জন্য আহ্বান করিয়াছেন ? তাহারা সন্নিহিত হইলে রাম তাহাদের কলেবরে আপনার জানকীর : অবয়বের সম্পূর্ণ লক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া একান্ত বিকলচিত্ত হইলেন। কিন্তু তগ্কালে রাজসভায় বহু লোকের সমাগম

হইয়াছিল, এই নিমিত্ত অতি কষ্টে চিত্রের চাঞ্চলু্টীংবরণ করিয়া সম্পূর্ণ সপ্রতিভের ন্যায় কহিলেন, শুনিলাম, তোমরী৷ অপুর্বব গান করিতে পার ; ষীহার! শুনিয়াছেন, তাহার সকলেই মোহিত হইয়া প্রশংসা করিতেছেন। এজন্য আমিও তোমাদের সঙ্গীত শুনিবার

মানস করিয়াছি। যদি ধূুধভামাদের অভিমত হয়, কিঞ্চিৎ গান করিয়৷ আমাকে শ্রীতি প্রদান কর। তাহারা কহিল, মহারাজ ! আমরা যে কাব্য গান করিয়া থাকি, তাহা! অতি বিস্তৃত; তাহাতে মহারাজের চরিত্র সবিস্তর বণিত হইয়াছে। এক্ষণে আমরা আপনার সমক্ষে কাব্যের কোন্‌ অংশ গান করিব আদেশ করুন। |

৭। সেই দুই কুমীরকে নয়নগোচর করিয়া অবধি রামের চিত্ত এত চঞ্চল সীতা-শোক এত প্রবল হইয়া উঠিয়াছিল যে, লোকলড্ভাভয়ে আর ধৈর্ধ্যাবলম্বন করা অসাধ্য ভাবিয়া, তিনি সহসা সভাভঙ্গ করিয়া বিজন-প্রদেশ-সেবার নিমিত্ত অত্যন্ত উত্স্থক হইয়াছিলেন্ন ; এজন্য কহিলেন, অগ্ভক তোমরা নিজ আভিপ্রায়ানুরূপ ফ্লেঁকোন অংশ গান কর, কল্য প্রভাত অবধি প্রতিদিন কিঞি' কিঞ্ি করিয়া! তোমাদের মুখে সমুদায় কাব্য শব করিব। তাহারা, যে আজ্ঞ। মহারাজ! বলিয়া সঙ্গীত আরম্ভ করিল। সভাস্থ সমস্ত লোক মোহিত হইয়৷ মুক্তকণ্ে অশেষ সাধুবাদ প্রদান করিতে লাগিলেন। রাম কবির পাণ্ডিত্য রচনার লালিত্য-দর্শনে চমণ্রুত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, এই কাব্য কাহার প্রচিত? কাহার নিকটেই বা তোমরা সঙ্গীত শিক্ষা করিয়াছ ? আটা কহিল। মহারাজ ! এই কাব্য ভগবান্‌ বাল্মীকির রচিত; আমরা তাহার তপোবনে প্রতিপালিত হইয়াছি, এবং তাহার নিকটেই সমুদায় শিক্ষা করিয়াছি। তখন রাম কহিলেন, তগবান্‌ বাল্মীকি স্বরচিত কাব্যে অতি অদ্ভুত কবিত্বশক্তি প্রদর্শন

করিয়াছেন। অল্প শুনিয়া পরিতৃপ্ত পারা যায়না কিন্তু অগ্ভ তোমাদের অনেক পরিশ্রম হইয়াছে, আর তে।মাদ্িগকে অধিক কষ্ট দিতে আমার ইচ্ছা হইতেছে না; আজি তোমরা আবাসে গমন কর। |

৮। এই বলিয়া তাহাদের ছুই সহোদরকে বিদায় করিয়া, রাম সে দিবস সত্বর সভাভঙ্গ করিলেন এবং আপন বাসভবনে প্রবেশ করিয়! একাকী চিন্তা করিতে লাগিলেন, এই দুই কুমারকে অব- লোকন করিয়া আমার অন্তঃকরণ এত আকুল হইল কেন, কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না॥। আপন সন্তানকে দেখিলে লোকের চিত্তে যেরূপ স্সেহ বাঁসল্য-রসের সঞ্চার হয় বলিয়৷ শুনিতে পাই, ইহাদিগকে দেখিয়া আমারও ঠিক সেইরুপ হষ্্তিছে। কিন্তু এরূপ হইবার কোন কারণই দেখিতেছি না। | আর যদিই বা খধিকুমার না৷ হয়, তাহা হইলেই বা 'আমার সে আশা করিবার সম্ভাবনা কি? আমি যে অবস্থায় যেরূপে প্রিয়ারে বনবাঁস দিয়াছি, তাহাতে তিনি দুঃসহ শোকে ছুরপনেয় অপমানভরে প্রাণত্যাগ করিয়াছেন, তাহার সন্দেহ নাই। লক্ষণ পরিত্যাগ করিয়া আসিলে, হয় তিনি আত্মঘাতিনী হইয়াছেন, নয় কোন দুরন্ত হিংস্র জন্তর তাহার প্রাণসংহার করিয়াছে তিনি /শ তেমন অবস্থায় প্রাণধারণে সমর্থ হইয়! নির্বচ্ধে সন্তান প্রসব * 'রয়াছেন, এবং তাহাদের লালনপালন করিতে পারিয়াছেন, এরূপ আশ! করা নিতান্ত দুরাশামাত্র। আমি যেরূপ হতভাগ্য, তাহাতে এত সৌভাগ্য কোনক্রমেই সন্তবিতে পারে না।

'শ্টুদীপিকা

৯। এই বলিয়া এ্রঁধান্ত বিকলচিত্ত হইয়া রাম অবিশ্রান্ত অশ্রপাত করিতে লাগিলেন কিয়শ্ক্ষণ পরে শোকাবেগ সংবরণ করিয়া কহিতে লাগিলেন, কিন্তু উহাদের আকার-প্রকার দেখিলে ক্ষত্রিয়কুমার বলিয়াই স্পষ্ট প্রতীতি জন্মে। অধিকন্থু উহাদের কলেবরে আমার অবয়বের সম্পূণ লক্ষণ লাক্ষত হইতেছে দেখিলেই আমার প্রতিরপ বলিয়৷ বিলক্ষণ বোধ হয়। আর অভিনিবেশপূর্বক অবলোকন করিলে সীতার অবয়ব-সৌসাদৃশ্য নিঃসংশযিতরূপে প্রতীয়মান হইতে থাকে | জে, নয়ন, নাসিকা, কর্ণ, চিবুক, ওষ্ঠ দন্তপঙ.ক্তিতে কিছুমাত্র বৈলক্ষণা লক্ষিত হয় না। এত সৌসাদৃশ্য কি কেবল অনিমিত্তঘটনামাত্রে পর্যাবসিত হইবে ? আর ইহারা কহিল্‌, বাল্ীকিতপোবনে প্রতিপালিত হইয়াছে আমিও লক্ষমণকে ঞসীতারে বালীকি-তপোবনে পরিত্যাগ করিয়া আসিতে কহিয়াছিলাম। হয়ত মহর্ষি কারুণাবশতঃ সীতারে আপন আশ্রমে লইয়া! গিয়াছিলেন, তথায় তিনি এই ছুই যমজ-সন্ভান প্রসব করিয়াছেন। লক্ষণ দেখিয়া সকলে এরূপ সম্ভাবনা করিতেন, জানকী গর্ভযুগল ধারণ করিয়াছেন। সকল আলোচনা করিলে আমার আশ! নিতান্ত দুরাশা বলিয়াও বোধ হয় না। অথবা আমি মৃগতৃষ্জিকায় ভ্রান্ত হইয়া অনর্থক আপনাকে ব্রেশ দিতে উদ্াত হইয়াছি। যঃক£আমি নৃশংস রাক্ষসের ন্যায় নিতান্ত নির্দয় নিতান্ত নিন্মম হইয়া তাদৃশী পতিপ্রাণা কামিনীরে সম্পূর্ণ নিরপরাধে বনবাঁস দিয়াছি, তখন আর সে সব আশ! কর! নিতান্ত মুঢ়ের কন্ম। হা প্রিয়ে ! তুমি তেমন সাধুশীলা সরলহদয়া হইয়া কেন এমন

