কাজনদীঘিৰ হামগাভাল

প্রথম প্রকাশ £ সেপ্টেম্বর, ১১৫৯ প্রকাশক £ প্রবীর মিত্র $ ৪/৯, রমানাথ মজুমদার স্ট্রীট £ কালিকাতা-৯

প্রচ্ছদ £ মানবেদ্দ্রু পাল (বাচ্ছু) - মুদ্রাকর £ শ্রীদেবেন্দ্রনাথ মাইতি £ জগ্ধা্ প্রেস ৮৮/৬ই, রাজা দাীনেদ্দুনাথ স্ট্রীট. ক্গিকাঙ্া-৬

চন্দন (যশোদপ ) ঝাঁম (সামিতা )-কে

আমাদের প্রকাশিত লেখকের অন্যান বই £_-

[সয়া একট গোপন চক্র অনুবোষ্টুমীর আখড়া হ্যানয় থেকে সায়গন মানবাত্মার সন্ধানে বন্দীর কারাগার যশাইতলার ঘাট

উলঙ্গ বুভুক্ষা

পথে প্রান্তরে

অতঃ কিম!

অন্তরে রাধা

এক

কলকাতা থেকে অনেক দূরের ছোট্র শহর শহরের গা বেয়ে চলেছে পাহাড়শ নদী শহরবাসীর ঘাস এই নদী। তিনশত বৎসর ধরে রাজারা বাঁধ দিয়ে শহর রক্ষার চেষ্টা করে এসেছে বতমান প্রশাসন বাঁধ রক্ষার চেম্টা করে আসছে বিগত কয়েক বৎসর ধরে তবুও বষয়ি বাঁধ ভাঙ্গলে নিরাপদ এলাকায় বসাঁত করে শহরবাসী, যেন নতুন উপনিবেশ কিন্তু শহর ছেড়ে পালায় না কেউই শহরের ওপ্রান্তে বাংলো প্যাটাণের ছোট্র একটা বাঁড় নদীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কয়েক বছর ধরে। চোদ্দ পনের বছর আগে একজন ভদ্রলোক এসোঁছিলেন কলকাতা থেকে। প্রায় এক বিঘে জাম আতি অল্প মূল্যে ক্লয় করে একজন ঠিকাদারকে বাংলো তৈরির প্ল্যান অর্থ 'দয়ে ফিরে গিয়োছলেন স্ৰ- স্থানে শালকাঠের খুটি দিয়ে বাংলোটা তোর হয়েছিল উপরে টিনের ছাউান দিয়ে আর মেঝে তৈরি হয়েছিল কাঠের পাটাতন 'দদিয়ে। স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী করেই তোর হয়েছিল বাংলোখানা অবশ্য ছয় ফুট উপ্চু ইটের দেওয়াল [দয়ে ঘেরা হয়েছিল চৌোহদ্দি। প্রবেশপথে লোহার গেট, আর গেট থেকে বাংলোর সিপড় পর্যস্ত লাল শুরকির ছোট চলার পথ দূর থেক ছবির মত মনে হয় বাংলোখানা

বাড় তোরর পর অনেকদিন কোন বাসিন্দা না থাকায় তালাবন্ধ ছিল বাংলো স্থানীয় বাসিন্দারা তাকিয়ে দেখে আর গবেষণা করে মালিক সম্বন্ধে হঠাৎ একদিন সবাইকে অবাক করে কলকাতা থেকে ট্রাক বোঝাই আসবাবপত্র এল, সঙ্গে এল বাঁড় দেখাশোনা করার দুজন কমণচারি। কিছুকাল পরে সবাইকে অবাক করে এল অমলেন্দু লাহিড়ী, বোধহয় বাড়ির মালিক। এরপর থেকে মাঝে মাঝে অমলেন্দু এসে দূচারাদন বাস করত, যেমন আকস্মিক তার আগমন তেমনি আকস্মিকভাবেই তার প্রস্থান।

এরই কিছুকাল পরে অমলেচ্দু শহরের বাংলোতে এসেই আমন্ত্রণ জানাতেন শহরের প্রবীন বুদ্ধিজীবিদের। তখন বাড়িটা যেন উৎসবে

& কাজলদিঘী--১

মেতে উঠত। অমলেন্দু ফিরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝিমিয়ে পড়ত পাঁরবেশ। এরপর কোন কোন সময়ে দুচারজন অমলেন্দুর অনুপাস্থিতি- কালে এলে সাময়িক আশ্রয় নিত বাংলোতে। তাদের সঙ্গে অমলেন্দুর কোন সম্পক আছে বলে মনে হত না। তারা অতি অভাজন যারা সাময়িক বিশ্রাম পেতে আসত

সামনে ছোট বাগান বাংলোর কমার দুজন বাগানটা নানা জাতের ফলের চাষ করে আত মুনারম করে রাখে পারবেশকে বাগানের আরেক প্রান্তে রয়েছে আনাজতরকারির ছোট্র বাগান। মানিবের অন.পস্থিত- কালে কমচার দুজন ব্যস্ত থাকে বাগানকে সাজয়ে সতেজ রাখতে

একাদন প্রাতবেশিরা দেখল গেটের পাশে পেতলের ফলক ঝোলানো হয়েছে তাতে লেখা রয়েছে কণ। মজুমদার

যাতায়াতর পথে সবার দম্টি পড়ে ওই নেমপপ্পেটে এই বাড়িতে সায়ে সময়ে যারা আপাযাওয়া করে তারা বাঁডর মালিক কর্ম- চাঁদের ভালভাবেই চেনে কণা মজহমদারকে দেখবার সৌভাগ্য কারও হয়ান, তার সঙ্গে মালিকের ি সম্বন্ধ তাও কেউ জানে না। জানার চেষ্টা করেও কোন সঠিক উত্তর পায়নি অমলেন্দুকে কণার কথা জিজ্ঞেস করেও কেউ সদুত্তর পায়ান। প্রসঙ্গাস্তরে যেতে অমলেন্দু বাদ্ধজীবিদের সঙ্গে তখন কঞ্ঠোপাঁনযদের জাঁটল সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু করত। একটা রহস্য যে পেছনে আছে তা বুঝে কণা-প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলতে থাকে সবাই

ধাঁধা কাঁটয়ে উঠতে পারেনি কেউ-ই, অমলেন্দুও ধাঁধার উত্তর দেয়নি। যাদের আগ্রহ বেশি তারা অনধিকার চচা না করে অমলেন্দূর আতিথেয়তা সাদরে গ্রহণ করত। আতিথেয়তা পণ্চমূখে প্রশংসা করতে করতে নিজ 1নজ গ্‌হে ফিরে গেছে কণা মজুমদার পদরি আড়ালে থেকেই গেল

কণা মজমদারকে সাক্ষাৎ না দেখলেও শহরের স্বনামধন্য উকিল জগ্াঁদন্দুবাবু কিছুটা এই মাহলার হদিস জানতেন জাম ক্রয়ের দালল তৈরি করোছলেন জগণ?দন্দবাবু ও“কে অনেকে জিজ্ঞাসা করেও সদত্তর পায়নি তবে এইটুক; জানা গেছে এই বাংলোর মালিক অমলেন্দু নয়, মালিক কণা মজুমদার যান এতকাল পদারি আড়ালেই থেকে গেছেন। দাঁললে কণার স্বামীর নাম নেই। তার বাবার নাম রয়েছে শিবনাথ

মজুমদার বাসস্থান কলকাতার উপকণ্ঠে তিলজলা এলাকায় এর বেশি সংবাদ দিতে পারেনান জগাদন্দুবাবয তিনিও কণা মজুমদারকে কখনও সাক্ষাৎ দেখেননি

একজন প্রশ্ব করোছল, তা হলে যে কোন মাঁহলা এর বাড়ির মালিকানা দাবী করতে পারে 2

দাবী করতে পারে, বলেছিলেন জগাঁদন্দবাবু, কিন্তু সেই দাবার স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পারবে কি? মিথ্যে করে কোন কণা মজহমদারকে সনান্ত করলে তার পরিণাঁত কি তা বোঝেন।

ক্রমে ক্রমে দেখা গেল কণা মজুমদারকে নিয়ে মাথা ঘামাবার লোকের

খ্যা হাস পেয়েছে কারও কোন আগ্রহ দেখা যায়ান কিছুকাল পরেই

অমলেন্দু আসার খবর পেলেই তার কমণ্চারিরা সবপ্রথম রাসো দিয়ে পেতলেব নেমপ্লেউটা ঘষে চকচকে করে নেমপ্রেট যতটা চকচক হয় তার চেয়ে বোশি চকচক করে বাংলোটা -যখন অমলেন্দ শহরের গুণী- জনদের নিয়ে আসর জমায় প্রাতিটি সন্ধ্যায় সে সময় ব্যস্ততা থাকে গোটা বাংলোয়। কমচারিরা যেন হাঁপিয়ে ওঠে আমন্নিত ভদ্রলোকরা নতুন করে ভাবে কণা মজ:মদারের কথা, ভাবে অমলেন্দুর অননপাস্থিত- কালে যাকে ভুলেই ছিল

