শ্রীহত্টের ইতিবৃত্ত

অগ্যুতচর স্যুতচরণ চৌধুরী তর্তবনিধি

ূ্বাংশ

৫৮.৮5210ল

বলে খন শেখটিতা ৪৮

০1২11177171 71২ 7111২ হ8/৯-1৮ ২13৯ €০৯76) [/৯ 1115101% 01 ১%11791] [39 4017১ 00017201201) 00170861011117%, 17150 1501101077-1 910)

প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ২০০০ প্রথম প্রকাশ : ১৯১০ থি.

বইওয়ালার পক্ষে রান মৈত্র কর্তক ১৪৯, ক্যানাল স্টরাট, শ্রাঙমি কলকাতা-৪৮ পেকে প্রকাশিত এবং বাসন্তী প্রেস, ১৯এ, ঘোষ লেন, কলকাতা-৬ থেকে মুদ্রিত

ভূমিকা

ইতিহাসের সত্যানুসন্ধান একটি কঠিন কাজ এবং দুরূহ দায়িত্ব সাধারণ লেখকের পক্ষে ধরনের এতিহাসিকের দায়িত্ব পালন করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু প্রায় একশত বৎসর পূর্বে শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্বনিধি সিলেটের বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের তথ্যগুলোকে একজন গবেষকের শ্রম নিষ্ঠা দিয়ে চয়ন করেছেন সিলেটের অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তার নিজস্ব সত্য তথ্যের আলোকে আলোকিত করেছেন। একজন লেখক গবেষক হিসেবে তিনি যে পরিশ্রম প্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন আজীবন তা প্রশংসার দাবিদার |

সিলেট একটি প্রাচীন জনপদের নাম সিলেট অঞ্চলের লোকজন প্রাচীনকালে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল সর্বশেষ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এম জি ওসমানী রণক্ষেত্রে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন সিলেটে চীনা পর্বাজক হিউয়েন সাং ৬৪০ সালে ভ্রমণ করে-- এই অঞ্চলকে শ্রীক্ষেত্র বলে বর্ণনা করেছেন। ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট ভ্রমণকালে এই অঞ্চলকে শ্রীভূমি আখ্যা দিয়েছেন প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া অঞ্চলটির শ্রী এখনও অন্তহিত হয়নি বরং আরও শ্রীময়ী হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বে সিলেটের মানুষ বাংলার গৌরবময় সভ্যতা সংস্কৃতির এতিহ্য বহন করে চলেছে। এতিহাসিক নিদর্শন, স্থাপত্য, পুরাকীর্তি, শ্রুতি, স্মৃতি, দলিল, দস্তাবেজ, প্রাচীন শিলালিপি, ভাঙ্কর্য লিপিবদ্ধ বিবরণ সিলেটের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে লুকিয়ে আছে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতাকে শ্রী অচ্যুত চরণ চৌধুরী আমাদের জনসম্মুখে হাজির করেছেন শুধুমাত্র এই একটি কারণে তিনি আমাদের কাছে অমর হয়ে আছেন এখানে তার গ্রন্থের সার্থকতা

আমি দুই যুগ ধরে ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহ করার কাজে নিয়োজিত আমার লিখিত রাজনগরের ইতিবৃত্ত, মৌলভীবাজার জেলার ইতিহাস সিলেট বিভাগের ইতিবৃত্ত গ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। অচিরেই উভয় বাংলা ইতিহাস নিয়ে লিখিত বাংলার ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশের পথে ইদানীং অনেক লেখক প্রকাশক ইতিহাস গবেষণা প্রকাশনার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন তা বাঙালিদের জন্য আনন্দের কথা কারণ বাঙালিরা নিজের ইতিহাস সাধারণত না পড়ে পাশ্চাত্য ইতিহাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

এদিক দিয়ে এটা গর্বের কথা বিশেষ করে সিলেটের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত শ্রী অছ্ভুত চরণ চৌধুরী তন্্নিধি লিখিত তিন খণ্ডে শ্রীহ্টরের ইতিবৃত্ত গ্রন্থের পুনঃপ্রকাশনার দায়িত্‌ জনাব সিকদার আবুল বাশার সাহেব গ্রহণ করে যে এঁতিহাসিক কার্য সম্পাদন করতে যাচ্ছেন তার জন্য যে কোনো ইতিহাস এতিহ্যপ্রেমিক লোক হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানানো উচিত জনাব সিকদার সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রম অধ্যবসায়ের মাধ্যমে গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশের জন্য ইতিহাসবিদদের পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি গ্রন্থটি বাংলার ইতিহাস সাহিত্যে মূল্যবান সংযোজন ইতিহাস এঁতিহ্যের শেকড় সন্ধানী বাঙালি মাত্রেই গ্রন্থটি সংগ্রহে রাখা উচিত। নতুন সংক্করণের বহুল প্রচার কামনা করছি।

ভূমিকার পেছনের কথা

শ্রীহন্্রের ইতিহাস রচিত হয় প্রায় একানব্বই বৎসর পূর্বে। শতানদী প্রাচীন সেই গ্রন্থ তিনটি আলোর মুখ দেখে এক অভাবনীয় ইতিহাস সৃষ্টি করে বসে। কারণ গ্রন্থকার সেই গ্রন্থ রচনাকালে সাধারণত এতিহাসিকগণ যে রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করেন তিনি তার ধারেকাছেও যাননি লেখক স্বর্গীয় অষ্্যুতচরণ চৌধুরী তত্বুনিধি মহাশয় যে কতটুকু মমতৃবোধে পুস্তক তিনটি রচনা করেছিলেন তা ভাবলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। শুধুমাত্র একজন লেখকের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়__ সম্ভব তার পক্ষে যার হৃদয়ে প্রগাঢ় দেশপ্রেম, স্বজাতির দেশবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং জন্মভূমিকে যিনি মাতৃ সমতুল্য বোধ করেন। এক্ষেত্রে শ্রী চৌধুরী প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বিশ্বাস করার কারণ আছে

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি মহাশয় নিজের দেশকে তার পরিবার. সন্তান, ভাই এমনকি প্রাণাধিক স্ত্রীর ভালোবাসার উপরে স্থান দান করেছিলেন লেখার কাজে মনোনিবেশকালে তিনি স্ত্রী, শিশুকন্যা, এক ভাই পুত্রকে হারান তারা বিভিন্ন কারণে রোগ-ভোগে সময়ে মৃত্যমুখে পতিত হন। কার্ষকালে একেকটি আঘাত আসতে থাকে তার লিখিত ভূমিকায় পাঠক ঘটনাগুলো দেখতে পাবেন__ তাতে অশ্রু রোধ করা পাঠকের পক্ষেও সম্ভব নয়। এহেন আঘাতও শ্রী চৌধুরীকে কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়নি কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা বিবেচনা করলে তাকে ধন্যবাদ-দেবার ভাষা থাকে না কাজ সম্ভব কেন হয়েছিল আজ একশত বৎসর পরে যদি প্রশ্ন তোলা যায় তার জবাব হবে শী চৌধুরী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন

প্রকাতর ভাণ্তারেতে শ্রীহট্রের মাঝে_

কতো শোভা মনোলোভা-_ সর্ব্বত্র বিরাজে :

বিদেশের বর্ণনায় মুগ্ধ তনুমন-_

মোহবশে দেশপানে চাইনে কখন

তিনি বলেছেন “তখন সংকল্প করলাম শ্রীহট্রের অতীতকথা কিছু কিছু সংগ্রহ করিব ।' সেই “কিছু কিছু' সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন তাও এক বিম্ময়ের বিষয় বিভিন্ন এলাকার প্রধান- অপ্রধান ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে তথ্যের জন্য তিনি প্রথমত প্রচারপত্র বিলি করেন উচ্চ-নিম্স-মধ্য বংশীয় পরিবার প্রধানদের কাছে তাদের বংশের গৌরব কীর্তিগাথা সুকর্ম-দু্ষর্ম সকল বিষয় জানতে চান। কিন্তু এক্ষেত্র তার সচেতনতা বজায় ছিল যেন কেউ নিজের বংশের নাম কামানোর জন্য অতিরপ্তিত ভুল তথ্য দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত না করেন৷ এক্ষেত্রে তিনি অতি আধুনিক “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করেন। প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্যকে তিনি “ক্রস্‌ চেক' করেন তা সন্ত্রেও তিনি ভুল করতে পারেন বিষয়ে তার সতত সতর্কতা ছিল এক্ষেত্রে তার বিন্ম স্বীধারোক্তি তাকে মহাপুরুষের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে পরিতাপের বিষয়, আজ এমন মানুষের কীর্তি কথা, তার নাম আমাদের

[সাত]

শিক্ষিতদের অধিকাংশই জানেন না গুণের আদর মর্যাদা যেখানে নেই সেখানে গুণী জনে না, কথাটি কী সর্বাংশে সত্য?

বাংলাদেশের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এতিহ্য রয়েছে, সারাদেশটি যদি একটি দেহ হয় শ্রীহট্ট বা আজকের সিলেট তার মস্তক স্বরূপ বলতে হবে। হিন্দু-মুসলমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সিলেট (শ্রীহট্ট) গৌতম বুদ্ধ, শ্রীচেতন্য, শাহজালাল (রঃ) কাল থেকেই এদেশের গণমানুষের পুণ্যভূমি। কারা বাস করতেন সেখানে, কেমন ছিলেন তারা? তাদের জীবনযাত্রাসহ এলাকায় প্রচলিত সর্বপ্রকার কিংবদন্তি এই বইয়ে অতি যতেুর সাথে পরিবেশিত হয়েছে শ্রী চৌধুরীর বিজ্ঞানমনঙ্কতার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিংবদত্তিগুলির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়েছে মোট কথা শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত পড়তে শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠক স্বস্তি পাবেন বলে বোধহয় না।

অন্যদিকে পুস্তক প্রকাশের ব্যয় আজকালকার বাজার মুল্য হিসেবে কম হলেও সেকালে একেবারে কম ছিল না। প্রথমত ৯০০ কপি প্রায় ২৫০০ টাকা, সেই ব্যয়ভাব বহন করাও তত্তরনিধির পক্ষে সম্ভব ছিল না। অবশেষে একজন মহানুভব ব্যক্তি কোনো প্রকার আর্থিক লাভালাভ ছাড়াই সেই টাকাটা যোগান দিয়েছিলেন এটাও ইতিহাস বটে আজকের দিনে বর্তমান সমাজে এরপ দৃষ্টাত্ত কয়টির দেখা মেলেঃ আরও একটি দৃষ্টান্তমূলক বিষয় উল্লেখ করা প্রমোজন-__ তন্নিধি ব্যক্তি হিসেবে দেশ-জনগণ জাতির প্রতি কেমন দায়বোধ করতেন সেই ঘটনা তার প্রয়াণ তার জন্ম গ্রামের ডাকঘর মৈনা-ডাকঘরটি পাথারকান্দি অফিসের অধীনস্থ একটি শাখা অফিস হিসেবে চালু ছিল। পরিচালনার ঝামেলার জন্য কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিতে উদ্যোগী হন। তখন তন্্ুনিধি নিজেই এগিয়ে এসে তার পবিচালনার ভার নিজের কাধে তুলে নেন। কানাই বাজারের অফিসে গ্রামের পথের 'শাশে_ জমিদারির কাছারি বাড়িতে এক কোণে বসে আম, জাম, কাঠাল আর বাশবনের হায়ায় ঘরের কোণে লাল রঙের টিনের চিঠির বাক্স ঝুলছে; হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে পোস্ট মাস্টার 'খালি গা, পরনের ধুতি হাটু” ওপর তোলা" চোখে গোল ফ্রেমের চশমা এটে ডাকঘরের পরিত্যক্ত কাগজে ইতিহাস রচনা করছেন-_ কল্পনা করা যায়ঃ কাজের প্রতি, দেশের প্রতি কতটুকু মমতুবোধ থাকলে এমন কাজ করা যায় আজ তাও বিবেচনার দাবি বাখে।

