প্রথম গ্রকাশ : ফাল্গুন ১৩৫২ প্রকাশক : প্রবীর মিন্র: ৫/১ রমানাথ মজুমদার স্ট্রীট £ কলিকাতা, ্চ্ছগ ; গৌতম রায়

মু্রাকর; অজিত কৃমার দামই ; ঘাটাল প্রিটিং ওয়ার্কস ১/১এ গোয়াবাগান ফ্রী £ কলিকাতা-৬

দশ টাকা

“ডক্টর নীহাররগ্রন গগ্ত টা শ্রদ্ধাম্পদেষু'

"তে পারেনি

একই €ত্খ্খতকিক্া

€দহপ্পাউি বাতাসে বাবু শিখতে গাল আবাল €শিবজিছে ন্বাস্িকাকআ মন ব্য দশ আনা দত চন্দন বাজ সস্বমকস আক্ধুকী ধরাতে তম কামলা ধু বন্ধনে ফেল

কাল রাতে আবার শমিতা এসেছিল

অজুনে আর মেহগনি গাছের জটলার উর্ধে তারার চুমকি দেওয়া অখণ্ড আকাশ জানলার ফ্রেমে বাধা অরণ্যের ছবি। অন্ধকার রাত তাই দিগন্তে আক] সিদ্ধাই পাহাড়ের তরঙ্গায়িত রেখা সম্পূর্ণ অদৃশ্য ৃ্‌

এদেশের লোক বলে সিধাই ডিংরি। কে জানে কবে কোন অতীতে ওই পাহাড়ের গুহায় সংসাংত্যাগী কোন মুক্তপুরুষ সিদ্ধিলাভ কতেছিলেন। প্রপঞ্চময় জগৎ যে নশ্বরতার প্রতীক তাই প্রমাণ করাগ জন্য পনের পর দিন, রাতের পর রাছ্ তপত্তা!

ঠিক জানলার বাইরে যেখানে ফালি বারান্দায় গেট! ছয়েক টব রেখে বিজিত উদ্যান রচনার চেষ্টা করেছিল, সেখানে এসে শষিত! ধাড়িয়ুছিল।

সারাট। দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর বিদ্বানায় ছেহ ছোঁয়াবার সঙ্গে সঙ্গে বিজিত গাঢ় নিদ্রার অচেতন প্ুথিবীর কোন বর্ণ, গন্ধ, কারে। উপস্থিতি সম্বন্ধে মোটেই সজাগ নয়।

তাই শমিতাকে বিজিতের ঘুম ভাঙাবার জন্য চুড়ির শব্দ করতে হয়েছিল। জপতরঙ্গের মতন, কিংবা পাইনের পত্রগুচ্ছের মধ্য দিয়ে বাতাসের কাপনের তরঙ্গের মতন সে শব। শিল্ত বিজিতকে জাগাতে পারেনি

তাই খুব মৃছকণ্ে, প্রায় অস্পষ্ট সুরে শামতাকে বলতে ইয়েছিল ' *

এই শুনছ, ক'ত ঘুমোবে তুমি

আস্তে আস্তে বিজিত চেুখ খুলেছিল

আধ তন্দ্রা আধ জাগরণের উপকূলে ঠিক কিছু বুঝতে পারেনি

অরণ্যে একা--১

মনে হয়েছিল, কেউ তাকে ডাকছে চেতনার ওপার থেকে লুকে, গায়ে আলতো! পালক স্পর্শ করানোর মতন খুব ম্বকণ্ঠে কেউ কিছু বলছে তাকে

, অন্ধকারকে বিজিতের চিরকালের ভয়। তাই একেবারে কোণে নীলাভ আবছ! একটা আলো ঘরটিকে আরো যেন মোহময় করে তুলেছে। অন্ধকার সরেনি, আলোও ছড়িয়ে পড়েনি, এমনই অবস্থা |

তুমি আমাকে চিনতে পারছ না?”

শমিতা আরে! সরে এসেছিল একেবারে জানলার ধারে। শার্মীতে তার নিশ্বাসের দাগ পড়ছে।

শমিতা যদি চায়, যদি সে ইচ্ছা করে, হাত বাড়িয়ে বিজিতের দেহ ছু'তে পারে।

কিন্তু ছু'ল না। দেহের প্রতি তার কোন আকর্ণই নেই। বুঝি কোনদিনই ছিল না।

যখন বিজিত ধর! দেবার জন্ত উন্মুখ ছিল, তখনও নয়

শমিতকে বিজিত চিনতে পারবে না, ত1 কি হয়!

কত বছর, মনে মনে বিজিত হিসাব করল। এক ফাল্গুনে ছুজনে ঘনিষ্ঠ হয়েছিল! পরের ভাদ্রে শমিত! হারিয়ে গিয়েছিল

সাতট! মান একটা মানুষের জীবনের অকিঞ্চিংকর ভগ্নাংশ কোঁন রমণীকে চেনার পক্ষে হয়তো যথেষ্ট নয়।

কিন্ত বিজিত শমিতাকে চিনতে পেরেছিল জানতে পেরেছিল

তার কারণও ছিল।

মাটির ওপরে গাছের ধে পত্রসম্ভার যে পুষ্পসজ্জ। দেখা যায়, সেটাই কি গাছের সব?

লোকচক্ষুর অন্তরালে অন্ধকার কোষে গাছ তার শিকড়ের জাল ছড়িয়ে প্রাপরস সংগ্রহ করে, সেখানেও তো তার পরিচয় লুকানো

বিজিতের সাত মাসের জীবনের আগে পুরো তিনটি মাস সে

মিতার সঙ্গে ছায়ার মতন জড়িয়ে ছিল। তার সুখ-হুঃখের অংশীদার, তার প্রাণচাঞ্চল্যের সরব সাক্ষী

তুমি কেন এভাবে আস ? জান না এতে আমার কষ্ট হয ?'

বালিশে ভর দিয়ে বিছানায় উঠে বসে বিঞ্জিত প্রশ্ন করল। -

তার রীতিমত কাপছে। ঝড়ে ভয় পাওয়া পাখির বুকের মতন।

শমিতা কি হাসল! শব্দহীন হাসি কিংবা অল্প শব বোধ হয় হয়েছিল, না হলে হাদির আওয়াজে কেন* বিজিত সচকিত হয়ে উঠবে।

“তোমাকে কষ্ট দিতে আমার ভাল লাগে। তুমি কষ্ট পাও, তাই আমি আসি

“কষ্ট দিতে আস? বিজিত অস্পষ্ট সুরে স্বগতোক্তি করল, «এ তোমার কি নিষ্ঠুর খেলা? এমন সর্বনাশ! খেলায় তুমি কি আন পাও।?

আবার হাসির শব সাওতালদের দুরাগত বংশীধবন্দর মতন

তারপর জলে যেমন আলপনার রেখা মুছে যায়, তেমনভাবেই শমিতার রূপরেখা নিঃশেষে মুছে গেল।

শমিতা কোথাও নেই কোনদিন কোথাও ছিল, এমন প্রমাণও দেখা গেল ন1।

ততক্ষণে বিজিতের কপালে ঘামের বিন্দু উত্তেজনায় হৃদস্পন্দন ক্রুততর। বিস্ফারিত দৃষ্টিতে আতঙ্কের ছবি

চেঁচিয়ে মংলুকে ডাষ্কবার ইচ্ছা হ'ল।

ঘরের বাইরে, চৌকাঠের কাছেই মংলু শুয়ে আছে

অত্যন্ত সজাগ ঘুম। বাতাসে গাছের পাতা কাপলে উঠে বসে।

বিজিতের এক ভাকে ছুটে বিছানার কাছে এসে দীড়াবে।

একটু জল পেলে হ'ত।

ঘরের কোণে কাচের সোরাই আছে। সোরাইয়ের মুখে গ্লাশ।

বিজিত অনায়াসেই উঠে জল গড়িয়ে নিতে পারে।

কণ্ঠ শুধু নয়, বুক পর্যস্ত আতপদগ্ধ মাঠের মতন শুকনো

কিন্তু বিজিতের সাহস হ'ল না।

সোরাই ছোবার সঙ্গে সঙ্গে বদি আর একজনের হিমশীতল স্পশ হাতে লাগে।

তৃষ্ণার চেয়েও মাপাত্বক আর এক অনুভূতিতে বিজিত শস্থির হয়ে পড়বে।

এই যে কষ্টকর অবস্থা, এই প্রাণাস্তকর বিপর্যয়, এসব কিন্তু রাতের কালে৷ যবনিক। সরে যাবার সঙ্গেই দূরীভূত হয়।

দিনের আলোয় বিজিত স্ুুস্থ, সবল মানুষ জাদরেল অফিপর ! যে অরণ্যের আত্মার সন্ধান পেয়েছে, শাল, সেগুন, মেহগনির চার! যার কাছে অন্তরের আতীয়।