দীপিক

দুঃশগীলের ত্রুরহৃদয়ের হস্তে পড়িয়াছিলে ? আমি যখন তোমায় নিতান্ত পতিপ্রাণা একান্ত শুদ্ধাচারিণী জানিয়াও অনায়াসে বনবাস দিতে, এবং বনবাস দিয়া পর্যান্ত প্রাণধারণ করিতে, পারিয়াছি, তখন আমা অপেক্ষা নুশংস পাষাপ-হৃদয় আর | কে আছে? | ১০। এই প্রকার আক্ষেপ করিতে করিতে দুঃসহ শোকভরে অভিভূত হইয়া রাম বিচেতনপ্রায় হইলেন, এবং আবিরলধারায় বাষ্পবারি বিমোচন মুহুমুন্ধঃ দীর্ঘ নিশ্খাস পরিত্যাগ করিতে লাগিলেন। কিয়গুক্ষণ পরে তিনি কিঞ্চিৎ শান্তচিত্ত হইয়৷ কহিতে লাগিলেন, বাল্মীকি সীতারে আপন আশ্রমে লইয়া গিয়াছেন, এবং সীত। তথায় এই দুই যমজ-তনয় প্রসব করিয়াছেন, তাহার সন্দেহ নাই। ইহার! যে প্রকৃত খধিকুমার নহে, তা্টর এক দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে আকার দেখিয়া স্পষ্ট বোধ হয়, ইহারা অল্প দিন মীত্র উপনীত হইয়ছে। এক্ষণে ইহাদের বয়ঃক্রম দ্বাদশ বগুসরের অধিক নহে; বোধ হয়, একাদশ বর্ষে উপনয়ন-সংক্কার সম্পন্ন হইয়াছে। ক্ষত্রিয়কুমার না হইলে বয়সে উপনয়ন হইবে কেন £ প্রকৃত খধিকুমার হইলে, মহধি অবশ্যই অষ্টম বর্ষে ইহাদের সংস্কার সম্পাদন করিতেন। তদ্যতিরিক্ত উপনীত খধিকুমারদিগের যেরূপ বেশ হয়, ইহাদের বেশ সর্ববাংশে সেরূপ লক্ষিক্ক্র হইতেছে না। যদি ইহার! ক্ষত্রিয়কুমার হয়, তাহা হইলে ইহাদের পীতার সন্তান হওয়া যত সম্ভব, অন্ধের সন্তান হওয়া তত সম্ভব বোধ হয় না। কারণ অন্য ক্ষত্রিয়ন্তানের তপোবনে প্রতিপালিত উপনীত

শুটপিক

লি সি্াস্টিরী সা সি তসিশ

লি )/৯০

হওয়ার স্তাবন। কি? ? আমার মত হতভাগা লোকের পস্তান না হইলে, ইহাদের কদাচ অবস্থা ঘটিত না।

১১। মনে মনে এইরূপ বিতর আক্ষেপ করিয়া রাম কহিতে লাগিলেন, যদি প্রিয়া পর্যান্ত জীবিতা থাকেন, এবং এই ছুই কুমার আমার তনয় হয়, তাহা হইলে কি আহলাদের বিষয় হয় ! প্রিয়া পুনরায় আমার নয়নের হৃদয়ের আনন্দদায়িনী হইবেন ইহা ভাবিলেও আমার সর্ববশরীর অমুত-রসে অভিষিক্ত হয়। এই বলিয়া, যেন সীতার সহিত সমাগম অবধারিত হইয়াছে, ইহা স্থির করিয়। রাম কহিতে লাগিলেন, এই দীর্ঘ বিয়োগের পর যখন প্রথম সমাগম হইবে, তখন বোধ হয়, আমি আহলাদে অধ্র্ধয হইব ; প্রিয়ারও আহলাদের একশেষ হইবে, তাহার সন্দেহ নাই প্রথম সমাগমক্ষণে উিয়েরই আনন্দ।শ্রু প্রবাহ প্রবলবেগে প্রবাহিত হইতে থাকিবে কয়তক্ষণ এইরূপ চিন্তায় মগ্ন হইয়া তিনি হর্ষ-বাম্প বিসজ্জন করিলেন। পরক্ষণেই এই চিন্ত। উপস্থিত হইল, আমি যেরূপ নৃশংস আচরণ করিয়াছি, তাহাতে প্প্রিয়ার সহিত সমাগম হইলে কেমন করিয়া তাহার নিকট মুখ দেখাইব ? অথবা তিনি যেরূপ সাধু্ীল। সরলহৃদয়া, তাহাতে অনায়াসেই আমার অপরাধ মার্জনা করিবেন। আমি দেখিবাগাত্র তাহার চরণে ধরিয়া িলদ ক্ষমা প্রার্থনা করিব। কিয়ৎ্ক্ষণ পরেই আবার. এই চিন্তী উপস্থিত হইল, পাছে প্রজালোকে ঘ্বণা বিরাগ প্রদর্শন করে, এই আশঙ্কায় আমি প্রিয়ারে বনবাসে প্রেরণ করিয়াছি; এক্ষণে যদি তাহাকে গ্রহণ করি, তাহা হইলে পুনরায়

সেই আশঙ্কা উপস্থিত হইতেছে এতকাল আপনাকে প্রিয়াকে দুঃসহ বিরহ-যাতনায় যে দগ্ধ করিলাম, সে সকলই রি হইয়া যায়।

১২। এই বলিয়৷ নিতান্ত নিরুপায় ভাবিয়৷ রাম খাঁর অপ্রসন্নমনে অবস্থিত রহিলেন। অনন্তর সহসা উদ্ভূত রোষাবেশ- সহকারে কহিতে লাগিলেন, আর আমি অমূলক লোকাপবাদে আস্থা প্রাদর্শন করিব না। অতঃপর প্রিয়ারে গ্রহণ করিলে যদি প্রজালোকে অসন্তুষ্ট হয় হউক, আর আমি তাহাদের ন্দানুবৃত্তি করিতে পারিব না। আমি যথেষ্ট করিয়াছি। রাজ্যভার গ্রহণ করিয়া কে কখন আমার ন্যায় আত্মাবঞ্চনা করিয়াছে? প্রথমে প্রিয়ারে বনবাস দেওয়াই নিতান্ত নির্বেবাধের কর্ম হইয়াছে। এক্ষণে আমি অবশ্যই তাহারে এরাহণ কি নিতান্ত না হয়, ভরতের হাস্তে রাজাভার সমর্পণ করিয়া প্রিয়াসমভিব্যাহারে বানপ্রস্থ- ধর্ম অবলম্বন করিব। প্রিয়াবিরহিত হইয়া রাজ্যভোগ অপেক্ষা তাহার সমতিব্যাহারে বনবাস আমার পক্ষে সহসগুণে শ্রেয়ন্বর, তাহার সন্দেহ নাই।

১৩। রাম আহারনিদ্রীপরিহারপূর্ববক এইরূপ বহুবিধ চিন্তায় মগ্ন হইয়া রজনী যাপন করিলেন

পপিকা। ১১

শকুন্তলার পতিগুহে গমন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

১। কিয়দিদন পারে মহষি কণ্থ সোমতীর্থ হইতে প্রত্যাগমন করিলেন। এক দিন তিনি তগ্রিগ্ুহে প্রবিষ্ট হইয়া হোমকা্ধ্য সম্পাদন করিতেছেন, এমন সময়ে এই দৈববাণী হইল, মহর্ষে ! রাজ ুম্মন্ত, মুগয়া৷ উপলক্ষে তোমার তপোবনে আসিয়া, শকুন্তলার পাণিগ্রহণ করিয়া গিয়ছেন। মহধি এইরূপে শকুন্তলার পরিণয়- বৃত্তান্ত অবগত হইয়া, তাহার অগেচরে সম্মতিব্যতিরেকে সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া, কিঞ্চিন্মাত্রও রোষ বা অসন্তোষ প্রদর্শন করিলেন না; বরং যণুপরোনাস্তি প্রীত হইয়া কহিতে লাগিলেন, আমার পরম সৌভাগ্য যে তল এতাদূশ সৎপাত্রের হস্তগত হইয়াছে অনন্তর প্রফুল-ব্দনে শকুন্তলার নিকটে গিয়া সাতিশয় পরিতোষ প্রদর্শন করিয়া কহিলেন, বসে! তোমার পরিণয়-বৃত্তাম্ত অবগত হইয়া অনির্বকচনীয় প্রীতি প্রাপ্ত হইয়াছি, এবং অগ্ভই ছুই শিষ্য গোতমীকে সমভিব্যাহারে দিয়া, তোমাকে ভর্তৃসন্নিধানে পাঠাইয়া দিতেছি। অনন্তর তদীয় আদেশক্রমে শকুন্তলার প্রস্থানের উদ্যোগ হইতে ভ্লাগিল |

২। প্রস্ু্টিসময় উপস্থিত হইল গোতমী এবং শাঙ্গরব শারদ্বত নামে ছুই শিষ্য শকুন্তলার সমভিব্যাহারে গমনের নিমিত্ত প্রস্তুত হইবেন অনসুয়। প্রিয়ংবদা যথাসম্তব বেশভূষাসমাধান করিয়া দিলেন। মহধি শোকাকুল হইয়া মনে মনে কহিতে