পুস্তক প্রকাশের পর সমগ্র ভাবতবর্ষে তা কেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তাও ভেবে দেখবার মতো সেকালের বিখ্যাত সব দৈনিক সাপ্তাহিক পত্র- পত্রিকা এর গুণকীর্তন করেছিল ইংরোজ দেনিক এমপায়ার অকুগ্ঠ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে গুণকীর্তন করে 'এতিহাসিক চিত্র, প্রবাসী", “সাহিত্য সংবাদ", 'অমৃতবাজার', 'আনন্দবাজার', “ঢাকা রিভিউ", “সম্মিলন' এরাও

গ্রন্থ রচনায় তন্ুনিধি মহাশয় একাদিক্রমে পনেরো বছর ব্যয় করেন। তার বক্তবোর কিয়দংশ উপস্থাপন করে আমার বক্তব্য শেষ করি : তিনি লিখেছেন “দীর্ঘকালের চেষ্টা প্রাম় পঞ্চদশ বৎসরের পরিশ্রমে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত সম্পূর্ণ প্রকাশিত হইল ইহাতে অবশাই আনন্দিত হইবার কথা ছিল কিন্তু কয়েকটি ঘটনা মনে হইয়৷ আজ সে সুখ পূর্ণাঙ্গ উপভোগ করিতে পাবিতেছি না। ইতিবৃত্তের কপি লইয়া যখন সর্বপ্রথম কলিকাতায় যাইতে হয় সেই সময় মদীয সহধর্মিণী পীড়িতা হইয়া পড়েন; আমার আগমনাপেক্ষায় তাহার সুচিকিৎসার

[আট]

বিশেষ বন্দোবস্ত হইতে পারে নাই সেই বোগেই আট মাসেব একটি শিশুপুত্র রাখিযা তিনি পরলোক গমন করেন “কুসুমাঙ্গ সেই শিশুটিকে বুকে তলিযা লইলাম। কিছুদিনেব জন্য ইতিবৃত্ত মুদ্রণের তত্বাবধান স্থগিন বহিল। শিশু লইযাই ব্যস্ত থাকিতে হইল সেই সময় কনিষ্ঠ সহোদর অনিরুদ্ধ চরণ চেঁধুবী (যিনি ইতিবৃত্তের জন" উপকরণ সংগ্রহ কবেছিলেন) কলিকাতায় যাওয়ার জন্য উত্তেজিত কবিতে লাশিল |... কলিকাতায় চলিলাম কিন্তু হায়... জানিলাম না যে ইহার তাহার সহিত শেষ দেখা বিদ্যুত্বাতায ব্যাধি সংবাদ পাইযা তৎক্ষণাৎ চলিয়া আসিলাম। কিন্তু অনকদ্ধকে পাইলাম না। সে তখন দু খময সংসাবেব বন্ধনমুক্ত হইয়া চলিয়া গিয়াছে।

মাত্র পাচটি মাসের মধ্যে এই দইটি শোক কুসুমাঙ্গের ফুল মুখ চাহিয়া ভুনিতে চেষ্টা করিলাম যখন তাহার বয়স এক বৎসর উত্তীর্ণ হঈয়াছে তখন সে অমৃতভাষে পিতাকেই “মা' বলিয়া ডাকে। ... ইতিবৃত্তেব মুদ্রণ শেষ করিতে কলিকাতায় যাইতে হইবে-_ কর্তব আর শ্নেহ উভয়ের মহাযুদ্ধে শেষোক্তই পবাজিত হইল কলিকাতায চলিলাম যাত্রাকালেব সেই চিত্র এখনও মন হইতে মুছে নাই। বন্টাব সম্মুখে অনোব কোলে থাকিযা ফুলু কুসুমেব ন্যায় সে আমার পানে চাহিয়া রহিল অল্পদিন যে 'বাবা' বলিনি শিখিযাছে, কিছুদূরে গিযা শুনিতে পাইলাম যে সে ডাকিতেছে বাবা আইও ।' সাতদ্দন যাই না যাইতে তাহার জবর হইল আর সেই ডাক শুনিয়াই সেই ডাক বাবা আইও (এস) থামিল না. কেহই থামাইতে পারিল না। ... কাজ একরূপ শেষ করিয়া বাড়ি আসিলাম। কিন্তু তাহার পীড়া কঠিন হইয়া পড়িয়াছে।

ইতিবৃত্ত (পৃরর্বাংশ) রূপ-মানসপুত্র পাইলাম, কিন্তু আমাব সোনার কুসুমাঙগকে চিরতরে হার।ইলাম 1”

আমরা মনে করি শ্রীহট্রের ইতিবৃত্তের রচনা কাহিনা নিয়েই একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা সন্তব। সে যাই হোক, এই গ্রন্থ বাঙালি জাতির পৌরব:ং এর অবদান কোনোকালে নিঃশেষ হবে না। গ্রন্থটি পুনমুদ্রণ করতে পেরে আমবা গৌরবান্ধিত আশা কবি অনিসঞ্ধিৎসু দেশপ্রেমিক পাঠকগণ গ্রন্থ মনোযোগ সহকারে পাঠ করতে পরান্ুখ হবে না। তাহলে আমরা নিজেদের শ্রম সার্থক মনে করব।

ভূমিকা

একে গ্রন্থ রচনা করেন অপরে তাহার ভূমিকা লিখেন, এই আজ কালকার ফেশন। আমি তদনুবন্তী হইয়া এই ভূমিকার অবতারণা কবিতেছি না। গ্রন্থকার শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্্ুনিধি মহাশয বঙ্গীয় সাহিত্য জগতে নিতান্ত অপ্রসিদ্ধ নহেন যে ভূমিকা লিখিয়া তাহাকে বাড়াইতে হইবে,__ তবে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত প্রণয়ন কার্ষ্যে আমার অল্প একটু সম্পর্ক ছিল, অতএব একটা কৈফিয়ত দিবার আছে; সেই নিমিত্ত এই প্রয়াস

প্রা আট বৎসর হইল নিম্নলিখিত চিঠিখানি শ্রীহস্ট জিলার সর্বত্র প্রচারিত হইয়াছিল

শ্রী শ্রী কাত্যায়নী শরণম্‌

বহুমানাস্পদ শ্রীযুক্ত মহোদয সমীপেষু

বিনীতনিবেদননিদম্_

আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের এই একটা অতিশয় অগৌরবের কথা যে তাহারা স্বদেশের কাহিনী কিছুই পরিজ্ঞাত নহেন। কোনও কোনও ব্যক্তির আবার এইরূপ মতও আছে যে এদেশে এমন কিছুই নাই যাহা জানিবার উপযুক্ত। এইপ্ধপ অজ্ঞানতা গুঁদাসীনোর মূল আমাদের জড়তা এবং ইহার ফল আমাদের অবশ্যন্তাবী অধোগতি আমরা যে দেশে জন্নিয়াছি তাহা মহিমাধিত, এই চিন্তাটুকু মনে আসিলেও মন উচ্চ আশায় স্ফীত হয়। সমগ্র ভারতভূমির চিন্তা করা অস্মাদৃশ ক্ষুদ ব্যক্তির ক্ষমতায়ত্ত নহে, তাই ক্ষমতায় যতদূর কুলায়, আপন জিলার কাহিনী সংগ্রহ নিমিত্ত বাসন করিয়াছি, জানিনা ভগবতী সেই বাসনা কতদূর পূর্ণ করিবেন আপাততঃ বিবরণ সংগ্রহের নিমিত্ত আপনার নিকট এই সাহায্য প্রার্থনা যে আপনার জনুস্থান যে পরগণায় সেই পরগণা সম্বন্ধীয় জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহের বিবরণী যতদূর পারেন সংগ্রহ করিয়া আমার নিকট প্রেরণ করেন। কিরূপ বিবরণ সংগ্ৰহ করিতে হইবে তাহা স্বয়ং অবধারণ করিতে পারেন। যাহা কিছু জানিতে স্বদেশীয় বা বিদেশীয় লোকের ওৎসুক্য জন্মিতে পারে এইরূপ বিবরণীর সমাদরনীয় হইবে দিজ্ঘাত্রপ্রদর্শনচ্ছলে নিম্গে কতিপয় বিষয় উল্লেখ করা যাইতেছে।

১. প্রসিদ্ধ হান_

ক. তীর্থ বা দেবালয় বা মাহাত্যযুক্ত স্থান (হিন্দু-মোসলমান নিরবির্বশেষে)।

খ. দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির জনাস্থান বা অবস্থিতির স্থান।

গ. প্রসিদ্ধ এতিহাসিক ঘটনার স্থল।

ঘ. প্রসিদ্ধ উৎপনু দ্রব্য, আয়কর, শিল্প, বাণিজ্য প্রভৃতির স্থান।

উ. অন্য কোনও কারণে প্রসিদ্ধ স্থান: যথা-তুদ, জলপ্রপাত এবং ।বখ্যাত দীর্ঘিকা, মন্দির প্রভৃতি প্রাচীন কীর্তি সংবলিত স্থান

[দশ]

২. প্রসিদ্ধ ব্যক্তি__

(হিন্দু-মোসলমান উচ্চ-নীচকুল অথবা স্ত্রী-পুরুষ নিবির্বশেষে)

ক. সাধু বা সিদ্ধ পুরুষ বা ধর্ম সম্প্রদায় প্রবর্তক

খ. বিদ্ধান (যে কোনও ভাষায় হউন) এবং প্রতিভাশালী ব্যক্তি (যে বিষয়ে হউন)।

গ. কবি বা গ্রন্থকার (যে কোনও ভাষায় হউন)।

ঘ. সঙ্গীতজ্, গান রচয়িতা ইত্যাদি

উ. উচ্চ পদবী যুক্ত কিংবা সম্পত্তি অর্জনকারী

চ. শিল্পী, কারবারী ইত্যাদি

ছ. বিখ্যাত বংশের প্রবর্তক বা প্রসিদ্ধ পরিবারের আদি পুরুষ

জ. অন্য কোনও কারণে প্রসিদ্ধ; যথা--দয়াবৃত্তি, বুদ্ধিব তীক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ইত্যাদি।