আদিবাসীরা অরণ্যের দূর প্রান্তে গাছ কাটতে শুরু করেছে। শুধু গাছ কাটাই নয়, মাথায় নিয়ে নিজেদের ডেরার দিকে পালাচ্ছে।

খবর কানে যেতেই বিজিশ বন্দুক সঙ্গে শিয়ে লাফিয়ে জাপে উঠে পড়ে বাহাছরকে আদেশ দেয়।

“বাহাহুর, ফুলগিপির দিকে চালাও যঙ স্পীডে পার

একাগ্রচেতনা, কর্তব্যসজাগ এই মানুষটিকে দেখলে রাতের শঅন্ধকীে কম্পান্বত আর এক সত্তার কথা কল্পনাও কর। যার না

মাঝপথে অপরাধাঁদের আটক করা হয়।

ছেলে, বুড়ো» মেয়ের দল মাথায় কাঠের বোঝা বুনে। লতা দিয়ে বাধা

দলের সর্দার এগিয়ে আনে।

“তোদের তো৷ এত আছে বাবু আমাদের রশাধবার কাঠ নাই ! কট। ছেড়ে দে বাবু,

বিজিত হাসল। লোকগুলো তাকে এত বোক পেয়েছে। শাল, সেগুন, মেহগনি দিয়ে উনান ধরাৰে?

আসল কথা বিজিতের খুব জান!।

জঙ্গলের সীমানার বাইরে লরি নিয়ে লোক অপেক্ষা করছে। এই সব কাঠ সেই লরিতে চালান হবে। বুড়ো সর্দারের গেঁজে নোটে ফুলে উঠবে

“কাঠ নামা সব। একটা কথা নয়। দেখছিস আমার হাতে কি?

বন্দুকট1 তাক কবে বিজিত দাড়াল

বন্দুক দেখে সর্দার যত না ভয় পেল, তার চেয়ে বেশী ভয় পেল, বিজিতের দৃঢ় গলার আওয়াজে

কিছু বলা যায় ন' বেপরোয়া এই নাবু হয়তো গুলিই ছুড়ে বসবে

£ওগন করিস নাই বাবু» এই নে তোর কাঠ। তবে এটা ঠিক জানিস বোঙ্গাবাবা। তোকে ছাড়বে নাই ।” তোর বুকে আগুন জ্বালাবে' শান্তির আগুন

পলকের জন্য বিঞিতের কঠিন দেহটা! "যন শ্লিথ হয়ে যায়। ঢোবে। দীন্তি নিশ্প্রভ হয়ে ক্যাসে একটু বুঝি অন্যমনস্ক হরে পড়ে

তাহলে কি বোঙ্গাবাবার অভিশাপেই তানের শ্ন্ধকারে শমিতা বিজিতের বুকে অশান্তির আগ্ন জ্বালাতে আসে !

কিন্ত বিজি 5 ছাড়ে না।

ফেলে যাওয়া কাঠ পাহারা দিতে দিে বাহাছুরকে বলে তুমি হলে যাও ধাহাছুন, একটা লরি পাঠিয়ে দাও এইট সন কাঠগুলে! ্গরিতে তুলে নেৰে।,

মাদেশ পাবার পরও বাহাহুর ইতস্তত করে

কিছু বলা যায় না। এভাবে এখানে বিজিতের একলা থাকা! উচিত হবে না। হয়তো ঝোপের মন্তরাপ থেকে তীরের ঝাঁক এসে পড়বে বিষ মাখানে তীরের ফলা ত্বক ভেদ করে দেবে। বিষ রক্তে গিয়ে মিশবে

বিজিত নিশ্চিন্ত তার অসহায় অবস্থার জন্য সে মোটেই উদদিগ্ন নয়।

অরণ্যকে বিজিত ভালবাসে কর্তবাাকেও।

আরও ভালবাসার সামগ্রী তার ছিল।

কৈশোরের স্বপ্ন দিয়ে, যৌবনের প্রেরণা দিয়ে যে মৃঠি সে গড়েছিল, সে মৃত্তি শমিতার

একেবারে হঠাৎ দেখা আগের কোন প্রস্ততি নেই, কোন আয়োজন নয়, তৈরি সংলাপও ছিল না।

বাইরের ঘরে বসে বিজিত বিজ্ঞানের বই পড়ছিল। সামনে পরীক্ষা অবশ্য পরীক্ষাকে তার কোন ভয় ছিল না। কোনদিনই ' নয়। শিক্ষিত ঘোড়া যেমন অনায়াস পটুত্বে একটার পর একটা বেড়া পার হয়ে যায়, বিজিত তেমনইভাবে স্কুলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার স্বতন্ত্র ব্যাপার

হায়ার সেকেপারি পরীক্ষা এবারের প্রতিযোগী শুধু ক্লাশের ছাত্ররা নয়, অন্ত স্কুলের ছাত্ররাও। এই পরীক্ষার কষ্টিপাথরে বিজিতের মেধার যাঁচাই হবে।

হঠাৎ আকাশ কালে! করে কখন বৃষ্টি নেমেছে, তন্ময় বিজিত খেয়াল করেনি _ *খেয়াল হ'ল এক কিশোরীর উত্তেজিত কণ্স্বরে।

কি, কানে কম শোনেন নাকি? কখন থেকে চেঁচাচ্ছি।,

বিজিত উঠে জানলার কাছে গিয়ে ধাড়িয়েছিল।

“আমাকে কিছু বলছেন ?

"মর এখানে কে আছে? আর কাকে বলব!

অপ্রস্তত বিজিত আরও এগিয়ে এসে প্রায় গ্বরাদে মুখ ঠেকিয়ে! বলেছিল।

“বলুন, কি বলবেন?

আরক্তমুখে কিশোরী প্রায় চীংকার করে উঠেছিল

“আচ্ছা লোক তো মশাই আপনি, দেখছেন না কিভাবে ভিজে যাচ্ছি।

তখন যিজ্বিতের চেতনা হয়েছিল

তাই তো, অঝোরধারায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে মাঝে মাঝে মেঘও ডাকছে সরু ফালি রোয়াকের ওপর দাড়িয়ে মেয়েটি অনেক চেষ্টা সত্বেও নিজেকে বাচাতে পারেনি

শাড়ী বেয়ে, চুল বেয়ে জলের ধার গড়িয়ে পড়ছে

এক হাতে বইয়ের গোছ। শাড়ীর আচলে ঢাকা অন্ত হাতে চটি।

বিজিত দ্রেতপায়ে এসে দরজা খুলে বলেছিল

“আনুন, ভিতরে আম্মন

কিশোরীর বয়স চোদ্দ পনেরর বেশী নয়। আয়ত নিষ্পাপ ছুটি চোখ দেখলে আরে যেন ছোট মনে হয়

“মা, মা।+

বিজিত নিজের মাকে ডেকেছিল।

বাইরে অঝোর ধারাপাত, আধে! অন্ধকার ঘরের মধ্যে সিক্ত মেয়েটির সানিধ্যে দীড়িয়ে বোধ হয় বিজিতের নিজেকে অসহায় মনে হয়েছিল।

বিজিতের মা ঘরে ঢুকেই চমকে উঠেছিলেন

মেয়েটি পাড়ার কেউ নয়। পাড়ার হ'লে পথে ঘাটে কোনদিন দেখতে পেতেন অজানা, অচেনা মেয়েটি ঘরের মধ্যে ঢুকল কি করে?

কিন্তু সব কথ! মনের মধ্যে উঠেই মিলিয়ে গেল

লিক্ত বন্ত্রে মেয়েটি কাপছে। অসময়ের বৃষ্টি। বাতাসে শীতের মিশেল।

ইস্‌, একেবারে ভিজে গেছ যে মা। এস আমার সঙ্গে

জজ

এবার কিশোরী কৃুষ্টিত হ'ল।

দ্বিপ্বাগ্রস্থ গলায় বলল।

“ঠিক আছে, ব্যস্ত হবেন না। বৃষ্টি এখনই থেমে যাবে। বৃষ্টি থামলেই আমি চলে যাব। এটুকু ভিক্তলে আমার কিছু হবে না।'

বিভ্িতের মা ঠাট টিপে হাসলেন।

«একটুখানি ভেক্তাই বটে। কোন কথা শুনব না। এস ভিতরে

প্রায় আধ ঘণ্টা পরে শরীর মুছে বিজিতের মায়ে একটা শাড়া পরে মেয়েটি যখন আবার বাইরের ঘরে এসে বসল, তখন হঠাৎ যেন বিজিতের তাঁকে নতুন মনে হ'ল।

লাল পাড় শাড়ী, সাদা জমি, চুলের রাশ পিঠের ওপর ছড়ানো, খালি পা।

প্রায় পিছনেই বিজিতের মা এহস চাড়ালেন। হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে প্লেট বোঝাই পাপর।

“নাও শমিতা, চাটা আগে খেয়ে নাও আদা দিয়েছি তোমার ভালই লাগবে যা ভিজেছ

বিজিত বুঝতে পেরেছিল, নেপধ্যে কিশোরীর নম খাস এবই তা মা জেনে নিয়েছেন

মাই বসলেন,

'শমিতা আমাদেগ গাখীর বধু একসঙ্গে নডেন ফুলে পড়ে। রাখীকে চিনিস তো?