এই শহরে এলেই অমলেন্দ; আমন্্ণ জানায় পারিচিত বন্ধুবাণ্ধবকে সম্ধ্যাবেলায় ধীরে ধীরে উপাঁস্থত হতে থাকেন যাঁরা' তাঁরা রাতের ভোজন- পরব শেষ করে যখন বাড়ির দিকে পা বাড়ান ঘড়িতে বারোটা বাজতে বিলম্ব থাকে না। সম্ধ্যা থেকে অত রাত অবাধ যাঁরা টেবিলের সামনে বসে বিশ্ব জয় করেন, বিশ্বের তাবৎ সকল বিষয়বস্তু নিয়ে নরম-গরম আলোচনা করেন তাঁরা সবাই সুধাঁজন প্রাজ্ঞ শহরের সবাই তাঁদের শ্রদ্ধা করে। অমলেদ্দুর বয়স পণ্টাশের কাছাকাছি হলেও যৌবনসূলভ তার স্বভাব ধৌবনের দশীপ্ততে বিশেষ ভাস্বর | প্রৌঢত্বের ছাপ শুধু কয়েকগোছা ধবল কেশরাশি। নইলে শিশুসলভ চাপল্যে ঢেকে গেছে তার প্রোটচিত গাম্ভীর্য। যারা তার আমন্্ণে আসেন তাদের আঁধকাংশই তার বয়ঃকাঁনষ্ঠ। অভ্যাগতদের আঁধকাংশই কলেজের অধ্যাপক, দুএকজন ব্যবহারজশীব আর নিত্যকার সঙ্গী দ;ুজন অপাধন্তেয় ব্যান্ত। যাদের সোজা কথায় বলা যায় বেকার-বাউন্ডুলে। আসল পরিচয় অন্যরূপ। যাদের

সঙ্গে যেসব উন্নাসিক ব্যান্ত মোটেই ওঠাবসা করতে চায্নীন তাদের ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছে তারাই তাদের অসাধারণ মননশীলতার মাধ্যমে যাদের বিশেষ শ্রেণীর বুদ্ধিজীবি খ্যাতি আছে তাদেরও অনেক সময় হটে আসতে হয় ওদের কাছ থেকে ওদের তপক্ষ7 যান্তি এবং সমাজ সচেতনা পণশ্ডিত- মন্যদের লজ্জিত করে থাকে পদে পদে

অমলেন্দুর দলে যারা নতুন অভ্যাগত তাদের প্রখর আভিজাত্যবোধ জ্ঞাদনর দম্ভ ওই সব বেকার বাউণ্ডুলেদের কাছে হার স্বীকার করতে বাধ্য করেছে যারা এদের অপাধন্তেয় করতে পেরেছে তারাই কালক্রমে তাদের ঘাঁনষ্ঠ হয়েছে। অমলেন্দু সঙ্গী নিবাচনে ভুল করোনি একবাক্যে সবাই তা মেনে নিয়েছে নিজেদের উন্নাসিকতার জন্য লজ্জিত হয়েছে। এই আসর থেকে কেউ কেউ বিনা নোটশে আসা যাওয়া বন্ধ করেছে। অবশ্য এখানেই শেষ, যারা আমান্মিত অভ্যাগত তাদের কেউ কেউ ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে জটিল আলোচনায় ধৈ হারাতে দেখা গেছে। অশান্ত দলের নতুন সভ্য এই ইতিহাসের অধ্যাপক আগমন মাত্র জল ঘুলিয়ে ফেলল উন্নাসকতাকে মূলধন করে। সঙ্গীদের অনেকেই তার পরিচিত, অপরিচিত ছিল সমর সরকার আর নীতিশ গাঙ্গুলী এদের সাথে প্রথম আগমন দিয়েই তার প্রথম পারচয়। প্রথমাঁদনের ক্ষণ- স্থায়ী অবস্থানে তাদের স্ব-রুপ না দেখেই ফিরতে হয়েছিল। পরের দন বাজার যাবার পথে চায়ের দোকানে ময়লা ছেড়া জামা গামে লহঙ্গি পরণে যষেলোকটিকে গরম গরম বাক্যালাপ করতে দেখোঁছিল তাকে চিনতে নিম্ল সেনের মোটেই কষ্ট হয়ান গতরাতে এই লোকটির পাশে বসে থাকতে হয়োছিল,-এ কথা ভাবামান্র নিম্ল সেনের আভিজাত্যবোধ আহত হল তীব্রভাবে মনে মনে স্থির করেন, এবার যাঁদ তার দেখা হয় লোকটার সঙ্গে একই আসরে তা হলে একটা হেস্তনেস্ত না করে সে ছাড়বে না।

পরবতাঁ আমন্রণের দিন সমর সরকারকে তার পাশে বসে থাকতে দেখে সে চুপি চুপি পাশের ঘরে ডেকে নিল অমলেন্দুকে। বলল, যে লোকঁট বসে আছে ওর পারিচয় জানেন লাহড়ীমশাই !

অমলেন্দু এরূপ ঘটনার সাথে বিশেষ পাঁরচিত ঘটনাটি উপলব্ধি করতে তার বিলম্ব ঘটল না। কৃত্রিম গাম্ভীষের সঙ্গে বলল, কোন্‌ লোকটা

অধ্যাপক পেন?

যে লোকটা আমার পাশের চেয়ারে বসে আছে।

যেন কিছুই হয়নি এমাঁনভাবে অমলেন্দ; বলল, সমর সরকারের কথা বলছেন তো!

সমর কি অমর তা জাননা তব লোকটা আত নোংরা ওকে সহ্য করতে পারছি না।

অমলেন্দু হেসে জিজ্ঞেস করল, কি করে জানলেন যে সমর সরকার নোংরা ?

আম নিজের চোখে দেখেছি একটা লাঙ্গ পরে চায়ের দোকানে আভ্ডা [দিচ্ছিল

নল সেনের কথা শেষ হতেই অমলেন্দু হো-হো করে হেসে উঠল

রুক্ষভাবে নিম'ল সেন বলল, আপান হাসছেন !

হাঁস থামিয়ে গম্ভীরভাবে অমলেন্দ; বলল, পৃথবাঁতে সবাই সব জিনিস পছন্দ কবে কি! আপনার রুচিতে যা ভাল আমার রাঁচিতে হয়ত তা নয়, বরং সেটা নোংরা বলেই মনে হয়। নিম'লবাব্, দুনিয়াটা মোটেই নিমলি নয়, আনমলের সঙ্গে সহাবস্থানই নিমণলের পাঁরচয় এবং শ্রেন্ঠত্ব সবাই আমার সম্মানীয় আতি, সবাই এসেছেন আমার আমন্নরণেঃ যোগ্য সমাদর জানানো আমার নৈতিক কতব্য। আপনি সবেমাত্র দদন এসেছেন, আমাদের এই আসরের সঙ্গে আপনার পারিচয় অসম্পূণই আছে এখনো আরও কিছুকাল এলেই আপাঁন খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন। আমারও তো কিছ; রুচিবোধ আছে। যাঁদ কখনও কোন কারণে আপনাদের সম্মানহানি ঘটত অথবা ঘটবার উপক্লম হত তা হলে কি এতগুলো মানন?য় ব্যন্তকে এক জায়গায় আনতে সাহস পেতাম ! কখনই নয়। আমার জন্য অপরের সম্মান হানি ঘটবে, আর বিবেক বিবেচনা নিয়ে তাই আ'ম বরদাস্ত করব, এও কি চিন্তা করা যায়। আঁভমান করে আপনার সাহচষ" থেকে আমাকে বাত করবেন না, তা হলে বড়ই ব্যথা পাব।

নির্মল সেন উত্তর খজে পেল না অমলেন্দুর কথায় আত্মপ্রত্যয়পূর্ণ গভীর অনুযোগের যে রেশছুকু আপত ভেসে উঠাছিল তারই সক্ষ্র অনুভূতি 'নিয়ে নির্মল সেন এসে বসল তার আসনে অনেকক্ষণ গুম হয়েই রইল। এদিকে তার অনুপস্থিতকাল্লে তকের ঝড় উঠেছে আসরে

টা

১০০

বাংলা সাহত্যের শিক্ষক মাঁহমবাবু উচ্চকণ্ঠে অচলার চারন্র নিয়ে আলোচনা করছেন বাধা বোধহয় অপরপক্ষ থেকে গুরুতর ভাবেই উত্থাপন করা হয়েছিল মাহমবাবু খেই না' পেয়ে মিইয়ে যাবার সামিল এমন সময় অমলেন্দ,র প্রবেশ তার পক্ষ শান্তশালণ হবার লক্ষণ মনে হল। তাকে নিজপক্ষের মুরুব্বি ঠিক করে মাহম বলল, আপনিই বলুন, অচলা' সরেশের প্রেম কি নিখাদ

অমলেন্দ্‌ হেসে বলল, মোটেই নয়।

মহিম আত্মপ্রসাদ লাভ করে বললঃ শুনলেন তো সমরবাব !

সমর সরকার প্রস্তৃত ছিল। মাহমের কথার পিঠে কথা দিয়ে শুর করল, আম যে কথা বালান সেটা নিয়ে আলোচনা করছেন কেন? আম হো অচলার কথা বালান; বলেছি, সুরেশ অচলাকে ভালবাসত তৎকালাঁন হন্দূর সমাজপপ্রী দিয়ে বিচার না করে আজকের এই পরিবেশ দিয়ে বিচার করূন। আজকের পরিবেশে সরেশকে আমরা কোন ক্লমেই দোষী মনে করতে পারি না, বরং তাকে সাদরে গ্রহণ করাই ছিল স্বাভাবিক

ইংরেজির শিক্ষক বিপুলবাব্‌ এক টিপ নস্য টেনে ঘোঁত করে একটা শব্দ করল সমরকে বাধা দিয়ে বললঃ সুরেশ অচলাকে হয়ত ভালবাসত। তবে বয়সে কেউ কাউকে ভালবাসে কথা ঠিক বিশ্বাস করি না। কিন্তু অচলা যে সুরেশকে ভালবাসত এমন কোন প্রমাণ দিতে পারেন কি। একজন ভালবাসে বলে অপরজন ঘর ভাঙ্গবে, কি একটা কথা শেষ অবাধ আদালতে যেতে হত না কি!