৩. ভারতবর্ষের অন্যান্যস্থলে অপ্রচলিত আচার-ব্যবহার; কোনও তাত্রশাসন বা পুরাতন মুদ্বা ইত্যাদির বিবরণী: এবং কোনও মর্যাদাশীল সামাজিক সম্প্রদায়ের ইতিহাস।

দ্রষ্টব্য

১. কোনও প্রসিদ্ধ মাহাত্মযুক্ত স্থান সম্বন্ধীয় বিবরণে তৎসন্বন্ধে যে সকল প্রবাদ প্রচলিত আছে তাহা উল্লেখ করা আবশ্যক সুপ্ত তীর্থাদি বিষয়েও উল্লেখ থাকিলে ভাল

২. কোনও গ্রাম বা পরগণার নামেব ইতিবৃত্ত অনুসন্ধান করিলেও অনেক তন্ত্ প্রকটিত হয়।

৩. কোন দেশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির বা বিখ্যাত পরিবাবের বংশের বা সম্প্রদায়ের বিষয়ে কোনও শাসনপত্র বা এতিহাসিক দলিল থাকিলে তাহার উল্লেখ করা এবং উহা কোথায় কি অবস্থায আছে সেই বিবরণ জানা আবশ্যক 'বংশবৃক্ষ' থাকিলে ইহার নকল কিম্বা তাহা পাইবার উপায় বলাও দরকার

৪. কোনও প্রাচীন অথবা আধুনিক কনি ব' গ্রন্থকার সম্বন্ধে লিখিবার সময়ে তত্প্রণীত গ্রন্থের বিবরণ, উহা কোন ভাষায় লিখিত, গ্রন্থের বিষয়, গ্রন্থ ছাপা হইয়াছে কিনা, হস্তলিখিত হইলে কোথায় কিনূপে প্রাপ্তব্য ইত্যাদি লিখিতে চেষ্টা করিবেন বলা বাহুল্য, প্রাচীন-নতুন বাঙ্গলা সংস্কৃত আরব্য পারস্য পদ্য-গদ্য যে কোন গ্রন্থই হউক এই জিলার অধিবাসী কাহ।রও লিখিত হইলে তাহার বিবরণ সগৃহীত হওয়া একান্ত আবশ্যক কোনও গ্রন্থের লোপ হইয়া থাকিলেও গ্রন্থকার এবং গ্রন্থ বিষয়ে বিববণ জানা থাকিলে তাহার উল্লেখ প্রয়োজন।

৫. কোন শিল্প বা উৎপন্ন দ্রব্য বিষয়ে লিখিবার কালে শিল্প বা দ্রব্য কোন জাহীয় লোকের ব্যবসায়ের অধীন, কিরূপে উহার ব্যবহার চলে ইত্যাদির বিবরণ লেখা আবশ্যক শিল্প বা দ্রব্য লুপ্ত বা অপ্রচলিত হইলেও তদ্বিষয়ের বিবরণ লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত।

৬. প্রাচীন কালেব প্রসিদ্ধ ব্যক্তির বিবরণ লিখিতে অনেক সময় প্রবাদ বাক্যের উপব নির্ভর করিতে হইবে কিন্তু যদি যথাসাধ্য সুপরীক্ষিত সত্য ঘটনাই লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত, তথাপি যেন কোনও অলৌকিক বা আপাত দৃষ্টিতে অমূলক ঘটনাবলী উপেক্ষিত না হয়। তবে বিবরণ সংগ্রাহক অবশ্যই এই সকল সম্বন্ধে স্বীয় মতামত দিতে পারেন

৭, কোনও ধর্মসম্প্রদায়ের প্রবর্তক বিষয়ে লিখিতে হইলে সম্প্রদায় সম্বন্ধেও বিশেষ বিবরণ থাকা দরকার

[এগার]

৮. একই স্থানের বিবরণ সংগ্রহ নিমিত্ত একাধিক ব্যক্তিকে লিখা হইয়া থাকিলেও প্রত্যেকেই স্বীয় সামার্থ্যানুরূপ সংগ্রহ করিবেন, এবং কোনও বিষয়ে অন্য ব্যক্তি লিখিয়া গাকিলেও কেহ যেন সেই বিষয়ে উপেক্ষা না করেন। বলা বাহুল্য এই সম্বন্ধে আপনি অবশ্যই দেশহিতৈষণাপ্রণোদিত হইয়া কার্য্য করিবেন। যেকোনও উপায়ে দেশের গৌরবাম্পদ বিষয় সমূহ সাধারণের নিকট প্রচারিত হয় তৎপক্ষে মনোযোগী হইবেন। আপনি যদি এমন কোনও ব্যক্তির নাম জানেন যাহার নিকট এই সকল বিষয়ে বহুল তত্ব জানিতে পারা যাইবে, তবে দয়া করিয়া অনতিবিলম্বে তাহার নাম ধাম (পোঃ সহ) জানাইয়া অনুগৃহীত করিবেন। এতদ্বিষয়ে মহাশয়ের নিকট অধিক লিখা নিম্প্রয়োজন মনে করি জিজ্ঞাসিত বিবরণ সহ উত্তর যত সত্তর হইতে পারে দিয়া বাধিত করিবেন এই প্রার্থনায় ইতি।

সন ১৩০৯ সাল তারিখ ১৫ই আশ্বিন।

অনুগ্রহাকাজিক্ষিণ

শ্রীপদ্ননাথ দেবশর্ম্ণ

(ঠিকানা শ্রীহট্)।

এই চিঠিখানা পাইয়া শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্ত্বনিধি মহাশয় আমাকে লিখিয়া জানান

যে তিনি ইহার কিছুদিন পূর্ব 'শ্রীহট্টদীপিকা' নামক একখানি শ্রীহট্রের ইতিহাস বিষয়ক পুস্তক

লিখিয়া প্রেসে পাঠাইযা দিয়াছেন, আমি তৎক্ষণাৎ তাহাকে পুস্তক খানি প্রেস হইতে ফিরাইয়া

আনিতে অনুরোধ করিয়া লিখিয়া পাঠাই যে উপরি উদ্ধৃত চিঠির উত্তরে যে সকল বিবরণী আমার

হস্তগত হইবে, তত্তাবং তাহারই হস্তে সমর্পিত হইবে, এবং তিনিই মৎসংকল্লিত ইতিবৃত্ত

লিখিবার জন্য বৃত হইবেন। ১৩০৯ সালে চিঠি খানি সর্বত্র বিলি হয়। কিন্তু বৎসর কালের

মধ্যেও আশানুরূপ বিববণী হস্তগত হইল না দেখিয়া পুনশ্চ ১৩১০ সালের শ্রাবণ মাসে শ্রীহট্রস্থ

ইক্লি ক্রনিকল সংবাদপত্রে এবং কাছাড়ের শিলচর পত্রে বিজ্ঞাপন দিয়া সাধারণ হইতে এঁতিহাসিক মালমসলা প্রার্থনা করা হয়।

তখন আমি শ্রীহত্টরের স্কুল ডেপুটী ইন্সপেক্টর ছিলাম এই নিমিত্ত যাবতীয় মধ্যশ্রেণীর বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহাশয়গণ এবং সংস্কৃত চতুষ্পাগী সমূহের অধ্যাপক মহোদয়বৃন্দ আমাকে তাহাদের আপনার লোক ভাবিয়াই প্রভৃত পরিমাণে নানাস্থানের বিবরণী প্রদান পূর্বক চিরানুগৃহীত করিয়াছেন। এতদ্যতীত ইটা পাঁচগাও নিবাসী উকিল শ্রীযুক্ত হরকিস্কর দাস, তরফ সুঘর নিবাসী স্বর্গীয় ঈষানচন্দ্র মজুমদার, তুঙ্গেশ্চর নিবাসী শ্রীযুক্ত শ্রীশচন্দ্র মজুমদাত্র, পৈল নিবাসী জমিদার মৌলভী শাহ সৈয়দ এমদাদ উল হক এবং জয়ন্তীপুর নিবাসী শ্রীযুক্ত রাধাচরণ পাল, এই সকল মহাশয় ব্যক্তি এই কাজটি যেন নিজের ভাবিয়া বিশেষ শ্রম স্বীকার পূর্বক তাহাদের পরগণার বিবরণী দিয়া যথেষ্ট সহায়তা করিয়াছেন শ্রীহস্ট শহরের উপকণ্ঠ নিবাসী শ্রীযুক্ত সারদাচরণ ধর মোনশী মহোদয় শহরের জিলার অনেক প্রাচীন কাহিনী প্রদান করিয়া অশেষ অনুকূল্য প্রদর্শন করিয়াছেন বিশেষভাবে ইহাদের নাম উল্লেখিত হইলেও, অপর যে সমস্ত ভদ্রলোক কৃপা করিয়া বিবরণ সংগ্রহ কল্পে আমাদের সহায়তা বিধান করিয়াছেন, মাত্র বাহুল্য ভয়ে তাহাদেব নাম স্থলে উল্লেখ করা হইল না, তাহারা সকলেই আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন |

১৩১৩ সাল পর্যন্ত যে সকল উপকরণ হস্তগত হইয়াছিল, তাহাও প্রচুর বিবেচনা না করাতে, সংগৃহীত বিবরণাবলীর একখানি সূচিপত্র পুস্তিকাকারে মুদ্রিত করিয়া ১৩১৪ সালের প্রারন্জে বিতরণ করা হইয়াছিল। উদ্দেশ্য এই ছিল, যে যদি কেহ ইহাতে কোনও স্থান বা ব্যক্তি

[বার]

সম্বন্ধে উল্লেখ না দেখেন, তবে তৎ্সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয় আমাদিগকে লিখিয়া পাঠাইবেন। ইহাতেও অনেক ফল হইয়াছিল অনেকে গতবর্ষত্রয়ে এমনকি এই বৎসরেও বহু বিবরণী পাঠাইয়া আমাদিগকে বাধিত করিয়াছেন

শ্রীহট্টের কালেক্টরির মোহাফেজ খানায় যে সমস্ত কাগজ পত্র হইতে বহু এঁতিহাসিক উপকরণ সংগৃহীত হইতে পারে তাহা পর্যবেক্ষণার্থ ১৩১০ সালে ডেপুটী কমিশনার সাহেব বাহাদুর নিকট আবেদন করা হয়। ১৩১১ সালে মহামান্য শ্রীযুক্ত চিফ কমিশনার সাহেবের সেক্রেটারী বাহাদুর এতদ্বিষয়ে অনুমতি প্রদান করেন।

শ্রীযুক্ত অচ্যত বাবু স্বয়ং এই কাগজপত্র তদন্ত করিবার ভার গ্রহণ করিয়া প্রায় বৎসরার্থ কাল প্রভূত পরিশ্রম সহকারে ইতিবৃত্তের বহু মাল-মসলা সংগ্রহ করিয়াছেন। পারস্যে লিখিত অনেকগুলো সনদের সার সংক্ষেপেও সংগৃহীত হইয়াছে। ইহা বংশ বৃত্তান্ত ভাগ সংকলনে বিশেষ সহায়তা করিবে