বিজিত রাখীকে চেনে। মোড়ের দর্তবাড়ীর মেয়ে। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে মেয়েটিক্ষে সামনের বাগানে বেড়াতে দেখেছে চোখে চশমা, শীর্ণ চেহারার মেয়ে বয়সে শমিতার চেয়ে বড় হলেও এখনও ফ্রক পড়ে৷

৮) পাপর খাওয়া শেষ করেই শমিতা উঠে দাড়াল

বৃষ্টি থেমেছে তবে থমথমে অন্ধকার চারদিক ঘিরে আকাশে মেঘের ভার। যে কোন মুহুর্তে আবার বর্ষণ শুরু হতে পারে

জানল! দিয়ে হাত প্রসারিত করে শমিতা বাইরের অবস্থা দেখল, তারপর বলল, “বৃষ্টি থেমেছে, আমি এবার যাই আমার বই খাতা?

এনে দিচ্ছি।,

বিজিতের মা (ভতরে গিয়ে বই খাতাগুলে৷ এনে দিলেন।

দাড়াও, এই অন্ধকারে একল। যেতে হবে না, বিজিত তোমার সঙ্গে যাবে

কোলের ওপব বই রেখে 'বছিত এতক্ষণ চুপঢাপ বসেছিল

অনেকদিন আগে কাদের পোষা টিয়া একবার বিজিতদেব জানলায় এসে বাসহিল। ঘাড় বেঁকিয়ে ঘরের মধ্যে দেখেছিল।

গাঢ় সবুজ রং, লাল টু্কটুক ঠোট, গলার কাছে রক্তিম আচড়। হঠাঁৎ সেই টির কথা বিজিতের মনে পড়ে গেল

“না, না, আদার সঙ্গে ক'উকে যেতে হবে না। দ্মামি চিক চলে যেতে পারব ।'

ইতিমধ্যে মায়ের ইশারায় বিজিত বই রেখে উঠে ধাড়িয়েছে। ভাখছে, ভিতরে গিয়ে ফস একট: সার্ট গায়ে দিয়ে মাসবে কিনা

“গজীর দিকে কয়েক প। এগিষেই শমিতা থমকে দাড়াল

হেসে বলল, '“দদামার কাণ্ড দেখেছেন, নার শাড়ী ব্রাউজ পরেই চলে যাচ্ছি খেয়ালঈ নেই। এগুলো বদলে নিই 1

বিজিতের মা বাধ। দিলেন।

“ও মা, সে সব পর্বে কি করে! এখন৪ টপ টপ করে জল খরহে। আমি ঘরের মধ্যে মেলে | | দিজিত তো যাচ্ছ, তোমাদের বাড়ি চিনে জাখবে। «“1ল বরঞ্চ ওগুলো দিয়ে আসবে অস্বিধ! হবে £

"অসুবিধা? না অস্থাধধা পার কি। তাহঠৈ কাল উনি যখন ধাবেন তখন ওর হাতেই আপনার জামা কাপড় ফে্ৎ দিয়ে দেখ ।,

শমিতার পিছন পিছন বিজিত বাইরে এসে ঈাড়াল।

অন্ধকারের জন্য অনেক বাড়িতে অসময়ে বাতি জ্বেলেছে।

টি

পথচারীর সংখ্যা কম। যে কজনকে দেখা গেল, সবাই হুর্যোগের ভয়ে দ্রুত চলছে। হু-একটা রিল্লাও দেখ! গেল

চৌরাস্তার কাছ বরাবর গিয়ে বিজিতের মনে পড়ল।

সঙ্গে একটা ছাতা আনলে হ'ত। হঠাৎ যদি বৃষ্টি নামে, তাহলে তুজনকেই ভিজতে হবে।

অবশ্থ এক ছাতার তলায় হুজন এমন একটা অবস্থা কল্পনা করেও বিজিত প্রায় শিউরে উঠল।

বিজিত মা বাপের একমাত্র সম্তান। তার বোন নেই, কাজেই বোনের বান্ধবীদের সমাগমের সম্ভাবনা ছিল না। দূর সম্পকীঁয়। কোন অন্ুজার কথাও সে মনে করতে পারল না।

তার একমাত্র সঙ্গী বই। পড়াঁশোনার অবকাশে মা বাবার সঙ্গে হৈ হৈকরে।

বইগুলো একটু ধরবেন ?

আচমকা শমিতার কথায় বিজিতের চিন্তার সুত্র ছিড়ে গেল

শমিতা বই খাত। এগিয়ে দিয়েছে।

কিছু না ভেবেই বিজিত সেগুলে! নিজের হাতে নিল

এই বই খাতা উনানের পাশে রাখা হয়েছিল, তাই সেগুলোয় তখনও উত্তাপ ছিল।

বিজিত কবি নয়, তাহলে এই উত্তাপের গভীর কোন অর্থের সন্ধান.-করতে পারত।

সামনে অনেকটা জায়গা জুড়ে জল।

এখানে একটু বৃষ্টিতেই জল দ্াড়ায়। অনেকক্ষণ থাকে।

শমিতা চটি জোড় খুলে হাতে নিল, আর এক হাতে শাড়ীর প্রাস্ত সামান্ত গুটিয়ে নিল, তারপর জল পার হয়ে গেল

বিজিত জুতে। পায়ে দিয়েই জল কেটে এধারে এল জুতোট! ভিজল, কিন্ত শমিতার সামনে জুতে। হাতে করতে বোধ হয় তার ইঞজ্জতে বাধল।

১৩

চৌরাস্ত। ছেড়ে গলি। তারপর উপগলি।

যখন বিজিতের মনে হ'ল শমিতা বুঝি আঁর থামবেই না, তখন' শমিতা ফিরে ধাড়াল।

“এই যে আমাদের বাড়ি। ভাল করে চিনে রাখুন। আমার কাপড়জাম! নিয়ে আবার তে] আসতে হবে

বিজিত দেখল

জরাজীর্ণ বাড়ি। ছুতলা। আদিতে কি রং ছিল বোবা! মুস্কিল। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে ইটের পাঁজর প্রকট পাইপের পাশে বট অশ্বতের চার]

বাড়ির সামনে একটা দীপদণ্ড থাকায়, বাড়ির ক্রিন্ন রূপ পরিফষার' দেখ! গেল।

'আমি যাই তাহলে?

বিজিতের কথা শেষ হতেই শমিত৷ বিস্মিত কে বলল।

“ওমা, চলে যাবেন কি। ভিতরে আস্থন। আমার অভিভাবকের কাছে আমায় বুঝিয়ে দিয়ে যান”

কয়েকবার কড়া নাড়তে পলিতকেশ এক বৃদ্ধ দরজা খুলে দিলেন

শীর্ণ চেহারা চোখে বেশী পাওয়ারের চশমা হাতে ছোট একটা খাতা

হ্যারে খুকি, স্কুলে আটকে পড়েছিলি বুঝি? আমি তো

বিজিতের দিকে চোখ পড়ভেই বৃদ্ধ থেমে গেলেন

জিজ্ঞাস্থু দৃষ্টিতে শমিতার দ্রিকে চোখ ফেরাতে শমিতা৷ বিজিতকে আহ্বান করল,

“আস্মন, ভিতরে আসুন

ছোট ঘর। কোণে একটা চেয়ার, হাতলহীন। ময়লা মাছুর পাতা। খুব কমজোর বাতি।

বিজিতের মনে হ'ল, চেয়ারে বোধ হয় বৃদ্ধ বসেছিলেন, তাই মে ইতস্তত করে মাছুরের ওপরই বসে পড়ল।

১১

“আমার বাৰা

শমিতা হাত দিয়ে বৃদ্ধকে দেখাল

উঠে দীড়িয়ে প্রণাম করতে গিয়েই বিজিত থেমে গেল। তার মনে পড়ল শমিতার পদবি তার জান! নেই বিজিতরা ব্রাহ্মণ শমিতার! যদি অব্রাহ্মণ হয় তাহলে পা ছুয়ে প্রণাম করা সমীচীন হবে না।

তাই সে ছুটে তাঁচজোড় করে বলল, “নমস্কার

পুরু কাচের মধ্য দিয়ে বৃদ্ধ বিজিতকে জরিপ কবে বললেন,

“তোমাকে তো বাবা ঠিক চিনতে পারলাম নাঁ।

শমিত ঘরের মধ্যে যাচ্ছিস ফিরে এসে বলল,

বৃষ্টির সময় এদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম, নইলে একেবারে ভিজে যেতাম দেখ না, এর মায়ের শ!ড়ী ব্লাউজ পরে এসেছি। ব্লাউজটা তিনটে সেফটিপিন দিয়ে আটকাতে হয়েছে আমার জামা কাপিত ইনি পরে নিয়ে আসবেন ।?

