স্বরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

গে গিশগ উট «০৮?

জজ ওভটিতততা১৩ * শন নন

এঞ্খস সংস্করণ _ ভাজ, ১৩৫৯ ঞ্রকাশক্া- উীশতীজ্লনান্থ মুশ্বোপাখ্যায বেক্ষল পাবলিশাস+,

১৬. বক্ফিম ভাটুজ্জে জ্রীট, ক্লৈকাভা-১২

প্রচ্ছদ পট প্র কক্সনা__-

আগ বন্দ্যোপাধ্যাকস মুক্সাকর- জী কাতিকভজ্দঞ পাশ? সুজ লী

১» কৈলাস বোস স্ত্রীট, কক

বাথধাই---বেজল বাইশ্াস”

ভুই উকি বাত আজ!

শীতের বিকেলে পশ্চিম আকাশের সি'ছুরে আভা পড়েছে ধান শীষের ওপর মাঠখান। যেন সি"দুর মেখে লাল হয়ে আছে ক্ষেতের সীমানার সামনে মাঝারি জলায় কাচের পাতের মত জলে যেন আগুনের আভা | ছু*তিনটে ভোবো-নৌকার গলুইয়ের ওপর মাছরাগী আব ন্বাইফ ছু*চারটে গু পেতে আছে। কানাই হাটুজলে নেমে ডোবাট। পার হচ্ছিল-_পাখী কট] ওর পায়ের শব্দে উড়ে গিয়ে বসল কাছাকাছি একটা বেত ঝোপের সামনে।

কানাই প্রায় কোমরের কাছাকাছি কাপড় তুলে জলাট। পার হয়ে পৌছল লোচন পণ্ডিতের বাড়ী চন্দনডাঙায়। চারিদ্রিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে আবছ। অন্ধকাপ্ে দোরের কাছে গিয়ে গল! চেপে ডাকল, _পণ্তিতমশাই ঘরে আছো ?

কানাইর়ের পিছু পিছু আগাগোড়া একটি ছায়ামৃণ্তি তাকে অন্ুরণ করছিল। কানাই যখন পিছু তাকিয়েছিল, ছায়ামৃতিটা তখন একটি লিচু গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছিল কানাই পণ্ডিতমশাইকে ডাকব।র সঙ্গে সঙ্গে ছায়' মত মানুষটির হাতে ঝক্ঝক্‌ করে উঠল এক বিঘত চওড়া একখান। টাঙি। ল্চুগাছের আড়ালে থেকে ঘুরিয়ে টাঁঙ্টা৷ ছাড়ল কানাইকে লক্ষ্য করে।

লক্ষ্য একটু ভূল হয়ে গেল। বন্বন্‌ করে ঘুরতে ঘুরতে টাঙিখানা কানাইয়ের গর্দানের বদলে পায়ের মাংস খানিকট] কেটে নিয়ে পড়ল পণ্ডিতমশাইয়ের বাড়ীর বেড়ার পাশে

" _-ওরে বাবারে-_বাবা গো- বলতে ব্লতে রোগ! বেঁটে কানা ইচরণ পণ্তিতের

বাড়ীর ভেতরে ঢুকে পড়ল হুড়মূড় করে। ছায্রামৃতিটি বেড়ার কাছে এসে ক্লীতিধান কুড়িয়ে নিয়ে মুহূত্তে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে জলা ওপারে

( চন্দন ডাঙার হাট )---১

কানাই ততক্ষণে পণ্ডিতমশাইয়ের ঘরে শুয়ে পড়ে হাপাচ্ছে। লোচন পণ্ডিত তার গৃহিণী চন্দ্রা ছুটতে ছুটতে এল,_কি হোল, কি হোল রে কানাই?

__মরে গেছি পণ্ডিতমশাই | শালার! মেরে ফেলেছে।

--কে মারলে রে, কোথায়? পণ্ডিত সুতো বাধ! চশমা পরে দেখতে চেষ্টা করে। চন্দ্রা হারিকেন তুলে তার আগেই দেখে টেচিয়ে ওঠে৮_ও মাগো! রক্তে যে ভেসে যাচ্ছে গা।

কানাইচরণের পায়ের গুলির এক খাবলা মাংস নেই।

লোচন পণ্ডিত দেখে বসে পড়ল। রক্তের দিকে পেছন করে বলল গৃহিণীকে”_ এক গ্লাস জল দাও দিকি

চন্দ্রা আচল কোমরে এটে পণ্ডিতকে ঘর থেকে বার করে দেয়৮_তুমি বাইরে যাও

ঘরের পাশে গ্যাদা গাছের পাতা ছি'ড়ে আনে একমুঠো পাতা থেতো' করে কাটা জায়গাটায় লাগিয়ে বেঁধে দেয় ছেঁড়া ন্যাকড়া দিয়ে। একটু পরেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায়।

চন্দ্রা রান্নাঘরে গিয়ে একটু ছুধ গরম করে এনে কানাইকে দেয়” আর গেলাস নিয়ে যায় স্বামীর কাছে পণ্ডিত দক্ষিণের ধরে গিয়ে খাটের ওপর চিৎ হয়ে পড়ে হাপাচ্ছে।

--কই ওঠ।

পণ্ডিত চোখ খোলে, __এঁঢা, বেঁচে আছে ত'?

- স্্যাগো, হ্যা, নাও এই দুধটুকু খেয়ে নাও

পণ্ডিত উঠে দুধ খেয়ে নেয় এক চুমুকে আস্তে আস্তে উঠে :কানাই যে ঘরে ছিল সেই ঘরে আসে।

ছুধ খেয়ে কানাই তখন উঠে বসেছে

--কি ব্যাপার বল দিকি? --পত্তিত গলার জোর পায় যেন। কানাইয়ের গলা কাদোকাদো, -ইতামাকে বাচাতে গিয়ে আমার এই দশা।

পণ্ডিত সাহস পেয়েছে,_থাক্‌ আর হ্যাকাঁবোক1 সাজতে হবে না। খুলে বলো কি ব্যাপার ! কানাই বলে”_-ওই শালারা। ওই যে গো একরামপুরের জোলারাঃ-_- শালারা গুপীমুরুব্বির ঘরে জমায়েত হয়েছিল» আজ বিকেলে আমি ত' সেখানে ছেলুম। ওর] সব শালা বলেছে তোমার রক্ত দিয়ে তাত মালিস করবে-_ যদি তুমি পশ্তিত চমকে উঠল একবার মুখখানা সাদ! হয়ে গেল, পরমূহূর্তেই বললে, _ও! অমনি খুন করলেই হোল কিনা দোষ আর কারু নেই। ধর্ম নেই! কালই আমি বাবুকে বলে সব শালাকে বাশ-ডলা কোরব। কে বলেছে একথা? __-ওই পেল্লাদ ব্যাটাই আগে বলেছে। _কে পেল্লাদ! বাবুর আটকঘর কখনও দেখেনি, আচ্ছ ! কানাই আবার কাদো-কাদে! হয়ে বলে তবে আমার কি হবে পণ্ডিতমশাই। বেরোলেই এক কোপে সাবাড় করে দেবে। ওর! যে টের পেয়েছে আমি তোমাকে খবর দিতে এসেছি। -_-তোর ভয় নেই। আজ রাতেই এই ঘরেই থাক। কাল সকালে জমীদার বাড়ী যাব তোকে নিয়ে। পণ্ডিত ঘর থেকে বেরিয়ে আসে চন্দ্রা সব শুনেছে পণ্ডিত ঘরে আসতেই বলে, তুমি 'কি এই নিয়ে বাবুদের কাছে নালিস করতে যাবে নাকি? _ নিশ্চয়ই! ছোটলোক হারামজাদার1 কি মাথায় উঠে নাচবে ভেবেছে? ওদের দেখিয়ে দোব__লোচন পণ্ডিতের বেন্ম-তেজ নষ্ট হয়নি ন্দ্র। মুখ টিপে হাসে” __খুব বেন্ম-তেজ দেখাচ্ছ ত'? তোমারই দোষ --আমার? কেন, আমার কি দোষ? .-আবার কেন বলছ? গরীব জোলাদের ঠকিয়ে নিজে পয়সা করবে ভাবছ আর তোমার দোষ নয়? কোম্পানীর কাজ করা তোমার চলবে না, কাজ ছেড়ে দাও। সদরে দাদাকে আমি আমি লিখে দিচ্ছি-_তোমার কাজ বন্ধ করতে।

__দেখো। বেশী চটিয়ে। না বলছি। তোমার দাদা আমার কল! করবে। সায়েবের সঙ্গে আমার দেখা সাক্ষাত হয়ে গেছে

ছিতীয় পক্ষের স্ত্রী চন্দ্রা মুখ ভার করে বলে” _তুমি বাবুদের বাড়ী নালিশ জানাতে পারবে না।

লোঁচন পণ্ডিতের দ্বিতীয় পক্ষের স্বন্দরী গৃহিনী বেশী চটাতেও চায় না|

একটু মোলায়েম করে বলে চন্দ্রা-_বেশ, যা কোরছ কবো। কিস্ত তোমার ভাল হবে না এতে

__ আচ্ছা, আচ্ছা, সে আমি বুঝবখন। একটা পান সাজ দ্িকি।-_ পণ্ডিত হাসতে ০েষ্টা করে।

উদ্দায়ন্তের ঘুণিপাকে একরামপুরের দেডশ তাতের মাকুর একটান| শব্দ আজ যেন মন্থর হয়ে এসেছে। তিনশ নলীব স্থতো বুঝি ক্রমাগত ফুবিবে আসছে মাকুর চালনায়। সব স্থতে। ধীরে ধীরে ঘন বনান্তে মিশে যাচ্ছে তাজ কন্কা, কাল! ভোমর], ফুলঝুম্‌কো। অথব। আয়নাখুপী সাডীর জমীনে। তবু অন্য দিনের মত তাতের বগুলো তেমন ওঠানামা! করে না। মাকুর খটাখট, শব্ধ কমে আসে যেন।

কানাকাঁনি চলেছে সবত্র। আতংকের কানাকানি। এবার বুঝি সব গেল। হাটে কাপড় বেচতে পাবে না তাতিরা। জমিদারের হুকুম।

কিন্ত হুকুম দিলেই ত” হোল না। কতধুগ ধরে তার1 এই হাটে বিক্রি করে আসছে এখনকার জমিদার বাবুর উর্ধতন চতুর্দশ পুরুষ তাদের খাতির করে হাটে বসিয়েছে আজ এককথায় বিক্রি করতে দোব ন। বললেই হোলি?