সমর দম ধরে ভাবল। বলল, অচলা অস্থির চিত্তের নারাঁ। সে সুরেশকেও ভালবাসত না এবং মাঁহমকেও ভালবাসত না। একাঁদকে ছিল বিকারহণীন আদশ-বাদীর "স্থির চিত্ত, আরেকাঁদক ছিল আকাঁস্মকতার আকেগে ভরপুর একটি দ্বিধাগ্রস্ত হৃদয়। মহিমের সাথে বাস করেও বুঝাপড়া করে উঠতে পারোন, হয়ত সুরেশের সঙ্গে পাশাপাশি বাস করবার সযোগ পেলে চিত্ত চাণল্য দালত হত।

মাহম ডিস থেকে এক টুকরো সুপুরি তুলে মুখে দিয়ে বলল, বেচারা মহিম কি করত।

অনাদরে ষ্ঠী হোত হেসে বলল বিপূলবাবু।

৯০

অমলেন্দু এতক্ষণ কথাগুলো শুনছিল। সহসা বাধা দিয়ে বলল, আপনাদের আলোচ্য বিষয় যে কি তা বুঝতে পারাছি না। অচলা-স'রেশ- মাহম অথবা ভালবাসার মাহমা

নীতিশ ম.দস্বরে বলল, ভালবাসার মাহিমা

অমলেন্দ; উৎসাহিত হয়ে বলল, ভালবাসা' কোন রিজিড যাকে বলে স্থবির পদাথ* নয়। সদাই চাণ্ল্য হল ভালবাসার ধর্ম। স্থিতি- স্থাপকতা যেটুকু দোৌখ তা হল যৌনবোধের প্রাবল্যে অথবা আদর গত মান!সক সাম্যে অথবা পরস্পরের বোঝাপড়ার মাধ্যমে

নিমূল সেন সদ্য বিবাহিত। বিবাহের পুবেই পরিচয় হয়েছিল নন্দিতার সাথে। প্রেমর কণ্ঠিপাথরে যাচাই করা নিভেজাল তারা অন্তত [নমল সেন তাই মনে করেন। অমলেন্দ,র মন্তব্যে সে মোটেই খুশি হল না'। প্রতিবাদের সুবে বলল, প্রেমের সাথে যৌনবোধের কোন সম্পক“নেই আর আদর্শগত [বিপর্যয় বলতে আপনি কি যে বলতে চান তা বঝছি না।

অমলেন্দু হেসে বলল, ভালবাসা হল দেয়া-নেয়া, প্নেটোনক মোটেই নয়। যৌনবোধ বাদ দিয়ে নরনারীর ভালবাসা মিথ্যান্তোক মান্র। মুখ ঘুরিয়ে জীববিদ্যার শিক্ষককে জিজ্ঞেস করল, আপনি বল,ন 'দ্বিজেনবাবু, দেহ আর মন দুটোই কি একাঙ্গী অথবা ভিন্ন!

দ্বিজেনবাবু প্রবীন অধ্যাপক এই সব প্রেম উপাখ্যান তার ভাল লাগছিল না। তবুও অমলেন্দ,র প্রশ্নের উত্তর দিল। আিচ্ছার সাথে বলল একটা বাদ দিয়ে অপরটা চলতে পারে না।

অমলেন্দ, ভারক্কীচালে বলল, শুনলেন তো িশেষজ্ঞের মত আর আদর্শগত বিপষ'য় ঘটে সমাজের বা পারিবারের গাঁথুনিতে আগের দিনে কলকাতার বাবুদের রক্ষিতা ছিল। স্ত্রী কোন অনুযোগ করত না, কেন না ভালবাসা আর ভোগ্যবস্তু ছিল তার প্রাপ্য যৌনবৃত্তিটা নিয়ে স্বামী যেখানেই যাক তাতে দুঃখ ছিল না বরং আত্মমযার্দার দম্ভ ছিল। এটা হল আস্থিতিস্থাপককে স্থিতিস্থাপক বলে চালু করবার পাঁরবাঁরক একটা গাঁথুনি, এর রুপান্তর বা নামান্তর বলতে পারেন আদশগত বিপর্যয় এখন আমি যাঁদ বাল, অচলার চিত্ত চালোর সঙ্গে যৌন দুর্বলতা ছিল একটা অংশীদার, বোধহয়, তা হলে আপনি আপত্তি করবেন না।

সমর বাধা 'দিয়ে বলল, অচলার যৌন দুবলতা থাকুক আর নাই থাকুক, আমলা বলব, অচলা আত সহজেই সুরেশের সাথে ঘর বাঁধতে পারত, তাতে কোন বিঘন ছিল না। ভালবাসা যেখানে 'বানিময় প্রত্যাশী সেখানে মনকে ফাঁক দিয়ে সতীপণার আঁভনয় মর্মান্তিক মানুষের এই ছোট্ট জীবনে যাঁদ দাহন থাকে অনবরত, অতৃপ্তি আর অশান্তি হয় নিত্য সাথা, সে ক্ষেত্রে মানুষ জন্মাবার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয় শুধমানত্র মনকে চোখ রাঙ্গিয়ে। নয় কি? বুঝাপড়া হয় না কোন মতেই

নমল সেন এই রুচিহণীন বন্তৃব্য আর সহ্য করতে পারছিল না'। সরবে বলল, তা হলে বলতে চান রাম শামের বউ [নিয়ে পালিয়ে যাবে আর ঘর বাধবার আধকার পাবে। সমাজের বকে বসে তারা নিন্দনীয় জীবন নিয়ে মশগুল থাকবে আর সম,'জ তা সহ্য করবে।

সমর সরকর বিস্মিতভাবে নিম্লি সেনের মুখের দিকে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ মল সেন প্রাতিবাদের সঙ্গে সঙ্গে যে উত্মা প্রকাশ করল, সহজভাবে তা গ্রহণ করতে অনেকেই হয়ত পারত না। সমর সরকার সোদক দিয়েও গেল না, নিজস্ব ভঙ্গীতে বলল, ক্ষেত্রে কি আমরা বুঝব না যে রামের সাথে শ্যামের বউয়ের প্রীতির সম্পর্ক রয়েছে প্রথম যৌবনের ভালবাসা কোন কালেই ভালবাসা নয়, সেটা হল চোখের নেশা নেশা কাটিয়ে ভালবাসা স:ম্টি করতে অনেক কাল কেটে যায়। সেই নেশা কাটাতে গিয়ে ভালবাসাও অনেক সময় ঢিলে হয়ে যায়। পাঁরণত জীবনেই যৌনবোধ-ই বলুন অথবা সঙ্গানকেন্দ্রি-ই বলুন, ভালবাসা জণ্মায় পরস্পরের বোঝাপড়ার মাঝ দিয়ে। শ্যামকে যদি তার বউ ভালবেসে না থাকে, তার জন্য দায়ী কে? সমাজের অথবা পরিবারের মাথায় যারা থাকে তারা কতকগুলো আচার-আচরণ দিয়ে শাড়ির আঁচলে গিছড়া দিয়ে যদি ঝুল, বিবাহ মানেই ভালবাসা, তা হলে সমস্যা মেটাবার দায়ত্বও তাদের নেওয়া উচিত ছিল। গিটছড়ায় ভালবাসা থাকে না। ওটা আপোক্ষক বস্তু, রুচির বিষয়। শ্যাম তার স্ত্রীর ভালবাসা পায়নি তার জন্য শ্যাম দায়ী। কেন না শ্যাম তার স্মীর মূলগত এক্য রক্ষার দায়িত্ব বেশি ছিল শ্যামের। সেদায়িত্ব সে পালন করতে পারোন বলেই সে অপরাধী

নর্মল সেন তীঁক্ষরদ্বরে বলল, দায়ত্ব কিছুই কি শ্যামের স্মীর নয় ? যৌন আকষণণ-ই কি সব।

সমর বাধা 'দিয়ে বলল, অধ্যাপক সেন, আপনি উত্তেজিত হচ্ছেন কেন ? জীবমান্রেয় ষে দুটো জন্মগত বৃত্ত সেটা অস্বীকার করতে পারেন কি! ক্ষুধাকে ভুলতে পারেন কি, অথবা ক্ষুধাকে বাদ দিয়ে চলতে পারেন কি! আর যৌনবোধ, এটা বাদ দিয়ে চলতে পারেন কি! কেউ পারোনি, আপাঁনও পারবেন না। যারা রঃগ্ন অথবা বিকৃত মস্তি্ক তাদের কথা বাদ দিন। যাঁদ আমরা জন্মগত বৃত্তিকে বাদ 'দয়ে চলতে না পারি তা হলে একথা কি স্বীকার কবেন না যে ভালবাসা, মায়া, মমতা এগুলো সহজাত বৃত্তি দ.টোই আমাদের শিখিয়েছে 2 শ্রম্টাকে বাদ দিয়ে সৃষ্ট অনুভূতিগলোকে সব সময় বড় করে দেখলে বিচারে ভুল হয় নাকি!