বৃদ্ধ শ্লথগতিতে চেয়ারে গিয়ে বসলেন।

একার শমিতাঁর দিকে ভা একবার বিডিত পর পিকে চোখ কিরিয়ে বললেন, “আ" 'ত রপদ্ হাঙের বঈতে মনোনিপবশ করলেন

বিজিভ ভাব, বাড়িটা যখন দেখা হয়েছেঃ তখন এবার সে টঠচলই পারে আক এখানে অনাবশ্যক বসে থাকার কোন নানে হয় না।

£খনও আক:শ এমধমে | হঠাৎ বৃষ্টি নামা বিচিত্র নয়। বিজিতকে গাস্তায় ভিজতে হলে।

কি আশ্চর্য, সঙ্গে ছাত। আনার কথাট। তার একবারও মনে হয়শি। যা তাড়া কবে বের হতে হয়েছে

বিজিভ যখন ভাবছে, কাকে বলে বেরিয়ে যাবে, শমিতাকে না তার বাবাকে, তখনই ভিতর থেকে হাই হিল জুতোর শব শোন। গেল। খট, ধট, খট।

কে যেন দ্রেতপায়ে এগিয়ে আসছে

পুরানো শাড়ীর পর্দা টাঙানো সেই পর্দাটা খুব জোরে ছুসে উঠল।

তারপরই যে বাইরের ঘরে ঢুকল, তাকে দেখে বিজিত হতভম্ব হয়ে গেল।

পাখির বাসার মতন উচু খোপা, দ্বকা'ন বড় বড় রিং, উগ্র প্রসাধন করা মুখ, গাট রক্তিম ঠোট? ছুঃসাহসিক ব্রাউজ, চটকদার শাড়ী।

পরিবেশে এমন মেধে যেন বেমানান '

এক মুহূর্ত বিজিতের দিকে চোখ প্রেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিল

বৃদ্ধের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, “আমি যাচ্ছি।

তিনি বই থেকে মুখ তুললেন, “এই ছুর্যোগে বের হচ্ছিস।'

“ছুর্যোগ বলে রিহাস্াল বন্ধ থাকবে নাকি? একি তোমার রেদের মাঠ যে জোর বৃষ্টি হলে ঘোড়া দৌডাবে না

তীক্ষ মনে হ'ল প্রতিধ্বনিতে ছোট ঘর ভরে উঠল।

মহিলা দাড়াল না আবার জুতোর শব্দ তুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।

বেশ কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। কেউ কোন কথা বসল না|

কিছুট1 সময় কাটলে ?বজিত লাহন করে বলল, “এবার আমি যাব।

“যাবেন? শমিতা অন্যমনস্ক $ঠে কথাটা বলল। খুব মৃদু সুরে। যেন বিজিতকে নয়, নিজেকে বলল

শমিতার বাব। কিছু বললেন ন1)

বিজিত বেরিয়ে এল

রাস্তার মোড়ে এসে দেখল, মহিলা দাড়িয়ে রয়েছে বোধ হয় বাসের অপেক্ষায়। কিন্ত না, বিজিতের ভূল হয়েছিল

মহিল। হাত নেড়ে একটা ট্যাক্সি থামাল, তারপর তার মধ্যে উঠে বসল।

১৩

মোটরের লাল পুচ্ছবিন্দু অদৃশ্য না হয়ে যাওয়1 পর্যন্ত বিজিত রাস্তায় দাড়িয়ে রইল।

জরাজীর্ণ বাঁড়ি, বৃদ্ধ শীর্ণ চেহারার শমিতার বাপ, শমিতাকে দেখেও অভিজাত পরিবারের কেউ বলে মনে হয়নি

কিন্তু জীর্ণ ফ্রেমে এই স্ুসজ্জিতা মেয়েটির ছবি যেন বেমানান

ভাগ্য ভাল বিজিতের। বাড়ির মধ্যে পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে আবার তুমুল বর্ষণ শুরু হ'ল।

আর পাঁচ মিনিট দেরী হ'লে বিজিতকে একেবারে স্নান করে বাড়ি ফিরতে হ'ত।

বিজিতের মা আর বাবা হছুজনেই বাইরের ঘরে অপেক্ষা করছিলেন।

বিজিত ঢুকতেই ম! উদ্দিগ্নকণে প্রশ্ন করলেন,

"কিরে, এত দেরী হ'ল?

বিজিত হাসবার চেষ্টা করে বলল, “বাড়ি কি এখানে নাকি? যেতে আসতেই সময় লেগে গেল ।,

মনে হ'ল, বিজিতের বাবা সব কথাই শুনেছেন। তিনি কিছু বললেন না

হ্যারে, শমিতার বাড়িতে কাকে দেখলি ?

মা চেয়ারে বসে আবার জিজ্ঞাসা করলেন।

“ওর বাবার সঙ্গে দেখা হ'ল ওর! কি জাত মা?'

“জাত? শমিতারা সরকার কেন রে?

'আমি ভাবছিলাম, ওর বাবার পায়ের ধুলে! নেব কি না?

বিজিতের বাবা ঠোটে পাইপ চেপে জানলার বাইরে দেখছিলেন। বোধহয় বৃষ্টির প্রকোপ

বিজিতের কথায় মুখ ফিরিয়ে বললেন, আজকাল আর ওসব কেউ মানে না। বয়োজ্যেষ্ঠ হলেই প্রণাম কর! চলে আমরা তে অব্রাহ্মণ অধ্যাপককেও প্রণাম করেছি ।”

১৪

সারাটা পথ বিজিতের মনে যে চিন্তা ছায়াপাত করছিল, সেটাই এবার সে জিজ্ঞাসা করে ফেলল

“তোমাদের শমিতার মাকে তো দেখতে পেলাম না। তিনি ঘরের মধ্যে থেকে বাইরেই বের হলেন ন|।

বিজিতের মনে একটা একটা চাপা অভিমান ছিল। প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ।

বিজিতের্‌ মা শমিতার জন্তঠ এত করলেন, পরণের শাড়ী বাউজ দিলেন, নিজের ছেলেকে পাঠালেন সঙ্গে, অথচ শমিতা তার মায়ের সঙ্গে বিজিতের একবার পরিচয়ও করিয়ে দিল না।

বিজিতের মা ভর কোচকালেন।

“মিতার মাকে দেখবি কি করে! তিনি তো কবে মার গেছেন। শমিতারই ভাল করে তাকে মনে নেই। শমিতা যখন বছর ছুয়েকের তখন তার ম1 বেরিবেরিতে মারা যান। শমিতার দিদিকে দেখলি না?”

শমিতার দিদি! তাহলে সেই মহিলা কি শমিতার দিদি !

কিন্ত শমিতার সঙ্গে তার মুখের তো কোন মিল নেই। শমিত! কালে! না হ'লেও খুব গৌরী নয়, কিন্তু মহিল। রীতিমত ফস! মাভরণে আবরণে তাকে অভিজাত পরিবারের বলেই মনে হু'ল।

তাছাড়া, মহিলা রিহাসালের কথ কি বলল!

ইচ্ছা থাকলেও বিজিতের 'শার কিছু জিজ্ঞাসা করা সম্ভব হ'ল ন|।

একটু পরেই তার প্রাইভেট টিউটর আসবেন। তার আগে বই খাতা নিয়ে তাকে পড়ার টেবিলে গিয়ে বসতে হবে।

কি আশ্চর্য, পড়ার ফাকে ফাকে দিদির কথাই মনে পড়তে লাগল।

রিহার্সালের কথ! আর ঘোড়দৌড়ের মাঠের সঙ্গে তুলন!।

শমিতার বাবার হাতের ছোট বইটার কুলুজিট। বোঝা গেল।

৭৫

স্কুলে যেতে আনতে গলির চায়ের দোকানে এই রকম ছোট বই হাতে বেশ কয়েকজনকে বিজিত বসে থাকতে দেখেছে।

তার বন্ধুরা বলেছে, এর। সব রেসের পোকা। বসে বসে ঘোড়ার কো্ঠী দেখছে। শনিবার কেউ বাজিমাত করবে, কেউ চিৎপাত।

বিজিত শুধু শুনেছে, কোন আগ্রহ প্রক করেনি।

শমিতার বাবাকে দেখার পর থেকে সে ব্যাপারে যেন একটু চিন্তিতই হয়ে পড়ল। |

রেস খেলতে টাকাব প্রয়োজন হয়। একরকমের নেশা জুয়ার লগোত্র। সর্বস্বান্ত হবার ভয়ও থাকে

শমিতাদেগ ঘরের আসবাবপত্রে দীনতার ছাপ। শরমিতা" বাব! রেস খেলার জগ্ঠ পর্যাপ্ত টাক পান কোথা থেকে ?