১২ দীপি

লাগিলেন, অগ্য শকুন্তলা বাইবে বলিয়া আমার মন উৎব হইতেছে, নয়ন অবিরত বাপ্পবারিতে পরিপূর্ণ হইতেছে, ক্রোধ হইয়৷ বাকৃশক্তি রহিত হইতেছে, জড়তায় নিতান্ত অভিত্ভুত হইতেছি। কি আশ্ধ্য! আমি বনবাসা, স্েহবশতঃ আমারও ঈদৃশ কৈক্রব্য উপস্থিত হইতেছে, ন| জানি সংসারারা এমন অবস্থায় কি ছুঃসহ কষ্ট ভোগ করিয়া থাকে। বুঝিলাম স্সেহ অতি বিষম' বস্তু! পরে শোকাবেগ সংবরণ করিয়া, শকুন্তলাকে কহিলেন, বসে! বেলা হইতেছে, প্রস্থন কর, আর অনর্থক কালহরণ করিতেছ কেন? এই বলিয়া তপোবন-তরুদিগকে সন্বোধন করিয়া! কহিলেন, হে সন্নিহিত তরুগণ ! যিনি তোমাদিগের জল- সেচন না করিয়া কদাচ জলপান করিতেন না, যিনি ভূষণপ্রিয়া হইয়াও ন্লেহবশতঃ কদাচ তোমাদের পল ভঙ্গ করিতেন না, তোমাদের কুস্তমপ্রসবের সময় উপস্থিত হইলে ধাঁহার আহলাদের সীমা থাকিত না, অদ্ভ সেই শকুন্তল! পতিগৃহে যাইতেছেন, তোমরা অনুমতি কর।

৩। অনন্তর, সকলে গাত্রোথান করিলেন শকুন্তলা, গুরুজন- দিগকে প্রণাম করিয়া, প্রিয়ংবদার নিকটে গিয়া অশ্রুপুর্ণনয়নে কহিতে লাগিলেন, সখি ! আধ্যপুত্রকে দেখিবার নিমিত্ত আমার চিত্ত অত্যন্ত ব্যগ্র হইয়াছে বটে, কিন্তু তপোবন ুরত্যাগ করিয়া যাইতে আমার পা উঠিতেছে না। প্রিয়ংবদা কহিলেন, সখি! তুমিই যে কেবল তপোবন-বিরহে কাতরা হইতেছ এরূপ নহে; তোমার বিরহে তপোবনের কি অবস্থা হইতেছে, দেখ। সচেতন

সীপিকা ১৩ জীবমাত্রেই নিরানন্দ শোকাকুল ; হরিণগণ, আহার-বিহারে পরাস্মুখ হইয়া স্থির হইয়া রহিয়াছে, মুখের গ্রাস মুখ হইতে পড়িয়া যাইতেছে ; ময়ুর-ময়ুরী নৃত্য পরিত্যাগ করিয়া উদ্দমুখ হইয়া রহিয়াছে ; কোকিল-কোকিলাগণ আমমুকুলের রসাস্বাদে বিমুখ হইয়া নীরব হইয়া আছে ; মধুকর-মধুকরী মধুপানে বিরত হইয়াছে গুন্‌ গুন্‌ ধ্বনি পরিত্যাগ করিয়াচ্ছে।

৪। কথ্থ কহিলেন, বসে ! আর কেন বিলম্ব কর, বেলা হয়। তখন শকুন্তলা কহিলেন, তাত! বনতোষিণীকে সম্ভাষণ না করিয়া যাইব না। এই বলিয়া বনতোষিণীর নিকটে গিয়া কহিলেন, বনতোষিণি ! শাখাবাহু দ্বারা আমাকে স্নেহভরে আলিঙ্গন কর; আজি অবধি আমি দূরবন্তিনী হইলাম। অনন্তর অনসুয়া প্রিয়ংবদাকে কহিলেন, সখি ! আমি বনতোধিণীকে তোমাদের হস্তে অর্পণ করিলাম তাহারা কহিলেন, সখি! আমাদিগকে কাহার হস্তে সমর্পণ করিলে? বল। এই বলিয়া শোকাকুল হইয়া রোদন করিতে লাগিলেন। তখন কণ্থ কহিলেন, অনসুয়ে ! প্রিয়ংবদে ! তোমরা কি পাগল হইলে? তোমরা কোথায় শকুন্তলাকে সান্তনা করিবে, তাহা না করিয়া তোমরাই রোদন করিতে আরম্ভ করিলে !

৫1 এক 0 হরিণী কুটারের প্রান্তে শয়ন করিয়াছিল ; তাহার দিকে দৃ'এপাত হওয়াতে, শকুন্তলা কথ্বকে কহিলেন, তাত ! এই হুরিণী নির্বিবদ্ধে প্রসব হইলে আমাকে সংবাদ দিবে, ভূিবে না বল। কপ্বং্ুহিলেন, না বগুসে ! আমি কখনই বিস্মৃত হইব না।

১৪ দীপি

৬। কয়েক পদ গমন করিয়ান্টকুন্তলার গতিভঙ্গ হইল শকুন্তলা, আমার অঞ্চল ধরিয়া কে টানে, এই বলিয়া মুখ ফিরাইলেন। কথ্থ কহিলেন, বসে ! যাহার মাতৃবিয়োগ হইলে তুমি জননীর যায় প্রতিপালন করিয়াছিলে, যাহার আহারের নিমিত্ত তুমি সর্বদা শ্যামাক আহরণ করিতে, যাহার মুখ কুশের অগ্রভাগ দ্বারা ক্ষত হইলে, তুমি ইঙ্গুদীতৈল দিয়া ব্রণশোধন করিয়া দিতে, সেই মাতৃহীন হরিণ-শিশু তোমার গমন রোধ করিতেছে। শকুন্তল! তাহার গাত্রে হস্তপ্রদান করিয়া কহিলেন, বাছ৷ ! আর আমার সঙ্গে এস কেন? ফিরিয়া যাও, আমি তোমাকে পরিত্যাগ করিয়া যাইতেছি। তুমি মাতৃহীন হইলে আমি তোমাকে প্রতিপালন করিয়ছিলাম; এখন আমি চলিলাম ; অতঃপর পিতা তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন এই ধ্লিয়া রোদন করিতে করিতে চলিলেন। তখন কণ্থ কহিলেন, চি শান্ত হও, অশ্রুবেগ সংবরণ কর, দেখিয়া চল। উচ্চ-নীচ না দেখিয়া পদক্ষেপ করাতে বারংবার আঘাত লাগিতেছে

৭। এইরূপ নানাকারণে গমনের বিলম্ব দেখিয়!, শাঙ্গরব কথ্থকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, ভগবন! আপনকার আর অধিক দূর সঙ্গে আসিবার প্রয়োজন নাই; এই স্থানেই, যাহা বলিতে হয় বলিয়৷ দিয়! প্রতিগমন করুন। কথ কহিলেন, তবে আইপ, এই ক্ষীরবৃক্ষের ছায়ায় ' দণ্ডায়মান বই অনন্তর সকলে সন্নিহিত ক্ষীরপাদপচ্ছায়ায় অবস্থিত হইলে, কথ কিয়ৎ- ক্ষণ চিন্ত! করিয়া! শার্গরবকে কহিলেন, বস! তুষ্ট শকুন্তলাকে

দ্র ১৫

রাজার সম্মুখে রাখিয়! তাহাকে আমার এই আবেদন জানাইবে__ আমরা বনবাসী, তপস্যায় কালযাপন করি, তুমি অতি প্রধান ধশে জন্মগ্রহণ করিয়াচ, আর শকুন্তলা বন্ধুবর্গের অগোচরে স্পেচ্ছীক্রমে তোমাতে অনুরাগিণী তইয়াছে ; এই সমস্ত বিবেচনা করিয়া, অন্যান্য সহধন্মিণীর ন্যায়, শকুন্তলাতেও স্সেহদৃষ্থি রাখিবে আমাদের এই পর্ধান্ত প্রার্থনা ইহার অধিক ভাগ্যে থাকে ঘটিবেক ; তাহা আমাদের বলিয়া দিবার নয়।

৮। কণ্চ, শাঙ্গরবের প্রতি এই সন্দেশ নির্দেশ করিয়া শকুন্তলাকে সন্ধোধন করিয়। কহিলেন, বসে! এক্ষণে তোমাকেও কিছু উপদেশ দিব / আমরা বনবাসী বটে, কিন্তু লৌকিক বৃস্তান্তেড নিতান্ত অনভিজ্ঞ নহি। তুমি পতিগৃহে গিয়া গুরুজন- দিগের শুশ্রাধা করিন্,ে সপত্বীদিগের সহিত প্রিয়সঘী ব্যবহার করিবে, পরিচারিীপিগের প্রতি সম্পূর্ণ দয়।-দাক্ষিণা প্রদর্শন করিবে, সৌভাগা-গর্বেব গধিবত| হইবে না, স্বামী কার্কশ্য প্রদর্শন করিলেও, রোষবশ। প্রতিকুলচারিণী হইবে না। মহিলার এরূপ ব্যবহারিণী হইলেই গৃহিণীপদে প্রতিষ্ঠিত হয়, বিপরীত- কারিণীরা কুলের কণ্টক-স্বরূপা। ইহা কহিয়া বলিলেন, দেখ, গোতমীই বা কি বলেন? গোতমী কহিলেন, বধুদিগকে এই বই আর কিকহিয়া দিতে হইবেক? পরে শকুন্তলাকে কহিলেন, বাছা !/উনি যেগুলি বলিলেন, সকল মনে রাখিও।