নমল সেন জবাব খজতে থেমে গেল, এই অবসরে অমলেন্দ বলল, একথা অস্বীকার করা যায় না। তবে ঘর বাঁধা আর ঘর ভাঙ্গার পেছনে রুটিবোধই আসল কথা কার যে কোথায় মন আটকে যায় সে কথা আপাঁন আম স্থির করতে পারি না, পারবও না। জানেন তো, 00101109515 ৮/10105 11) 92] 2100 109৬6-- ভালবাসার ক্ষেত্রে যে ৬/& তাতে ৬/৪: এবং 1,0০০ দুটোর মধাদা থাকে বলেই কোন অন্যায় কোথাও থাকে না। তাহলে শুনুন একটা গলপ। ঠিক গজ্প নয়, আমার নিজের জানা ঘটনা

মাহম আগ্রহ সহকারে বলল, কাল্পনিক চাঁন নিয়ে আলোচনা করছি, এবার বাস্তব ঘটনা দিয়েই বিচার করা হোক বলুন লাহিড়ীমশাই

অমলেন্দু ঢোক গিলে বলল, তার আগে এক কাপ করে চা হোক্‌।

তামন্দনয়। বলল ন্ীতিশ।

অমলেন্দ্‌ চায়ের বাবস্থা করে ফিরে এসে বসল তার চেয়ারে

বিপুল ব্যস্তভাবে বলল, আরম্ভ করুন।

কেউ রাগ করবেন না তো? নামধাম দেব না, কেন না প্রায় সবপক্ষই এখনও জীবিত। ঘটনাটা বলে চলব, মন্তব্য নিম্প্রয়োজন। বলেই অমলেন্দু ভাল হয়ে বসল

শুরু হল কাহিনী £

১৩

মেয়েটার নাম মনে করুন রমা

তম্বাঁ, রূপসা, শাক্ষতা।

পাঁরচয় হল দীপক রায়ের সঙ্গে

কেমন করে হল? নাটকীয় কিছ, নয়। দীপক গৃহশিক্ষক রূপে এসেছিল।

দীপক লেখাপড়া শিখেছিল। কাজকম” বলতে যা আমরা বুঝি তা সে করত না'। ঘবের খেয়ে ইংরেজ তাঁড়য়ে বেড়িয়েছে চিরকাল

ইংরেজের পলিশ তাকে শায়েস্তা করতে না পারলেও, স্বাধীন দেশের

ভাগ্যবিধাতারা তাকে শায়েস্তা করোঁছল নানাভাবে দেশটা ভাগ করে প্রথম তাকে পথে বসিয়ে দিল সপরিবারে তারপর আশ্রয় সাহায্য- প্রাথী” হয়ে যে ম.ম্টিভিক্ষার যোগাযোগ তাতে ধিককার জন্মালো নিজের ওপব। তার স্বপ্নের স্বাধীনতাকে রদ্ঢ পদক্ষেপে মাড়িয়ে দিয়ে গেল বাস্তবের স্বাধীনতাভোগীরা সে দেখতে পেল, যারা স্বদেশী করা মানুষদের নিষতিন করেছে তারাই স্বচ্ছন্দে রয়েছে অথচ তার মত যারা দেশের জন্য সব+স্বত্যাগ করেছে তারাই ফুটপাথে অনাহারে শেষাঁদনের প্রতীক্ষা করছে। নশীতি মাইনাস, অর্থ ইজ; ইক;য়াল টু অনাহার। সেই অনাহারেব মুখোমুখি দাঁড়াল দীপক রায়, যার গলায় মালা পরিয়ে দিতে দেশে হ্‌ড়োহনড় লেগে যেত ইংবেজের আমলে

রাজনীতির আসরে অথথ-নগাতর কঠিন কশাঘাত এল, স্বীঁপুত্কন্যাদের হাত ধরে দীপক খজে নিল একটি নিকৃষ্ট আশ্রয়, আহাষে'র সন্ধানে বোরিয়ে পেল ছার পড়াবার দায়িত্ব সে ছাত্রী রমা

পড়ানোর চেয় রাজনীতির বলি বেশি কপচায় দীপক রমা শুনে শুনে ভূলে যায় পাঠ্যপ/স্তকের কথা একদিন রমা আঁকড়ে ধরল দীপককে, বলল, আমাকে সঙ্গী করে নিন আঁমও লড়ব অনাহারাঁদের সঙ্গে

দীপক হেসে বলল, পাগল আমরা ভাল করে লেখাপড়া শিখতে পারনি বলেই এত কছ্ট। লেখাপড়া শিখে রাজনীতি কর তা হলে শোভা পাবে নইলে জাঁবনভোর দাদাদের গামছা, ছাতা বইতে বইতে

(হাতে কাললীশরা পড়বে। অর্থনীতির উদরে রাজনীতির জন্ম।

অর্থনীতর সূত্র ভূল যারা রাক্ষনশীত করে তারা আমার মত ফুটপাতে

পড়ায়, ব;ঝলে শ্রীমতাঁ ! ১৪

রমা কি বুঝল, তা রমাই জানে সে ধীরে ধীরে বিশ্বাবদ্যালয়ের িশড় টপকাতে লাগল। দঈপকও নিয়ামত তার পাঠকক্ষে হাজিরা দিয়ে চলল

একদিন দুজনেই বুঝতে পারল কোথায় একটা অদশ্য হস্ত তাদের নিয়ে খেলা শুরু করেছে। দীপক দেবাদদেব মহাদেব নয়, নইলে সেই অদৃশ্য হস্তকে ভস্মীভূত করতে পারত অবশ্য তাতে লাভ কু হত না'। প্রো দেবাদিবকে যুবতী পাব্তীর পাঁণিপশড়ন করতে যখন হয়েছিল তখন অদৃশ্য হস্তকে রোধ করার কোন পথ ছিল না। ঘটমান জাঁবনে অঘটন ঘটানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

দীপক চিন্তিত হল

রমা ভাবতে থাকে

একাঁদন দুজনেই মন খুলে দিল। দুজনেই স্বীকার করল, আমরা ভালবাসি পরস্পরকে

দীপকের চিষ্ভার আর শেষ নেই। সে বিবাহিত, সম্কানের পিতা ব.ঝয়ে বলল রমাকে। রমা সবই জানে, তবুও বাধা মানতে রাজ হল না। জীবনের প্রথম প্রেম সৌন্দয*ময় হয় বিঘ্যের মাধ্যমে রমার মনে তাই অশান্তি আঁচড় কাটতেও পারল না। সে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠল।

এই দ্ুযোগকে রোধ করতে দীপক মাঝে মাঝেই আত্মগোপন করতে লাগল সপ্তাহ না পেরতেই রমা ছ.টে আসত তার সন্ধানে নতুন জীবনের প্ল্যান ঠিক করত। আকুলতার সাথে কাঁদিত দীপকের বুকে মাথা রেখে। সহজ করে আশার বাণী শোনাতে পারে না দীপক, আবার অসরল ভাবে জণীবনটাকে টেনে 'নয়ে যেতেও সাহস পায় না। দীপক তখন দোদল্যমান, একাদকে সংসার আরেক দিকে রমা !

নৈরাশ্য ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলল রমাকে

এমাঁন করে কয়েকটা বছর কেটে গেল।

রমা' আঁস্থর হয়ে উঠল তার সবকর্মের মাঝ দিয়ে শাশ্বত নার মনটা মাথা উষ্টু করে কেমন গোলমাল ঘটালো' তার জীবনে এই আধা প্রেটোনিক ভালবাসা নিয়ে সে বাঁচতে পারে না। সেচার় ঘর, সে চায় অবলম্বন, সে চায় পুরুষ-কাঠন আবরণ দীপক তা দিতে পারোন, পারবেও না। দীপক সমাজের সাধারণ রশতিগুলো ধরে থাকতে চায়,

১৫

দপকের মনটা বিচার করে যাঁদ বলতে হয় তা হলে জীবনে ব্যথতা আবার দূম্টিভঙ্গী গেল বদলে, রমা আত্মগোপন করল, নিজের পথ নিজেই খ'জে নিল রমা

যোল বছরের রমার তখন তেইশ পোরয়ে যাবার উপক্রম সৌন্দর্যের ওপর বয়সের ছাপ পড়তে আরম্ভ করেছে তার অজান্তেই ভোগ্যজীবনের আয়ু বুঝি শেষ হয়ে যায়। আঁশ্থরতার ব্যাপ্ত তাকে নতুনের সন্ধানে ঠেলে দিতে থাকে এমন সময় পরিচয় হল সোমনাথের সঙ্গে সোমনাথ আববাহিত, বেকার নয় রমাকে নিরুৎসাহ করল না। গোপন প্রেমের পশরা মণ্ে দেখা দিল রমা-সোমনাথ বিয়ে করল রোজিন্টারের বাড়তে দীপক জানলও না তা। যোঁদন জানল সোৌঁদন দীপক শামলা গায়ে চাঁভয়ে প্রথম এল আদালতে ব্যবসা করতে

সমর সরকার বলল, রমা ঠিকই কবেছে। তারও তো জাবন রয়েছে, সে জীবনকে কি করে ব্যথ” করবে সে।

অমলেন্দ: হেসে বলল, আঁমও আপনার সাথে এক মত। তবে ব্যতিক্রমও আছে। তাও ঘটেছিল দীপকের জীবনে রমার বাস্তব- বৃদ্ধিকে সম্মান দৌথিয়েও বলতে পাঁর, সে যাচাই করতে পারত, সত্যই দীপক তাকে ভালবাসে কিনা সে ভালবাসা প্রেটোনক ছিল না, আধা প্লেটোনিক বলা যায় কিন্তু দাঁপফ সাঁত্যিই তাকে ভালবাসত সে ভালবাসায় কোন খাদ ছিল না। বৈষ্ণবাঁয় বিনয় দিয়ে ভালবাসাকে উতপক্ষাও করোন কখনও কেন না, যৌনবোধকে বাদ দিয়ে দীপক-রমার ভালবাসা গড়ে ওঠেনি স্তকণতা ছিল মান্র।