কিংবা তিনি রেস খেলেন বসেই হয়তো শমিতাদের এই অবস্থা]

পরের দিন বিকালে বিভিতেব মা এসে দাড়াজেন হাতে একট প্যাকেট।

পরীক্ষার পড়াব জগ এখন স্কুল বঞ্ধ। সারাট। দিন বিজিত পড়াশোনা করেছে বিকালের দিকে কাছের পার্কে একটু বেড়িয়ে আলবার জন্থা তোর হাচ্ছল, এমন সময় মা ডাকলেন,

1ব।জত

“মা

বিজিত মায়ে কাছে এসে দ্লাড়াল।

“মেয়েটার শাড়ী আর রাউজ [দিয়ে আয় বাবা। এই নে।,

বিজিত হাত বাড়িয়ে প্যাকেটটা নিল, কিন্তু শমিতাদের বাড়ি যেতে তার মোটেই ইচ্ছ। করছিল ন1।

শমিতার সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়ে গেলে বেশ হয়, তাহলে আর উজান বেয়ে তাঁকে শমিতাদের বাড়ি পর্যস্ত যেতে হয় না|

চলতে চলতে বিজিত এদিক ওদিক দেখল। ইচ্ছা! করেই

১৬

উল্টো দিকে রাখীর বাড়ির কাছাকাছি গেল। হদি শহিগা! এসে থাকে। তাকে দেখা ষায়। ্‌

না, শমিতা কোথাও নেই।

বিজিত খুব ভয়ে ভয়ে অতি সন্তর্পণে দরজার কড়। নাড়ল।

তার ধারণা ছিল, সম্ভবত শমিতার বাবাই দরজা খুলে দেবেন।

কিন্তু না, দরজা খুলল কালকের সেই মহিল!।

তবে আজ তার সাজ মোটেই উগ্র নয়। পরণে সাধারণ শাড়ী। এলো খোপা। শুধু মুখটা চকচক করছে।

দরজা খুলে মহিল। সরে গেল না। ফলে বিজিতকে চৌকাঠের এপারেই ফ্লাড়িয়ে থাকতে হ'ল।

“কে?

বিজিত কে এমন একট! প্রশ্নের উত্তর দেওয়। খুব সহজ নয়। এক শমিতা৷ কিংবা তার বাব। ছাড়া আর কে তাকে চিনবে ?

তাই সে বলল,

মিতা দেবী আছেন ?

মহিলার ঠোটের ছটি প্রান্ত ব্যঙ্গে কুঞ্চিত হয়ে এল।

“শমিতা আবার দেবী হ'ল কবে থেকে? তুমি কে বলতো?

বিপদ কাটাবার উদ্দেশ্যে বিজিত হাতের প্যাকেটট। এখিয়ে দিল

শমিতাকে এই প্যাকেটট। দিয়ে দেবেন

“কি আছে এতে?

শাড়ী আর রাউজ।

“শাড়ী আর রাউজ !,

মহিল। বিজিতের কথার প্রতিধ্বনি করল।

আবহাওয়া খুব গরম নয়, তবু বিজ্িতের কপালে ঘামের ফোটা জমেছে তালু শুকিয়ে কাঠ।

একবার ভাবল প্যাকেটট! নামিয়ে দিয়ে দ্রুত পশ্চাদপনরণ করবে কিন্তু তাতে সম্ভব নয়।

১৭ অরণ্যে একা”

«এই যে এনেছেন

সেই মুহুর্তে বিজিতের মনে হ'ল শমিতার যেন দৈববাণীর সামিল।

সে ঘুরে দাড়াল।

শমিতার পরণে বাসস্তী রংয়ের শাড়ী, সেই রংয়েরই ব্লাউজ হাতে সবুজ মলাটের একটা বই

'আন্মন, আন্মন, ঘরের মধ্যে আম্ুন।,

বিজিতের পাশ কাটিয়ে শমিতা ঘরে ঢুকল

“না, আমি আর বসব না আমার প্রাইভেট টিউটর আসবেন

প্রাইভেট টিউটর? কি পড়তুমি? মহিল! জিজ্ঞাসা করল।

“এবার হায়ার সেকেগ্ডারি দেব মাস তিনেক পরে পরীক্ষা ।:

মহিল! আর কিছু বলল না। জানলার কাছে গিয়ে ঠাড়াল। মনে হ'ল কিছু একটার প্রতীক্ষা করছে।

“আমি চলি ।,

বিজিত আবার বলল।

শমিত৷ বলল, পাড়ান, আপনার মায়ের শাড়ী ব্লাউজ দিয়ে দিই। একটু বন্ুন

আজ আর মাছুর নেই জানলার কাছে চেয়ার

সে চেয়ারে বসা সম্ভব নয়, কারণ তার ধার ঘেসে মহিলা ধাড়িয়ে।

মহিলার আচলের কিছুট। চেয়ারের ওপর

বিজিত চুপচাপ দীড়িয়ে রইল। অস্বস্তিকর নীরবতা কেবল তার ভয়, এই বুঝি মহিল! ঘুরে দাড়িয়ে তাকে কিছু প্রশ্ন করে।

শমিতা বাইরে এল। হাতে কার্ডবোর্ডের বাক্স

“এই নিন। আপনার মাকে আমার প্রণাম দেবেন। জীবনে মাকে পাইনি, মায়ের ভালবাসার স্বাদ জান৷ নেই, সেইজন্য কাল আপনার মায়ের ব্যবহার এত ভাল লেগেছিল।”

১৮

শেষদিকে শমিতার রুদ্ধ হয়ে গেল।

কি উত্তর দেবে বিজিত ঠিক করার আগেই তার কানে মহিলার 'চিৎকারের শব এল।

“এই মান্দা, শুনে যাও, কথা আছে ।,

ঘাড় পর্যস্ত চুল, গাল জোড়া জুলপি, দীর্ঘ চেহারার একটি যুবক 'ঘরে ঢুকল।

ঢুকেই একবার বিজিতকে দেখল তারপর মহিলার সামনে গিয়ে বলল।

কি বল নমিতা, এত ডাকাডাকি কেন ?

বিজিত মনে মনে উচ্চারণ করল, শমিতা, নমিতা তাহলে এই মহিলাই শমিতার দিদি। অথচ চেহারায় কথাবার্তায় কোন মিল নেই।

নমিতা একটু রুক্ষ কে বলল।

আমার টাক'র কি করলে বল?

যুবকটির নাম মানু এই নামেই নমিতা তাকে ডেকেছিল।

মান্ধু পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাড় মুখ মুছে নিল, তারপর বলল

দাড়াও, ক্লাবের যা অবস্থা হয়েছে চ্যারিটি শোতে লাভ তো হুলই না উল্টে এক গাদ] টাকা লোকসান

তার জন্য আমার টাকা মারা হ'বে ?

আরে না, না, মারা যাবে কেন। দিতে একটু দেরী হচ্ছে। আচ্ছা; আজ না হয় প্রণববাবুকে একবার বলে দেখব

যে বাবুকে ইচ্ছা বল। টাকাটার আমার কিন্তু খুব দরকার মান্দা

টাকার আর কার ন1 দরকার বল। আমাদের দরকার নেই ! এই টাকার জন্তই তো! ওয়ার্কশপে মেশিনের সঙ্গে লড়ছি।

মানু ঘুরে ঈাড়িয়েই শমিতার দিকে চেয়ে হাসল

১৬

কি শমি, গানের ক্লাশ কেমন হচ্ছে?

এই তে! গানের ক্লাশ করে এলাম

ভাল, ভাল, গাঁনট1! মন দিয়ে শেখ। গানের আজকাল খুব' কদর। মানুষ এদিকে খেতে পায় না, অথচ গানের জলসার টিকেট' সাতদিন আগেই শেষ মারপিট লেগে যায় বলা যায়, একদিন তোমার জন্যও এই রকম ভিড় হবে।

শমিত। বিরক্তিতে যুখ গম্ভীর করে বলল।

আমার জন্য ভিড হয়ে দরকার নেই মানুদা। আমি নাম করতেও চাই না, জলসায় গান গাইবার শখও আমার নেই।

মান্ধ অবাক কে জিজ্ঞাসা করল।

তাহলে এত কষ্ট করে গান শিখে লাভ ?