৯। এইরূপে উপদেশপ্রদান সমাপ্ত হইলে, কথ্থ শকুন্তলাকে কহিলেন, বৎস ! আমরা জার অধিক দূর যাইব না। আমাকে

৯৬

শর

সখীদ্দিগকে আলিঙ্গন কর। শকুন্তলা অস্রস্পর্ণনয়নে কহিলেন, অনসুয়। প্রিয়ংবদও কি এইখান হইতেই ফিরিয়া যাইবে ! ইহারা সে পর্যন্ত আমার সঙ্গে যাউক। কণ্থ কহিলেন, না বসে! ইহাদের বিবাহ হয় নাই; অতএব সে পর্য্যন্ত যাওয়া ভাল দেখায় না; গোতমী তোমার সঙ্গে যাইবেন। শকুন্তলা! পিতাকে আলিঙ্গন করিয়া গদ্গদ স্বরে কহিলেন, তাত! তোমাকে না দেখিয়া সেখানে কেমন করিয়া প্রাণধারণ করিব ? এই বলিতে বলিতে দুই চক্ষে ধারা বহিতে লাগিল তখন কথ অশ্রুপুর্ণনয়নে কহিলেন, বসে! এত কাতর! হইতেছ কেন? তুমি পতিগৃহে গিয়৷ গৃহিণীপদে প্রতিষ্ঠিতা হইয়া! সাংসারিক ব্যাপারে অন্ুক্ষণ এরূপ ব্যস্ত থাকিবে যে, আমার বিরহজনিত শোক অনুভব করিবার অবকাশ পাইবে নাঁ। শকুন্তলা পিতার চরণে পতিতা হইয়া কহিলেন, তাত! আধার কত দিনে এই তপোঁবনে আসিব? ক্ কহিলেন, বসে! সপাগরা ধরিত্রীর একাধিপতির মহিষী হইয়া এবং অগপ্রতিহত-প্রভাব স্বীয় তনয়কে সিংহাসনে সন্নিবেশিত তদীয় হস্তে সমস্ত সামাজ্যের ভার সমপিত দেখিয়া, পতি সমভিব্যাহারে পুনর্ববার এই শীলন্তরসাম্পদ তপোবনে আমিবে।

১০। শকুন্তলাকে এইরূপ শোকাকুলা ধ্্দখিয়া গোতমী কহিলেন, বাছ!! আর কেন, ক্ষান্ত ' হও, যাইবঁ্র সময় বহিয়া যায়। সখীদিগকে যাহ! কহিতে হয় বলিয়া লও, আর বিলম্ব করা হয় না। তখন শকুন্তল! সথীদিগের নিকটে গিয়া কুগলেন, সখি!

*পিকা ১৭

তোমরা উভয়ে এককালে আলিঙ্গন কর। উভয়ে আলিঙ্গন করিলেন। তিন জনেই রোদন করিতে লাগিলেন কিয়ৎক্ষণ পরে সখীরা শকুন্তলাকে কহিলেন, সখি ! যদি রাজা শীঘ্র চিনিতে না পারেন, তাহাকে তীহার স্বনামান্কিত জঙ্গুরীয় দেখাইও | শকুন্তল! শুনিয়া সাতিশয় শঙ্কিতা হইয়া কহিলেন, সখি ! তোমরা এমন কথা বলিলে কেন? বল। আমার হৃণকম্প হইতেছে। সঘীরা কহিলেন, না সখি! ভীত হইও না; স্সেহের স্বভাবই এই, অকারণে অনিষ্ট আশঙ্কা করে।

১১। এইব্ূপে ক্রমে ক্রমে সকলের নিকট বিদায় লইয়া! শকুন্তলা, গোতমী প্রভৃতির সমভিব্যাহারে, ছুক্ষন্ত-রাজধানী প্রতি প্রস্থান করিলেন। কণ্চ, অনসুয়া প্রিয়ংবদা এক দৃষ্টিতে শকুস্তলার দিকে চাহিয়৷ রহিলেন্ট্। ক্রমে ক্রমে শকুন্তলা! দৃষ্টি-পথের বহিূতা হইলে অনসুয়া উচ্চৈঃম্বরে রোদন করিতে লাগিলেন। মহধিও দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া কহিলেন, অনমুয়ে ! প্রিয়ংবদে!। তোমাদের সহচরী প্রস্থান করিয়াছেন এক্ষণে শোকাবেগ সংনরণ করিয়া আমার সহিত আশ্রমে প্রত্যাগমন কর। এই বলিয়া মহষি আশ্রমাভিমুখ হইলেন এবং তীহারাও তাহার অনুগামিনী হইলেন। যাইতে যাইতে মহধি মনে মনে কহিতে লাগিলেন, যেমন স্থাপিত ধন ধন-স্বামীকে প্রত্যর্পণ করিলে লোক নিশ্চিন্ত স্তর হয়, তত্রপ, অগ্, আমি শকুন্তলাকে পতিগৃহে প্রেরণ করিয়া নিশ্চিন্ত সুস্থ হইলাম

চি

তলা লস লতল প্‌ কম সপ রখ |. 2 পাপা তি ৪৯ ৩৯িপস লালিত লি মঠ 5 *৮ লি পানী

মিত্রতা

অক্ষয়কুমার দত্ত

১। সঙ্গলাভের বাসনা আমাদের ত্বভাব-সিদ্ধ, এবং সমস্ত সদ্গুণ আমাদের আদরণীয়। কাহারও কোন সদ্গুণ সন্দর্শন করিলে, তাহার প্রতি অনুরাগ-সঞ্চার হয়, এবং অনুরাগ-সঞ্চার হইলেই, ' তাহার সহিত সহবাস করিবার বাসনা উৎপন্ন হয়। এই প্রকারে একজনের প্রতি অন্য জনের শ্রদ্ধা গ্রীতির উদ্রেক হইতে পারে; কিন্তু উভয়ের সমান ভাব না হইলে, প্রকৃতরূপ বন্ধুত্ব- ভাবের উৎপন্তি হয় না। সমান ভাব সমান অবস্থা সন্ভাব-সগরের মূলীভূত। এই হেতু, বালকের সহিত বালকের, যুবার সহিত যুধার এবং প্রাচীনের সহিত প্রাচীন ব্যক্তির সৌহদ্য-ভাব সহজে সঞ্চারিত হইয়া থাকে। এই হেতু পণ্ডিতের সাত পণ্ডিত লোকের, অন্দর সহিত অজ্ঞ লোকের, সাধুর সহিত সাধু লোকের, এবং অপাধুর সহিত অসাধু লোকের মিত্রতা-ভাব অক্রেশে উৎপন্ন হইয়া থাকে। এই হেতু ধনীর সহিত ধনী লোকের, ছুঃখীর সহিত দুঃখী লোকের এবং মধ্য-বিত্তের সহিত মধ্যবিত্ত লোকের অপেক্ষাকৃত অধিক সৌহ্বগ্ত সঙ্ঘটিত হইয়া থাকে। বিশেষতঃ মানসিক প্রকৃতির সাম্যভাবই বন্ধুতব-গুণোৎপত্তিরদ প্রধান কারণ। যে সমস্ত স্চরিত্র ব্যক্তির মনোবৃত্তি একরূপ হয়, স্থতরাং এক বিষয়ে প্রবৃত্তি এক কার্যে অনুরক্তি জন্মে, তাহাদেরই পরস্পর প্রকৃতরূপ মিত্রতালাভের সম্ভাবনা ]

এাপিকা ১৯ ২। কিন্তু মেদিনী-মণ্ডলে ছুই ব্যক্তির সর্বববিষয়ে সমান হওয়া সম্ভব নয়। যাহাদের জ্ঞান সমান, তাহাদের অবস্থা সমান নয়। যাহাদের অবস্থা সমান, তাহাদের ধন্ম সমান নয় যাহাদের ধন্ঝ সমান, তাহাদের প্রবৃত্তি সমান নয়। যাঁহাদের প্রবৃত্তি সমান, তাহাদের সম্পত্তি সমান নহে অনৈক্য ঘটনার এইরূপ অশেষবিধ হেতু বি্কমান থাকাতে, এক ব্যক্তির সহিত অন্য ব্যক্তির সমস্ত বিষয়ে মিলন হয় না; স্তুতরাং সম্পূর্ণরূপে সৌহ্ৃঘ্ভ-ভাবও উৎপন্ন হয় না। যে বিষয়ে বাহাদের অন্তঃকরণের এক্য হয়, তাহাদের সেই বিষয় অবলম্বন করিয়। সন্ভাব হইতে পারে, এবং যে পর্য্যন্ত অন্য বিষয়ে বৈষম্ভাব উপস্থিত না হয়, সে পধ্যন্ত সেই সন্ভাব স্থায়ী হইতে পারে। ধাঁহার সহিত কিয় বিষয়ে এঁক্য হয়, আমরা সংসারে াহাকেই বন্ধুত্ব পদে ষ্ীতিঠিত করিয়া, মনের ক্ষোভ নিবারণ করি। এরূপ বন্ধুও অতি দুর্লভ | ৩। আমরা যাদৃশ বন্ধুলাভের নিমিত্ত ব্যাকুল হই, যদিও তারৃশ বন্ধু ধরণী-মগুলে নিতান্ত ছুর্লভ, তথাচ বন্ধু-ব্যতিরেকে জীবিত খাঁক! দুঃসহ ক্রেশের বিষয় কোন জগছিখ্যাত পণ্ডিত-শিরোমণি উল্লেখ করিয়াছেন, বন্ধু-ব্যতিরেকে সংসার একটি অরণ্য মাত্র। অপর এক নির্দেশ করিয়াছেন, বন্ধুহীন জীবন আর সূষ্য-হীন জগহু ফ্টভয়েই তুল্য তৃতীয় এক ব্যক্তি লিখিয়া গিয়াছেন, সংসারঃরূপ বিষবৃক্ষে দুইটি স্থুরস ফল বিদ্কমান আছে, কাব্যরূপ অসৃতর্ঠসের আস্বাদন সড্জনের সহিত সমাগম যিনি দুঃখের হস্তে খ্বীতত হইয়াও বন্ধুজনের দর্শন পান, ছুঃখ কি কঠোর