সমর হেসে বলল, দাীপককে স্কাউন্ডেল তৈরি করতে চান বুঝি

তা আপনারা বলতে পারেন। দেয়া-নেয়া বাদ !দয়ে তো ভালবাসা নয়। মহখের কথায় যে প্রাতশ্রদীত তার স্থায়িত্ব কতটুকু ব্যন্তি বিশেষে চিরকা.লর, আবার ব্যন্তিবশেষে স্বঙ্গকালের মনের সাথে দেহের সংযোগ অস্বীকার করলে জীবনের ছন্দপতন হয়। দীপক-রমা তা জানত, বিশেষ করে রমা এই জীবনকে প্রশ্রয় দিত।

তা বটে। এবার আরেক কাপ করে চাহোক। অভিরাম, ক' কাপ চা দাও বাপ7। সমরই হাঁক দিল মালিক অমলেন্দুর বদলে

অমলেন্দু আবার বলল, কৃতকগুলো ঘটনা দিয়ে বিচার না করলে

১৬

কাহিনীর নায়কের ওপর আঁবচার করা হবে। নাঁয়কাকে যত সত্বর সার্টিফিকেট দিলেন, নায়ককে তা পারেননি রমা যাঁদ মনের কথাটি বলত দীপককে তা হলে দীপকের প্রাতক্রিয়া হয়ত অন্যরূপ হত। নায়কও হয়ত প্রশংসা পেত।

আশঙ্কা ছিল। হেসে বলল মাহম।

অহেতুক ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মানুষের মন তো স্থবির নয়। সময়ের ব্যবধানে রমা ডুবে গেল। দশীপকের বয়স বাড়তে লাগল, চুলে পাক ধরল, দাঁত পড়তে লাগল কিন্তু রমার সঙ্গে যে তার ঘানষ্ঠতা তাকোন দিনই গোপন ছিল না তার ম্ধী মন্দিরার কাছে। রমা চলে যাবার আগেই শুবু হয়েছিল পারিবারিক কলহ, দীপকের জীবন হয়ে উঠেছিল অশান্তিময়। সেই অশান্তির প্রাবনে দপকের দেহে বাদ্ধকোর হাপ পড়ল

দপকের স্ত্রী মান্দরা কাঁগা মেয়ে নয়। সে বোঝে মানুষের জশবনে দৌহক সম্ভোগের শেষ আছে 1কল্তু পরিণত বমছ্ধির মানুষ যদ মন বাঁধা দেয় কোথাও সে মনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যে নার দেহের চেয়ে মনের খোরাক বেশি জোগায় তাকে সাঁরয়ে স্থান করা মোটেই সহজসাধ্য নয়। রাজনপীতর এই ছন্নছাড়া মানুষাঁটিকে নিয়ে সারাটা জীবন সে কাটাল দঃখ-দু্শার মাঝ দিয়ে আর শেষের বেলায় তাকে বাদ 'দয়ে আরেকজন দাবার ঘ'টিতে 'কাস্তিমাত: করবেঃ যেন অসহ্য। শেষ বেলায় রমা হবে সুখের অংশীদার, কোন মতে সে তা বরদাস্ত করতে পারল না।

বৃদ্ধিমতশ হয়েও মন্দিরা ভুল করল। দীপক নিজের বিবেকের কাছে দোষী হতে চায়নি বলেই রমাকে এ্রাঁড়য়ে চলতে চেয়েছে, সেই রমাই যখন নিজের পথে চলে গেছে তখন মন্দিরার উচিত 'ছিল স্বামীর মনের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়া, সে তা' না করে অধি*বাসের আবহাওয়াতে শাসনের কঠিন অস্ব্ প্রয়োগ করে প্রায় নিরাময়প্রাপ্ত ক্ষতকে আরও বেশি বেদনাদায়ক করে তুলল। সাংসারিক জশীবনটা করে তুলল অশাস্তিময়। দীপকের *বাসরোধ হবার উপক্ষম সেচাইল মূন্তির নিঃ*বাস ফেলতে রাতের পর রাত জেগে সে ভাবল, সে অন্যায় করেছে কনা ভালবাসা ষে অপরাধ নয় কথা বিশ্বাস সে করে তারজন্য ষে উৎপশড়ন, তার

৯৭

যৌন্তিকতা তাকে ব্যাথত করে তুলল। ভালবাসা জানয়ে, নিজেকে 'বিলিয়ে দিয়ে আত্মকেন্দিক রমা নেপথ্যে চলে গেছে স্বেচ্ছায়, তারজন্য বেখে গেছে লাঞ্ছনা আর দ:ঃখ, তবুও রমার ওপর সে রাগ করতে পারল না। কোন সময়ই ঘৃণা জল্মায় না তার মনে রমাকে মনে মনে প্রশংসা করল তার বাস্তব বুদ্ধির জন্য

দীপক হিসাব করে দেখল, সংসারে তার যা করণীয় ছিল সব সে করেছে। পাত্রবা উপাজ্ন করছে। কন্যারা স্বগৃহ পেয়েছে মান্দিরা পেয়েছে গৃহ আর জনবনযাত্রার রসদ তার করণীয় বলতে আর কিছু নেই। সবার অঞ্জান্ে একদিন পরিচয় সম্বল করে আইনের বই আর শ্যামলা আলমারিতে বন্ধ করে দীপক চলে গেল গৃহত্যাগ করে। সঙ্গে রইল নিজের লেখা বেদনাভরা কবিতার খাতা আর রইল সমগ্র বিশ্বের জমিদারী আহার্য আশ্রয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে এঁগয়ে চলল

নিরদ্দেশের পথে। কি করে কি হল জানা নেই। একাঁদদ পরিচয় হল সমতার সাথে।

পথেই সে পল্চিয়।

কে সীঁমিতা পরিচয় জিজ্ঞাসা করোন দীপক পাঁরিচয় ক্লেদ বহন করতে পারে, তার চেয়ে সামনে দাঁড়য়ে যে মানুষটা তার বত্মানকে সে শ্রদ্ধা করত মনপ্রাণ দিয়ে সমতা তারপক্ষে যেন আশাীবর্দি।

সাঁমিতা যূবতা, সংন্দরী, স্বাস্থ্যবতাঁ। রূপের চেয়ে বড় জিনিস ছিল সাঁমিতার, সে জানত মানবধর্ম।

দীপক প্রৌঢ়, সম্বল তার মনে তারুণ্য ! বয়সের চেয়ে বড় জানিস ছিল দপকের, তা ছিল গভীর তিতিক্ষা

নিজে নিজেই হাসল দীপক অবাক কঞ্পনা ! জণবনে কারও ভালবাসা সে পাবে, আশা তার নেই, ছিলও না। মুখের মত চেয়ে দেখল সীমিতাকে কথা বলতে পারল না ভাল করে।

সাঁমিতা কেন ভালবাসল £--এ প্রশ্ন সামিতাকে জিজ্ঞাসা করোছিল দীপক সমতা হেসে বলেছিল. মানুষটাকে ভালবাস না, ভালবাসি তোমার ব্যথাদাীণ” ব্যর্থতা ভরা মনটা সেই মনের সেবা করতে হলে তোমার দৌহক উপাস্থাত তো বাদ দেওয়া যায় না। আমিও ভুন্তভোগী। এস আমরা সুখ দুঃখ দ?জনে সমান ভাগ করে নেই।

৯৮

সীঁমিতা' যেন উঠে এল সমুদ্রমন্হনের অমত হাতে করে। দীপকের শুভ্ককণ্ঠে পান্ন নিঃশেষ করে অমৃত ঢেলে দিল।

কি করে যে এসব ঘটল তা সমতা নিজেও জানে না। সংসারে আঘাত সয়েই সে এগিয়ে এসেছে নতুন আঘাত পেতে স্বেচ্ছায় কেন সেএল। মনের সকল শন্তি 'নিয়ে সে বলল, ভান্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা, মায়া, মমতা আমার সব সম্পদ তোমাকে দিলাম। আমি তুমি এক আঁভন্ন।

দীপক চমক উঠেছিল সীমিতার কথা শুনে যখন জীবনের সামা [নদেশ হয়ে আসছে তখন সাঁমিতাকে নিয়ে সেকি করবে। কিছ? তো দেবার নেই তার | [ভখারির মত হাত পেতেই থাকতে হবে জীবমানকাল। বলল সাঁমিতাকে গম্ভীরভাবে দীপকের মুখের ওপর মূখ রেখে বলল, নিজেকে অত ছোট মনে করছ কেন, আমারই বা দেবার কি আছে। মাংসপিন্ডের পবিন্রতা রক্ষা করতে বরতে যাদের মনের সব সৌন্দয প্রসারতা এবং দেহের লাবণ্য ক্ষুধা অকালে লয় পায়, তারা পাবার আশায় উন্ম,খ থাকে না'। তারা দেবার নেশায় নিজেদের পাঁরপূর্ণতা আনতে চায় আমাকে ওভাবে দুঃখ দিও না।

পারপৃণণতা এসেছিল নিশ্চিত কেউ কখনও প্রশ্ন করেনি, তারা কে, কোথা থেকে তারা এসেছে তবে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছে যে প্রত্যেকেই একটা মায়ামমতাপতূর্ণ স্নেহের নঁড় খখজে বেড়াচ্ছিল। সেটা তারা পেয়োছল।