তারা নালিস জানাবে, কিন্তু কার কাছেই বা নালিস জানাবে। শোনা যায় কোম্পানীর হুকুমই তামিল করেছে জমীদার মোটা অংকের নজরানার বিনিময়ে।

থাকত নবাব বাহাদুর! ছখানা নয়নস্থখ রোমাল আর একখানা মলমল ভেট নিয়ে তার সঙ্গে গিয়ে দেখা করলে সায়েস্তা হয়ে যেত জমীদার

একরামপুরের জোলার! ত, আজকের মানুষ নয়। ওই যে সড়কের ওপর চন্দন ডাঙার পশ্চিম সীমানায় বট গাছট1। ওটার বয়েস আর তাঁতিদের বসতি সমান সমান। প্রায় আড়াইশ” বছর হয়ে গেল। বট গাছটিকে তাইত ওরা দেবতার সম্মান দেয়। ব্ছরের প্রথমে চার জোড়! চৌখুগী সাড়ী সিছুর মাখিয়ে পুজে। হ--বট আর পাকুড়ের। বলি হয় ভেড়া আর পাঁগ। চার ঢোলের বাজনায় ক্ষেতের দিগন্ত পর্যন্ত বাতাপ কাপে আর শোনা যায় চীৎকার। জোয়ান জোলাদের চীৎকার, বৌ-ঝিদের উলু। তেলে আর সি'ছুরে বটের গোড়াটা রক্তবর্ণ হযে ওঠে সে তেলসি'ছুর একবছরের বর্ষায় গরমেও ধুয়ে যায় না।

একরানমপুসৈ স্ধবা! বিধবা সব মেয়েরাই প্রায় সুতো কাটে,__১রকায়, টেকোয়। এদের ভেতর সের! কাটুনী নীরজীবালা। এক তোল! স্থতো৷ কাটতে ভাব ছুদিনের বেণী লাগে না। শুধু কি তাই, বাইশ বহরে এই বিধবা নীরুকে পাড়ায় ভয় করে না, এমন মান্য নেই বললেই চলে। হাতে স্থুতো৷ কাটে আর সুখে কট কটানী--ছুটে। সমান বেগে চলে অনেক সময় ঝগড়া করবার জন্যে তাকে ডেকে নিয়ে যায় অনেক মুখচোরা বধুরা। নীরজাবালার সংসারে কেউ নেই এক অপদার্থ ভাই ছাড়1। ভাই গাবুকে দিয়ে কোন কাজ হবার জো? নেই। একরকম করতে বললে সে আর এক রকম করবেই। নীরজাবাসার স্থতো কাট] রোজগারেই তাকে খেতে হয়। টাকায় তিন তোল! স্থতো বেচে সংসার বেশ চলে যায় নীরুর। শুধুকি নীরুর? একরামপুরের আশে পাশে গায়েরও অনেক অনাথ বিধবার দিন চলে স্থতো! কেটে

তুলো! বেচতে আসে ব্যাপারীরা হাটে। হাট থেকে কিনিয়ে আনে সবাই। নীরু কিনিয়ে আনে প্রহ্লাদকে দিয়ে। প্রহ্লাদ জোলা থাকে নীরু কাটুনীর ঘরের পাশে। নীরু. ওকে ছু'চক্ষে দেখতে পারেনা, তবু গ্রহলাদ ওকে ছু! চোখ ভরে দেখতে চায়!

একরামপুরের জোলাদের মোড়ল গুপীনাথ বিপত্বীক। ভাইয়ের বউ ছেলেপুলে নিয়ে তার সংসার। ভাই নেই। ভাইয়ের ছু ছেলে মাধাই আর গদাই। গদ্াই মাধাই ছুজনই মোটা-_বুদ্ধিও মোটা তাত টানতে টানতেই কোন মময় ঘুমিয়ে পড়ে নিজেরাই টের পায় না। পাশের বাডীর টুকু এসে নাকে খড়কে দিলে, তবে হাচি,চক্ষু উন্মীলন,_জাগরণ। টুকুকে দেখে গদাইয়ের চোখ ছুটো৷ হাচি খেয়েও ভিজে আসে। টুকু কিন্ত হাসতে হাসতে পালাষ_ মাসীগো, বলতে বলতে গদাই মাধাইয়ের বিধবা! মায়ের কাছে।

গদাই পাশের তাতে দেখে মাধাই নেই। দাবা! পিটতে গেছে কানাইযের ৰাড়ী। সেই রোগ! বেটে কানাই। গদাই একটু হাই তুলে চটাপট ছুটে! তুঁড়ি মেরে কানাইয়ের বাড়ীর দিকে এলো। কানাইয়ের বউ আজ কাঠাল খাওয়াবে--সঙ্গে ক্ষীর আর মুভি। কানাই মান্ুযট1 বড ভাল। গদাই বড ভালবাসে ওকে__মাধাইও | কিন্তু জ্যাঠ' গুগীনাথ ওকে ছু” চক্ষে দেখতে পারে না। গুগীনাথ কয়েকবার ওদের সাবধান করে দিয়েছে-_ছোডাট। ভাল নয, মিশো! না ওর সঙ্গে।

তাতিদের বিপদে আপদে গুপীনাথ বুক পেতে দেয়__বুকে জডিযে ধরে কোন তাঁতিকে তার সাফল্যে। বলে, এরা ছাডা আর আমার কে অই? জীবন এদের জন্যেই__মৃত্যুও। জমীদার, ব্যাপারী, বাবু চাষী সকলেব সঙ্গেই গুপীনাথ কথা বলবে তাতিদের তরফ থেকে | সে যা বলবে__তাই হবে। একটু নডচড হবার উপায় নেই।

মোডল গুগীনাথের একট। কথায দেডশ তেলেপাকা লাঠি নিষে সামনে ঈাড়াবে দেডশ ঘব তাতি। তার একটা কথায় তাতের মাটির বেদী প্রণাম করে বুনে দিতে পারবে কুডি গণ্ড। কাপড়। আবার দিনের পর দিন তাত বন্ধ ঝরে বসে থাকতেও পারবে তার একটা হুকুমে গুপীনাথ যেন ওদের রাজ1। গুপীনাথ কিন্ত ভাবে সে তাদের চাকর। প্রতিদিন দুপুরে সন্ধ্যায় ছুবার টহল দিয়ে' আসে সমস্ত গ্রামূটা, একটা ছোট মোটা লাঠি হাতে নিয়ে। কোথায় কার বিপদ। কোথাক্ম কে খেতে পেলে না, কে কোথায় অস্থথে পড়েছে,

সব খোজ নিয়ে বাড়ী এসে ভাত খায়। তার আগে জলগ্রহণ করবে না সে। এমনি করেই চুয়াক্নটা বছর কেটে গেছে তার।

কিন্ত আজ? আজ পাশশু মুখে সেও বুঝি ছুঃস্বপ্র দেখে চমকে উঠছে-_” মাটির বেদী যেন ভেঙে পড়ছে গুড়ো গু'ড়ো হয়ে বালির প্রাসাদের মত, মাকুর, লোহা বাধান ধারালে! কোন দুটোয় বুঝিবা মরচে ধরে গেল। এও কি সম্ভব। গুপীনাথের ঘোলাটে চোখ ছুটো স্তিমিত হয়ে আসে আজকে সবাই আসবে তার বাড়ী এখনি একটা ব্যবস্থা এর করতেই হবে।

সবাই এলো ঠিকই | সবাই। এমন কি নীরু পর্যযস্ত ঘরের দরজার আড়ালে গুগীনাথের গলা কাপে বলে সকলের সামন্৮তোরা ত" জানিস, জমীদারবাবু হাটে কাপড় বেচতে দেবে না আমাদের চন্দনভাঙার কাছাকাছ আর কোন হাটও আমাদের নেই। থাকলেও গাড়ী ভাড়া করে সেখানে কাপড় নিয়ে গিয়ে কাপড বেচে খরচা উঠবে না। ধরনা, যদি সনকাপুরের হাটেই যাওয়া যায়। সেত কম দুর নয়৮_-কি বলিস?

গুগীনাথ থামে-_স্তিমিত চোখ মাটার দিকে রেখে।

বলে মনোহর গুপীনাথের পরই তার মান্য তাই সে বলে” -সনকাপুরের হাট! সেত প্রায় সাত আট কোশ হবে! তাছাড়া অত কাপড় বয়ে নেবার গাডীঘোড়া কই। ব্যাপাবীরা আমাদের কাছ থেকে কিনে ঘোডার পিঠে বন্তা নিয়ে যায় দেশবিদেশে অত ঘে|ড়1! আমরা পাব কোথায়। সে হবে না।

তবে? -গুপীনাথ একটু থেমে বলে, লোচন পণ্ডিতকে সথ কাপড় বীধা দামে বেচতে হবে জমিদারবাবুর হুকুম

কত দরে? একটু আস্তে বলে প্রহ্লাদ।

আমর ষে দরে বেচি তার অর্ধেক দরে ছুটাকা আট আনা দরে চাদর ধুতি আর ছুটাকা দশ আন দরে শাড়ী ! চৌরঙ্গী, তাসখুপী, খড়কেমুটি এসব শাড়ী অবিশ্তি তিন টাকা বার আনায় মলমল মসলীন দশ টাকা দরে দিতে হবে।

সবাই বিস্ময়ে অন্ফুট শব্ধ করে ওঠে

মনোহর বলে” দরে আমরা পারব না।

গজ

-স্ডবে ক্করবি ফি? দিতে হবে। রাজার ছকুম !