শ্ীহট্টরের ইতিবৃত্ত চারিভাগে বিভক্ত হইয়াছে। ১ম ভৌগোলিক বৃত্তান্ত, ২য় এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত, ৩য় বংশ বৃত্তান্ত, ৪র্থ জীবন বৃত্তান্ত সম্প্রতি এই 'পূবর্বাংশে' ভৌগোলিক এঁতিহাসিক বৃত্তান্ত প্রকাশিত হইল, “উত্তরাংশে' অপর দুই ভাগ প্রকাশিত করিবার সংকল্প আছে, তাহা ভগবদিচ্ছার উপর এবং অনেকটা এই পৃবর্বাংশ সাধারণ্যে কিরূপ গৃহীত হয় তাহার উপর নির্ভর করে।,

শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত 'সচিত্র' প্রকাশ করিবার নিমিত্ত অনেক স্থানে ফটো চাহিয়াও পাওয়া গেল না। যতটুকু সংগ্রহ করিতে পারা গেল, তা দেওয়া গেল।

পৃবের্বই বলিয়াছি ইতিবৃত্তের লেখক শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্বনিধি মহাশয়ের গুণ কীর্তন এই ভূমিকার উদ্দেশ্য নহে। তথাপি এইমাত্র বলা উচিত মনে করিতেছি যে শ্রীহস্ের ইতিবৃত্তঁ এই আকারে প্রকাশিত হওয়া নিতান্তই বিধিনির্দিষ্ট ছিল। তাই অচ্যুত বাবুকে গ্রন্থপ্রণেতারূপে পাওয়া গিয়াছে এই কার্য্য যদি আমার করিতে হইত তবে অদ্যাপি উহা আদৌ রচিত হইত কিনা তাহাই সন্দেহের বিষয় ছিল-_ রচিত হইলেও ইহা এতবড় এবং ঈদৃশ সুপাঠ্য না হইবারই কথা ছিল অগ্যুত বাবুর ধৈর্য্য অধ্যবসায় পুরাতন্ত্াভিজ্ঞতা লিপিকুশলতা আমার নাই যত্রতত্র পাওয়া দুর্ঘট তথাপি এমন বলিতেছিনা যে এই ইতিবৃত্ত সব্ববাঙ্গ সুন্দর হইয়াছে। এই প্রদেশে এতদৃশ জাতীয় ইতিবৃত্ত প্রণয়নের বোধ হয় এই প্রথম উদ্যম। প্রথম বলিয়াই ইহাতে নানা ত্রুটি থাকিবার সম্ভাবনা সহদয় পাঠকবৃন্দ দৌষভাগ বর্জন পুরর্বক গুণটুকু গ্রহণ করিয়া প্রণেতার উৎসাহ বর্ধন করেন, এই প্রার্থনা

বঙ্গাব্দা ৪১৩১৭ শ্রী পন্নাথ দেবশর্্া

অচ্যুতচরণ চৌধুরী তন্বনিধির পরিচিতি ১২৭২ সনের (১৮৬৫ খিষ্টাব্দে)ট ২৩শে মাঘ করিমগঞর্জের অন্তর্গত জফরগড় পরগণার মৈনা গ্রামে অগ্যুতচরণ দেব চৌধুরীর জন্ম হয়। তার মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৩৬০ সনের ১০ই আশ্বিন তর্তনিধির শৈশব বাল্যকাল কেটেছে মৈনার গ্রামীণ জীবন পরিবেশে বাশ বেত বনে ঘেরা, আর পারিবারিক সরল অনাড়ত্বর জীবন প্রতিবেশের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।

শৈশবে তার হাতেখড়ি হয় বাড়ির পাঠশালায় গ্রামের বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে অচ্যতচরণ শ্রীহট্র সরকারী উচ্চ ইংরাজী স্কুলে শিক্ষা লাভের জন্য ভর্তি হন। "শ্রীহট্রের ইতিবৃত্' গ্রন্থের ভূমিকায় তত্বনিধি তার বাল্যকালের কথা ম্মরণ করিতে গিয়া শ্রীহস্ট সরকারী উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে পাঠকালের কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া বিনোদবিহারী চক্রবর্তী উপেন্দ্রচন্দ্র গুহের সম্পাদনায় শ্রীহট্ট থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা 'বিবর্তন'-এর মাঘ সংখ্যা; তর্তবনিধি “মনি" শীর্ষক একটি সত্যমূলক ঘটনার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা প্রসঙ্গে এই স্কুলের কথা উল্লেখ করেছেন এই নিবন্ধ তিনি যখন লেখেন তখন তার বয়স পচাত্তর বছর; স্মৃতিশক্তি তখন অটুট। দেহ কর্মশক্তিহীন তবুও তিনি লিখে চলেছেন। কী অসাধারণ দৃঢ়তা অধ্যবসায় তখনও তার ছিল ভাবলে বিস্ময় লাগে। স্কুলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা থেকে সে কালের সরকারি স্কুলের পারিপার্থিকতার একটি ছবি এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, যার অনেক কিছুই হয়ত আজ আর নেই।

'শ্রীহন্ট শহরের উত্তরাংশে “ঈদগার মাঠ" নামে স্থান। মহরমাদি মুসলমান পর্বকালে স্থানে বহু “তাবুজ' একত্রিত হয়। বালকবেলা যবে শ্রীহষ্টে গভর্ণমেন্ট স্কুলে ইংরেজী অধ্যয়ন করিতাম, তখন বেড়াইবার উপলক্ষে অন্যান্য ছাত্রের ন্যায় আমিও কখন কখন যাইতাম। ঈদগার ময়দানে উত্তর দিকে দক্ষিণ দিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিলা, পশ্চিম দিকে ছোট পুকুরের মত গর্ত আছে। পূর্বদিকে একটা টিলা রহিয়াছে মধ্যে সামান্য ফাকা স্থান দেড়টা বাজিলে স্কুল ছুটি হয়, তখন অনেক ছাত্রের মত কখন কখন আমিও গিয়া চক' (ফুল খড়ি) দিয়া কোঠার গায় নামাদি যা মনে আসিত-_ লিখিতাম ।'

(বিবর্তন মাঘ, ১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনকালে অচ্যুতচরণ, প্যারীচরণ দাসের নয়াসড়ক বাসায় বসবাস করতেন। এই প্যারীচরণ উনিশ শতকের শ্রীভূমির এক উল্লেখযোগ্য মনীষী প্যারীচরণের ঘনিষ্ঠ সান্ধ্য সাহচর্ষেই অচ্যুতচরণ চৌধুরীর কিশোর মন সাহিত্য রচনার প্রেরণা লাভ করে। পরবর্তীকালে শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত" গ্রন্থ রচনাকালে এবং অন্যানা সাহিত্য কর্ম বিষয়ক আলোচনা প্রসঙ্গে তার ছোটবেলার এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি নির্ধিধায় বারবার উল্লেখ করেছেন। স্কুল জীবনে তত্ুনিধি তার সহপাঠী হিসেবে যাদের পেয়েছিলেন তাদের অনেকেই সাহিত্য অপরাপর ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে বিশেষ ব্যুৎপত্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, সারদাচরণ ধর, ভারতচন্দ্র দাস, প্রহাদচরণ সেন প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিতৃ।

সাহিত্য, দর্শন, বিশেষত বৈষ্ণব-দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, ভাষা সংস্কৃতি সম্বন্ধে অচ্যুত চৌধুরীর অগাধ পাগ্তিত্য ছিল। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে এই অসাধারণ পরিচয়টিকে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। অর্জিত শিক্ষা অধ্যবসায় শুধু তার সাহিত্যকর্মকেই সমৃদ্ধি দান করেনি, যথার্থ শিক্ষাকে জীবনের অনুষঙ্গ রূপে গ্রহণ করে তার সার্থক ঘনিষ্ঠ আচরণটিও তার মধ্যে

[চৌদ্দ]

সার্থক হয়ে ফুটে উঠেছে। তার সংসার জীবন কিংবা পারিবারিক জীবন সন্বন্ধে বিস্তৃত কোন তথ্য অবগত হওয়া যায় না। বিচ্ছিন্নভাবে লেখা কিছু চিঠিপত্র, আত্ম্ীয়-পরিজনদের নিকট থেকে সংগৃহীত অসংলগ্ন কিছু কথা কিংবা তার নিজের হাতে লেখা জীবন কথা' বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা বিবিধ মন্তব্য প্রসঙ্গ থেকে তার যে পরিচয়টি পাওয়া যায় তা কোন পূর্ণ অবয়ব সৃষ্টি করতে সমর্থ হয় না। তার প্রকৃত পরিচয়টি খুঁজে পাওয়া সম্ভব তারই সৃজনশীল প্রতিভা বৈচিত্র্য আর ব্যক্তি জীবন পরিচয়ের যোগফলের মধ্যে, যার মধ্যে দিয়ে তত্বনিধির জীবন সাহিত্যের এক পূর্ণায়ত রূপকে অনুভব করা যায়।

শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি মৈনাতেই ফিরে আসেন। গ্রামে ফিরে এসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সাহিত্যসেবা ধর্মসাধনায় নিয়োজিত করার সংকল্প গ্রহণ করেন; কিন্তু অভিভাবকদের চাপে পড়ে তাকে বিয়ে করে সংসারী হতে হয়। পারিবারিক সম্পর্কে ভ্রাতুষ্পুত্র সাতাশী বছরের বৃদ্ধ শ্রীযুক্ত অন্নদাচরণ চৌধুরীর মাধ্যমে তার বিবাহিত জীবনের একটি পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। সংসার ধর্মপালনের জন্য তাকে তিনবারই বিয়ে করতে হয়। প্রথম বিয়ে হয় লাতু গ্রামের গোবিন্দচরণ রায়ের মেয়ের সঙ্গে প্রথমা স্ত্রী চিনয়ী নামে এক মেয়ে হেমাঙ্গ নামে এক ছেলেকে রেখে মারা যান। তারপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন শ্রীহট্ট জিলার ফেুগঞ্জ শহরের ইন্দানগরে এই স্ত্রীও দীর্ঘ রোগ ভোগের পর মারা যান। তারপর জলডুবের জনৈক ভবানীচরণ দাসের মেয়েকে বিয়ে করে পুনরায় সংসারী হন। এই তৃতীয় স্ত্রীর দিকে বীণাপাণি এখনও বর্তমান দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে সুষমার সঙ্গে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীযুক্ত কুমুদবন্ধু রায়ের বিয়ে হয়৷ ছেলে কুসুমাঙ্গকে শিশু অবস্থায় রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যান। মেয়ে চিন্মুয়ী সম্বন্ধে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি হেমাঙ্গ কুসামাঙ্গ এই দুটি ছেলেই অকালে মারা যায়। তাছাড়া কনিষ্ঠ ভ্রাতা অনিরুদ্ধ, অপর কন্যা নীলিমা, এইসব একান্ত আপনজনরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এই মৃত্যুর পর মৃত্যুর বেদনা তত্বনিধির জীবনকে তীব্রভাবে আঘাত করে রক্তাক্ত করে তুললেও তীর স্থিরপ্রজ্ঞ চেতনাকে পর্যুদস্ত করতে সক্ষম হয়নি।