থামল অমলেন্দু।

বপুল চিৎকার করে উঠল. বলল, 4১9৫-_ অসম্ভব ! হতেই পারে না একটা যুবত একজন প্রৌকে ভালবাসতে পারে না। বাধ্য না হলে কোন যুবতাঁই প্রৌঢকে আপন করতে পারে না। 119 1102য015 11) 90101 17901101098 বাস্তব জগতে অসম্ভব

কে বলল? সমর প্রশ্ন করল।

মানুষের ইতিহাস, উত্তর দিল বিপুল

সে ইতিহাস ছিড়ে নতুন করে লিখুন সাঁমিতার ভালবাসা বিচারের তোলদন্ডে সবচেয়ে মহনণয় সীমিত নিজেই বলেছে, সে ভালবেসেছে ব্যথাদীণ” একটা হৃদয়কে দেহধারণ মানুষ উপলক্ষ্য মাত তবুও বলব, য্যবক-যুবতীর ভালবাসা ভোগের আয়ু বৃদ্ধি করে। যুবতণ প্রোঢের

১৪৯

ভালবাসায় জন্মায় নিখাদ প্রেম ভোগ সেখানে গৌণ, মুখ্য হল ভাল- বাসা যুবক-যুবতী ভালবাসতে জানে না, পারে না।

0911210150০ বাধা দিল মাহ:

প্রবীন অধ্যাপক 'দ্বিজেনবাবু বলল, মনে হচ্ছে সমর 11876. পৃথিবীর শ্রেম্ঠ সাহিত্যের প্রণেতা পাল বাক" এই সৌন্দর্য বাস্তবতা সৃষ্টি করেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তার 0০০৫ 1816) বই লিখে কিষে সম্ভব আর কি যে অসম্ভব, একথা বলা যায় না। জোর করে বলাটা অসঙ্গত।

ওটা আমাদের দেশের কথা নয়। বলল বিপুল

মান্ষ সব দেশেই সমান সামাজিক পাঁরবেশে মনটা শএকয়ে যায়, নইলে কোথাও কোন ব্যতিক্রম নেই। য়ুরোপ, এশিয়া, আফ্রিকার মানুষের দেহের রঙ আলাদা হলেও মনের দিক থেকে সবাই এক।

অমলেন্দু বাধা না' দিলে তক্ক আরও জমে উঠত অমলেন্দু বলল, খাবার প্রস্তুত। পীমিতা আর দীপককে নিয়ে মাথা গরম করে লাভ নেই সহখে থাকুক, তাদের প্রেম অক্ষয় হোক। এই তো'! এবার আমরা উদর পূর্তি করে হৃদয় আর মস্তিষ্ককে নিরাপদ করি, আসুন আঁভরাম, খাবার দাও মেয়েদের ভালবাসাটা যে আুপক্ষিক আত্ম কোন্দ্রক তা জেনেও দীপক নিজেকে ভাসয়ে দয়োছল। সে এখনও হয়ত ভাসছে আমরা ততক্ষণ নোঙর করি। আসুন

ফেরবার সময় রাস্তায় এসে নিম্ল সেন জিজ্ঞেস করল, কণা মজুমাদার কে 2

বিপুল সহাস্যে বলল, জানি না। জানবার দরকার হয়নি, তবে জানেন একজন,তনি স্বয়ং লাহিড়ীমশাই

তার কাছে কিছ; শনেছেন কখনও ?- আবার জিজ্ঞাসা করল, নিম"ল সেন।

উত্তর দিল সমর সরকার, বলল, না'। অনাবশ্যক মনে করেছি। একবার নীতিশ জিজ্ঞেস করেছিল। উনি প্রথমে কঠোপানিষদের বাণী শুনিয়ে শেষ অবাধ কণার আস্তত্বও অপরোক্ষে অস্বীকার করেছিলেন বলেছিলেন, ওটা 18095 8৪10 মনে করুন !

নির্মল সেন গম্ভীরভাবৈ চলতে চলতে বলল, অত বড় নেমপ্রেউটা

১৬৬,

কেউ 1781765 9810 টাঙ্গিয়ে রাখে কি! বিশ্বাস করতে পারছি না। কোথাও কোন রহস্য রয়েছে বোধহয় প্রেমঘটিত।

বিপুল টিপূপনি দিয়ে বলল, স্বণণঘাঁটত মকরধহজও হতে পারে পরের ৪9179 নিয়ে অত আগ্রহ কেন বাপু। উনি আমাদের ০01077017 11970, আদর করে ডাকেন, গল্পগুজব করেন, খেয়ে দেয়ে বাঁড় 'ফাঁর। সঙ্জন মনে করি ওকে এর বেশি প্রয়োজন নেই লাহড়ীমশাই নজেই তো আজ বললেন, কেউ কোন প্রশ্ব করেনি আমাদেরও কোন প্রশ্ন নেই।

নির্মল সেন তকের গন্ধ পেল, বলল, বাঁহর্টা দেখে মত দেওয়া কি উচিত !

কার ভেতর কে দেখতে পায় বলুন। আমরা অপরের ব্যন্তিগত জীবনের সাথে যুস্ত হতে যাব কোন দঃখে। আর অনধিকার চচ্চ করে নিজেদের প্রীত নষ্ট করা কি উচিত ! বলেই বিপুল দীঘবাস ছাড়ল

এই ঘটনার পর বহুবার নিমণল সেন এসেছে বাংলোতে আর কোনাঁদন বেকার বাউণ্ডুলে নিয়ে মাথায় ঘামায়ান কণা মজুমদার সম্বন্ধে আগ্রহও দেখায়নি নিম্ল সেন যা জেনেছে তার বেশি কেউ জানেনি। আট-দশ বছর ধরে একই হাতহাসের পদনাবূত্তি ঘটেছে অধ্যাপক- মণ্ডলীতেও অনেক রদবদল হয়েছে কেউ বদলি হয়েছে, কেউ অবসর নিয়েছে। আবার নতুন অধ্যাপক এসেছে, তারাও ধীরে ধীরে এই আসরে জমায়েত হয়েছে তারাও প্রশংসা করতে করতে ঘবে ফিরেছে।

সমর সরকার আইন সভায় জায়গা করে নিয়েছে, নীতিশ কোন কালেই বাক্যবাগীশ নয়, সে শহরের শেষ প্রান্তে চাষের খেত করে সারাদিন কাটায়। অমলেন্দু এলে সেও আগের মতই আসা-যাওয়া করে। মোটামুটি ধারাবাঁহক জীবনে কোথাও ছেদ পড়োন।

বষয়ি আর শীতে অমলেন্দু যথারীতি আসে এঁ শহরে প্লেন থেকে নেমে সোজা চলে যায় তার বাসম্থানে। নেমতন্ন করে তার পাঁরাঁচত জনদের আবার উৎসব মুখর হয় তার বাসস্থান, আবার লোকজনের যাতায়াত আরম্ভ হয়, হাসির হুল্লোর ওঠে, গঞ্জের ঝর্ণা তরুশ্তর্‌ করে বেয়ে চলে আগের মতই হাপিখুশি ভাবে অতিথিদের সুখ সুবিধার তদারক করে অমলেঙ্দু কোথাও কোন টি ঘটতে দেয় না সে। যৌবনের

৮২ কাজলদিঘী---২

ফেলে আসা রঙ্গীন মনটাকে আবার সতেজ করে তোলে জ্বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে

অকস্মাৎ ব্যাতক্রম ঘটল শীতকালে যে সময় অমলেন্দু আসে সে সময় পেরিয়ে গেছে এবার অধ্যাপকদের দল নিজেদের মধ্ই আলোচনা করে, কেন অমলেন্দু আসছে না। হয়ত তার অসুখ হয়েছে, না হয় কোন ৪০০:৫০910, সবাই জল্পনা কল্পনা করে, স্থির 'সদ্ধান্তে কেউ আসতে পারে না। পুরান অধ্যাপকদের মধ্যে রয়েছে শুধু নিমলি সেন। কেউ বদলি হয়েছে, কেউ অবসর নিয়েছে এবার পূজার পর বিপুলবাবুও অবসর নেবে। সবাই অমলেন্দুর সঙ্গে ঘাঁনষ্ট কিন্তু সেই দিনের সেই কাহিনীর একমাত্র সাক্ষী নিম্ল সেন। আর সবাই রাজনশীতি, সমাজনশাতি আর অথণনীতির কচকচানি করেই ক্ষান্ত থেকেছে।

সেই পুরানো দিনের কাহিনী নির্মল সেন নন্দিতাকে বলোছল। নন্দিতা জোর দিয়ে বলেছিল, কাহনণর নায়ক অমলেন্দ? লাহড়ী। হয়ত তাই ! সংশয় থেকেছে নিম্ল সেনের মনে।

সব চিন্তা ভাবনা ভেদ করে সহসা একাঁদন কলেজের শিক্ষকদের শবশ্রামঘরে এসে দাঁড়াল একজন ভদ্রমাহলা। বয়সটা অনুমান করতে পারা যায়। স্থির বলা সম্ভব নয়। দেহ সৌম্ঠবে সুন্দরী পদবাচ্য। এসেই জিজ্ঞাসা করল, বিপুলবাব আছেন ?

অন্প বয়োস একজন অধ্যাপক মুখ তুলে দেখল মাহলাটিকে নিরস- কণ্ঠে বলল, ছ-টিতে আছেন।

ভদ্রমহিলা প্রশ্ন করল, নিমলবাবু ?