সবাই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। কোন পথ দেখতে পায় না সামনে।

মনোহর বলে ধীরে ধীরে” লোচনপণ্ডিত সে কাপড় নিয়ে কোথায় বেচবে?

গুপীনাথ চিন্তিত হয়ে বলে,__তাঁইত বুঝতে পারলুম না তবে শুনলুম লোচনপপ্ডিত কোম্পানীকে দেবে, আর কোম্পানী সাতসমুদ্ধুর তেবনদী পার করে পরীর দেশে চালান করবে মলমল, মস্লীন থান।

পরীর দেশে! আবার বি্ময়।

হ্যা, পরীর দেশে সেখানকার কিছু মানুষ এখানে এসেছে দেখে এসেছে প্রহমাদ সদর থেকে সবাই প্রহনাদের দিকে তাকায়

প্রহলাদ অত লোকের সামনে ভাল করে কথা বলতে পাবে না; তবু বলতে চেষ্টা করে, উঃ-_-সে কি গায়ের রঙ-_ছুধে আলতা! ! কি চেহারা! ইরে বাপ. ! সে একেবারে যেন ইয়ে_-!

নীরু একটা পান গালে দিয়ে দোরের পাশ থেকে আব একটু বেরিষে আসতে চায়, প্রহ্লাদের কাহিনী শুনতে। প্রহলাদের লঙ্গে চোখাচোখি হতেই ঠোঁট উল্টে তাচ্ছিল্য করে চলে যায় আবার অন্দরে

গুপীনাথ বলে”_-তবে কি করবি তোরা-_-বল !

ভোজবাজীওল। খোঁড। নীলকেন্ই কিছু বলতে এগোয় এবার তন্ত্রমন্ত্ ঝাড়ফু'ক/কোন জিনিষ ফুস্‌ মন্তর ফুস্‌ করে উডিয়ে দেয়া, আর ছুটো থানকে আটট' থান করা! যখন তখন মুরগীর ডিম পাড়িয়ে দেয়া, এসবে নীলকেন্ত ভোজরাজের সমকক্ষ লোকে বলে, ভোজরাজ ব্বয়ং নাকি ওকে স্বপ্নে ভোজবাজী শিখিয়েছেন। নীলকেইও তাই বলতে চায়। মিটিমিটি হেসে খোঁড়া পা*টা একটু নেংচে হাত উঠিয়ে বল্পে, জয় ভোজরাজের জয়! খোঁড়া নীলকেষ্ও কাপড় বোনে, আবার ঘরকাব ছলে বাটা চালান, ভূতগ্ুদ্ধি করে ঘরের চারপাশে সরযেপড়া! ছড়িয়ে দিয়েও ছু'পয়লা পায়।

নীলকেন্ট ন্তাংচাতে ম্কাংচাতে এসে যেন দম নিয়ে বলে একটা কাজ করতে পারলে সব ঠিক হয়ে ষা়।

সবাই জিজ্ঞাস চোখে তাকায় ওর দিকে

বলে” _পপ্তিতকে শেষ করে দিন।

সবাই আর একবার চমকে চারিদিকে তাকিয়ে নেষ_বাইরের লোক কেউ নেই ত?

মনোহর ধীরকষ্ঠে বলে” আমাদের যে ভাবে মারবার চেষ্টা করছে, তাকে আমরা জ্যান্ত রাখব না-_-আমারও তাই মত।

সবাই ক্রমে সপ্তমে ওঠে,_ওর রক্তে আমাদের তাত ধুয়ে দোব।

গুপীনাথ প্রহ্লাদকে ইসারায় কাছে ডাকে সবাই বোঝে প্রহলাদের ওপরই ভার পডল। ওর স্থুগঠিত পেশীবহুল দেহখানার দিকে তাকিয়ে অনেকের চোখ টাটাঘ। গ্তপীনাথ কিন্তু সবচেষে ভালবাসে প্রহ্নাদকে।

রোগা বেঁটে কানাই সব শুনে সাদ! হয়ে যার়_শুধোয় গলায় জোব দিয়ে, তাহলে কি করে পণ্তিতকে ইয়ে-_ |

কথা শেষ কববার আগেই গুপীনাথেব বাগান্িত জলস্ত দৃষ্টির সামনে ওকে চুপ করে যেতে হয। গুপীনাথ বোধহয় একট] মতলব টেব পায়। প্রহলাদকে ডেকে কাণে কাণে কি কথ। বলে উঠে পডে আজ তোর ঘরে চলে যা যাঁ করবার আমিই এবার করব। সবাই ঘরের দিকে এগোয। কিন্তু বেটে কানাই এগোয় চন্দনভাঙার দিকে লোচন পণ্ডিতকে গ্রবব দ্িতে। কানাই লক্ষ্য করেনি যে প্রহলাদ একখান! টাডি হাতে নিষে ওর পেছনে ছায়ার মত অনুসরণ কবছে।

৯০.

কানাইকে নিয়ে লোচন পণ্ডিত তখনও জমিদারবাবুর কাছারীতে বসেই ছিন। বাহাক্গবাতির ঝাড় লঞ্ঠনের নীচে কাশ্রিরী কষ্কার কাজ কর ফরাস, মোটা মোটা গোট। ছয়েক তাকিয়া, প্রত্যেকটার ওপরেই জরীর বড় বড় পল্মের কাজ। ওপরে হাতটান। পাখা! আর নীচে মাছুর পাতা প্রজাদের বসবার স্থান মাছরের ওপরই বসেছিল পঙ্ডিতমশাই কানাইকে পাশে নিয়ে। জমিদারবাবু তখনও নীচে নামেনি। হয়ত বা ঘুমই ভাঙেমি ভররাত নবাবী বাঈজীর স্পুরনিকন আর লাল আপেলের মত গালের ওপর স্থর্মা আক! চোখের ইসার1; গজল আর কাওয়ালী সারেডী আর তানপুরা ; _হুইস্থির স্বতীত্র ঝাঁজ আর ঝাল মাংসের কাবাব ।-_বহুদিন ধরেই এই চলেছে রাতের পর রাত।

বহুদিন ধরেই এই হুইস্কি আর বাঈজীয়ের পিছনে ঢেলে দেবার মত টাকা জুটে যুচ্ছিল। সম্প্রতি টাকায় টান পড়ল। বাঈজী বললে, আমার ছোট বোনকে আনতে পারেন রাজপুতান। থেকে, ওখানকার মহারাজের পোস্ঠ হয়ে স্জছে।

জমিদার তথান্ত বললেও খাজাঞ্চির হিসাবে টাকায় কম পড়ে। আট হাজার লাগবে তাঁকে রাজপুতানার মহারাজের কবল্চ্যুত করতে। টাক। চাই-ই।

জমীদার হুকুম করে বসলেন আবার হুইস্কির বোতল নিয়ে।

এই স্থযোগের স্থব্যবহার করতে পারলো! কোম্পানীর গোমন্তা লোচন পণ্তিত। লোচন পণ্ডিতের সঙ্গে কোম্পানীর ডাট.সন্‌ সায়েবের সঙ্গে কথা পাকা হোল। একরামপুরের মলমল মস্লীন শাড়ী ধুতি কোম্পানীর গুদামে জম দিতে হবে, যত রূপেয়া লাগে এতে লাগ্ক।

মিঃ ভাট্সন্‌ চিঠি দিলো লোচন পঙ্ডিতের মারফত জমিদারকে, আপনার একরামপুরের পরাদের সব তের কাপড় সব আমাকে দিতে হবে, এজন্যে হাটে আপনি যে নজরানা পেতেন, তার ডবল নজরানা দিতে প্রস্তুত আছি। হাটে

১০

তাতিদ্দের কাছ থেকে আপনার মানিক নজরানা আদায়ের একটা! হিসাব যদি দেন, তবে তার দ্বিগুন টাকা পাঠিয়ে দিতে প্রস্তুত আছি।

লোচন পণ্ডিত বললে, _সায়েব, জমীদার যদি বানিয়ে একটা মোটা অস্কের মিথ্যা নজরানার কথা তোমাকে জানায়?

কোম্পানীর ঝাশ্ কর্মচারীদের অন্যতম মিঃ ডাট্সন্‌ কট1 গৌপের ফাক দিয়ে হলদে াত ছু; চারটে বার করে, বলে, মিথ্যে করে বাড়িয়ে লিখুক সেইটেই আমি চাই।

হোলও তাই জমীদার উত্তর দিলে-_পাঁচহাজার পাই আমি হাটে তাতিদের কাছ থেকে।

সত্যি সত্যিই আর পাঁচ হাজার টাকা পেতো না।

ভাট্সন্‌ দশ হাজার টাকা পাঠালে পণ্ডিতের সঙ্গে কোম্পানীর বন্দুকধারী দুজন সিপাই সঙ্গে দিয়ে।

জমীদারকে রসিদ দিতে হোল। চুক্তিপত্রে সই করতে হোল যে একরামপুরের তাতিদের সব কাপড়ই দিতে হবে কোম্পানীকে তাদের গোমস্তা লোচন পণ্ডিতের মারফত।

সই নিয়ে সিপাই সমেত লোচন চলে গেল।

একরামপুরের কপাল ভাঙল

রাজপুতান! থেকে এলে! সেই বাঈজী ভম্ী রূপযৌবনের আশ্চর্য রসসভার নিয়ে। আবার নতুন করে স্কুপুর বেজে উঠল সারেডী আর তবলাক়. তালে তালে। জমীদারবাবু রাতের পর রাত ডুবে গেল বাঈজীর যৌবন মাদলনা! চোখের গভীরে বোতলের পর বোতল হুইস্কি ফুরোল__-আবার এলো। আবার ফুরোল--আবার এলো কিন্তু একরামপুরের দেড়শ তাতির যে এশ্বর্য আজ চলে গেল। কি আর ফিরে আসবে !