২5 দীপিকা

পদার্থ তিনি তাহা অবগত নহেন। যিনি বন্ধুগণে পরিবেষ্িত হইয়া সম্পত-স্থখ সম্ভোগ করেন, বন্ধুব্যতিরেকে বিষয়-সম্পত্তি কেমন অকিঞ্চিৎকর, তাহাঁও তাহার প্রতীত হয় নাই। বন্ধু শব্দ যেমন সুমধুর, বন্ধুর রূপ তেমনি মনোহর বন্ধুর সহিত সাক্ষাৎ হইলে তাপিত চিন্ত শীতল হয়, এবং বিষ বদন প্রসন্ন হয়। প্রণয়-পবিত্র সচ্চরিত্র মিত্রের সহিত সহবাস সদালাপ করিয়! যেমন পরিতোষ জন্মে, তেমন আর কিছুতেই জন্মে না। তাহার সহিত সহসা সাক্ষাৎকার হইলে, কি জানি কি নিমিত্ত শোক-সন্তপ্ত সুদুঃখিত ব্যক্তিরও অধরযুগলে মধুর হাস্তের উদয় হয়। দীর্ঘকাল অনশনের পর অন্নভেজন করিলে যেরূপ তৃপ্তি জন্মে, পিপাসায় শুক্ষ-কণট হইয়া স্থশীতল জল পান করিলে যেরূপ স্ুখান্ুভব হয়, এবং তপ্‌ন- তাপে তাপিত হইয়া, সুবিমল স্থক্সিপ্ধী সম্মরণ সেবন করিলে, অঙ্গ-সন্তাপ দুরীকৃত হইয়া যেরূপ প্রমোদ-লাভ হয়, সেইরূপ প্রিয় বন্ধুর সুমধুর সান্তবনা-বাক্য দ্বারা দুঃখিত জনের মনের সন্তাপ আন্তরিত হইয়া, সন্তোষসহ প্রবোধ-স্থধার সঞ্চার হয়

বন্ধুত্ব-গুণের প্রশংসা করিয়া শেষ করা যায় না। উহা এমন মনোহর বিষয় যে, শত শত গ্রন্থকার উহার মাধুধ্য মনোহারিত্ব বর্ণনায় প্রবুত্ত হইয়াছেন, কিন্তু কেহই তদ্বিষয়ে মনের ক্ষোভ নিবারণ করিতে সমর্থ হন নাই। ফলতঃ এস্থলে আমার্দ, মিত্রতা-ঘটিত কর্তব্য কম্মের বিবরণ করা ঘত আবশ্যক, মিত্রতার গুণ বর্ণন করা তত আবশ্যক নয়। কাহারও সহিত মিত্রতা-সুত্রে বদ্ধ হইবার সময়ে কিরূপ অনুষ্ঠান করা উচিত ; তৎপরে যতকাল মিত্রতা

বধ , ীপিকা ২১

থাকে, ততকাল কিরূপ আচরণ কর! বিধেয় ; পরিশেষে যদি বিচ্ছেদ ঘটে, তাহ হইলেই বা কিরূপ ব্যবহার করা কর্তব্য ; এই ত্রিবিধ কর্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ক্রমে ক্রমে লিখিত হইতেছে

৫। প্রথমতঃ, জ্কানবান্‌ সচ্চরিত্র ব্যক্তি ভিন্ন অন্যের সহিত মিত্রতা করা কর্তব্য নয়। সাধু-সঙ্গ যেমন গুণ-কারী, অসাধুসঙ্গ তেমন অগুণকারী--ইহা প্রসিদ্দই আছে বন্ধুর দোষে আমাদের চরিত্র দুষিত হয়। আমরা যে বাক্তিকে একান্ত ভালবাসি খানার সহিত সর্বদা সহবাস করি, তাহার দেষ-সমুদায়কে দোষ বলিয়া বিবেচনা করি না; প্রত্রাত, তীহার অনুবস্তী হইয়া, তদনুরূপ অসদাচরণ করিতেই প্রবৃত্ত হই তীহার দোষ-সমুদায় আমাদিগের এমন অর্েশে অভ্যাস পায় যে, জানিতে পারিলেও পারি না, কিরাপে অভ্যাস হইল। অন্ীএব যখন আমাদের গুণাগ্ডণ স্ুখ-দুঃখ মিত্রের গুণাগুণের এত সাপেক্ষ, তখন যে বাক্তিকে সচ্চরিত্র সদ্িবেচক বলিয়৷ নিশ্চয় না জানা যায়, তাহার সহিত মিত্রতা করা কোনরূপেই শ্রেয়স্কর নয়। ধাঁহার বুদ্ধি ধণ্ম-প্রবুত্তি উভয়ই বলবতী, তাহারই সহিত মিত্রতা করা কর্তব্য

৬। মিত্রের দোষে চিরজীবন দুঃখ পাইবার সম্ভাবনা এবং মিত্রের গুণে চিরজীবন স্তুখী হইবার সম্ভাবনা যে ছুক্ৃম্মশালী দুঃশীল ব্যক্তির সহিত ক্রিছিদিন মিত্রত। থাকিয়! বিচ্ছেদ হইয়া যায়, তাহারও সেই অল্প সংসর্গদৌষে আমাদের চরিত্র এমন দুষিত হইতে পারে যে, জন্মের মত দোষী থাকিয়া, অশেষবিধ রেশ [লি হরণ করিতে হয়। যদ্দি কিয়ুক্ষণ হাস্য-

২২ শাগিডা টা

৫৪ ০৫ স্যর তল সর্প জা সি ন্্ি লাশ আতা ৯৩ সিটি তর আম

কৌতুক প্রমোদ-সস্তোগ মাত্র বন্ুত্-করণের উদদেশ্ট হইত, তবে, কেবল পরিহাস-পটু স্থরসিক ঝক্তি দেখিয়া, তীহারই সহিত বন্ধুত্ব করিতাম। যদি কাহারও নিকট কিছু সাংসারিক উপকার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে রা সৌজন্য-প্রকাশ মাত্র বন্ধুত্বকরণে প্রয়োজন হইত, তাহা হইলে, কেবল উদার-স্বভাব এয অথবা রও পদস্থ ব্যক্তি দেখিয়া তাহারই সহিত বন্ধু করিতাম। যদি লোক-সমাজে মান্য লোকের মিত্র বলিয়া গণ হওয়া বন্ধুত্ব-করণের অভিসন্ধি হইত, তাহা হইলে, কোন লোক-মান্ব বিখ্যাত ব্যক্তির সহিত বন্ধুত্ব করিবার জন্য, অথবা কথঞ্চিৎ লোকের নিকট তীহার বন্ধু বলিয়া পরিচিত হইবার নিমিন্ত অশেষ মত চেষ্টা পাইতাম কিন্তু ধদি মিত্রের সহিত মিত্রের মনোমিলনের নাম মিত্রতা হয়, যদি মিত্রের ক্রেশে মিত্রের বৈপদে বিপন্ন হওয় বিধেয় হয়, যদি মিত্রের দোষ গোপন করিয়া সুস্পষ্ট পক্ষপাত, দোষে দূষিত হওয়া আমাদের স্বভাব-সিদ্ধ হয়, যদি পাপিষ্ট মিত্রের ংসর্গবশ্তঃ পাপকন্ম্ে প্রবৃত্তি অনুরক্তি হওয়! সম্তাবিত হয় যদি বন্ধুজনের কদাচার-জনিত কলঙ্ক শুনিয়া লভ্ভিত সন্ভপু হওয়া অকপট-হৃদয় স্থহদ্বর্গের প্রকৃতি-সিদ্ধ হয়, তবে কাহারও সহিত মিত্রতা-গুণে বদ্ধ হইবার পূর্বে, তাহার গুণ চরিত যত্তপুর্ববক নিরূপণ করা কর্তব্য, তাহার সন্দেহ নাই যিনি তোমার সহিত আত্মীয়তা করিবার বাসনা করেন, তিনি আপনি আপনার আত্মীয় কি না, বিচার করিয়! দেখ।