ক্লাশে গেছেন, বসুন এখুনি আসবেন

ভদ্রমহিলা চেয়ার টেনে বসলেন। রুমাল দিয়ে মূখ মুছে স্থির দৃম্টিতে চেয়ে রইলেন সামনের পেয়ারা গাছের দিকে একটা' কাক পেয়ারা গাছে বসে রোদ পোহাঁচ্ছল, আনিমেষ নয়নে তারই দিকে চেয়ে চুপ করে বসে রইল ভদ্রমাহলাটি।

এই যে নিমলবাব্, বলল তরুণ অধ্যাপক। ইনি আপনাকে খজছেন।

ভদ্রুমাহলা মুখ ফারয়ে দেখল উঠে দাঁড়রে নমস্কার করল।

আপাঁন আমাকে খ'জছেন ! নিমল সেন মদ; কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল।

আজ্জে হাঁ।

কি দরকার বলুন। আপনাকে-_,

চিনতে পারেনান পারবেনই বাকি করে। কখনও দেখেনাঁন তো। আম কণা মজুমদার

স্বয়ং দেবাঁদদেব মহাদেব এসে দাঁড়ালেও নিম্ল সেন অত আশ্র্য হত না। বিস্মিত ভাবে কণার মুখের দিকে চেয়ে রইল, কোন কথা বলতে পারল না। বসতে বলার ভদ্রতা জ্ঞানটাও যেন লোপ পেয়ে গেল।

অবস্থাটা ব.ঝতে বিলম্ব ঘটল না কণার মৃদু হেসে বলল, আশ্চর্য হয়ে গেছেন দেখাছ !

[বস্ময়ের ভাব কাঢয়ে নির্মল সেন বলল, সাঁত্য-ই !

আমার বাঁড়র 1০০৪০2-টা জানতে এসোঁছ। রিক্সাওলাকে বলে দিন, কোথায় নিয়ে যাবে

অমলবাব; আসেনানি £

না। তাঁর জন্যই অপেক্ষা করতে হবে। শীগ-গররই আসবেন আশা করহি।

নির্মল সেন এগিয়ে গেল। রিক্সাওলাকে নিদেশ দিয়ে মৃদু কণ্ঠে জিত্ঞাসা করল, অমলবাব আপনার কে হন ?

কণা হেসে বলল, কে হন না বলুন?

বলতে বলতে কণা রিক্সায় উঠল মূখ ফিরিয়ে বলল, ও'র কাছেই আপনার নাম শুনছি, নইলে ঝাড় খোঁজার মাশুল ভালভাবেই দিতে হত। আচ্ছা আসি। বিকেলে আসবেন সদলে নমস্কার।

রিক্সা লন পেরিয়ে রাস্তা ধরল

নমল সেন অবাক হয়ে দাঁড়য়ে রইল বারান্দায়। এতাঁদনে কণা মজুমদারের রহস্যের জট যেন খুলে গেল তার চোখের সামনে নির্মল সেন নতুন জগতের সাথে পারচিত হল।

অক্ষয় রসায়নের অধ্যাপক নিমণ্ল সেনকে ওভাবে দাঁড়য়ে থাকতে দেখে এগয়ে এসে জিজ্ধেন করল, দাদা, অমন করে দাঁড়য়ে কেন £

কণা মজুমদার

কে? কোথায়? 'বাস্মত প্রশ্ন অক্ষয়ের

যে মাহলা এক্ষাান রিক্সায় করে গেলেন, তিনি

বলেন কি। দেখতে হত ভাল করে।

দত

অসুবিধা নেই। 'বিকেলবেলায় তার ওখানে নেমতন্ন রয়েছে বলেই নির্মল সেন ধারে ধারে নিজের জায়গায় এসে বসল।

দই

কণার আমন্রণে কতটা আস্তারকতা ছিল তা বুঝতে পারল না নিম সেন। 1বকেলবেলাটা ভেবেই কাটাল। যেতে পারল না আত পরিচিত বাংলোয় কেমন একটা লাজ;কতা তাকে পেয়ে বসল, কিছৃতেই সে যেতে পারল না। এই লাজুকতা অহেতুক তা বুঝল পরদিন কলেজে এসে কণার ছোট্র স্লিপ নিয়ে বাংলোর চাকর আঁভরাম এসে নমস্কার করতেই সচেতন হয়ে উঠল নিম্ন সেন। জিজ্ঞেস করল, কি খবর অভিরাম ?

মা চিঠি দিয়েছেন, বলেই কণার স্লিপখানা' এগিয়ে দিল নির্মল সেনকে খুব স্পম্ট পাঁরছ্কার হস্তাক্ষরে ইংরেজিতে লেখা_ 70621 911 9619, %95691099 1 ০5199060 %00. [১19299 00171070195 (1115 025-_758118. চিঠিখানা দিয়েই অভিরাম চলে যাচ্ছিলেন। নির্মল সেন ডাকল তাকে, জিজ্ঞেস করল, তোমার এই মাকে চিনতে তুমি ?

অভিরাম একগাল হেসে বলল, মায়ের কাছ থেকেই তো এসোছিলাম।

কোনদিন বলনি তো।

আভরাম মৃদু হেসে বলল, দরকার হয়ান। তার ওপর বাবুর নিষেধ ছিল।

তা হলে ইণি তোমার বাবুর স্ব

আভরাম মাথা নাড়ল, হাঁনা বোঝা গেল না।

আচ্ছা যাও। তোমার মাকে বল, বিকেলবেলায় যাব।

আভিরাম চলে যেতেই নির্মল সেনের মুখ 'দিয়ে বের হল, অধ্দুদ ! গত দশ বছরে একটা লোকও জানতে পারেনি, অমলে"দ? আর কণার সম্পরক। আজ আভরাম যেন যবাঁনকার ওপর আলোকপাত করল। বয়সের বিচারে কণা অমলেন্দুর স্মাশ না হয়ে মেয়ে হলেই বেশি মানাত। অমলেন্দুর সেই বাস্তব কাহনীর দীপক কি সে স্বয়ং এবং কণাই কি সীমতা! কেমন গোলমাল হয়ে গেল।

কলেজ থেকে বেরিয়ে সোজা সে নদীর পাশের পথ ধরল শীতটা কমে এসেছে কণা বাংলোর বারান্দায় বসে বিকেলের পড়ন্ত মন একখানা বই পড়ছিল মাঝে মাঝে তোসরি প্রচণ্ড স্রোতের দিকে

জন মনে মনে তারিফ করছিল অমলেন্দুর অবসর যাপনের স্ান নিবাচিন চাক্ষুস করে নিমল সেনকে আসতে দেখে উঠে দাঁড়াল সহাস্যে নিচে নেমে এসে বলল, তা হলে দয়া করেছেন!

[নমল সেন সহাস্যেই বলল, কার দয়া বুঝতে পারছি না। দয়া করে আপাঁন ডেকেছেন, সেটা ভুললে যে মহাপাপ হবে।

এবার ঘরে বসে পাপ ম্যান্ত ঘটান

আত পারচিত ঘরে এসে বসল নির্মল সেন। মুখোমুখি বসল কণা

অমলের আরও বন্ধুবান্ধব রয়েছে নিশ্চয়ই তাদের তো আমি চান না। আমার হয়ে কালকে তাদের নেমতন্ন যাঁদ করতে পারতেন তা হলে আবার উৎসবমুখর হত এই বাঁড়। স্মিতহাস্যে বলল কণা

আমার কথায় আসবেন তাঁরা?

তা হলে তাদের লিষ্ট দিন। আমি নেমতন্ন পন্ধ পাঠাব অভিরামের হাতে। আশা করছি, ও'রা পদধূলি দিয়ে আমাকে ধন্য করবেন।

আপনি এত বিনীত ভাবে কথা বলছেন কেন ? যাদের আসবার তারা আপনার পন্্র পেলেই আসবে তাদের নাম ঠিকানা আভরাম ভাল করে জানে

তা বটে। বলে কণা উঠে গেল।

নিমল সেন কেমন অসোয়াস্তি বোধ করতে লাগল

ণকছক্ষণ বাদেই কণা চায়ের ট্রে হাতে করে এসে ঢুকতেই মল সেন বলল, আপাঁন যেন বেশি ব্যস্ত হয়েছেন আঁভরাকে বললেই সেই তো সব করতে পারত

আপাঁন অমলের বন্ধু, দ্বিতীয়ত আতাঁথ আপনার সেবা আমার ধম

চায়ে চুমূক দিতে দিতে নিম্ল সেন মৃদুস্বরে বললঃ একটা কথা 'জজ্ঞেস করতে পার !