অচ্যুত চৌধুরীর পারিবারিক জীবন যে সুখকর ছিল না তার বিবাহিত জীবনের এইসব দুর্ঘটনা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু সুখ শব্দের গুঢ় অর্থকে বোধ হয় তিনি এই বয়সেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জীবন যুদ্ধে কখনো তিনি হার মানেননি বরঞ্চ মৃত্যুর এই বেদনা থেকে তিনি জীবনকে আরো গভীরভাবে ভালোবাসতে শিখেছিলেন। এর মধ্যে থেকে যে তত্বনিধিকে আমরা প্রত্যক্ষ করি, যে মনন ধী-শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে আমরা অনুভব করি তা সন্দেহাতীতভাবে পৃথিবীর যে কোন মনীষীর ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে তুলনীয়

সংসার জীবনে স্ত্রীদের বিয়োগ ব্যথা তন্তুনিধির ব্যক্তিগত জীবনকে যতখানি নিদারুণ করে তুলেছিল তার চেয়ে বেশী আঘাত তিনি পেয়েছিলেন সন্তানদের ভাইয়ের মৃত্যুতে তার যৌবনের সমস্ত স্বপ্রসাধই শুধু নিঃশেষে হারিয়ে যায়নি__ স্নেহ-মমতার আধারগুলো, যাদের মুখ চেয়ে এক দুর্ভাগা পিতার জীবন অন্তত বিশ্বাস করে ভালোবাসতে পারে, জীবনের সমস্ত নিষ্ঠুরতাকে ভুলে গিয়ে একটু সান্ত্বনার আশ্বাস পেতে পারে, সেই মৃৎপাত্রের তৈলাধারটিও পর্যন্ত জ্বলে পুড়ে খাক্‌ হয়ে গেছে। এই ক্ষতি শুধু তার ব্যক্তিগতই নয়, বিশেষত হেমাঙ্গের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের পক্ষেও এক বিরাট ক্ষতি হয়ে দাঁড়ালো তার মৃত্যু হয়েছিল কৈশোর- যৌবনের বয়ঃসন্ধিকালে এই বয়সেই সে এক প্রতিশ্রতিবান কবিরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল

পুত্র কুসুমাঙ্গের জীবনস্থৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তত্তবনিধির সৃষ্টিপর্বের এক ইতিহাস। এক ইতিহাস, প্রকাশের আনন্দ আর মৃত্যুর বিড়ন্বনায় বড়ই বেদনাবহ। কুসুমাঙ্গের জন্ম হয় ১৯০৯

[পনর]

সালের ৮ই ফেবুয়ারি। ছেলেটির বয়স যখন মাত্র সাড়ে সাত মাস, সে সময় লেখক শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশনাদিব ব্যাপারে কোলকাতায় ঠিক সে সময় কুসুমাঙ্গের মা কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং মাত্র পচিশ বছর বয়সে তিনি মারা যান। জীবনের পরম প্রাপ্তির মুহুর্তে এমন নিদারুণ আঘাত তার জীবনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, তার প্রাণের ফুল কুসুমও অযত্ব আর অবহেলায় ক্রমে শুকিয়ে ঝরে পড়তে লাগলো সেই অভিশপ্ত দিনগুলোর কথা স্মরণ কবে তিনি লিখেছিলেন__ “সোনার বান্ধ বুকে লইলাম তপ্ত হৃদয় শীতল হইল। জলন্ত আগুন নির্বাপিত হইল আমি যথার্থই তাহার মাতৃ পদারূঢ়া হইলাম ।'

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দেড় বছরের শিশু কুসুমাঙ্গ ১৩১৭ সনের ২৭শে কার্তিক মারা গেল। এই মৃত্যুর আঘাত তাকে দারুণভাবে বিপর্যন্ত করে তুলেছিল। এক তীব্র অপরাধবোধ তাঁকে বৃশ্চিকের মতো দংশন করেছিল। তার বারবারই মনে হয়েছে এই মৃত্যুর জন্য বুঝি নিজেই দায়ী ছিলেন ' 'শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থ নিয়ে তিনি যদি ব্যস্ত না থাকতেন তাহলে হয়তো সংসারের প্রতি, ছেলের প্রতি তিনি যথা কর্তব্য সম্পাদন করতে সক্ষম হতেন এই গ্রানি থেকে মুক্তি পাবার জন্যে তিনি গ্রন্থথানি উপসর্গপত্রে কুসুমাঙ্গের উদ্দেশ্য লেখা কটি কথা সংযোজন করতে চেয়েছিলেন.__

“উপসর্গ'

ইতিবৃত্ত!

সম্ফুট বিশেষ?

শ্রীহপ্টরের ইতিবৃত্ত প্রকাশে প্রবৃত্ত হইয়া যে ম্মৃতিপীড়ক নিদারুণ স্থৃতি সম্বল করিয়াছি সমগ্র

সাগর বারি সিঞ্জনে তাহা মুছিবে না। দেড় বৎসরের মাতৃহীন পুত্র যাহাকে দিবানিশি বুকে রাখিতাম যাহার টাদ মুখের তুলনায় পূর্ণচনত্েরপ্রদীপ্ত প্রভা মলিন হইয়া যাইত হায়!

ইতিবৃত্ত গ্রন্থে এই উপসর্গ পত্র সংযোজন শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। উত্তরাংশে ভূমিকা পত্রে তিনি এই সময়কার তাব মানসিক অবস্থা বিবৃত করেছেন। সেই সময় তিনি তার সংগৃহীত গ্রন্থগুলো নিয়ে বাড়িতেই একটি লাইব্রেরী স্থাপন করেছিলেন এই লাইবেরীর নাম ছিল প্রথমে 'শ্রীহরি লাইবেরী।" পুত্র কুসুমাঙ্গের নাম স্মৃতি অক্ষয় করে রাখার জন্যই তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন “কুসুম লাইব্রেরী ।'

তত্তবনিধির নিষ্ঠা অধ্যবসায়ের ফলে এই কুসুম লাইব্রেরী পরবর্তীকালে এক বিশাল গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। তার রক্ষণাবেক্ষণ নানা কারণে অসুবিধাজনক হয়ে উঠায় পরবর্তীকালে তিনি শ্রীহট্ট সাহিত্য পবিষদকে সমগ্র লাইবেরীটিই দান করেন। তখন “কুসুম লাইব্রেরী'র সংগ্রহে প্রায় দুই হাজার বই ছিল। এই দান করার মধ্যে একটি সাধারণ শর্ত ছিল এই যে “আমার কন্যা, জামাতা ভ্রাতুষ্পুত্র কেহ বাড়িতে আনিয়া বই পড়িয়া ফেরত দিতে পারিবে ।” এই দান সাহিত্য পরিষদের পক্ষে গ্রহণ করে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক প্রয়াত যতীন্দ্রমোহন ভন্টাচার্য মহাশয়

শ্রীহট্ট্ের ইতিবৃত্ত উত্তরাংশ যখন প্রকাশ পেল, তার জীবন থেকে হারিয়ে গেল আরেক নয়নমণি-_- তীর মেয়ে__ হৃদয় পটের নির্মল আলেখ্য নীলিমা ।' এভাবে বার বার মৃত্যু এসে তার চলার পথ রুদ্ধ করে দীড়িয়েছে, এই ভয়াবহতা আকনম্মিক আঘাত তাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে কিন্তু সাধনায় নিরস্ত করতে পারেনি তীব্র সংকটের মুখে তার ধ্যান-ধারণা তাকে সংকট থেকে মুক্তি দান করেছে। সমস্ত সংশয়ের উত্তর তিনি বিশ্ববিধানেরই মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। জগৎ সংসারের নিয়ম-নীতি সম্বন্ধে তিনি অনবহিত ছিলেন না। ব্রিকালদর্শীর মতো

[ষোল]

তার স্থিতধী বোধ বিশ্ব নিয়মের সারাৎসারকে উপলব্ধি করতে পেরে গভীর দুঃখের মধ্যেও সান্ত্বনার আশ্বীসকে খুঁজে পেয়েছিল

অচ্যুত চৌধুরীর কর্মজীবন মৈনার গ্রামীণ জীবন পরিবেশেরই মতো সরল অথচ বৈচিত্র্যময় ছিল। জীবিকার প্রয়োজনে গ্রাম ছেড়ে বাইরে যাবার কোনো প্রলোভন তার ছিল না। যদিও চৌধুরী বাড়ির, বিশেষত অদ্বৈত চৌধুবী তার বংশধরগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রাচুর্য তখন তলানিতে এসে ঠেকেছে তবু অর্থের চাইতে পরমার্থ চিন্তাই ছিল তাদের মৌল আদর্শ। এই পরমার্থ শুধু ঈশ্বরের সাধনায়ই নিমগ্ন আত্মকেন্দ্রিক ছিল না, সাধারণের কল্যাণ মঙ্গল সাধনই ছিল তাদের জীবনব্রত। অন্য শরিকের ঘরে অবশ; তখন লক্ষ্মী ছিলেন অচলা। মহাকালের জমিদার আর মৈনার চৌধুরী বাড়ির যৌথ কাঠের কারবার; বনাঞ্চল থেকে খেদা করে হাতী ধরা এক বিরাট লাভজনক ব্যবসা ছিল। তর্ত্বনিধি এই লাভকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এতিহাসিক প্রত্বতাত্ত্িক গবেষণায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে দিনাতিপাত করে চলেছেন। ফলে স্বভাবই প্রাচুর্যের মুখ তিনি দেখেননি; এর জন্য অবশ্য কোনদিনই তার কোনো আক্ষেপ ছিল না। তার জীবনের মৌল লক্ষ্য আদর্শ ছিল সাহিত্য-সাধনা গবেষণা এই আরাধনায় তার ইষ্ট সিদ্ধি লাভ ঘটেছিল এই সিদ্ধিলাভের উপযুক্ত জীবন পরিবেশ তিনি তার গ্রাম বাড়িতেই খুঁজে পেয়েছিলেন। সাহিত্য চর্চার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম জীবনের শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্ম সংস্কৃতি চেতনার উন্নতি প্রসারণের জন্যও তিনি আজীবন নিরলস প্রয়াস করে গেছেন। আজন্ লালিত বৈষ্ঞবীয় পরিবেশে, সাধুসঙ্গ প্রসঙ্গে এবং সাহিত্য সাহিত্যিক সাহচর্ষে তার জীবন অতিবাহিত হয়েছে। এই শিক্ষা সহবাস তাকে যথার্থ এক মনীষী বূপে গড়ে তুলেছিল। তার নির্মল চরিত্রের সান্নিধ্যে যারাই এসেছেন তারাই মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে বিশেষতঃ জমিদারির প্রজাসাধারণের প্রতি তার ব্যবহার এতই আন্তরিক ছিল যে জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই নীচ স্বার্থকেন্দ্রিক কোনো সংঘর্ষে তাকে লিপ্ত হতে হয়নি আদর্শের সঙ্গে আত্মার এমন নিবিড় একাত্মতা, মানব চরিত্রের এমন দুর্লভ গৌরবে অধিকারীই তিনি ছিলেন। সতজন হিসেবে তার জনপ্রিয়তা তাকে সাধারণ্যে বৈষ্ণব বাবাজী' নামেই পরিচিতি দান করেছিল ব্যক্তিগত আদর্শ, মহত্ব সৃজনশীল সাহিত্যত্রষ্টা রূপে তিনি দুর্লভ অমরত্ব লাভ করেছেন।