৭। ধরণী-মণ্ুডলে ধর্ম্মশব্যতিরেকে আর কিছুই সা্ীনহে ধর্শ

.)পিকা ২৩

যে মিত্রতার মুলীভূত নয়, তাহা কদাচ স্থায়ী হয় না। বন্ধু যেমন বিশ্বীসস্থল, এমন আর কেহই নয়। কিন্তু অপাত্রে বিশ্বাস করিলে, অবিলম্বেই প্রতিফল পাইতে হয়। যে ব্যক্তি স্থার্থলাভ প্রত্যাশায় কাহারও সহিত মিলন করে, যদি বন্ধুজন-সম্পকাঁয় কোন গুহা কথা ব্যক্ত করিলে, স্বার্থলাভ হয়, তবে সে কথা কেন না প্রকাশ করিবে? যেবাক্তি অধশ্মাচরণ করিয়া অর্থোপার্জন করিতে কুন্ঠিত হয় না, সে বন্ধুজন-সমীপেই বা বিশ্বাসঘাতকতা করিতে কেন কুন্ঠিত হইবে? যে ব্যক্তি আমাদের আকন্মিক দারিদ্র্য- দশ! উপস্থিত দেখিয়া, আমাদের নিকট উপকার-প্রত্যাশ। রহিত হইল বলিয়া, চিন্তিত উৎুকন্তিত হয়, সে ব্যক্তি আমাদের দুঃখানলে সান্তুনা-সলিল সেচন করিতে কেন ব্যগ্র হইবে? এমন ব্যক্তি যদি আমাদের স্তরপাযশ ঘোষণা করিয়া স্বার্থ লাভ করিতে পারে, তবে আমাদিগের চরিত্রে অসত্য কলঙ্ক আরোপণ-পূর্ববক স্থখ্যাতি লোপ করিতেই বা কেন পরাজ্মুখ হইবে? অনেক ব্ক্তি বিশ্বীস-ঘাতক বন্ধুর বিষম অত্যাচার-জনিত দুঃসহ ক্লেশে কাতর হইয়! থাকেন, কথ! যথার্থ বটে, কিন্তু ক্রেশ কেবল সেই বন্ধুর দোষে নয়, নিজ দোষেও উৎপন্ন হইয়া থাকে অপাত্রে বিশ্বাসস্থাপন করাতেই তাহাকে এঁ প্রতিফল প্রাপ্ত হইতে হয়। বন্ধুত্বঘটনার প্রঞ্রন্ত-সময়ে যে সমস্ত কর্তব্য কন্ম সম্পাদন করা উচিত, তাহা ন! [ক করাতেই, উক্তরূপ ক্রেশ-পরম্পরা ভোগ করিতে হয়। অতএন্ঁ অসাধু লোকের সহিত বন্ধুতা করা কোনরূপেই শরেয়ন্কর নস্েরি সদ্বিদ্ভাশালী সচ্চরিত্র দেখিয়া বন্ধু করিবে।

২৪ দীপিকা &

৮। দ্বিতীয়তঃ, যে সময়ে কোন ব্যক্তিকে মিত্র বলিয়া অবধারণ করা যায়, সেই সময় অবধি তৎসংক্রান্ত কতকগুলি অতি মনোহর অভিনব ব্রতে আমাদিগকে ব্রতী হইতে হয়। সেই সমুদায় পবিত্র ব্রতই বা কি, এবং কিরূপেই বা পালন করিতে হয়, পশ্চাঁৎ তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখিত হইতেছে যত কাল সহিত মিত্রতা থাকে, তাবগ তাহার প্রতি কিরূপ ব্যবহার সম্পাদটী করিতে হয়, তাহা অগ্রে নির্দিষ্ট হইতেছে তীহার বিচ্ছেদ ব| প্রাণত্যাগ-জনিত সৃদারুণ শোক-সন্তাপ যর্দি আমাদের ভাগ ঘটে, তাহা হইলে, তুপরে যাব কাল জীবিত থাকিতে হয়, তাবু কাল তদীয় সম্ভাব-সংক্রান্ত যে যে নিয়ম পালন কর৷ কর্তৃবা, তাহ! পশ্চা প্রদশিত হইবে

৯। আমরা ধাহার সহিত যথা-নিয়মে জদ্ধুত্ববন্ধনে বদ্ধ হই, তাহাকে অসঙ্কুচিত-চিত্তে অবাহতভাবে বিশ্বীস করা প্রথম কর্তব্য কন্ম। যখন আমরা তীহাকে নিতান্ত বিশ্বাস-ভাজন বিবেচনা করিয়া, তীহার সহিত সৌহগ্ভ-রূপ বিশুদ্ধ ব্রত অবলম্বন করিয়াছি তখন, তীহার নিকট অকপট-হৃদয়ে হৃদয়-কবাট উদঘাটন করা, সর্ববতো- ভাবে কর্তব্য। রোমক-দেশীয় কোন নীতি-প্রদর্শক নির্দেশ করিয়াছেন, “তুমি ধাহাকে আত্মব বিশ্বীস না কর, তাহাকে যদি বন্ধু বলিয়৷ বিবেচন! করিয়া থাক, তবে তুমি বঙ্ধু-গুণের প্রকৃত প্রভাব প্রতীতি করিতে সমর্থ হও নাই 7 তুমি ষীহার প্রতি অনুরক্ত হও, তিনি তোমার হৃদয়-নিলয়ে প্রবেশ করিবার উপযুক্ত কি না, দীর্ঘকাল বিবেচনা করিবে কিন্তু যখন বিচার কী তাহাকে

দীপিকা ২৫ ষথার্থরূপ উপযুক্ত বলিয়া স্থির করিবে, তখন তাহাকে অন্তঃকরণের অভ্যন্তরে স্থান প্রদান করিবে” বাস্তবিক মিত্র-সদৃশ প্রত্যয়-স্থল আর কেহই নাই। প্রকৃত মিত্রের অকপট হৃদয় বিশ্বাস-রূপ পরম পদার্থের জন্ম-ভূমি বলিয়া উল্লিখিত হইতে পারে তাহার হস্তে ধন-প্রাণাদি সমুদায়ই বিশ্বাস করিয়। অর্পণ করা যায়। কোন বিষয়ই তাহার নিকট গোপন রাখিবার বিষয় নয়। যে বিষয় পিতার নিকট ব্যক্ত করিতে শঙ্ক। উপস্থিত হয়, ভ্রাতার নিকট প্রকাশ করিতে সংশয় জন্মে, এবং ভার্ষা-সমীপেও সময়-বিশেষে গোপন রাখিতে হয়, মিত্র-সন্নিধানে তাহা অসম্কুচিত-চিন্তে অক্রেশে ব্যক্ত কর! যায়।

১০। যেব্যক্তি একান্ত প্রীতি-ভাজন নিতান্ত বিশ্বাস-পাত্র, তাহার কল্যাণ-সাধন্ভুবিষয়ে সহজেই অনুরাগ হইয়া! থাকে, এবং বিবেচনা করিয়া দেখিলে, তদর্থে যত্ব করা সর্ববতোভাবে কর্তবা বলিয়া অবধারিত হয় ; তাহার যদি কোন বিষয়ের অপ্রতুল উপস্থিত হয়, তাহা হইলে, সে অপ্রতুল-পরিহারার্থ সাধ্যানুসারে চেষ্টা করা কর্তব্য যদি তিনি শোক-সন্তাপে সন্তপ্ত হন, তাহা হইলে, পীতি-বচন স্মেহ-বিতরণ দ্বারা সেই সন্তাপের শান্তি করিতে সযত্বু হওয়া উচিত। যদিও আমরা তাহার শোক-ছুঃখের একান্তিক নিবৃত্তি করিতে সমর্থ না হই, তথাচ কিছু না কিছু শমতা করিতে পারি, তাহার সন্দেহ নাই। কখন কখন প্রণয়-পবিত্র প্রবোধ- দুখের উপর স্থুখের ছায়া পাতিত করিয়া, ষয় কিয়তক্ষণ বিস্মৃত রাখিতে পারি। যদি তান

শোকের,

২৬ দীপিকা

নিরপরাধে লোকের নিকট নিন্দিত হন, তাহা হইলে, আমর

তাহাকে নির্দোষ জানিয়া প্রবোধ দিতে তাহার মিথ্যাপবাদ-জনিত

মানসিক গ্রানির শমতা করিতে সমর্থ হই ; এবং জন-সন্নিধানে

তদীয় নির্দদোধষিতা সপ্রমাণ করিবার নিমিত্ত সাধ্যানুসারে চেষ্টা

পাইতে পারি। তীহার উল্লিখিতরূপ অশেষ্প্রকার উপকার

সম্পাদন করা, আমাদের উচিত কন্ম। তাহার উপকার-সাধনে। সযত্র সমর্থ হওয়া, আমাদের স্থখের কার্য সৌভাগ্যের বিষয় বিবেচনা করা কর্তব্য