নিশ্চয়

দরজার সামনে নেমপ্রেট দেখে আপনাকে দেখবার জানবার অদম! স্পৃহা ছিল আমাদের মনে। গত আট-দশ বছর মনে মনে আপনাকে খুজেছি। কল্পনায় একটা মানুষের ঢেহারাও তৈরি করোছলাম।

কণা হাসল। হাসির সাথে নিম্ল সেন মোটেই পারিচিত নয়। হাসির তলায় ষে রহস্য তা কেবল অনুভব করল কণা, বলল, কল্পনার সেই মানুষটা উপে গেছে বুঝি

ঠিক তানয়। এই দ;রগ্ক পাগলানদী তোসার মত কেমন একটা ভাঙ্গাগড়ার নেশা দিল মনে আপনাকে দেখে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। জুলিয়াস সিজারের মত আপনি এলেন দেখলেন জয় করলেন তবুও মনে হয় আপনাকে দেখলাম, দেখে এখনও বিশেষণ করতে পারিনি আপনাকে জানবার কেমন একটা অদম্য ইচ্ছা রয়েছে মনে অবশ্য তা অহেতুক অনধিকার চচর্ট। তবুও ইচ্ছেটা রয়েই গেছে।

অমলেন্দুকে জিজ্ঞেস করেনানি কখনও 2 এই ইচ্ছাপ্‌ণ* করার দাঁয়ত্টা ওর কাঁধে তুলে দতে পারতেন।

আমি জিজ্ঞাসা করিনি যারা করেছে তারা সদূত্তর পায়নি

কণা খিলখিল করে হেসে উঠল, বলল, কণা 159 17196010 1)615917 8180 ৪1700) ০০,

বুঝলাম না।

আজ বুঝে কাজ নেই আপনাদের আশ্রয়ে এসোছ। কাল সবাই যখন আসবেন তখন আলোচনা করব জানতে চাইব আমার কি করণীয় কেমন ?-_ কাল শ্রীমতণকে সঙ্গে করেই আসবেন

নিশ্চয় আসব।

ঘাঁড়র দিকে লক্ষ্য করে নির্মল সেন উঠে দাঁড়াল।

অনেকটা রাত হয়েছে আজ তাহলে আসি নমস্কার

নমস্কার

কণা নির্মল সেনের সঙ্গে সদর দরজা অবাধ এগিয়ে এসে বিদায়

জানাল

কণা ভাল করে চেয়ার টেনে বসল। সামনে সমর সরকার, নীতিশ আর পস্মীক নিম'ল সেন।

খ্ড

চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে হাঁজর হল আভিরাম। কনাচাতৈরকরে এগিয়ে দিল। বলল, আজ রাতে না খেষে কেউ যেতে পাবেন না কিন্তু।

অগত্যা উত্তর দিল সমর সরকার।

পরিচয় পর শেষ এবার কণা বলল £ যে ধাঁধা নিয়ে এতগুলো বছর আপনাদের কেটেছে, যার জবাব দিতে পারত অমলেন্দু অথচ দেয়ানি, তারই যবনিকা উত্তোলন করব। তবে একাদনে তা হবে না। আরব্য উপন্যাসের শাহারজাদণীর মত রাতের পর রাত সেই ধাঁধার আবরণ খলতে হবে, শুনতে হবে ধৈয ধরে

শিবনাথ ছিলেন অতি সুপুরুষ যেমন স্বাস্থ্য, তেমান গায়ের রঙ, তেমনি চেহারা রাজা মহারাজার ঘরে জল্ম নেওয়া উচিত ছিল তার। গরীব কেরাণ-পত্রের রূপ যাঁদ রুপোর সঙ্গে মিতাল করতে না পারে, সে র্‌প কুরূপেই পাঁরণত হয় শিবনাথের তাই হয়োছিল। তার বাহিরটা ছিল জৌল.সভরা, সেই জৌল,স দিয়ে অস্রের কালিমা ঢাকবার চেষ্টা করেছে বার বার এবং বরাবরই তার কদর্ধতা ফুটে বেরিয়েছে বাহবে সেই কদধণ্তার নগ্নরূপ যারা দেখেছে তারা আতঙ্কে 'শিউরে উঠেছে।

শিবনাথ একক নয়। তার দোসর হল তার ষমজভাই রাধানাথ। শিবনাথের সাথে তাকে বদল দেওয়া যেত। গড়নে, উচ্চতায়, মুখশ্রীতে দুজন ছিল একইরকম রাধানাথের কানের কাছে ছিল কালো জন্মদাগ, নইলে দুজনকে আলাদা করে চিনে উঠাই ছিল মুস্কিল

বিদ্যালয়ের শেষ ধাপ অতিক্রম করল শিবনাথ। রাধানাথ হোঁচট খেল সেখানে

শিবনাথকে নামতে হল অর্থ উপাজনের ধান্দায়। ঘুরতে লাগল দরজায় দরজায় ক্রমেই তার মনে হতে লাগল, চাকরিলাভ ঈশবরলাভ প্রায় একই পবায়ে দাঁড়য়ে পায়ের জ্‌তো ছি'ড়ল, গায়ের জামা ময়লা হল, দেহ ক্রমাগত ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়ল, শুধু সংগ্রহ হল না বাঙ্গালীর জাঁবনে সবচেয়ে প্রার্থিত বস্তু-_একটি চেয়ারে বসবার চাকরি বেতন তার যাই হোক

অতাকিতে ঈশবরলাভের মত বস্তু তার কাছে সহজলভ্য মনে হল। রপদামামা বেজে উঠল যুরোপে, ছড়িয়ে পড়ল তার ধাক্কা সমগ্র বিশ্বে।

বেকার মানুষের দল ছুটে চলল হত্যালীলায় অংশ গ্রহণ করতে, আরেক দল মেতে উঠল ঘাতকের ভূমিকা গ্রহণ করতে টাকার বাজারে দেখা দিল নতুন চেতনা আস্থিরতা,__ ম.দ্রাস্ফীতি আর কালোবাজারী। 'শিবনাথ সুযোগ সন্ধানী হাতে স্বর্গলাভ করল

গ্রেট ওরিয়েন্টাল ইনডাস্াট্রয়াল ব্যাগ্ক লিমিটেড

নতুন পত্তন হল শহরে দেখতে দেখতে গজিয়ে উঠল আরও হাজারো প্রতিষ্ঠান

শিবনাথের কম-সংস্থান হল এই ব্যাত্কের কাউণ্টারে এত দিনের অধাীত বিদ্যা অকেজো মনে হল ব্যাত্কের কাউণ্টারে বসে যখন মদ্রাস্ফীত আর কালোবাজারের চেহারা দেখতে পেল।

প্রথম মাসের বেতন একশত টাকা এনে 'িতৃহস্তে প্রদান করে শিবনাথ প্রণাম করল। পিতা' ভবনাথ সারাজীবন চাকুরি করে অবসর গ্রহণ করেছে সরকার পেনশনের চল্লিশ টাকা বাদে আর কোন জীবিকার সংস্থান ছিল না। পুত্রের এই উপাজণনে খুশি হল, আশীবদি করল, শুভায় ভবতু। শিবনাথকে ডেকে বলল, তোর তো কিছু হল শিব, রাধূর একটা ব্যবস্থাও দেখ যাঁদ কিছ আনতে পারত তাহলে যে জমিটা [কনে রেখেছি, তাতে মাথা গোঁজবার একটা ঠাঁই করতে পারতাম। সারাজীবন ঝাড়ভাড়া দিয়েই কেটে গেল, শেষ জীবনে নিজের একটা আস্তানা ঘাঁদ করতে পারতাম! কথায় বলে, পর ভাতি হও, পর ঘরি শাহও। পরের ঘরে একমুষ্ো ভাত খাওয়া যায়, পরের ঘরে থাকা যায় না।

শিবনাথ পিতাকে প্রতিশ্রাতি দিল, আতি শীঘুই রাধানাথের ব্যবস্থা যাতে হয় সে দিকে সে নজর রাখবে এই প্রতিশ্রতীতি রক্ষা করতে বিশেষ িলঘ্ব ঘটোন। তনমাস পরে রাধানাথ একই ব্যাঙ্কের কাউন্টারে কাজ পেল। শিবনাথ রাধানাথ সমবেতনে নিযুন্ত হল।

শিবনাথ রাধানাথের মনোহারি চেহারাই তাদের এগিয়ে চলবার পথ খুলে দিল। উভয়েই তীক্ষরধী। অচিরেই শিবনাথ রাধানাথ বুঝল, পরের পয়সায় বড়লোক করবার একমান্র উপায় হল ব্যাঙ্ক পরিচালনা করা। ঘরের কাঁড় না দিয়েও জীবনের সব কিছু পেতে হলে যে কোন ব্যাঙ্কের মাথায় গিয়ে -বসা দরকার কোন প্রকারে কোন

ব্যাঙ্কের কতৃ-ত্ব হস্তগত করতে পারলে, ঢেলে সাঙ্জাতে বিশেষ অস্বীবধা হবে না। বাজারে কালো টাকার অভাব নেই, কালোবাজারণীদের টাকার কিছ অংশ গুছিয়ে নিতে পারলে ব্যাঙ্ক হয়ত বেচে যেতে পারে বাঁটুক আর না বাঁক, বর্তমানে [নিজেরা বাঁচতে চায়।

শিবনাথ যা ভাবে তা সহজে প্রকাশ করে না। রাধানাথ যা ভাবে তা প্রকাশ করে ফেলে। দুজনেই যখন আলোচনা করে পথ স্থির করল তখন রাধানাথ হল অগ্রগামী সংবাদ সংগ্রহ করতে লাগল, কোথায়, [কিভাবে তাদের কাজ করা সম্ভব সুযোগও এল। শিবনাথকে ডেকে বলল, শোন দাদা, ঝড় মাসুন্দা লোন কোম্পানি ডুবে আছে অনেক কাল আয়ও নেই, ব্যয়ও নেই সরকারি খাতায় বছর শেষে 'রিটাণ” দিয়েই খালাস। যে লোকটা নাড়াচাড়া করছে, তার হাতে কিছ? তুলে দিলেই ম্যানেজমেন্ট আমরা পেতে পার এখন তো নতুন ব্যাঙ্কের পত্তন করা বন্ধ, আমরা রাতারাতি নাম পাল্টে নিতে যাঁদ পারি তা হলেই কাজ হাসল।

শিবনাথ মাথা চুলকে বলল, কত দিতে হবে হাতে তুলে 2

হাজার তিনেক।

অত টাকা পাব কোথায় ?

ভা ম্যানেজ করা যায় যাদ তুই রাজ হয়ে কিছ-টা চাজ" নিস।

পাওয়ার রাস্তা যাঁদ থাকে তাহলে নিশ্চয়ই চেষ্টা করব। অন্রাঁজ কেন হব!