আজও হুইন্বির নেশা! এখনও কাটেনি জমীদারবাবুর | পত্তিত বসেই আছে কানাইকে নিয়ে। বেলা অনেক হোল। প্রায় দ্বিপ্রহরে একবার দরবার কক্ষে আসবার সময় পেলে। জমীদার। মখমলের ওপর জরীর ফুলতোল! চটি পায়ে

১১

পাতলা ধুতি আর একট! ফতুয়া গায়ে। টুকটুকে লাল দোহার! চেহারা আয়ত চোখছুটোয় তখনও নেশার গোলাপী আভ। চলে যায়নি

লেচন পণ্ডিত দগ্ুবৎ হুয়ে উঠে বসে, কানাইও | জমিদারবাবু পপ্ডিতকে দেখে একটু মু হেসে গুধোয়”_কি খবর হে? সায়েব ভাল আছেন?

আজে হুজুর, ভাল আছেন। কিন্তু আমি যে মরে যাই হুজুর !

জমীদার চন্দ্রকাস্ত একট' তাকিয়! ঠেস দিয়ে বসে। আলবোলার নলটা পুক গোলাপী ঠোটে আলতো করে ছুয়ে প্রশ্ন করে কেন?

চোখের কোণছুটো মুছে পণ্ডিত গলাটাকে অকল্মাৎ কাদে কাদে। কবে ফেলে, কালকেইত হুজুর খুন করেছিল আমায় আর একটু হলে। আলটপকা কেনোর গায়ে আমার বদলে লাগল বলেই আজ গলাটা আস্ত দেখছেন। এই দেখুন হুজুর কেনোর পায়ের গুলীর মাংস একথাবা উপডে গেছে টাঙির ঘায়ে।

কানাই মুখনীচু ফেব্রিবাধা পা'ট1 বাড়িয়ে দেয়। জমীদার চন্দ্রকাস্ত আলবোলাব ধোয়া টানতে থাকে মুছু মহ ধোয়। আসে স্থবাসিত তাত্রকুটেব নাক মুখেব ফাকে ফাকে চন্দ্রকাস্তর ঈষৎ রক্তাভ চোখছুটো৷ আরও রাড হয়ে আসে। যদিও এরকম একটা কিছু আশা কর! গিয়েছিলো একরামপুবের দেডশ তাতিব অন্ন সংস্থানের আর শিল্পের মূলে দে যে আঘাত কবেছে, তাব প্রতি আঘান্ত যে আসবে তা সেজানত। কিন্তু লোচন পণ্ডতের ওপর সেটা আসবে ধারণা করতে পারেনি চন্দরকান্ত। তাতিদেরই বা কি দোষ। তারই বাঁকি দোষ। গহরজান বাঈকে তার চাই, তাই টাকা তার প্রয়োজন। তাতিদেরও তাত বীাচানো প্রয়োজন মৃহু মৃহ ধেশায়ার ফাকে হাসে জমীদার চন্দ্রকান্ত। অকম্মাৎ মনেব এক পর্দায় ভেসে ওঠে, দেড়শ তাতি আর তার মাঝখানে পিঙ্গল চক্ষু কুটিল খাস ইংরাজ বেনিয়। ডাটুসনের মুখখানা ভাট্সন্‌ পাইপটা ঠোটে ঠেকিয়ে হাসছে__ কুৎসিত হাসি।

পর্ডিতের কথ! কিছু কিছু কাণে যায় জমীদার চন্্রকাস্তর”_-ওরা সবাই শলা করেছে হুর আমার রক্তে তাত ধুয়ে ফেলবে। কেলো৷ সাক্ষী হুজুর'*.ওই গ্লোগীনাথ-_ওই শালাহ।

১৭

জমীদার চন্দ্রকান্ত আর একবার তাকায় পণ্ডিতের দিকে নীরবে।

__কিছু বিচার করবেন না হুজুর ? সায়েব ত”' আপনার হাতেই আমায় স'পে দিয়ে গেছে। সত্যিই ডাটপন্‌ লিখোঁছল, আমাদের গোম্তা শ্রীপন্মলোচন ভ্টর সঙ্গে তাতিদের অবশ্যন্তাবী সংঘর্ষে আশাকরি মাননীয় জমীদার মহাঁশয় আমাদের গোমস্তাকে রক্ষা করিবেন।

চুক্তিতে স্বার্মর আছে চন্দ্রকান্তর

চ্দ্রকান্ত বিনিদ্র রজনীর ক্লান্তি অনুভব করে অকন্মাৎ। একটা হাই তুলে বলে, _ভালকথ। লোচন, তুমি দিন পাচেক পরে একবার এসো সায়েবের কাছে আমার একটি চিঠি পৌছে দিতে হবে।

যে আজ্ঞে! পণ্তিত আর একবার অনুনয় করে __আমার একটা বিচার করে বিহিত করলেন ন! হুজুর?

চন্দ্রকান্ত গভীর স্বরে বলে”_-কি করতে হবে ?

লোচন পণ্ডিত স্পষ্ট বলেই ফেলে,__-ওদের যদি একটু শাসিয়ে দিতেন হুজুর !

চন্দ্রকান্ত কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থেকে বলে ওকে মেরেছে কে? কি নাম বললে?

_-পেহলাদ হুজুর- পেহলাদ !

খানসামাকে হুকুম হয়”_-ঘোষালকে ডেকে দাও

কিছুক্ষণের ভেতর খাজাঞ্চির ঘর থেকে প্রো প্রশান্ত অনস্ত ঘোষাল আমে। অনন্ত ঘোষাল জমীদারী দেখাশোনা করে থাকে চন্ত্রকান্ত 'ছকুম দেয়”৮_ একরামপুরের প্রহলাদ তাতিকে বেঁধে এনে কয়েদ করে রাগ্গো। পাঁচদিন পর ওদের মৌড়লকে আসতে বোল আমার কাছে

অনস্ত ঘোষাল তাকায় একবার লোচন পণ্ডিতের দিকে বেরিয়ে যায় তারপর পাইক পাঠাতে একরামপুরে | প্রহ্লাদ তাঁতিকে বেঁধে নিয়ে আসতে

* চন্দ্রনাথ ওঠে_যাবার সময় বলে যায় আর একবার প্ডিতকে,__পাচদিন পর এসে! বিচার হবে

চলে যায় চন্দ্রনাথ

১৩

পর্ডিত ছুকুঘে বিগলিত হয়ে কানাইকে নিয়ে বেরিয়ে আসে জমীদার গ্রাসাদ থেকে

কানাইয়ের মুখ কিন্তু শুকিয়ে কালো! হুয়ে গেছে, পণ্ডিতকে বলে, _ফিস্ত আমার যে আর পেরান থাকবে ন! পণ্ডিত মশাই?

স্কেন?

--এরপর কি আর একরামপুরে ইস্তিরি নিয়ে থাকতে পারব?

পণ্ডিত মুখিয়ে ওঠে, তবে বেটাছেলে হয়েছিলি কেন? নাকি কানন! কাদছিস্? কানাইও একটু চটে,_তুমি আর কি বুঝবে? পেহলাদকে কয়েদ করলে কি আর গায়ে থাকা যাবে। তুমি আছ চন্দনডাঙার জমিদার বাবুর অাওতায় !

__যাঁ, যা, বেশী বকবক করিসনি

কানাই নাছোড়বান্দা”__বলে, তোমার বাড়ীতে একখান। ঘর দাও। ইস্তিরিকে নিয়ে আসি।

পণ্ডিত হন্হন্‌ করে হাটে।_তার চেয়ে বলন। নাড়, দাও

কানাই পায়ের যন্ত্রনায় জোরে হাটতে পারে না। আস্তে আস্তে হাঁটতে হাটতে ক্রমে পিছিয়ে পড়ে।

সড়কের বটগাছের নীচে দাড়িয়ে অনেক্ষণ কি যেন ভাবে কানাই ক্বৌন্রতপ্ত সড়কের ধূলায় ওর চোথমুখ পুড়ে, যায় যেন। বটের তলায় ছুটে। বাচ্চা পাঠা লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করছে। সেখানে বসে পড়ে কানাই

সড়কের হুদিকে ক্ষেত। হলুদ সরষে ফুলের ওপর প্রথর রৌন্রের আভা পডে ক্ষেতখান! যেন তেজে জীবন্ত মনে হয়। তার ওপারে ধান ক্ষেতের ছোট ছোট সবুজ পাত/__তারও পরে কাদা আর জল, বিলের মত অনেকটা জমি, সীমানায় মন নিবিড় গাছের মেল! ত্বর্ণচাপাটি গা_-ওর 'ভেতর ছায়ায় লুকিয়ে আছে রোদ থেকে নিজেকে বাচিয়ে”-ওপরে আকাশ চকচকে কাচের মত মেঘহীন।

রঙে বসে জিরোয় কানাই। একটু দরে মাদার গাছে পাখীর বাসা ভাঙতে বেরিয়েছে ছুটে! নেংটিপর1 কালো ছেলে। বোধহয় কোন চাষীর ছেলে হবে। একটা ছেলের পায়ে ফুটেছে* মাদারের কাটা। আর একটা ছেলে কীটা বেঁধা

১৪

ছেলেটাকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে দেখায়, উই 'ডাল গাছের ওপর ঝুলছে প্রায় গোটা! ছয়েক বাবুইয়ের বাসা ভারী মজা ত'! খোঁড়াতে খোড়াতে ছেলেটা একট! ঢেলা ছোড়ে তাল গাছের মাথা তাক করে। বৃথা বেশদূর উঠল না। খানিক্ষণ বুখা চেষ্টা করে ছেলেছুটো চলে যায় ক্ষেতের আল ধরে।

কানাই এবার ওঠে কোন রকমে পা টেনে টেনে এগোতে থাকে ঠিক করেছে যাবে সিদে গুপীমোড়লের বাড়ী সব বলবে কেদে গুগীমোড়ল যদি বা একটু ইতভিউতি করে গদাই মাধাই ত” তাকে ভালবাসে ওর! তাকে বাচাতে পারবে যতটা সম্ভব দ্রুত হাঁটতে চেষ্টা করে কানাই

মোড়লের বাড়ী গিয়ে গ্রপীমোড়লের দেখা পায় না কানাই। মোটা গদাই ঝিমোচ্ছিল তাঁতের সামনে বসে। ওকে ডাকে কানাই

ভাই মরিচি |

চোখ ছুটো৷ কচলে গদাই একটু যেন বিস্মিত হয়েই বলে,_কেন কি হোল?