লাভ? মনে যখন খুব অবসাদ আসবে, ছুঃখ-কষ্ট আসবে জীবনে, তখন একলা বসে গান গাইব। নিজেকে নিজে গান শোনাব।

মান্থু শমিতার কথায় এত বিম্মিত হয়ে গেল যে তার মুখে কোন উত্তরই যোগাল না। রকম কথা সে বোধ হয় আর শোনে নি; বিশেষত কিশোরী মেয়ের কাছ থেকে

মানু দরজার কাছে যেতেই নমিতা আবার ডাকল

শোন মানুদা, আসল কথাটাই তোমাকে বল! হয় নি।

* মান ফিরল।

কথাট। বলতে গিয়েই নমিতা থেমে গেল। বিজিতের দিকে চোখ রেখে বলল, তোমার কাজ তো হয়ে গেছে আর দাড়িয়ে আছ কেন?

সঙ্গে সঙ্গে বিজিতের সারা মুখ আরক্ত হয়ে কও | আলা করে

উঠল ছুটে। চোখ। নিজের ওপর তার রাগ কঃ বা ধ্যাকেট, হাতে করে দাড়িয়ে থাকার জন্য রে টু গং

একটি কথাও না! বলে দ্রুতপায়ে সে ২২ লে গেল। ২* জি ঘা

লারা

২4, 19৫৬

খুটি সি হার ১০] পে টা.

রাস্ত! দিয়ে চলতে চলতে বার বার সে প্রতিজ্ঞ! করল, এই শেষ বাড়িতে আর নয়। ভবিষ্যতে আর কোনদিন আসবে না।

একটু পরেই নিজের প্রতিজ্ঞার অযৌক্তিকতার কথাও মনে হু'ল।

বাড়িতে তাকে আসতে হবেই বা কেন। শেষ প্রয়োজনে আজ এসেছিল। মায়ের শাড়ী ব্লাউজ নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। গলিতে ঢোকবার আর দরকার হবে না।

বিজিতের উচিত ছিল অনেক আগেই চলে আসা। এভাবে ধাড়িয়ে দাড়িয়ে পরের কথা শোনা সমীচীন নয়। বোধ তার থাকা উচিত।

ওহে শুনছ, ছোকর!।

পিছন থেকে কে ডাকছে

বিজিত দাড়িয়ে পড়ল

একটি বাড়ির রোয়াকের ওপর শমিতার বাবা হাতে সেই ছোট বই।

বৃদ্ধ নেমে এসে বিজিতের কাছে ধ্লাড়ালেন।

এদিকে কোথায় পিয়েছিলে ?

আপনাদের বাঁড়ি। কথাটা বলেই বিন! প্রয়োজনে যে যায় নি সেটা বোঝাবার জন্য যোগ করে দিল্গ, আমার মায়ের শাড়ী বাউজ নিয়ে আসবার জন্য

ভাল, ভাল। এদিকে কোথায় থাক?

পনেরোর বি, চন্দ্রকুমার সেন গ্রীট

নিজের বাড়ি?

হ্যা।

বেশ। ক'তলা?

বৃদ্ধের প্রশ্নের যেন আর শেষ নেই।

ছু'তলা। কেন বলুন তো?

১১

এমনই জিজ্ঞাসা করছি।

বৃদ্ধ এদিক ওদিক দেখলেন রাস্তা জনবিরল। ধারে কাছে কেউ নেই।

তবু ফিস ফিল করে বললেন

তোমার কাছে একটা টাকা হবে?

কথাটা! বিজিত ঠিক শুনতে পায় নি, কিংবা পেলেও বুঝভে পারে নি।

তাই সে প্রশ্ন করল।

কি বললেন?

টাক, টাকা একটা টাক হবে তোমার কাছে। পরশু তোমাকে টাকা দিয়ে আসব তোমার ঠিকান! তো জানলাম ।' একেবারে বাড়ি গিয়ে দ্রিয়ে আসব।

সঙ্গে টাকা থাকলে বিজিত হয়তো! দ্বিধ। করত না। বৃদ্ধকে টাকা দিয়ে দিত ছু টাক ফেরত পাবার লোভে নর এমনই

পর্যস্ত কেউ তার কাছে কোনদিন জ্্থসাহ্ায্য চায় নি।

সে বলল আমার কাছে তো টাক। নেই টাকা কেন, খু্গে! পয়সাও নেই। ম্মামি হেটে এসেছি, হেঁটেই চলে যাব।

বিজিত স্পষ্ট দেখল, বৃদ্ধের মুখের চামড়াগুলে। যেন আরও কুচকে গেল। ছুটে! চোখ ছোট হয়ে এল। ঠোঁট ছটে! কাপতে লাগল

সরে যেতে যেতে বুদ্ধ বললেন, সঙ্গে টাকাপয়সা রাখবে একেবারে খালি হাতে রাস্তায় বের হওয়া ঠিক নয়। কখন কি বিপদ হয় ঠিক আছে।

বিজিত যখন বাড়ি ফিরে এস, দেখল তার প্রাইভেট টিউটর অনেকক্ষণ এসে বসে আছেন।

এমন কোনদিন হয় না। বিজিত পড়ার টেবিলে তৈরি থাকে।

সিড়ির চাতালে মায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।

১৬

কিরে, এত দেরী ? সে প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে বিজিত কার্ডবোর্ডের বাঝসটা ম।(য়র হাতে তুলে দিয়ে জোর পায়ে সিড়ি দিয়ে উঠে গেল। পড়তে পড়তে বিজিত বার বার অন্যমনস্ক হয়ে গেল ব্যাপারট! প্রাইভেট টিউটরও লক্ষ্য করলেন। কি শরীর খারাপ নাকি ? না। শরীর ঠিক আছে। তবে কি ভাবছ? কিছু ভাবছি না৷ তো। বিজিত বটানির নোটস-এর ওপর ঝুঁকে পড়ল। ক্টানি তার প্রিয় বিষয়। গাছপালার জীবনতত্ব পড়তে তার খুব ভাল লাগে! কিন্তু চেষ্টা করেও সে পাঠ্যে মনঃসংযোগ করতে পারল না। তাঁর ছু কানে শমিতার কণ্ঠ বেজে চলেছে ছুঃখে, অন্সাদে যখন ভেঙে পড়বে তখন শমিতা৷ নিজেকে নিজে গান শোনাবে এমন কথা বিজিত কোনদিন শোনে নি। তাহলে কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে মা যে গুণ গুণ করে গান করেন, সে কি নিজেকে গান শোনান আপাতদৃষ্টিতে মায়ের জীবনে খুন ছুঃখ কষ্ট আছে, বিজিতের এমন মনে হয় ন। বাবা এক বড় ফার্মের কেমিস্ট নিজের মোটর নেই, কিন্তু অফিসের মোটরেই যাঁওয়1! আসা করেন। শান্তির সংসার মায়ের 'সঙ্গে বাপের বিশেষ কোন বিষয় নিষে কোনদিন বচসা হয়েছে, বিজিত শোনে নি। ছোটখাট তর্ক, কথাকাটাকাটি, সে তো সব সংসারেই আছে। প্রাইভেট টিউটর চলে যেতে বিজিত খাবার টেবিলে গিয়ে বমল।

৮৬০,

বাব! বাথরুমে মুখ হাত ধুয়ে এসে বসবেন। মা বসে আছেন তারিণীর ম! প্লেট সাজাচ্ছে। বিজিত আসতে মা বললেন মেয়েটা তে। আচ্চ1! পাগলি কথাটার তাৎপর্য বুঝতে ন1 পেরে বিজিত মায়ের দিকে দেখল ইতিমধ্যে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বাবাও এসে বসেছেন। তিনি জিজ্ঞাস করলেন। কে মেয়ে? ওই যে শমিতা। বৃষ্টিতে ভিজে সেদিন যে আমাদের বাড়িতে এসে উঠেছিল। হু সেকি করেছে? আমার শাড়ী ব্রাউজ ফেরত পাঠিয়েছে তার মধো 'এক চিঠি বিজিত চমকে উঠল চিঠি! শমিতা চিঠি লিখেছে চিঠিতে টাক! চেয়েছে বুঝি ? ভার দিদি, বাবা সবাই তো টাকার কথাই বলছিল। সারা সংসার যেন হাত পেতে রয়েছে। প্লেটগুলে। এগিয়ে দিতে দিতে মা বললেন। * লিখেছে আপনার মতন আমার বেশ একটা মা থাকত। বিজিতের মনে হ'ল মায়ের গলাটা যেন কান্নাভেজা। বাব! শুনলেন। তারপর বললেন মায়ের স্নেহ এমনই জিনিস। বিজিতের মনে হ'ল কথাট। বলে বাবা যেন বিজিতের দিকে দেখলেন। | অর্থাৎ মায়ের ভালবাসা কি অনীম সেট বিজিত উপলব্ধি করুক। ' জিনিস থাকতে তো! লোকে জিনিসের মর্যাদা বোঝে না।