১১। বন্ধুর পাপাঙ্কুর উৎপাটন কর! সর্বাপেক্ষা গুরুতর কর্তব্য কন্ম।। আমর! তাহার ষত প্রকার উপকার সাধন করিতে পারি, তন্মধ্যে কোন প্রকারই উহার তুল্য কল্যাণকর নয়। মনুষ্যের পক্ষে কোন পদার্থ ধন্ম অপেক্ষায় হিতকারাঁ, নহে; অতএব হৃদয়াধিক প্রিয়তম স্ৃহজ্জনের হত-প্রায় ধন্ম-রত্ব উদ্ধার করিয়া দেওয়া অপেক্ষা অন্য কোন প্রকারে তাহার অধিকতর উপকার করিতে সমর্থ হওয়া যায় না যে সময় যাহাকে বন্ধুত্বপদে বরণ করা যায়, সে সময়ে তিনি যথার্থ সচ্চরিত্র থাকিলেও, পরে অসচ্চরিত্র হওয়া অসম্ভব নহে মন্ুষ্যের মন নিরন্তর একরপ থাকা সহজ নয় 3 পুণ্য-পদবীতে ভ্রমণ করিতে করিতে, দৈবাৎ পদ- স্থলন হইয়া, বিপথগামী হইবার সম্ভাবনা আছে। বন্ধুর্জনর এতাদৃশ অকল্যাণকর বিড়ম্বনা ঘটিলে, তাহাকে পুণ্য-পথে | পুনরানয়ন করিবার নিমিত্ত সাধ্যানুসারে যত্ব করা কর্তৃব্য। 'পাপাসক্ত ব্যক্তিকে হিত-বাক্য কহিলে, কি জানি সে বিপরীত ভর্ব' য়! রুষ্ট

দীপিকা ২৭

সন্তুষ্ট হয়, এই বিবেচনায় অনেকে মিত্রগণের দোষ সংশোধন করিতে প্রবৃত্ত হন না; কিন্তু তাহাদের এরূপ বাবহার উচিত ব্যবহার নয়। পীড়িত ব্যক্তি কটু তিক্ত ওষধ ভক্ষণ করিতে সম্মত না হইলেও, তাহাকে সমুদয় রোগনাশক সামগ্রী সেবন করান যেমন অবশ্যই কর্তবা, অধন্ম-স্বরূপ মানসিক রোগে কুগ্ন ব্ক্তিকেও উপদেশ-ওষধ মসেবন করান, সেইরূপ অবশ্টাই কর্তব্য পুণ্য কর্ম সে বিষয়ে পরাম্মুখ হইলে, বন্ধুত্বব্রত লঙ্ঘন করা হয়। তাহার সন্ডভোষসাধন রোগোঁশপত্তি-নিবারণ-উদ্দেশে মুছুবচনে স্মধুরভাবে উপদেশ দেওয়া বিধেয়। যদি তিনি বন্ধুত- গুণের প্রকৃত মর্যাদা গ্রহণ করিতে আমাদের উপদেশ-বাক্যের অভিসন্ধি বুঝিতে সমর্থ হন, তাহাহইলে তিনি আপনার অবলম্দিত অধন্ম-পথ পরিত্যাগ করিতে সচেষ্ট হইবেন আমাদের প্রতি রুষ্ট না ভইয়া, সমধিক সম্থুষটই হইবেন। আমরা তীহার ধন্-রূপ অমূল্য রত উদ্ধারার্থ প্রবৃত্ত হইয়াছি বলিয়া, তিনি আমাদের প্রতি অধিকতর অনুরাগ প্রকাশ করিবেন, এবং প্রণয়ের সহিত কৃতজ্ভতা-রস মিলিত করিয়া, অপুর্ব মাধুর্্যভাব প্রদর্শন করিবেন

১২। ধাহারা সরলান্তঃকরণে প্রিয়-বচনে মিত্রগণের দৌষোল্লেখ করিয়া, সছুপস্ত্রেণশ প্রদান করিতে পরাজ্মুখ হন, তাহারা প্রকৃত মিত্রপদের বন্য নহেন। ধাহারা কোন মিত্রের কুপ্রবৃত্তি সমুদীয় বন্ধিত হইত দেখিয়া, তাহার রোষোৎপত্তির আশঙ্কায় বাক্যমাত্র ব্যয় করেন কু স্পষ্টবাদী শক্রদকল তাহাদের অপেক্ষা হিতকারী

২৮ দীপিকা স্বহৃদ্‌ বলিয়। গণ্য হইতে পারে। রোমকশরাজ্যের এক পণ্ডিত কহিয়। গিয়াছেন, “অনেক ব্যক্তি প্রিয়ংবদ মিত্র অপেক্ষায় বদ্ধবৈর শক্র-সমীপে অধিক উপকার প্রাপ্ত হইয়াছেন। কারণ, তাহারা উক্তরূপ শক্রর নিকট সকল যথার্থ কথা শ্রবণ করিয়ানন, কিন্তু উক্তরূপ মিত্রগণের নিকট কনম্মিন্কালে শুনেন নাই। তাহাদের বিরাগ অনুরাগ উভয়ই বিপরীত ; কেন না, তাহার! অধন্মের অনুরক্তি সহছুপদেশ-গ্রহণে বিরক্তি প্রকাশ করেন ধনাঢ্যাদগের মধ্যে অনেকেই, অগবা প্রায় সকলেই উক্তরূপ মিব্রমগ্ডলীতে পরিবেষিত থাকেন। তাহারা আপনার তুষ্িকর ভিন্ন অন্য বাক্য শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করেন না, এবং তীহার৷ যে সমস্ত পদানত বন্ধুকে বন্ধু সন্বোধন করেন, তাহারাও তাহাদের তোষ-জনক ব্যতীত অন্য বাক্য উল্লেখ করিত সাহসী হর না। ধনী মহাশয়ের! চত্ুদ্দিক হইতে আপন ধ্বনির প্রতিধ্বনি শুনিতেই ভালবাসেন এবং তদীয় আজ্ঞাবহ মিত্র মহাশয়েরা প্রতি বাকোতেই তাহাদের সে বাসন! স্থৃুসি্ধ করিতে থাকেন। পুজা পুজক উভয় বন্ধুর মধ্যে এক জন পরিচারণা অন্য জন অর্থলাভমাত্র অভিলাষ করেন। তীহারা বদি পরস্পর মিত্রশব্দের বাচ্য হইতে পারেন, তবে ক্রীত দীস ক্রেতা স্বামীই বা সেই শব্দের প্রতিপাগ্ভ কেন না হইবে ?. অকপট-হ্য়ে অকুন্ঠিত- ভাবে সদুপদেশ প্রদান কর! এবং সাতিশয় আগ্রহ ধুৰকাশ-পুর্ববক সেই উপদেশ গ্রহণ করা, বন্ধুত্বগুণের প্রকৃত স্থলে যদি চাটুকারিতা-দৌষ উপস্থিত হয়, তবে সেপ্বী টুকারিতা

'দীপিকা ২৯

যেমন অনিষ্কর হইয়৷ উঠে, বিদ্বেষীদিগের সুস্পষ্ট বিদ্বেষ-বচন কদীচ সেরূপ অনিষ্টকর নয়।

১৩। তৃতীয়তঃ, কাহারও সহিত বন্ধুত্বসুত্রে বদ্ধ হইতে হইলে, সে সময়ে কিরূপ আচরণ করিতে হয় এবং বদ্ধ হইবার পরেই বা তাহার প্রতি কিরূপ ব্যবহার করিতে হয়, এই দুই বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত লিখিত হইল। এক্ষণে বন্ধুত্বঘটিত চরম ক্রিয়ার বিষয় অতি সংক্ষেপে নির্দেশ করা যাইতেছে।

১৪। সণপাত্রে প্রণয় সংস্থাপন করিলে, কম্মিন কালে সে প্রণয়ের বিচ্ছেদ হওয়া সম্ভব নয়। যাহারা পূর্বব-নিদ্দিষ্ট পবিত্র নিয়মানুসারে পরস্পর বন্ধুত্বব্রত অবলম্বন করেন, তাহাদের মধ্যে এক জনের অন্তিম দশা উপস্থিত না হইলে, তদীয় বন্ধুত্বেরও অন্তিম দশা উপস্থিত হয় না। টিন দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, মিত্রপরিগ্রহ- সময়ে যিনি যত বিবেচনা করুন না কেন যত সাবধান হউন্‌ না কেন, লক্ষণাক্রান্ত সুজন মিত্র নির্বাচন করিয়া লওয়া স্তবকঠিন কম্ম। অবনী-মগুলে জ্ঞান-পবিত্র সুচরিত্র মিত্রসদৃশ স্থাদুর্লভ পদার্থ আর কিছুই নাই আমরা এক সময়ে ধাহাকে নিতান্ত নিঙ্ষলঙ্ক জানিয়া, স্ৃহৃদ্‌ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি, অন্য সময়ে তীহার এমন কলঙ্ক প্রকাশিত হইয়া পড়ে যে, তাহার সহিত সৌহদ্ রাখিবার আরণ পথ থাকে না। যদিও তিনি কোন গুরুতর না হন, তথাচ এরূপ সন্দিগ্ধ, সারল্য-হীন 1 হইতে পারেন যে, তাহার প্রণয়-পাত্র বিশ্বাস একেবারে অসম্ভব হইয়া উঠে। অতএব ধাঁহারা