মারা পড়েছি ভাই বাঁচাও আমাকে ! মেধো কোথায়?

কানাইয়ের চোখমুখ দেখে, পায়ে ফোর দেখে গদাই ভড়কে ষায়। ঠঁচিয়ে মাধাইকে ডাকতে যায় কানাই বারণ করে, _টেঁচাসনি ভাই। ভেতরে গিয়ে ডেকে নে' আয়।

গদাই ভেতরে গিয়ে সগ্ধ ঘুম থেকে ওঠা৷ মাধাইকে ডেকে আনে কানাই বলে, ৮” আমার বাড়ী সব বলছি

গদাই আর মাধাই তক্ষুনী কানাইয়ের সঙ্গে ওর বাড়ীর দিকে চন্তল। কানাই জানে মোড়লের ভাইপো গদাই মাধাই সঙ্গে থাকলে গাঁয়ে কেউ তার গায়ে হাত তুলতে সাহ্‌স করবে না।

১৫

ঞ্

গ্রহলাদ্দ সকালে নিশ্চিন্ত যনে বসে বীখারী টেছে বাগানের বেড়। করছিল। কল! বাগানের বেড়া। ঘরের পিছনে দুটে৷ পেঁপেগাছ আর কলাগাছের একটি ঝাড উঠেছে। গতকাল কোথাকার ছুটো গরু এসে একটা কলাগাছ মুড়িয়ে খেয়ে নষ্ট করে দিয়ে গেছে। তাই আজ বেড়ার আয়োজন বাগানের পাশ দিয়েই সরু রাস্তা। রাস্তায় বসে বাকারীগুলে! ঠেঁছে পরিষ্কার করে জড় করে রাখছিল |

কাখে কলসী আর হাতে বালতী নিয়ে ইতিমধ্যেই নীরুর আবির্ভাব। নীকু গিয়েছিল পানাঘাটে। ম্বান সেরে, জল নিয়ে আসতে আসতে বাধ! পেলো প্রহলাদের সামনে সে রাস্তাট। জুড়ে বসে আছে।

কেমন বেআকেলে মানুষ গা! রাস্তা মেপে গতর জুডে বসেছে সরো।

প্রহলাদ চমকে ফিরে তাকায়, নীরু। চুল থেকে ফোটা ফোটা জল ঝরে পড়ছে নীরুর গালের ওপর ভিজে শাডী দোভাজ করে লেপটে ব্মাছে তার সর্বাংগে দেখতে খুব ভাল লাগে। ভাল ত' আজ থেকে লাগে না, বহুকাল আগে থে%কই ভাল লাগে।

গ্রহলাদ তখন একেবারেই ছেলেমানুষ আর নীরু এক ফোটা মেয়ে। পাশাপাশি ঘর। তাই তার আর নীরুর বাপ প্রায় ঠিক করেই রেখেছিল যে ওদেব বিষে দেবে। এমন নত কতই ঠিক থাকে ; কিন্তু বিয়ে ত” সকলের হয় না। নীরুরও হোল না। দৌষটা প্রহ্লাদের বাপেরই। নীরুর বাপ তাঁতি হয়েও তাত ছেডে জমীদার বাড়ী কাজ করে সংসাঁব চালাত এটা সইতে পারত না! প্রহ্নাদের বাবা। যে তীঁতি তাত ছাড়ে তার সমাজ ছাড়বারই ব! বাকী কি?

অতএব নীরুর বিয়ে হোল পাঁচ ছ” খানা গ্রাম পেরিয়ে এক হাভাতের ঘরে। কেউ নেই কুলে। শুধু এক ছেলেই আছে বলতে গেলে, সেও কাজ করত জমীদার

১৬

বাড়ীতেই। বিয়ের পর বছর না ঘুরতেই ছেলেটা মার! গেল__জর অতিসারে নীরু অভিভাবকহীন! হয়ে শ্বশুরবাড়ী আর রইল না। এল বাপের কাছে।

প্রহনাদের বাপও মারা! গেল। প্রহলাদের বিয়ে কর! আর হোল না। করলও না। , নীরু বিধবা হয়ে আসবার পর ছু'একজনের মুখে মুখে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল নীরুকে আবার বিয়ে করতে রাজী আছে। জোলাদের ঘরে এমন হামেশাই হয়ে থাকে কিন্তু নীরুর বাপ এবার শোধ নিলে- বললে, বিয়ে আর দেব না।

কালে কালে নীরুর বাপও মারা গেল। নীরু এক] পড়ল বাচ্চা গবেট ভাইটাকে নিয়ে কি করে খাওয়ায়? কিই বাকরে।

প্রহলাদই এলো! উপযাচক হয়ে। এক কাজ কর না! নীরু। স্থতো কাট তুই, বিক্রিকরে দেব আমি আমারই তাতে বটেশ্বরের দয়ায় অনেক স্থতে। লাগে। য1 টাক। পাবি তোদের চলে যাবে

নীরু অসহায় চোখ ছটো তুলে প্রহলাদের দিকে তাকায়, বাবা ত” তীতের কাজ করত না। চরক1 টেকো। পাব কোথায়?

আমি এনে দোব। তুই ভাবিসনি নীরু-_-অত বড় জোয়ান মরদ প্রহলাদের গলাট। একটু কেঁপে ওঠে নীরুর অসহায় দৃষ্টি সইতে পারে ন।

নীরু চোখ নীচু করে-_-টসটস করে জল পড়ে ওর চোখ দিয়ে।

প্রহনাদ দেখতে পারে না৷ শীরুর কান্না। নীরু গালাগাল করলে খুব ভাল লাগে ছোট বেলা থেকেই। কিন্তু কাদবে কেন? মহামুদ্কিলে পড়ে গেল প্রহলাদ। তাড়াতাড়ি পালাল সেখান থেকে পরদিন চরক1 টেকো তুলো৷ কিনে পৌছে দিলে নীরুর ঘরে

সেই থেকে নীরু স্থতো৷ কাটে এখন সে গ্রামের নামকরা কাটুনী। তার রোজগারে অতি সহজেই ভাইবোনের চলে যায়। উপরস্ত ছু'পয়সা জমাতেও পেরেছে ও।

গ্রহলাদ তবু আজও গালাগালি খায় নীরুর কাছে। ইচ্ছে করেই অনেকটা। নীরুর এই ঝগড়া করবার সময় হাত নাড়া, চোখ ডাগর করা, চুল খুলে পড়া, আচল খসে পড়া, এসব বড় ভাল লাগে তার। জাঁরি আনন্দ লাগে খুব প্রাণ

১৭ ( চন্দন ড।ঙার হাট )-২

খুলে হাসে। নীরু যত বকে) তত হাসে। যতক্ষণ না নীরু ওর একটা অতি ছুর্বল জায়গায় ঘা” দেয়, তুমি কি গায়ের জোরে আমায় ভয় দেখিয়ে কিছু করতে চাও?

কথাটা বড় বিশ্র। লাগে প্রহনাদের। ওর মুখখানা অকম্মাৎ শুকিয়ে যায়। জোর ' সে কখনও করেনি। গ্রামের আর সবাই হয়ত তার গায়ের জোরকে ভয় করতে পারে! কিন্তু তাই বলে নীরুও ভয় করবে সকলের মত ?

মনটা বড দমে যায়। জানে যে নীরু ওকে দ্বণা করে হয়ত বা। দেখতে কালো। কুৎলিৎ। নীকু স্থন্দর। তাকে ছোটবেলা থেকেই নীরু কালো! বলে রাগাত। ছোটবেলায় তাকে কালো বললেই নীরুর পিঠে কীল বসাত। নীরুও জেদী মেয়ে _-ও কালে! ছাড়া ওকে অন্ত নামে কিছুতেই ডাকত না। এখনও তাইই ডাকে।

তবু মে আজও ওকে দিনে একবার অন্তত না দেখলে থাকতে পারেনা। ওর ঘরে গেলে নীকু এখনও হয়ত বলে বসে” কালোর আবাব কি মতলব?

ভাষার হ্লেষটা সে বোকা হলেও ধরতে পারে। কিছুনা এমনি-_-বলতে বলতে মুখ কাচুমাচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে নিশ্চিত ভাবে আকু যাবে না, কিন্তু আবার যায়।

আজ ৰেশ জব হয়েছে নীরু। প্রহলাদ ওকে আর যেতে দেবে না। সরবে না রাত্ত। থেকে নীরুর চোখ মুখ কিন্তু রাঙ1 হয়ে ওঠে কাথে ঘড়া হাতে বালতী নিয়ে বে'কে দাড়িয়ে আবার বলে”_কই সরো। কালা'হাব! নাকি?