২৪

একট! কাজ কর, বাব! খেতে খেতে বলঙ্গেন, মেয়েটাকে মাঝে মাঝে নিয়ে এস তোমার কাছে। সার] দিন না হয় থাকবে।

মা হাসলেন, পাচ্ছি কোথায় তাকে পাড়ার মেয়ে তো নয়।

বিজিত “তো বাড়ি চেনে। ডেকে আনতে পারে।

কিছু বলা যায় না, মা বাবা হয়নে! বলে বসবেন, সামনের সপ্তাহেই শমিতাঁকে নিয়ে আসতে

কিন্তু বিজিত মনে মনে প্রতিজ্ঞ করেছে, বাড়িতে আর নয়।

তাই সে তাড়াতাড়ি বলল।

আমার পরীক্ষা না হয়ে গেলে আমি কোথাও যাব না মা। আমার বড সময় নষ্ট হয়।

বাবা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, না, না, এখন নয় ' তোমার পরীক্ষা হয়ে যাক, তারপর

খাবার টেবিলে আর কোন কথা হল ন!।

কিছুদিন পর বাড়ি থেকে শমিতার নামই মুছে গেল! শমিতা নামের কোন মেয়ে এক দুর্যোগে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, মাতৃন্সেহবঞ্চিত হয় দিয়ে ক্ষণেকের জন্য হলেও বাড়ির গৃহিণীকে পশ করেছিল সে কথ! সবাই বিস্মৃত হয়ে গেল।

না সকলে নয়। দ্রুততাঁলে পরীক্ষার পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার কাকে ফাঁকে শুধু বিজিতের শমি্পার কথ! মনে হ'ত।

্‌ তাও সব সময়ে নয়।

বিকালেব দিকে বাইরের ঘরে যখন পড়ার বই নিয়ে বসে থাকত হখন ফেরিওয়ালার ম্বুরেল! চিৎকারে উন্মনা হয়ে পড়ত।

জানলার দিকে চোখ ফিরি” দেখত সিক্তবেশে কোন কিশোরী আশ্রয় প্রার্থনা করছে কি না।

অল্পক্ষণের জন্য, তারপরই পরীক্ষা তার উদ্যত চাবুক হাঁতে তাড়া করত স্বপ্নবিলাসের কোন অবকাশই দিত না।

২৫

পরীক্ষা শেষ হ'ল।

মন্দ্রাক্রান্তভা তালে একদিন খবরও বের হ*ল।

রসায়ন আর জীববিদ্তা ছুটোতে লেটার নিয়ে বিজিত প্রথম বিভাগে পাশ করেছে।

বাড়িতে উৎসবের বন্তা

বিজিতের বাপের বন্ধুরা! অনেকে অনেক পরামর্শ দিলেন।

কেউ বললেন বিদেশে পাঠাতে দেশে শিক্ষার যা অবস্থা তাতে অধ্যয়নশীল ছেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্তাবন]।

অনেকে বললেন, রসায়নে অনাস নিয়ে পড়ুক। পাশ করলে বাপের অফিসে ঢুকবে

বিজিতের বাবা কোন মতামত দিলেন না। শুধু বললেন, বিদেশ: না গেলে প্রকৃত পড়াশোনা! হয় না, এমন থিয়োরি মানতে আমি রাজী নই। বাইরে যান কম, অথচ কৃতবিগ্য এমন প্রাতংস্মরণীয় ব্যক্তির অনেক উদাহরণ আম্মি দিতে পারি। যাক, বিজিতের সঙ্গে বিষয়ে একবার কথা বলে দেখি

বিজিতের সঙ্গে তিনি কথা বললেন একেবারে অন্য বিষয়ে

বিজিত, ভাবছি ছোট একট! পার্টি দেব। তোমার অন্তর বন্ধুদের লিস্ট একট] করে দিও আমাকে আমার অফিসের ছু-এক জনকে বলব আর তোমার?

- মায়ের দিকে বিজিতের বাব ফিরলেন

মা চেয়ারে বসে কি একটা বুনছিলেন। পায়ের কাছে উলের বল এদিক ওদিক করছিল

আমি একজনকে বলতে চাই

একজনকে ?

হ্যা শমিতাকে বলব।

শমিতা? ও, আচ্ছ! সেই মেয়েটি

বিজিতের আশ্চর্য লাগল শমিতাকে ম! এখনও মনে রেখেছেন

২৬

ঠিক আছে। দিন ঠিক হলে বিজিত গিয়ে বলে আসবে

দিন স্থির হ'ল। এক শনিবার। সবশুদ্ধ জন দশেক

ছাদের ওপর প্যাণ্ডেল বেঁধে খাবার আয়োজন

ছিন আগে ম! বিজিতকে বললেন।

বিজিত য। বাবা শমিতাকে একবার বলে আয়। আমার নাম করে বলবি।

শমিতাদের বাড়ি যাবার ইচ্ছা বিজিতের বিশেষ ছিল না। বিশেষ করে যখনই শমিতার দিদি নমিতার কথা মনে পড়ছিল তখনই বিজিতের মন বিদ্রোহী হয়ে উঠছিল।

এমন একটা বাড়িতে পা দিতেই বিজিতের ইচ্ছ। করছিল না।

কিন্ত সে নিকপায়। মা বাপের নির্দেশ না মানার শিক্ষা সে পায়নি। কাজেই তাকে বের হতেই হ'ল।

শমিতাদের বাড়িব কাছাকাছি গিয়েই বিজিতের বিচিত্র এক অনুভূতি হ'ল।

তার প্রথম মনে হ'ল, শমিতাকে সে কতদিন দেখে নি। তাকে দেখবার ছুনিবার আকাতক্ষা। তার বুক জুড়ে উঠল।

শমিতা তো কিছু করে নি। * তার বাবা বা দিদির মতন পয়সার কোন প্রশ্ন তোলে নি। বরং বিজিতের সঙ্গে ভাল ব্যবহারই করেছে।

বিজিত কড়া নাড়ল।

সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকে নারীকণ্ঠ ভেসে এল।

কে?

বিজিতের একবার মনে হ'ল বোধহয় শমিতারই কণ্ন্বর, কিন্ত যেন একটু ভারি।

আমি বিজিত।

বিজিত উত্তর দিয়েই ভাবতে লাগল যদি দরজার ওপারে শমিতার বদলে নমি্ভা। এসে দ্রাড়ায় তাহলে সেকি করবে।

২৭

শমিতার নিমন্ত্রণের কথাটা বলেই দ্রতপায়ে চলে আসবে 'ছাড়া সে আর কিই বা করতে পারে

শমিতা এসে ধ্াড়াল।

কিন্ত শমিতার সঙ্গে বিজিতের কোন পরিচয় নেই। এই মাসে শমিতা এত বড় হয়ে গেছে।

পরণে আধ ময়ল! শাড়ী, রুক্ষ চুল, উদাস ছুটি চোখের দৃষ্টি

বিজিত খুব মুছ কঠে বলল, আমার পরীক্ষায় পাশ করার উপলক্ষে বাড়িতে একট! পার্টি হচ্ছে পরশু সন্ধ্যায় মা বিশেষ করে আপনাকে যেতে বলে দিয়েছেন

শমিতা একটা হাত দরজার কবাটে রেখে দীড়াল। ছ-এক মুহূর্ত বুঝি বিজিতকে দেখল, তারপর বলল আপনার পাশের খবরে ' খুব খুশী হয়েছি, কিন্তু আমার তো! যাবার উপায় নেই

উপায় নেই?

না। এক বছর আমাদের কোন নিমন্ত্রণে যেতে নেই আজ পাচ দিন হ'ল আমার বাবা মারা গেছেন।

মার! গেছেন !

বিজিত কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে 'ড়য়ে রইল

মৃত্যুর সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় তার নেই। একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জীবন থেকে সরে গেলে কি মর্মস্তদ অবস্থা হয় সেট! জানবার সুযোগ তার ইতিপূর্বে হয় নি।

তবু মৃত্যু কি, সেটা সেজানে।

বিশেষ করে একটা পরিবারের একমাত্র পুরুষ যদি চিরদিনের জন্য মুছে যায়, তাহলে সে পরিবারের অন্ত সবাই কি ছুবিপাকে পড়ে সেটা উপলব্ধি করার মতন জ্ঞান তার আছে

কিছু একটা বলা উচিত এই ভেবেই সে প্রশ্ন করল

কি হয়েছিল ?

বাস ছূর্ঘটন।।

২৮

বাস ছর্ঘটনা ?