শিক্ষার পাঠ শেষ করে পাকাপাকিভাবে গ্রামে বসবাস করার আগে কিছুদিন তিনি শিক্ষকতার কাজও করেছেন। তার কৃতী ছাত্রদের মধ্যে উত্তর শ্রীহট্টের অধিবাসী মহেন্দ্রনাথ দে পুরকায়স্থ এবং সুনামগঞ্জের রমেশচন্দ্র চৌধুরী এই দুজন বিশেষ উল্লেখযোগ্য সহাধ্যায়ীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, “পরিদর্শক' সম্পাদক ভারতচন্দ্র দাস, সারদাচরণ ধর প্রমুখ উল্লেখযোগ্য মৈনা গ্রামে বাসকালে তিনি সেই গ্রামের পাঠশালায়ও দীর্ঘদিন শিক্ষাদানকার্ষে ব্রতী ছিলেন

তন্্নিধি-লিখিত আত্মকথামূলক বিবিধ বক্তব্য থেকে জানা যায় যে তিনি সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য পাথারকান্দিতে যে তহশীল অফিস রয়েছে সেখানে বেশ কিছুদিন কাজ করেছিলেন। সে সময় সংসারের বোঝা দারিদ্র তাকে আষ্টেপৃষ্টে বেধে রেখেছিল

মৈনা গ্রামের পোষ্ট অফিস ছিল কানাইবাজার। এই অফিসটি প্রথমে চৌধুরীদের কাছারী বাড়িতেই ছিল। তখন ছিল এটি পাথারকান্দি অফিসের অধীনন্থ একটি শাখা ডাকঘর এই অফিস পরিচালনা নিয়ে একবার ঝামেলা হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর অফিসটি উঠিয়ে নেবার অবস্থা দেখা দিলে তত্বনিধি নিজে তার পরিচালনার দায়িতৃটি কাধে তুলে নেন। শুধুমাত্র জনসেবার স্বার্থেই যে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সে কথা ডাকঘরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচল অবস্থার ঘটনা-সূত্র থেকেই জানা যায়। কানাই বাজারের সেই পোষ্ট মাস্টারের চেহারাটা

[সতের]

একবার ভেবে দেখা যাক, গ্রামেব পথের পাশে জমিদারের কাছারী বাড়ির এক প্রান্তে আম-জাম কীঠাল আর বাশ বনেব ছাযায এক ঘরের দাওয়ায় লাল চিঠির বাক্স ঝুলছে, ঘরের ভিতরে কাঠেন হাতল দেয়া চেয়ারে উপবিষ্ট পোষ্ট মাষ্টার, খালি গা, পরণে হাটুর উপর তোলা ধুতি, চোখে গোল তারের চশমা এটে একমনে ডাক বিভাগের সরকারি কাগজপত্র, 791] 1151, কিংবা আসাম সরকাবেব বাজস্ব বিভাগের ঢ০7)-এর পৃষ্ঠায় বাজার খরচের হিসেবের সঙ্গে তন্ত্র-মন্ত্র, গুরু নামাবলী, ঠিকুজী বিচার এমনকি প্রবন্ধ কবিতার খসড়া লিখে চলেছেন। মনে পড়ে যায বামপ্রসাদ সেনের কথা

মৈনার চৌধুরী পবিবারটি ছিল বৈষ্ণব ধর্মাশ্রয়ী এক আদর্শ তক্ত পরিবার তাদেরই পূর্বপুরুষ হুলাস রাম আকুল রামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্মের যে বীজটি উপ্ত হযেছিল তার ধাবা একাল পর্যন্ত এই বংশের মধ্যে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে রক্ষিত আছে। পতামহ গৌরন্দ্র পিতা অদ্বৈতচরণ শুধু ব্যক্তি পরিচয়েই বৈষ্ণব নামধারী মাত্র নন, হথাযথভ বে শীগৌবাঙ্গ অদ্বৈত আচার্ষের আদর্শে অনুপ্রাণিত সাধক ছিলেন। তন্্রনিধির জীবন ঢবিত্রেব মধে নিষ্ঠাবান বৈষ্ণবজনোচিত আদর্শ মহিমার যে প্রকাশকে অনুভব করা যায় তা তিন্ পারিবাবিক এঁতিহ্য সূত্রেই লাভ করেছিলেন।

বৈষ্ণব মবাপুক্ষদের সঙ্গ প্রসঙ্গ তার জীবন সৃষ্টিশীল প্রতিভাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পভ বত ক'ছে। শ্রীপত্রিকা, শ্রীশ্রীবিষ্ণপ্রিয়া পত্রিকা, শ্রীশ্রীবিষ্ণ-গৌরাঙ্গ প্রভৃতি বিবিধ পত্র- পত্িবা প"ম নবদ্বীপ বৃন্দাবন ধামকে কেন্দ্র করে চৈতন্যধর্মাশ্রয়ী যে আন্দোলন উনবিংশ শতক দিতীযার্ধ বিংশ শতকেব পধ্শের দশক পর্যন্ত প্রায় একশত বছর ধরে প্রবাহমান ছিল সেই আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট সেবক প্রাণপুরুষবপেও তিনি পরিগণিত ছিলেন, অহ ভানমৃক্ত. আত্মপ্রচারবিমুখ এই সদাশয় যথার্থ ভক্ত বৈষ্ণব একান্তভাবেই নিজেকে গোপন বেখে হঠিষ্ঠ লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাবান সক্রিয় ছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ সমাজ শাখা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদানই শুধু উল্লেখ্য নয়, ভার মতামত দৃষ্টিভঙ্গি পর্যন্ত বাংলাদেশের এই শাখা সখ. কে যথেষ্ট গুরুত্ব শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করতে হত এই সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল তৈতন্য আদর্শের যথাযথ রূপকে এবং তার প্রদর্শিত জীবনবেদকে গ্রামীণ মানুষের মর্মে 'পীঙগে দিযে এক আদর্শ সমাজ গঠন ধর্মীয় গৌড়ামী কিংবা উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রচার নয়, রপ 'স্পদায়-নিরপেক্ষ উদারতা নিম্ে তত্তনিধি মৈনা গ্রামেও শ্রীগৌরাঙ্গ শাখা সমাজ প্রতিষ্ঠা 25|হালেলন

জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি ভক্তি বৈষ্ণব সাহিত্য সেবার জন্য বৈষ্ণব 'হাম«্”লর পন্তিতবর্গ তাকে 'তন্তনিধি' উপাণ্ধতে ভূষিত করেন। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন তার বিঃম্বা 1 চারিত্রিক মহত্ত্ব বৈষ্ঞবীয় শাস্ত্রে অসাধারণ বুৎপত্তি দর্শন করে তাকে 'গৌরভূষণ' অভিধায় সম্মানিত করেছেন। তন্ত্বনিধিক সাহিত্য মানসের মর্মমূলে যে আধ্যাত্ম চিন্তা জীবনাদর্শ সতত প্রেরণশীল ছিল তা'ব যথার্থ পরিচয় আমার লেখা তন্ত্বনিধির জীবনী গ্রন্থে যথাসা; তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে আল্লাচনা পূর্ণাঙ্গ বিস্তৃত না হলেও এই অতি দীন উপস্থাপনাৰ মধ্যে দিয়ে তাৰ একটা নির্দিষ্ট পরিচিতি লাভ করা সম্ভব। পরবর্তী কালের গবেষকদেব কাছে তত্ত্বনিধি প্রসঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই প্রচেষ্টা কিছুটা সহায়ক বলে অ"শ বাখি।

('পর্বপাতিন ভয়েবুল্া রোড, দীঘলিপুখুবি পাব, গুযাহাটি, ভারত কর্তৃক প্রকাশিত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত' পুনঃমুদণ এব প্রথম খত পবিচিতি সংযোজিত হয়েছে। এটি রচনা করেছেন সুবীর কর। - প্রকাশক)

্রীহস্টরেব ২তিবত্ত পূর্বাংশ)-২

সূচিপত্র প্রথম ভাগ : ভৌগোলিক বৃত্তান্ত

প্রথম অধ্যায় জিলার সংক্ষিপ্ত কথা পৃষ্ঠা ২৭-৩২ অবস্থান, সীমা, দেশের প্রকৃতি, শোভা, জনবসতি, বাজাব, বিদ্যালয়, চিকিৎসালয়, পোষ্ট টেলিগ্রাফ অফিস প্রভৃতি, বিভাগ উপবিভাগ, শাসনকর্তা, আয

দ্বিতীয় অধ্যায় প্রাকৃতিক বিবরণ পৃষ্ঠা ৩৩-৩৯ পাহাড়, নদী উপনদী, হাওর, উৎস প্রশ্রবণ, প্রপাত, মরুভূমি

তৃতীয় অধ্যায় কৃষিজাত দ্রব্য পৃষ্ঠা ৪০-৪৯

চাষ, চার চাষ

চতুর্থ অধ্যায় শিল্লোৎপন্ন দ্রব্য পৃষ্টা ৫০-৬১ সূত্রশিল্প, কাষ্ঠশিল্প, বংশ বেত্রশিল্প, পর্ণ তণশিল্প, ধাতবশিল্প দত্তশিল্প, বিলুণ্-চর্ঘশিল্প, গন্ধ খাদ্যশিল্প, লাক্ষা লাক্ষিক শিল্প, খনিজ বাণিজ্য দ্রব্য, চূর্ণ, তৈল, কয়ল' লবণ ইত্যাদি

পঞ্চম অধ্যায় বাণিজ্য পৃষ্টা ৬২-৬৫ বাণিজ্য স্থান, স্টিমার লাইন, রেইলওয়ে লাইন, কাচা সড়ক, আমদানী, রপ্তানি ষষ্ঠ অধ্যায় ইতর প্রাণী পৃষ্ঠা ৬৬-৭২ হস্তী, খেদা ফাস পরতালা শিকার, অন্যান্য জন্তু, শিকারী পালিত পশু, পক্ষী মৎস্যাদি সপ্তম অধ্যায় অধিবাসী পৃষ্ঠা ৭৩-৮৩

হিন্দুজাতি--(কামার, কায়স্থ, কাহার, কুমার, কুশিয়ারী, কেওযালি, কৈবর্ত, গণক, গপ্তপাল, গন্ধবণিক, গোয়ালা, চামার, চুণার, ঢুলি, তাতি, তেলী, দাস, ধোপা, [শদীযাল]-ডোমপাটনি, নমঃশুদ্র, নাপিত, ব্রাহ্মণ (বর্ণ), ভাট, ভুঁইমালী, ময়রা, মাহারা, ঘুগী, লোহাইত কুরী, বারই, বৈদ্য, শাখারি, শুড়ী, সাহা বা সাহু, সুবর্ণবণিক); পার্বত্য জাতি--(কুকি, খাসিয়া, গারো, চুটিয়া,