প্রহলাদ উত্তর ন! দিয়ে বাখারী টাছে।

বারে! কই! এবার কিন্ত টেচাব বলছি।

প্রহলাদ ওর রাঙ। মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে আবার কাজে মন দেয়।

নীরু ক্রমেই রাগতে থাকে”_কি তামাস। হচ্ছে নাকি? রাস্তায় বসে তামাসা / সত্যি চেচাব?

তবুনলে সরেনা।

১৮

আরও কিছুক্ষণ ঈীড়িয়ে থেকে নীরুর হাত ব্যথা হয়ে আসে, আমাকে কি গায়ে টিকতে দেবে না? তোমার জালায় কি ঘরছাড়া হবে৷ ?

প্রায় কেদে ফেলে নীরু, চিরটা কালই জালাচ্ছ! তমি মরলে আমি ঝাচি।

প্রহলাদ আহত হয়”_আমি মরলে তুই বাচিস নীরু?

নিশ্চয় বীচি। ভগবানের কাছে মানত করি তুমি মরো।

আর দ্বিরুক্তি না করে ওকে পথ ছেড়ে দেয়।

বেড় বাধা শেষ করে দ্ান করতে যাবে প্রহলাদ | তেল মেখে গামছা কাধে ফেলেছে ইতিমধ্যেই শোন! যায় জমীদারের পাইক বরকন্মাজের ডাক, _পেল্লাদ তাতি হাজির আছো? বাইরে এসে জমীদারের বরকন্দাজ দেখে মুখ ওর শুকিয়ে যায় মুহূর্তেই তবু কিছু বলবার আগেই দড়ি নিয়ে এগিয়ে আসে দুটো পাইক,_ তুই পেল্লাদ বসাক ?

আজে ?

ওর হাত ছুটো দড়ি দিয়ে বেঁধে বলে, চল রাজার হুকুম

ওর ঘাড়ে ছুটো ধাক্কা মারে জোরে পড়ে যেতে যেতে কি যেন বলতে যায়, বলতে পারে না। চারপাশে ভীত কৌতুহলী জনতা শিশুরা ভয়ে এগোয় ন1। নীরুও গোলমাল শুনে রান্না করতে করতে এসে পড়ে। এসেই দেখে প্রহলাদের ঘাড়ে ছুটে বেদম চড় মারলে ছুটে! জোয়ান গুপো৷ পাইক। বিম্ঝিম্‌ করে উঠল মাথাটা নীরুর। দাওয়ার ওপর বাশের খামটা ধরে গড়িয়ে না পড়লে হয়ত ব| পড়েই যেত

নিয়ে গেল ওর] ধরে। যাবার সময় সর্দার পাইক বলে গেল গুপানাথের বাড়ী, যে গুগীনাথকে ডেকেছে মহারাজ পাঁচদিন পরে তার কাছারীতে। পাঁচদিন পর শনিবার বিকেলে চলে গেল ওরা

একরামপুরে সেদিন যেন বিন। মেঘে বজ্রাঘাত হোল। থমথম্‌ করছে সমস্ত গ্রামথান।৷ আতংকে আর ভয়ে। কে জানে এর পর আরও কি হয়! কোন শব্ধ নেই। দেড়শ তাঁতের অবিরাম অর্কে্রার মত ধ্থনিও আর শোন! গেল না

১৪

সেদিন। গরু ভেড়া পাখীগুলোও যেন কিছু বিশ্মিত হোল, আতংকিত হোল অস্বাভাবিক ত্যক্ধতায়। একরামপুরের তাত ম্তব্ব-_এও কি সম্ভব?

সমস্ত দিনটাই শুয়ে রইল নীরু।

রান্ন। পড়ে রইল।

গবা কিছু খেল, শুধোল,-_দিদি খাবিনে?

না।

কেনরে দিদি?

নীরু ধমকে উঠল, যা মুখপোড়া, বেরে! আমার সামনে থেকে

বোকা গবা ব্যাপারটা ভাল করে না৷ বুঝলেও এটা বুঝল যে গুরুতর কিছু একটা হয়েছে এবং সেটা পেল্লাদদা”র জমীদার বাড়ী ধরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপার থেকেই।

দিন গড়িয়ে এলো পশ্চিমের আকাশে প্রহলাদ ফিরল না। তার অতিবৃদ্ধা মা! এলে নীরুর কাছে, এখনও পেল্লাদ এলে না কি হবে আমার ?

তাকেও ধমকে ওঠে নীরু, বুড়ী আবার এলো জালাতে। যাও সামনে থেকে যাও।

বৃদ্ধা ধীরে ধীরে চলে যায়। |

নীরুর চোখ বেয়ে জল পড়ে জাচলে। আচল মুখে চাপ দিয়েই শুয়ে আছে নীরুর চোখ জল কেউ কখনও দেখেনি আজও যেন দেখতে না পায়। সবচেয়ে লেগেছে নীরুর সকালে নিজেরই বলা! কথাটা। ভগবানের কাছে মানত করি তুমি মরে! সত্যিই যদি মরে যায়। মেরে ফেলে এর কালোকে তবে আর কেউ ওকে জালাতে আসবে না দিনের পর দিন। কিস্তুসে যে অসহৃ! ভাবতেই বুকের ভেতরট! ওর মোচড় দেয় যেন। ভগবান ওকে ফিরিয়ে এনে দাও

আরও একবার সে এমনি করে কেঁদে ডেকেছিলে! ভগবানকে এই প্রল্লাদ্দের জন্তেই-_-তখন ওরা খুব ছোট। দুপুরে লুকিয়ে গিয়েছিলো। জলার ধারে টিনের একটা ভোঙ। নিয়ে। জলার ঠিক মাঝখানটায় শালুক ফুল ফুটেছিলো৷ অনেক।

নীরু জেদ করেছিল তার শালুক ফুল চাই। বেশ চল--টিনের ভোঙাটা জলে একটু গভীরে নামিয়ে উঠল ছুজন। নীরু বললে- আমার ভয় করে। নামিয়ে দাও আমায়।

ভীতু কোথাকার ।-_নীরুকে নামিয়ে দিয়ে একাই উঠল প্রহলাদ। দুহাত দিয়ে নীচ হয়ে দুদিকে জল টেনে চলল কিছুদূর যেতেই টিনের হালকা৷ ভোঙাট! কাগজের নৌকার মত পট করে উল্টে গেল। ডোঙার নীচে ঢুকে গেল প্রহলাদ। যদিও সে একটু একটু হাত পা ছু'ড়ে সাতার কাটতে পারত। তবু আর ওঠে না। ক্রমশ নীরুর যেন দম বন্ধ হয়ে আনে। কাদতে কাদতে চেচায়__কালো৷ উঠে আয় কালো! কালে৷ আর ওঠে না।

এবার বাচ্চা! নীরু ভয়ে কাদতে থাকে ভগবান ওকে ফিরিয়ে দাও !

খানিক পরেই প্রহলাদ হাপাতে হাপাতে সীতরে চলে আসে। চোখছুটে! ওর রাঙা নীরু তখনও কাদছে। কিন্তু আশ্চর্য প্রহলাদ উঠে এসেই ওর গালে মারল তিনচারটে চড়, কাদ্রচিস কেন, ভীতু কোথাকার !

আজও যদি প্রল্লাদ এসে নীরুকে এখন ঠাস্ঠাস্‌ করে কয়েকটা চড় বসাত আর বলত, __কীদছিস কেন, ভীতু কোথাকার ! তাহলে-_-! নীরুর আচল আবার ভিজে ওঠে কি অপরাধ করেছে যে বেধে দিয়ে গেল ওকে হয়ত ওরা এতক্ষণ গ্রহলাদকে কিছুই খেতে দেয়নি সকাল থেকে খেটে খাবার আগে চান করতে 'যাবে। ঠিক সেই সময়ই মুখপোড়ারা ধরে নিয়ে গেল।

সন্ধ)া গড়িয়ে যায়। একরামপুরের ছোট ছোট দোকান কটায় আলো জলে। একট! মুদদীর দোকানের সামনেই জটলাটা হচ্ছে। ভোজরাজের বেটা নীলকেষ্ট একটু নেংচে উঠে বলে,-ও আমি জানতুম। ভোজরাজের মহিমেতে আমি জানতে পেরেছি-_এ মাসটা৷ পেল্লার্দের জিয়ন কাঠি মরণ কাঠি নিয়ে খেল! বিশ্বেস ন| হয় দেখিস।

দোকানী হাব! বলে _এত যদি তোর ভোজরাজের মুরোদ ত' দেনা লোচন পত্তিতকে একটা বাণ মেরে। বেটা দিন তিনেকে যাতে গলা দিয়ে রক্ত উঠে সাবাড় হয়ে যায়।

২১

নীলকেষ্ট চোখটা একটু নাচায়”_-পারিন| মনে কচ্ছিস? পারি কিন্ত পয়স! লাগবে। অন্তত ন'সিকে খরচা কে করবে বল?

হাব ন'সিকে খরচ গুনে একটু দমে বায় তবু কথার রেশটা ছাড়ে না, বলে”_ ন” পয়স। হয়ত দেখ, আমি এখনি দিচ্ছি।

গদাই এলে! ইতিমধ্যে,_-কি রে, বকর বকর কচ্ছিস?

হাবা বলে” ডাই ন'সিকে খরচা করতে হবে তোমার, লোচন পপ্ডিতকে বাণ মারা হবে।

গদাই এক গাল থুতু ফেলে মোটা হাতখান৷ হাবার ঘাভে রাখতে রাখতে বলে, --7ও বাবাঃ অত পয়সা কোথা পাব? পেল্লাদটার জন্যে মনটা ব্ড কেমন কচ্ছে।

-স্সেকিরে। তোর মনও আবার কেমন করে তা*লে? হাত নাবা ঘাড থেকে গদাই হাত নামায়।

দুর্গাকালী বিষগ্ন মুখে বলে, _পেল্লাদটাকে মেরে-টেরেই ফেলবে না কি কে জানে। একবার ত' গুনেছি একটা প্রজাকে বাবুদের বাডীব বাগানের পাঁচীলে ভেতরে জ্যান্ত গেঁথে দেয়! হয়েছিলো!