৩০ দীপিক।

পরস্পরের গুণাগুণ বুঝিতে অসমর্থ হইয়া বন্ধুত্ব-বন্ধনে বদ্ধ হন, কোন না কোন কালে তাহাদের সেই বন্ধন একেবারে ছিন্ন হওয়৷ সম্ভব। যদি ভাগ্য*দোষ বশতঃ এতাদৃশ নিদারুণ ঘটনা নিতান্তই ঘটিয়৷ উঠে, তথাচ তীহাদিগের বন্ধত্বঘটিত কর্তব্য কর্মসাধনর সমাপ্তি হয় না। আমরা জন্মাবধি কশ্মিন্‌ কালে যাহার মুখাবলোবন করি নাই, আর যাহার সহিত সহবাস সদালাপ করিয়া, পুলকিত চিত্তে কিয়ৎকাল অতিপাত করিয়াছি, এই উভয়ই আমাদের সমান, যত্বের পাত্র বা সমান অবজ্ঞার বিষয় বলিয়া কখনই গণ্য হইতে পারে না। যদিও এঁ শেষোক্ত সুহৃদ মহাশয় আমাদের সহিত নিতান্ত শ্যায়-বিরুদ্ধ ব্যবহার করিয়া, আমাদের অনুরাগ লাভের একান্তই অবোগ্য হন, তথাচ তিনি সম্ভাবের সময়ে বিশ্বাস করিয়া আমাদিগকে যে কোন গোপনীয় বিষয় অবগত করিয়াছিলেন, সেই সম্ভাবের অসস্ভাব হইলেও, তাহা কদাচ ব্যক্ত করা উচিত নয়। যে সময়ে কাহারও সহিত সৌহ্ুগ্ভ থাকে, সে সময়ে তিনি আপনার মনের কবাঁট উদ্ঘাটন করিয়া, আমাদের নিকট এতাদৃশ গুহাবিষয় প্রকাশ করিতে পারেন যে, তাহা ব্যক্ত হইলে, তাহার অশেষ অনর্থের উৎপত্তি হইতে পারে যদি তাহার উত্ত-রূপ অনর্থের অথবা কিছুমাত্র অনিষ্ট-ঘটনার সম্ভাবনা নাও থাকে, তথাচ যখন

ত্রাহার সমীপে উক্তরূপ বাচনিক অঙ্গীকার নাই কার্য তথাচ যাহার সহিত প্রণয়-পাশে বদ্ধ থাকিতে হয়, তু

দীপিকা! ৩১

উক্তরূপ অঙ্গীকার করা, প্রথমাবধিই সিদ্ধ হইয়া থাকে। বন্ধুজনের গুহা বিষয় ব্যক্ত করা বিহিত নয়, ইহা বন্ধুত্ব-বিষয়ক এক প্রধান নিয়ম বলিয়। নির্দিষ্ট আছে অতএব তিনি সন্তাব সত্বে বিশ্বাস করিয়া, সংগোপনে যে বিষয় আমাদিগকে অবগত করিয়াছেন, সন্ভাবের অসস্ভাব হইলেও, তাহা চিরকালই হৃদয়-মধ্যে যত্বুপুর্ববক নিহিত রাখা বিধেয়

১৫। প্রায় সকল বিধিরই প্ছল-বিশেষে সঙ্কোচ করিতে হয়। সৌহৃঘ্যের বিভেদ হইলেও) স্ুহৃজ্ডঞনের গুহা বিষয় প্রকাশ করা নিতান্ত নিষিদ্ধ, তাহার সন্দেহ নাই কিন্তু একটি স্থলে উহা নিষিদ্ধ বলিয়া উল্লেখ করা যায় না। যদি তিনি দ্বে-পরবশ হইয়া, মিথ্যাপবাদ দিয়া, আমাদের নির্দোষ চরিত্রকে দুষিত বলিয়া প্রচার করিতে প্রবৃত্ত টন, আর তীহার পুর্বব-কথিত কোন গোপনীয় বিষয় ব্যক্ত না করিলে, সে দৌষে উদ্ধার পাইবার সম্ভাবন! না থাকে, তাহা হইলে, সে বিষয় প্রকাশ করা কদাচ অবৈধ বলিয়া অঙ্গীকার করা যায়না তিনি যখন অনর্থক অপবাদ দিয়া, আমাদের অকলক্কিত চরিত্রকে কলঙ্কিতবশ প্রতীয়মান করিতে উদ্যত হইলেন, তখন বলিতে হইবে, আমরা যে তাহার পুর্বব-কথিত গুপ্ত বিষয় গোপন রাখিব, তিনি আর এরূপ প্রত্যাশা করেন না।

১৬। এতঃনৃশ সুহৃন্তেদ সমধিক যন্ত্রণার বিষয় কিন্তু অনেকের বন্ধুত্ব ইহ৷ অর্োক্ষাও স্থায়ী স্থুখকর হইয়া থাকে জীবনান্ত- ব্যতিরেকে ত'ঝুু্দের সৌহঘ্ব-ভাবের অন্ত হয় না। স্ুহত্তাগ্যশালী

৩২ দীপিকা

উভয় মিত্রের মধ্যে একজন যদি রিবপাকবশতঃ প্রাণত পত্যাগ করেন, তাহা হইলে, অন্য জন তখনও একেবারে নিষ্কৃতি পাইতে পারেন না, এবং নিষ্কৃতি পাইতে বাসনাও করেন না। তিনি মিত্রের শোকে বিমুগ্ধ হইয়! অশ্রা-জলে বক্ষঃস্থল প্লাবিত করিলেও, সে জলে তার্বার হুদয়স্থিত গ্রীতির চিহ্ন প্রক্ষালিত হয় না। তিনি বন্ধুর দেহ দীপ্ত চিতায় দগ্ধ হইতে দেখিলেও, সে বন্ধুর কথনোম্মুখ মনোহর মুক্তি তাহার চিত্তপথ হইতে অপনীত হয় না। তিনি অতি ছুঃসহ শোক-সন্তাপে সন্তপ্ত হইলেও তীভার অন্তঃকরণের প্রেমের শঙ্কর কদাঁচ দগ্ধ হইয়া ভল্মীভূত হয় না। বন্ধুর মান, বন্ধুর বশ বন্ধুর পরিজন, তখন তাহার প্রীতি স্সেহ অধিকার করিয়া থাকে তিনি মৃত বন্ধুর পরিবার দেশীন্তরনিবাপী অচ্ছাতকুলশীল বাক্তির পরিবার, এই উভয়ের প্রতি কদা সমান ভাব প্রকাশ করিতে পারেন না। তিনি অপরিচিত ব্যক্তির দুরবস্থার বিষয় শুনিয়া যেমন্‌ উদাসীন থাকেন, মৃত বন্ধুর সন্তানের বিপৎ-পতনের সমাচার শুনিয়া, সেরূপ উদাসীন থাকিতে কদীচ সমর্থ হন না। মুত বন্ধুকে স্মরণ রাখা, তাহার সবৃগুণসঘূত চার €ন করিয়া তদীয় যশঃ-শশধর বিমল রাখিতে চেষ্টা পাওয়া এবং তাহার পরিজনবর্গের প্রতি অনুরক্ত থাকিয়া, তাহাদের প্রতি সৌজন্য কারুণ্যভাব প্রকাশ করা সর্ববতোভাবে বিধেয়

10 _ উপমন্যু আরুণি বেদ

কালীপ্রসন্ন সিংহ

আয়োদ-ধৌমা নামক এক খষি ছিলেন। উপমন্থা, আরুণি বেদ নামে তীহার তিনটি শিষ্য ছিল। তিনি একদিন পাথশলদেশীয় আরুণি নামক শিষ্যকে আহবান করিয়া ক্ষেত্রের আলি বীধিতে অনুমতি করিলেন আরুণি উপাধ্যায়ের উপদেশক্রমে ক্ষেত্রে গমন করিয়া অশেষ র্লেশ স্বীকার করিয়াও পরিশেষে আলি বাঁধিতে অশক্ত হইলেন অগতা তথায় শয়ন করিয়া! জলনির্গম নিবারণ করিলেন। উপাধ্যা় আয়োদ-ধৌমা শিষ্যগণকে জিজ্ঞাসিলেন, পাঞ্চালদেশীয় আরুণি কোথায় গিয়াচে। তাহারা কহিল, ভগবন! আপনি তাহাকে ক্ষেত্রের আলি বাঁধিতে প্রেরণ করিয়াছেন তাহা বণ করিয়। উপাধ্যায় কহিলেন, যথায়