[উনিশ]

তিপ্রা মণিপুরী, লালুং) মোসলমান জাতি-_(কুরেশী, জোলা, নাগারছি, পাঠান, মোগল, বেজ, শেখ, সৈয়দ) খৃষ্টান জাতি এবং কুলি

অষ্টম অধ্যায় ধর্ম শিক্ষা পৃষ্ঠা ৮৪-৯১ মোসলমান; হিন্দু, শান্ত, শৈব বিষ্ঞব, কিশোরী ভজন, জগন্মোহনী মণিপুরী রাস, কুকিদের বৃক্ষাদি পূজা; ধর্্মোসব, বিদ্যাশিক্ষা, পূর্ববর্তী বিবরণ স্কুলাদির বিবরণ, ভাষা, সংবাদপত্র

নবম অধ্যায়

তীর্থস্থান পৃষ্ঠা ৯২-১২০ মহাপীঠ, রামজঙ্খাপীঠ, পীঠপ্রকাশ, রূপনাথ গুহা, সাতহাত পানি গঙ্গা; শ্রীবাপাঠ-পরিচয়ের পন্থা, মহাপীঠ ভৈরব প্রকাশ, পূজার মাহাত্ম্য; ঠাকুর বাড়ী গোপেশ্বর শিব; পণাতীর্থ অদ্বৈতৈর আখরা, নির্মাই শিব, উনকোটা তীর্থ, সিদ্ধেশ্বর শিব, পূণ্য সিলা নদী, হাটকেশ্বর তুঙ্গেশ্বর মহাদেব, ব্রহ্ষকুও তণ্ত কুণ্ড, মাধব তীর্থ শিবলিঙ্গ তীর্থ, বাসু দেবের বাড়ী, বিথঙ্গলের যুগলটালার আখড়া; মোসলমান তীর্থ শাহজালালের দরগা প্রভৃতি

দশম অধ্যায়

পরগণা সমূহ ৃষ্ঠা ১২১-১২৬ আকবর রাজত্বে শ্রীহট্রের বিভাগ, পরগণার সংখ্যা, কালেক্টরী-বিভাগ, উত্তর শ্রীহস্ট্রের পরগণার নামাদি, করিমগঞ্জের পরগণার নামাদি, দক্ষিণ শ্রীহট্রের পরগণার নামাদি, হবিগঞ্জের পরগণার নামাদি, সুনামগঞ্জের পরগণার নামাদি

দ্বিতীয় ভাগ : এতিহাসিক বৃত্তাত্ত প্রথম খণ্ড : হিন্দু প্রভাব প্রাচীনতৃ

প্রথম অধ্যায় প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য পৃষ্ঠা ১৩১-১৩৭ বঙ্গদেশ কত প্রাচীন, শ্রীহট্্ের প্রাচীনতৃ. বঙ্গদেশের গঠন, প্রাগ্জ্যোতিষ রাজ্য, শ্রীহট্টদেশ কামরূপের অধীন, লাউড় পর্বতে ভগদত্ত রাজার বাড়ী, নারীদেশ

ছিতীয় অধ্যায় ভাটেরার তাত্রশাসন পৃষ্ঠা ১৩৮-১৫৩ প্রথম প্রশস্তির মন্খার্থ, দ্বিতীয় প্রশস্তির মন্মার্থ, প্রশস্তি কথিত তত্ব, দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা

তৃতীয় অধ্যায় বৈদেশিক উল্লেখ পৃষ্ঠা ১৫৪-১৫৭

'কিরাদিয়া', বাঙ্গালায় আর্ধ্য নিবাস, সাগর তীরে শ্রীহট্ট, সাগরের উন্লেখ-নিদর্শন, শ্রীহট্টে আর্ধ্যরাজ্য |

[বিশ]

চতুর্থ অধ্যায় ত্রিপুরা বংশীয় রাজগণ পৃষ্ঠা ১৫৮-১৬৪ ত্রিপুর বংশীয় রাজগণের প্রাচীন রাজ্য, ত্রেপর রাজগণের প্রাচীন রাজধানী, আদি ধর্মপা ব্রাহ্মণগণ, চৈনিক পরিব্রাজক ভারত সাম্রাজ্য, বৈদিকদের উপনিবেশ

পঞ্চম অধ্যায়

শ্রীহট্ট্রের সাম্প্রদায়িকগণ পৃষ্ঠা ১৬৫-১৭৩ কৈলা সহর কাতলের গল্প, প্রাটান রাজবাটী, পরবর্তী ব্রেপুর নৃপতিবর্গ, নিধিপতি স্বধর্মপার যক্ঞ, চতুর্থ পঞ্চম অধ্যায়ের টীকা

ষষ্ঠ অধ্যায় মোসলমান আক্রমণ পৃষ্ঠা ১৭৪-১৭৮ কীর্তিধর হীরাবস্তু, মোসলমানের প্রথমাক্রমণ দ্বিতীয় আক্রমণ, অপরিচিত বিলুপ্ত রাজ্য, নিষক্ষ

দ্বিতীয় খণ্ড : মোসলমান প্রভাব গৌড়

| প্রথম অধ্যায়

রাজা গোবিন্দ পৃষ্ঠা ১৮১-১৯০ শ্রীহস্্রের তিনটী ভিন্ন রাজ্য, রাজা গৌড় গোবিন্দ, চক্রপানি দত্ত মহীপতিব কথা, শামস্উদ্দীনও প্রতাপমাণিক্য, শাহজালাল নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন বুরহান উদ্দীন, সুলতান সিকান্দর শাহ, শ্রীহপ্টের দ্বিতীয় আদিনা মসজিদ, অনুরূপ ঘটনাবলী, সিকান্দরের পরাজয়

দ্বিতীয় অধ্যায় দরবেশ শাহজালাল পৃষ্ঠা ১৯১-২১০ দরবেশ শাহজালাল (জীবনী), শাহজালাল নসির উদ্দীন সিপাহ সালার, শাহজালাল সিকান্দার গাজী, গৌড় গোবিন্দ কর্তৃক খেওয়া বন্ধ করা, প্রতিদ্বন্দ্বী দর্শন পলায়ন, শাসনকর্তা নিয়োগাদি, এসলাম ধর্ম প্রচার মৃত্যু; মসজিদ দরগার দ্রব্যাদি, দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকা

তৃতীয় অধ্যায় নবাবী আমল পৃষ্ঠা ২১১-২১৯ নবাব ইস্পেন্দিয়ার, খঃ ১৩৮৫-১৪৯৫ পর্য্যত্ত গৌড় রাজ্য, সৈম সেন শাহ হুসেন শাহ সুরকির সময়ে শ্রীহট্টট বরশালাগ্রাম সব্র্বানন্দ, শেখ সাহেবের সময়ে শ্রীহট্র, বিদ্রোহ দমন, কানুনগো লোদী খা, আকবর শাহের সময়ে শ্রীহস্, শ্রীহস্ট্রের আমীল সংখ, নরনারায়ণের শ্রীহট্র বিজয়, অমর মাণিক্যের শ্রীহট্র বিজয়, অনির্দিষ্ট কালীয় আমীলদের নাম

চতুর্থ অধ্যায় নবাবী আমল পষ্ঠা ২২০-২৪০ নবাব জামন সৈয়দ ইব্রাহিম খা, আরঙ্গজজেবের সমকালবত্তী আমীলগণ, বাহাদুর শাহের

[একুশ] সমকালবর্তা, হরকৃষ্ণ দাসের বংশ পরিচয়, হরকৃষ্ণের নবাবী প্রাপ্তি, হরকৃষ্ণের হত্যা, হরকৃষ্জের কর্মচারীদের, হরকৃষ্ণের পববর্তী কথা সাদেকুল হরমাণিক, নবাব শমশের খা, জমা কামেল তোমাব্‌, আহমদ শাহের সমকালবত্ত' ফৌজদাব, দ্বিতীয় আলমগীরের সমকালবর্তী, সন্ধিপত্রে শ্রীহট্রের চুণার কথা, ই্রেজামলের নবাবগণ। নবাবী আমলে দেশের অবস্থা- (কর্মচারী, বৈকুষ্ঠবাস, রায় রায় বাহাদুর, চৌধুরী খেতাব, দ্রবে,র মূল্যাদি, খোজা, সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার, মহাপুরুষ গ্রন্থকার)

পঞ্চম অধ্যায় তরফের কথা | পৃষ্ঠা ২৪১-২৫২ রাজা আচাক নারায়ণ, তরফ জয়, নানা স্থানের নামকরণ, দ্বাদশ আউলিয়ার দরগা, নাসিরউদ্দীনের কবর, ইব্রাহিম কালিদাস, মুলক-উল-উলমা, বেজোড়ায় ভ্রাতৃহত্যা, অমর মাণিক্যের তর্রফাক্রমণ, সুলতান-শি, আরাকান-পতিসহ পরিচয়, রাজ্য বিভাগ, তরফদার, কুতব- উল-আউলিয়া, দরগা, পৈলবংশ, বুলবুলে বাঙ্গালা, ক্ষমতার. হ্রাসতা

ষষ্ঠ অধ্যায় তরফের অবশিষ্ট কথা পৃষ্ঠা ২৫৩-২৬৩ খোন্দকারদের কথা, তরফে গৃহবিবাদ, যুদ্ধোদ্যোগ যুদ্ধ, অভিযোগ, আপোষকরণ, তরফের পুর্ব আয়তন, পরবর্তী কথা, বিষগাও বালিশিরা

সপ্তম অধ্যায় ইটার রাজা পৃষ্ঠা ২৬৪-২৭৯ পৃরর্ব কথা, রাজা সুবিদ নারায়ণ, রাজার সমাজ সংস্কারাদি, মাহারাজাতি, রঘুনাথ শিরোমণি, শ্রীহন্টের ঢাকাদক্ষিণ, শ্রীচেতন্যের পিতামাতা, রঘুনাথ শ্রীচৈওন্য, রঘুনাথের গ্রন্থ, রাজার পুত্রকন্যাদি, রাজকর্মমচারীগণ, রাজ কর্মচারীদের কর্মচ্যুতি, শ্রীহন্টের দেওয়ান, রাজনগরের যুদ্ধ-

পলায়ন

অষ্টম অধ্যায় ইটার পরবর্তী কথা পৃষ্ঠা ২৮০-২৯১ খোয়াজ ওসমানের বিদ্রোহ, রাজপুত্রগণ, অধস্তন রাজবংশীয়গণ, এরজারামের পবিচয়, ঈশা খা ংশ, সপ্তম অষ্টম অধ্যায়ের টীকা

নবম অধ্যায় ইটার বিবিধ কথা পৃষ্ঠা ২৯২-৩০৩ প্রাচীন সংবাদ, কাণিহাটীর অসম রায়, ইটার দেওয়ান কানুনগ্ে সম্পদ সেন, শ্যামবায় দেওয়ান, সদর কানুনগোগণ, হরবল্নবের বিপত্তি, শ্যামরায়ের দেও বী প্রাপ্তি, চে. -ফ্লান-দীঘী, দেওয়ানের ভাগিনেয় লাল বিনোদ রায় দেওযান পত্রী