ছিলিম টেনেছিস ?-_গদাই মোটা হাসে।

হাসছিম মানে, পিসীমী গল্প করেছে। পিসেমশাইয়েব জ্যাগা মানে পিসীমার শ্বশুরকেই নাকি পুঁতে ফেলেছিলে! পাচীলের ভেতর। তার দোষের ভেতর দে নাকি বাবুদের বাড়ীর পাশে লাঠি কাধে করে যাচ্ছিল। সন্ধ্যার আবছ। অন্ধকারে বড়বাবু বেডাচ্ছিলেন বাগানে দেখতে পেয়ে বললেন,_ কেযায়?

পিসীমার শ্বশুর বুঝতে না পেরে ঠাট্রা করে বলেছিল-_তোর যম। ব্যস রাতে ধরে নিয়ে এসে বড়বাবু রাতা-রাতি পাঁচিলে ওকে গেঁথে ফেলবার হুকুম দিলেনণ ওর হাত পা বেঁধে মুখ বেঁধে পাঁচিলের মাঝখানে শুইয়ে চারপাশে ইট দিয়ে গেথে দিলে। বাপ? ভাবলেও কেমন গা” গোলায় যেন। পেল্লাদটাকেও আবার ধর্দি তেমন কিছু করে বসে যেমন কাঠগৌয়ার

১৬

গদাই পেটের অপ্রয়োজনীয় চবি দোলাতে দোলাতে হাসে,__কিছু হবে ন|। আটক ঘরে থাকবে। তারপর শনিবার দিন খুড়োমশাই যাবে বাবুর কাছে।

আটক ঘর ! নীলকেন্ট চমকে ছুপা” লেংচে পিছিয়ে যায় আর সবাই আশ্বস্ত হয় প্রলাদ মরবে না জেনে।

নীলকেষ্ট শুধু আর কথা কয় না। দু'দিন ওকে আটক ঘরে থাকতে হয়েছিল। জানে 'আটক ঘর' বস্তরটি কি?

প্রায়.বারে! বছর আগেকার কথা তখনও নীলকেষ্ট ভোঁজরাজের বরপুত্র হয়নি। তখন একবার হাটে হাত ফস্কে কেমন ধারা একজনের টশ্যাকের টাকায় হাতটা চলে গিয়েছিল। ভীড়ের চাপে টাকা কটা ওর হাতে চলেও আসত $ কিন্তু লোকটা টের পেয়ে হঠাৎ চেপে ধরলে ওকে তারপর কিছু প্রহারের পর হাটের গোমন্ত। নিয়ে গেল তাকে নায়েব মশায়ের কাছে।

নায়েব মশাই বিচার করে ওকে ছুর্দিন আটকঘরে রাখবার হুকুম দিলেন। ওকে নিয়ে গেল বরকন্দাজর! ধরে বাবুদের বাগানের ভেতর এক একতলা! ঘরের সারির কাছে। একটা ঘর খোলা! হোল ঘরটার ভেতর কি ছিল। কিছুই দেখতে পেলে! না নীলকেস্ট। শুধু একটা দুর্গন্ধ বদ্ধ বাতাসে ভেসে এলো৷। ঠেলে দিলে ওকে সেই ঘরে ওরে বাপ.। তারপর যে কিভাবে ওর ছুটো দিন গেছে সে ভগবান ছাড়। আর কেউ জানে না। ইটের দেয়াল কিন্তু মেঝে মাটির ঠাণ্ডা সাপের গায়ের মত। উচুতে একটা মোটে জানালা জামালার আলো মাটিতে নামে না। বন্ধ ঘরে সবচেয়ে সাংঘাতিক পচা ছুর্গন্ধ। ইছুর কিংবা ভাত পচা তাই বা কে জানে?

ঘণ্টা পশচেক পরে দুর্গন্ধকট1 সয়ে যায় কিন্ত তখন জালাতন করে কেঁচো আর কেন্নো। জীবন বেরিয়ে যায় যেন এদের গায়ে পায়ে বেয়ে ওঠবার স্ুড়স্থড়িতে আটকঘর-_মানে বর্তমান সংসারে নরক বলে যদি কিছু থাকে, তবে ওই আটকঘর। ওই ঘরে পেল্লাদকে পাঁচদিন থাকতে হবে !

ল্যাংচ! নীলকেষ্ট যেন ঘেমে ওঠে কাতিকের সন্ধ্যায়।

বলে, আজ চলিরে হাবা।

১৬৬,

নীলকেক্ট আকমশ্মিক ক্রতপায়ে চলে যায় সেখানে থেকে_আর সবাই কিছুক্ষণ থমকে থাকে একটু পরে গদাই চলে যায় বেঁটে কানাইয়ের বাডী। তামাক আর দাবা ছুটোই মজুত সেখানে

সন্ধ্যে উতরে গেছে। দাওয়ার পাশে একটা লোহার ছোট কডাইয়ে কাঠ জেলে আগুন করে পোয়াচ্ছে কানাই কাত্তিকের শেষে বাইবে বেশ হিম পডছে। হাতছুটি তাতিয়ে নিতে নিতে গভীর চিস্তায় নিমগ্র হয়ে কানাই তাকিয়ে আছে সামনে পেপে গাছটার দিকে নীল আকাশে শুরু! ত্রয়োদশীব টাদ দেখা গেছে তখন। কানাই একবার সে দিকে চোখ তুলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে

গদাই এসে হাজির কানাইকে চমকে দিয়ে বলে”_-কি পেপে গাছে ভূত দেখছ?

কানাই হাতটা! গুটিয়ে নিয়ে বলে” না, একটা কথা ভাবছিলুম। এসো.

এখানে নয়__গদাই বলে”_ঘরে চলো একচাল মাত কবে দিই চলে।। কি ভাবছিলে বলোত.?

কিছু নয়। ভাবছিলুম পণ্ডিত শালার কথ! শালা বামুন না হলে ঠিক লাথাতুম ধরে এমন হারামী বামুন কি করে হোল ভেবে অবাক লাগে।

গদাই শুধোয়-_কেন পণ্ডিত আবার কি করেছে?

কানাই রাগের বেশট! টেনেই বলে_কি করতে আর বাকী রেখেছে বলে! ? ধরো না আমিই ত' শালার জন্যে প্রাণ দিয়ে খাটলুম। শেষকালে কিনা আমায় বলে মরগে যা যেখানে খুসী। ভগবান কি নেই মনে কবেছে? ভাগ্যিস তুমি তোমার খুডোমশাইকে বলে আমায় বীচালে। নইলে ত' গা ছাড৷ হতে হোত।

গদাই মোডল গুপীনাথকে বলে কয়ে কানাইকে এবাবের মত ক্ষমা কবিয়েছে। গুগীনাথ কানায়ের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছে যে পণ্তিতের কাছে আর কখনও যাবে না। এই উপকারের উল্লেখে গদাই একগাল হেসে বলতে যায়»”_ কি আর করিচি এমন__

কানাই বিষন্সমুখে বলে” মনটা আজ বড় খারাপ। জানতুম পেল্লাদকে ধরে

১6

নিয়ে যাবে। কিস্তুকি সাজা দেবে কে জানে বড়বাবুর মেজাজ ত* ভাল মনে হোল না।

গদাই বলে, তুই ত' বললি পাঁচদিন পর ছেড়ে দেবে।

কানাই ভাবতে ভাবতে বলে”_-বোধ হয় না। চল এক চাল দাবা বসা যাক।

মোটা গদাই এতক্ষণে যেন একটু ভাবিত হয়ে পড়ে। প্রল্লাদকে সাজা। দেবে। কি সাজা কেমন সাজা বড়ই গোলমেলে ব্যাপার মনে হচ্ছে ওর। ওর সোজা মোটা বুদ্ধিতে অত ভাবতে ভাল লাগে না। তবে প্রল্লাদকে বড় ভালবাসে ওরা সবাই। তাই মনটা এতক্ষণে ওর বড় খারাপ লাগে বলে, বাড়ী যাই আজ।

বলে বাড়ীর দিকে এগোয়। কানাই তেমনি বসে থাকে আগ্তন পোয়াতে থাকে আর ভাবে। কানাইয়ের বউ থাকোমনি ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে প্ুধোস।__খেয়ে নেবে নাকি ?

তুই খেগে যা! ওর দিকে ন! তাকিয়েই বলে কানাই

থাকোমনি আবার গিয়ে ঘরে শুয়ে পড়ে। ঘুমোতে পেলে থাকোমনি স্বর্গ পায়। সকালে ভাতট! চড়িয়ে একটু ঘুম, দুপুরে চানটা করে একটু ঘুম, খেয়ে একটু ঘুম, সন্ধ্যায় রে'ধে একটু ঘুম-_রাত্রে ঘূম।

ফুলো ফুলো গালের চেয়েও ফুলো ফুলো ওর চোক। কানাহ ওকে মাঝে মাঝে ডাকে” _ঘুমস্তি !

থাকোমনি রাগে না, একটু ঘ! দিয়ে বলে” _ছ'বছরে কোলে একট] এলোনা, ঘুমোব না ত' কি তোমার পাশে গাটছড়া বেঁধে বসে থাকব?