হ্যা জাবনে প্রথম টাক জিতে বাবা রেস থেকে বাসে বাড়ি ফিরছিল। পকেটে পাঁচশো! টাকা আনন্দে জ্ঞান ছিল না। বাস থেকে নামতে গিয়ে পা পিছলে একেবারে চাকার তলায়।

কি আশ্চর্য নিজের বাপের মৃত্যুর বিবরণ শমিতা এমনভাবে দিচ্ছে, এমন নিরাসক্ত কণ্ঠে, মনে হল যেন খবরের কাগজের পাতা থেকে কিছু পড়ে শোনাচ্ছে।

তারপর স্বাভাবিকভাবে বি।জতের মনে যে প্রশ্ন এল সেটাই নে জিজ্ঞাসা করল। শমিতার বাবা কোথায় কাজ করতেন আদৌ উপার্জন করতেন কিনা সেট। তার জান৷ ছিল না।

এখন কি হলে?

কিসের কি হবে?

শমিত1 এতক্ষণে সরে গিয়ে দেয়ালে ঠেন দিয়ে দাড়াল।

মানে, বিজিত ঢোক গিলল, সংসারের

মনে হ'ল কথাটা শমিতাও ভেবেছে কোন কুলকিনারা পায় নি।

আমাব দিদি উপায় করে, তাতেই চলবে।

বিজিত আর প্রশ্ন করে নি। চলে যাবার জন্ত ঘুরে দীড়াচ্ছিল, শমিত আবার বলল, কি হবে আমি জানি না। ভাবতে পারছি না।

আমি চলি।

বিজিত নেমে এল।

শমিত৷ চৌকাঠ পার হয়ে এপারে এসে দাড়াল।

আপনার মাকে বলবেন আমা” শবস্থার কথা নিমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানাবেন।

ঘাড় নেড়ে বিজিত এগিয়ে গেল। বন্ধুদের নিমন্ত্রণ শেষ। একেবারে শেষে শমিতার কাছে এসেছিল। শমিতাকে নিমন্ত্রণ

২৯

করার ইচ্ছ। তার ছিল না। সে একথা ভাবেও নি। শুধু মায়ের নির্দেশ পালন করতে এসেছিল।

এখন কিন্তু খারাপ লাগছে।

তার সাফল্যের আনন্দটুকু শমিতা নিজের বেদন। দিয়ে যেন মুছে দিল।

রাস্তার মাঝামাঝি এসে বিজিত থমকে দাড়াল

ঠিক এইরকম জায়গায় শমিতার বাবা তকে ডেকেছিলেন

একটা টাকা ধার চেয়েছিলেন। পারলে ফেরত দেবার প্রতিশ্রতিও দিয়েছিলেন

আজ লোকট। হিসাব-নিকাশের উদ্ধে। আর কোনদিন কোন কামন। প্রার্থন! নিয়ে সামনে এসে দাড়াবেন না।

বিজিত বাড়ি গিয়ে দেখল, মা! আর বাব! দুজনেই ব্যস্ত

ডেকরেটরের লোক এসেছে কিভাবে ছাদে প্যাণ্ডেল হবে, তারই আলোচনা

বিজিত নিজের ঘরে চলে গেল

শার্টটা খুলে রেখে বিছানায় শুয়ে পড়ল

খুব ব্লাস্ত আর পরিশ্রান্ত বোধ হচ্ছে

চারদিকে অন্ধকার নেমেছে ঘরে আলো জ্বাল। হয় নি। উঠে আলে জ্বালবে, বিজিতের তাও ইচ্ছা! করল না।

_শমিতাকে যেন অন্তরকম দেখাল। শোক মানুষকে বদলে দেয়। কোথায় কোন গল্পে বিজিত পড়েছিল, স্বামীকে হাগিয়ে রাতারাতি এক স্ত্রীর মাথার সব চুল সাদ হয়ে গিয়েছিল

কেন রকম হয়? শোকে, ন৷ চিন্তায়! বিজিত।

মায়ের গল

কি মা?

ও)

বিজিত বিছানার ওপর উঠে বসল

মা খাটের কাছে এসে ফাড়ালেন।

কিরে অবেলায় শুয়ে আছিস। শরীর ভাল তো?

ধ্াড়াও মা, আলোট! জ্বেলে দি।

বিজিত খাট থেকে নামবার আগে মা-ই বাতি জ্বালিয়ে দিলেন।

বিজিত বলল।

শরীপ ভালই আছে মা। একটু ক্লান্ত লাগছিল।

তাহলে একটু শুয়েই থাক না। মাথায় হাত বুলিয়ে দেব ?

না, না, মাথায় হাত বুল্তে হবে না আমি ঠিক আছি।

মা খাটের ওপগ বসলেন

একটু পরে জিজ্ঞাসা করলেন

শমিতাদের বাড়ি গিয়েছিলি? কিছু বলল?

গিয়েছিলাম মা। শমিতা আসতে পারবে না।

আসতে পারবে ন। ?

না, দিন কয়েক হ'ল ওর বাবা মারা গেছেন।

মারা গেছেন !

হ্যা, বাস দুর্থটনায়।

আহা হা। মেয়েটার মা আর বাব। দুই-ই চলে গেল। তাহলে দের সংসারের কি অবস্থ। হবে। কে চালাবে?

তাও জিজ্ঞাস করেছিলাম ব্লল, ওর দিদি চালাবে

ওর দিদি বুঝি চাকরি করে। কই সেদিন তে৷ সেরকম কিছু বলেনি। বলেছিল, বাপের পেনসনই ভরসা

আর কোন কথা হ'ল না। মা আর ছেলে ছুজনেই চুপচাপ।

একটু পরে নিশ্বাস ফেলে মা উঠ গেলেন।

যাবার সময় বলে গেলেন, খাবার টেবিলে আয়, চ1 দিতে

বলছি।

৩১

বিজিতের ধারণা ছিল জন দশেক লোক হবে, কিন্তু আসলে হল্‌ অনেক বেশী।

বিজিতের বাবার অফিসের সহকর্মীরা অনেকেই এলেন। সন্ত্রীক, ছেলেমেয়ে সমেত।

উৎসবের মধ্যমণি বিজিত। বন্ধুরা ছাঙা আর সবাইও তাকে খুজল।

একটি মহিল। বিশেষ করে অনেকক্ষণ বিজিতের সঙ্গে সঙ্গে রইলেন। বাবার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী কমল গান্ুসী। তারন্ত্রী।

ভদ্রমহিলার খয়স বিজিতের মায়ের মতনই হবে। কিছু বেশ হওয়াও বিচিত্র নয়।

কিন্তু উগ্র প্রসাধনে নিজেকে সাজাবার কি উদ্ভট প্রচেষ্টা

বিজিত আগেই শুনেছিল, কমলবাবুর এক ছেলে, এক মেয়ে

ছেলেটি ইপ্জিনীয়ারিং পড়তে বিলেত গিয়েছিল। আর ফিরে আসে নি।

পাশ করে সেখানেই চাকরিতে ঢুকেছে শুধু চাকরি নয়,

ংসারও পেতেছে দেশের মেয়েকে নিয়ে।

প্রথম প্রথম বাড়িতে কিছু জানায় নি। লিখেছিল, সাতকোত্র একটা ডিগ্রির চেষ্ট। করছে ফিরতে দের হবে। চিন্তার কোন কারণ নেই।

রছর ছুয়েক পর একট। ফটে। পাঠিয়েছিল একার নয়, সঙ্গে বিদেশী মেয়ে জেন, মাঝখানে ছেলে উইলি। পরিপূর্ণ সংসারের ছবি

কমলবাবু প্রথম প্রথম ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান শি! রাখেনও [ন। প্রচ্ছন্ন অভিমানে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন '

বেশীদিন সেট। সম্ভব হয় নি।

নিজেই চিঠি লিখে আবার যোগাযোগ করেছেন ছেলেকে, ভারতববে আসতে লিখেছিলেন। ছেলে আসে নি।

মেয়ের নাম কণি।

৩২

বোধ হয় আসল নাম কণিকা নিজেই সেটা ছেটে ছোট করে নিয়েছে।

অবশ্া এতে পরোক্ষভাবে মায়ের সমর্থনও ছিল।

মেয়ের প্রসাধনও মায়ের মতন

বয়ন পনের ষোলর বেশী নয়। ববড চুল। চোলি প্যাটার্ন ব্লাটক্ত , কথার স্ুরও অস্বাভাবিক পড়ে লরেটে। কনভেন্টে।

এল বিজিত, তোমার সঙ্গে আল্'প করিয়ে দিই

ভালাপ আর কপিয়ে দিতে হয়নি কণিই ঝাঁপিয়ে পড়ে আলাপ করেছিল

আপনি তো পরীক্ষায় খুব ব্রিলিয়ান্ট রেজাণ্ট করেছেন। কি করবেন এখন 1

বট'নিতে অনা নিয়ে পড়ব

এখানে ?

হয" প্রেসিডেন্সিতে