[বাইশ]

দশম অধ্যায় প্রতাপগড়ের রাজবাড়ী পৃষ্ঠা ৩০৪-৩১১ অপরিজ্ঞাত আখ্যান, মালিক মোহাম্মদ পোড়া রাজা, মালিক প্রতাব রাজবাড়ী, প্রতাপ মাণিক্য, সুলতান বাজিদ হৈড়ন্ব যুদ্ধ, বাজিদের পরাজয়, প্রতাপগড় ধ্বংস

একাদশ অধ্যায়

প্রতাপগড়ের হিন্দু নবাব পৃষ্ঠা ৩১২-৩২২ সংশয় সমাচার, সুলতান মোহাম্মদ, পরবর্তী চৌধুরীগণ, নবাব রাধারাম, অচ্যাচার, রাধারামের জয়, কানুরামের পরিচয়, কানুরামের বিপদ, রাধারামের পরাজয়, সমাপ্তি

তৃতীয় খণ্ড : মোসলমান প্রভাব লাউড়

প্রথম অধ্যায় পূর্ববন্তী রাজগণ পৃষ্ঠা ৩২৫-৩৩২ প্রাচীন রাজ্যবিবরণ, মহারাজ গণেশের মন্ত্রী নরসিংহ, রাজা দিব্যসিংহ কুরেরাচার্ধ্য, শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য্য, কৃষ্ণদাস, ঈশান নাগর অদ্বৈতপ্রকাশ গ্রন্থ

দ্বিতীয় অধ্যায় জগন্নাথপুরের কথা পৃষ্ঠা ৩৩৩-৩৪১ রামশঙ্কর বা রমানাথ মিশ্র, কেশব মিশ্র, জগন্নাথপুরের কেশব, কর্ণ খা, গোবিন্দ খা গোবিন্দ সিংহ, হবিব খা বিজয় সিংহ, পরমানন্দ সিংহ দাসজাতি, পুনবির্ববাদ, জগন্নাথপুরের পতন

তৃতীয় অধ্যায় বাণিয়াচঙ্গের কথা পৃষ্ঠা ৩৪২-৩৪৯ বাণিয়াঙ্গ নগর কেশব মিশ্র, খাসিয়া আক্রমণ লাউড় ধ্বংস, বাণিয়াচঙ্গের হাবিলি, খালিসা মোজরাই, নাওরা মহাল, পরবর্তী কীর্তি, সাধারণ দুটা কথা

চতুর্থ খণ্ড : মোসলমান প্রভাব জয়ন্তীয়া

প্রথম অধ্যায় আদি নৃপতিগণ পৃষ্ঠা ৩৫৩-৩৬০ মহল জয়ন্তীয়া, জয়ন্তীয়ার হিন্দুরাজা, হিন্দুরাজত্বের বিলোপ, পর্বত রায়ের কাল নির্ণয়, বড় গোসাঞ্জি মহাপীঠ, ধন মাণিক শক্রাদমন, প্রতাপসিংহের পরাজয় জয়ন্তেশ্বরী মূর্তি

দ্বিতীয় অধ্যায় আহোম বিজয় পৃষ্ঠা ৩৬১-৩৬৭ যশোমন্ত রায়, বাণসিংহ জয়ন্তীমুদ্রা, প্রতাপসিংহ লক্ষ্মীনারায়ণ, কাছাড় রাজের প্রতি চাতুর্ষ্য,

[তেইশ] আহোম সৈন্যের জয়ন্তীয়া আক্রমণ, প্রজাদের গোলযোগ, আহোমদের পরাজয়, রামাসিংহের মৃত্যু, রাজনৈতিক চিঠি

তৃতীয় অধ্যায় পরবর্তী কীর্তি পৃষ্ঠা ৩৬৮-৩৭৪ জয় নারায়ণ হাটকেশ্বর--শুরদর্ণ নারায়ণ, বড় গোসাঞ্ি (দ্বিতীয়), কালী স্থাপন সন্াস গ্রহণ, ছত্রসিংহ, যাত্রানারায়ণ বিজয় নারায়ণ, রাণীকাসারাম সিংহ (দ্বিতীয়), ঢুপির মঠ, সন্ধি, রাজগণের ক্রমিক নামাবলী

চতুর্থ অধ্যায় বৃটিশাধিকার পৃষ্ঠা ৩৭৫-৩৭৯ খোজকর, রাজেন্দ্রসিংহ নরবলির কথা, কুচক্রীর চক্রান্ত ভীষণ বলি, জয়ন্তীয়া গ্রহণ, রাজা নরেন্দ্রসিংহ, রাজবাটীর অবস্থা

পঞ্চম অধ্যায়

রাজস্বাদির কথা পৃষ্ঠা ৩৮০-৩৮৪ সীমা, পৃব্বকার রাজস্ব, সুবিধা-অসুবিধা বাঙ্গালী-কর্মচারী, ভূমি বন্দোবস্ত, জয়স্তীয়ার উপবিভাগ, রাজস্কের পরিমাণ

ষষ্ঠ অধ্যায় বিবিধ কথা পৃষ্ঠা ৩৮৫-৩৯০ নদী, উৎপনুদ্রব্য বাজার ইত্যাদি, চা বাগান, ডিস্পেন্সারি স্কুল, বাঙ্গালা গ্রন্থ, ভাষা সংজ্ঞাদি, রমণী সঙ্গীত রাসগান, সামাজিকতা বিবাহপ্রথা, ধর্ম, দেববিগ্রহাদি

পঞ্চম খণ্ড : ইংরেজ প্রভাব

প্রথম অধ্যায়

প্রথম অবস্থা পৃষ্ঠা ৩৯৩-৪০৮ পাশ্চাত্যজাতির ভারতাগমন, শ্রীহট্টের প্রথম ইংরেজ শাসনকর্তী শ্রীহট্রের দেওয়ান, লিগুসে সাহেবের শাসনকাল, শ্রীহস্রের প্রাকৃতিক দৃশ্য, শ্রীহট্ট দরগা, অশান্তি দমন, শ্রীহট্রের কৌড়ি মুদ্রা রাজস্ব, লিগ্ডসে সাহেবের চূণার ব্যবসায়, দেশী সৈন্য, শ্্রীহত্র ইজারা, মোহরমের হাঙ্গামা, খাসিয়া আক্রমণ, গম কফি, জাহাজ নির্মাণ শিকার, পুন্যাহ, জল অগ্নি পরীক্ষা, সৈয়দউল্লার

দ্বিতীয় অধ্যায় দশসনা বন্দোবস্ত পৃষ্টা ৪০৯-৪১৯ গঙ্গা সিংহের দৌরাত্ৃ, জন-হিতকর কার্ষ্য, শেষ কানুনগো জিলা জরিপ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, জনৈক ফরাসীর অদম্যতা, উইলিসের পরবর্তী শাসনকর্তাগণ. হস্তবোধ জরিপ, এলাম, খাস

[চব্বিশ]

হালাবাদি, খাস মুমাদি প্রভৃতি, বন্দর বাজার গঠন, শ্রীহষ্্ট সহব, হালাবাদি জরিপ, খাসিযা আক্রমণ, নিষ্কর থাক জরিপ

তৃতীয় অধ্যায় বিবিধ পৃষ্ঠা ৪8২০-৪৩০ কুকি জাতি, প্রথম কুকি আক্রমণ, লালচুক্লার আক্রমণ, বিদ্রোহী সিপাহি লাতুর লড়াই, আদমপুরের আক্রমণ, খেলাত দান, শেষ আক্রমণ, লুসাই প্রদেশ, হামিদ বখত মজুমদার, এলাম ভূমি, শ্রীহট্ট আসামে, চারি সবডিভিশন মিউনিসিপালিটি স্থাপন, প্রতাপগড় তহশিল, ভূকম্প

চতুর্থ অধ্যায় ইংলিস কোম্পানী পৃষ্ঠা ৪৩১-৪৩৯ ইংলিস কোম্পানীর প্রতিষ্ঠা, জর্জ ইংলিস, খাসিয়া পর্বতের বৃটিশ কর্মচারী, চুণের একচেটিয়া, কোম্পানীর অত্যাচার, কোম্পানীর লোকানুরাগ লাভ, কোম্পানীর বিরাগ লাভ, আমলাদের লত্য, মেনেজার নিযুক্তি হারি সাহেবের মেনেজারি, কোম্পানীব অবনতি, বিলোপ

পঞ্চম অধ্যায় ইংরেজ আমলের প্রথম শতাব্দী পৃষ্ঠা ৪৪০-৪৪৮ ব্যবসায়, পবিত্রতা, জমিদার মিরাশদার জমির পরিমাণ, বাড়ী ঘর দ্রব্যের মূল্য, ভ্রমণে ভয়, ঘুষ প্রথা, স্ত্রীলোকের ব্যবহার, বিবাহ ভোজন, পরিচ্ছদ আমোদ, দাসদাসী (দাসদাসী ক্রয় বিক্রয়ের দলিল), দেবকার্ধ্য, গ্রাব্যবন্ধন, সতক্রয়া সুশিক্ষা

উপসংহার কাছাড়ের কথা পৃষ্ঠা ৪৪৯-৪৬৮ ভৌগোলিক বিবরণ, পুর্ব বিবরণ, চিলারায়ের আক্রমণ, মহারাজ কৃষ্ণচন্ত্র গোবিন্দচন্্র, মারজিতের কাছাড় আক্রমণ, ব্রহ্মযুদ্ধ বদরপুরের সন্ধি, উত্তর কাছাড় পৃষ্ঠা

উপসংহারাধ্যায়ের টীকা (প্রাচীন আইন) পৃষ্ঠা ৪৬৯-৪৮২ পরিশিষ্ট প্রথমভাগ পরিশিষ্ট ক-ঞ পৃষ্ঠা ৪৮৫-৫১১ ছিতীয় ভাগ

পরিশিষ্ট ক_-এ "ঠা ”১৫-৫৩৯

প্রথম অধ্যায়

জিলার সংক্ষিপ্ত কথা

অবস্থান

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বঙ্গভূমির উত্তর-পূর্ব্ব প্রান্তভাগে শ্রীহট্ট অবস্থিত; শ্রীহস্ট প্রাচীন বঙ্গভূমির অংশ বিশেষ কিন্তু ১৮৭৪ খৃষ্টাব্দের পর হইতে শ্রীহন্রকে আসাম প্রদেশভুক্ত করা হয়।১ আসাম প্রদেশের (দ্বাদশটি জিলা২) মধ্যে শ্রীহষ্ট স্র্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করিয়া আসিতেছিল।

এক ব্রিংশৎ বর্ষ কাল শ্রীহন্ট আসাম সংসৃষ্ট ছিল, অধুনা (১৯০৫ খৃষ্টানদের ১৬ই অক্টোবর তারিখ হইতে) বঙ্গদেশের ঢাকা চট্টগ্রাম বিভাগ, (দারজিলিঙ ব্যতীত সমগ্র)