ছয় বছরে কোলে একটা না আসার দোষও যেন সম্পূর্ণ কানাইয়ের। কানাই আর কথা বলতে পারে না থাকোমনি নিবিদ্বে ঘুমোয়।

গদাই বাড়ী এসে গুপীনাথের ঘরে যায়। গিয়ে শোনে সে তাত ঘরে বসে আছে। তাতঘর ত" অন্ধকার দেখে এলো! সে। তবু মা বলে, তোর খুড়ো তাত ঘরেই আছে। একটা আলো নিয়ে তাতঘরে এসে দেখে অন্ধকারে গ্ুপীনাথ বসে আছে। মুখটা যেন অস্বাভাবিক গম্ভীর তাঁতের “ব গুলো এক আধবার আঙুল দিয়ে নাড়ছে। মাটি লেপা বেদীটার ওপক্জ হাত বুলোচ্ছে হয়ত বা একবার।

গদাই কথা বলতে সাহস করে না আজ। একটু কেসে শব করে। কিন্ত '্থগীনাথের হস হয় না। সে গভীর ভাবে অন্যমনস্ক কোন কথা না বলে গদাই চলে যায়। সমস্ত গ্রামখানাই যেন আজ খুড়োমহাশয়ের মুখের মত গভীর গদাই বিশ্মিত হয়ে ভাবতে থাকে

আজ শনিবার ভোরে জেগে লোচন পণ্ডিত বলে, _ছুগ গাঁ ছুগগ!

দ্বিতীয় পক্ষের চন্দ্রাবতী পাশ থেকে বলে, _কচ্ছপ-__কচ্ছপ !

হেই !_ পণ্ডিত চটে যায়”_অযাত্র নাম করলে,_-রাম-রাম | বেশ করেছি। আজ যেন তোমার মুখে চুন কালী পড়ে একটু হায়াও নেই গা! এতগুলো মান্ষের ভাত মেরে তোমার ভাত বাড়বে ভেবেছে? কদিন থেকে বলছি কাজ ছেড়ে দাও। পুরুতগিরি করে তার চেয়ে একবেলা! খাওয়াও ভাল তা শুনবে কেন? জানে প্রাণে না মরলে ত' আর ছাড়বে না? কি দরকার ছিল তোমার কোট্ন। হয়ে পেহলাদ তাতির নামে বাবুকে নালিশ করার? শত্ব,র বাড়বে বই ত” কমবে না এতে?

পণ্ডিত গন্ভীর স্বরে বলে, দেখো, এসব ব্যাপারে তুমি নাক গলিও না। এসব তোমার চেয়ে আমি ভাল বুঝি

ছাই বোঝ! চন্দ্রা ফোস ফোস করে,__মাথায় কিছু ঘি আছে বলে তা” মনে হয় না। চাল কলার পিণ্তি আছে মাথায়

পণ্ডিত রেগে আগুন,_চুপ কর। ফের বেশী বক বক্‌ করলে কুরুক্ষেত্র করে দোব।

করোনা কুরুক্ষেত্র” চন্দ্রা বিছানায় শুয়েই ছুলে ওঠে ছুবার-_কেমন মুরোদ দেখি। করো। আমিও হাটে হাড়ি ভাঙতে জানি। বলব নাকি গায়ের;

৬১

লোককে পূজো! আর্চা ফেলে সনকাপুরের ঝেশাপের আড়ালে বসে থাকতে এই চন্দরের রূপ দেখতে, একদিন হাত ধরে টেনেছিলে সন্ধ্ের মুখে, চেঁচিয়ে উঠেছিলুম বলব সরাইকে ? বলব? আমার বাবার পায়ে ধরে আমায় বিয়ে করে এনেছ। বেশী গলা চড়িও না। চরিত্তির তোমার অনেক আগেই জানা! আছে আমার ভাইকে ধরে ত” এই কাজ পেয়েছ আবার আমার ওপর নবাবী মেজাজ দেখাচ্ছ।

পণ্ডিত যেন মন্ত্রপড়া জলের ছিটেয় কেঁচে। হয়ে যায়”_তবুও ফিস্‌ ফিস্‌ করে বলে,+-তা আর বলবে না! নিজের কেলেংকারীর কথ! নিজে ঢাক পেটাবে না? আমি যে কাজ কচ্ছি তোমার ভালর জন্যে করছি বাড়ী ঘর জমীজায়গ! পাল্কী গাড়ী এসব যদি চাও, তবে আমার কাজে ব্যাগড়া দিও ন1।

বলে চন্দ্রার থুত নীট! ধরতে যায় পণ্ডিত। শুয়ে শুয়েই চন্দ্রা ওর হাতটা বাম্টা মেরে সরিগ়ে দেয়._-থাক, আর আদর দেখাতে হবে না ! বাড়ী পাল্কী আমার চাই না, ঝামেলাও আমার চাই না।

পণ্তিত উঠে পড়ে-__ছুগ গা, হুগগা» ওঠ, ওঠ, আর বেল! কোর না। আবার জমীদার বাড়ী যেতে হবে সকাল সকাল।

উঠব না। শুয়ে থাকে চন্দ্রা। ্‌

পণ্তিত উঠে সকালেই স্নান করতে চলে যায়।

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হলেও যথা সময় হাঁজির হয় পণ্ডিত কাছারীতে গিয়ে দেখে তার আসবার আগেই গুগীনাথ আর মনোহর তাঁতি এসে বসে, আছে। নায়েব মশাই এসে দুবার ঘুরে যায়। তৃতীয় বার নায়েব যখন আসে তার পিছনে পিছনে আসে জমীদার চন্দ্রকান্ত। এসে তাকিয়! ঠেঁস দিয়ে বসে। গড়গড়ার নলট! পুরু রাঙা ঠোটে লাগিয়ে তাকায় সামনের দিকে ! গুপীনাথ, মনোহর, লোচন পণ্ডিত হাত জোড় করে বসে আছে। আরও একজন বসে আছে। চন্দ্রকাস্ত ইসারায় শুধোয় নায়েককে লোকটা কে?

নায়েব বলে» __হুজুর, লোকটা মহিমপুরের বাবুদের সীমানার ওপার গিয়ে আপনার নামে অকথ! কুকথা! বলে বেডাচ্ছিল |

হু"! গড়গড়ায় নিঃশবে গোটা তিনেক টাঁন দিয়ে চন্দ্রকাস্ত হাত পাখাটার

ছ৭

খর্িকে তাকায় হাত পাখা যে টানছিল, সে লোকটা আরও তাড়াতাড়ি টানতে প্বীকে। কিছুক্ষণের জন্যে চজ্জকাস্তের মুখটা রাঙা হয়ে ওঠে।

নায়েবকে বলে,_লোকটাকে বেঁধে এই সামনের দালানে ফেলে রাখে সমস্ত দিম। বিকেলে ছেড়ে দিও।

মানেটা। নায়েব পরিষ্কার বুঝতে পারে কাছারীর সামনে সিমেন্টের উঠোনে লমত্য 'দিন রোদ পেলে লোকটাকে তেল মাখিয়ে রাখলে ভাজ! হয়ে যাবে। বিকেলে হম্নত লোকটাকে দেখ। যাবে ভরদিন রৌন্রতপ্ত সিষেণ্টের তাতে আর মাথার ওপরে ্র্যের তাপে মুখ গুঁজড়ে পড়ে থাকবে জ্ঞান ন৷ থাকবার সম্ভাবনাই বেশী। চোখে মুখে জল দিয়ে জ্ঞান করে ছেড়ে দিতে হবে সন্ধ্যায়

নায়েব বাইরে ষায়। একটু পরে ছুটো পাইক এসে লোকটাকে ঘাড ধরে বাইরে নিয়ে ষায়।

নায়েব আবার ফিরে আসে-_এই চিঠিটা _বলে একখানা চিঠি আর কালী সমেত কলমট। জমীদারের দিকে বাড়িয়ে দেয় জমীদার একট সই করে দেয় সেখানে ষ্রেটের শীলমোহর ছাপত” আছেই। একবার শুধু চন্দ্রকান্ত শ্তধোয়,_ পাচ হাজার ত?

আজে হ্যা হুজুর ।__

চিঠিটা লোচন পণ্ডিতের হাতে দিয়ে নায়েবই বলে দেয়”__ডাট্‌সন্‌ সাহেবের কাছে চিঠিট। কালই পৌছে দিতে। চিঠিতে পাঁচহাজার টাক চাওয়া হয়েছে ডাটসন্‌ সাহেবের কাছে। পরিবর্তে চন্দনভাঙার উত্তর সীমান্তে প্রায় পাচশে। রিঘে জমী দিয়ে দেয়া হবে বল! হয়েছে! এর ভেতরে প্রায় বিশখানি গ্রাম পড়েছে।

ইষ্ট ইগ্ডিয়া কোম্পানীর তরফ থেকে ডাট্সন্‌ একবার লিখেছিল কিছু জমীর জন্যে তখন চন্দ্রকাস্ত দিতে চায়নি। কিন্তু আজ তার টাকার দরকার পড়েছে াজপুতানবর বাঈজী ভগ্মীর হ্পুর নিক্কনের কাছে টাকার ঝন্ঝন্‌ শব তুচ্ছ বলেই মনে হয়। জীবনের রসন্থধার সন্ধান চায় চন্দ্রকান্ত টাকার বিনিময়ে। টাকা তার চাই।

চে

নায়েব বলেঃ-ঠাতিদের মোড়লকে কি বলব? ওদের গ্রহলাদকে আটক রাখ। হয়েছে।

চন্দ্রকাস্ত চুপকরেই বসে থাকে আলবৌল! টানতে টানতে চোখছুটো তার স্তিমিত হয়ে আসে। বাইঈজী ভগ্মীর বিচিত্র রূপসজ্জায় আর টকটকে রাও! ঘাগরার আবর্তে ডুবে গেছে তার মন। আর বাধা পড়েছে তারপর রামধন্গ রাও কঞ্চুলিকার বন্ধনে